আন্তর্জাতিক

মোজতবা খামেনি জীবিত, রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয়: মার্কো রুবিও

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

 

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি জীবিত আছেন এবং দেশটির রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে ক্রমশ আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে রুবিও বলেন, মোজতবা খামেনি জীবিত রয়েছেন এবং ইরানের রাজনৈতিক ও কৌশলগত যোগাযোগ ব্যবস্থায় তার সম্পৃক্ততা বাড়ছে।

তিনি বলেন, চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন হামলায় সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হওয়ার খবরের পর ইরানের নেতৃত্ব কাঠামোয় যে পরিবর্তন এসেছে, এটি তারই প্রতিফলন।

 

আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তবে তার নামে প্রচারিত বিভিন্ন লিখিত বার্তা ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যা তার বর্তমান ভূমিকা ও ক্ষমতার পরিধি নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

মার্কো রুবিওর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য হত্যাচেষ্টার লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন বলে আলোচনা চলছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, তার সীমিত জনসম্মুখ উপস্থিতি ইরানের নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আরও জল্পনা তৈরি করেছে।

একই শুনানিতে রুবিও জানান, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে না।

তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হয়নি। নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে শর্তসাপেক্ষ হবে এবং তা ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কর্মসূচি ও অন্যান্য পারমাণবিক কার্যক্রম পরিত্যাগের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার পক্ষে অবস্থান নিয়ে রুবিও দাবি করেন, সামরিক অভিযানটি ‘অত্যন্ত সফল’ ছিল এবং এর ফলে ইরানের প্রতিরক্ষা-শিল্প সক্ষমতা ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ইরানের কোনো নৌবাহিনী আর অবশিষ্ট নেই। সেটি এখন সমুদ্রের তলদেশে পড়ে আছে।’

রুবিওর এই মন্তব্য সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইরানের প্রতি ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

পারমাণবিক আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রথমবারের মতো ইরান হয়তো তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির এমন কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী, যেগুলো আগে আলোচনার বাইরে ছিল।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, আলোচনা শুরু হলেও তা ওয়াশিংটনের কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

পররাষ্ট্র দপ্তরের বার্ষিক বাজেট শুনানির অংশ হিসেবে রুবিও মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের বিভিন্ন কমিটির সামনে হাজির হন। তবে শুনানির মূল আলোচ্য দ্রুতই ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতে চলে যায়।

ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের আইনপ্রণেতারা যুদ্ধের আর্থিক ব্যয় এবং কৌশলগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ বাড়তে থাকায়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে নতুন করে হামলা ইরানের

কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইরান নতুন করে ড্রোন হামলার চেষ্টা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হামলায় ব্যবহৃত একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে এবং এতে কোনো মার্কিন সেনা বা সামরিক সম্পদের ক্ষতি হয়নি।   মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, ‘কুয়েতে থাকা মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে নতুন করে ড্রোন হামলা চালায় ইরান। কিন্তু মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে সেগুলো ধ্বংস করেছে।’ সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে এবং কোনো মার্কিন সদস্য বা সামরিক সম্পদের ক্ষতি হয়নি। এর আগে ইরানের আইআরজিসি দাবি করেছিল, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সম্পদ লক্ষ্য করে তারা হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, রাতভর কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বুধবার ভোরে সেন্টকম জানায়, তারা কেশম দ্বীপে একটি ইরানি স্থলভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের ওপর হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এটি ছিল ‘আত্মরক্ষামূলক’ পদক্ষেপ। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার দাবি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তবে হামলার ক্ষয়ক্ষতি এবং ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   সূত্র: আল-জাজিরা

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

খামেনির জানাজা ও দাফনের সময়সূচি ঘোষণা ইরানের

ছবি: সংগৃহীত

কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পর ইরানের কেশম দ্বীপে মার্কিন বিমান হামলা

ছবি: সংগৃহীত

মোজতবা খামেনি জীবিত, রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয়: মার্কো রুবিও

ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছেন এক ফিলিস্তিনি। ছবি : সংগৃহীত
সাইবার হামলায় ফাঁস গাজার ৬ লাখ পরিবারের গোপন তথ্য

গাজার প্রায় ৬ লাখ ফিলিস্তিনি পরিবারের ব্যক্তিগত তথ্য অননুমোদিত ব্যক্তিদের হাতে চলে গেছে। সাইবার হামলার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ভেঙে এ কেলেঙ্কারি ঘটানো হয়। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) বিষয়টি স্বীকার করে বিবৃতিতে বিস্তারিত জানিয়েছে।   বুধবার সকালে আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ডব্লিউএফপির একটি স্ব-নিবন্ধন প্ল্যাটফর্মে এই তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে মানুষ খাদ্য ও নগদ সহায়তার জন্য নিবন্ধন করতেন।   ডব্লিউএফপির তথ্য অনুযায়ী, ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে ছিল উপকারভোগীদের নাম, পরিচয়পত্র নম্বর, মোবাইল ফোন নম্বর এবং অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য।   সংস্থাটি বলেছে, অননুমোদিত পক্ষ এই তথ্যগুলোতে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছিল। তবে কীভাবে হামলাটি হয়েছে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   গাজায় চলমান সংকটের মধ্যে অধিকাংশ ফিলিস্তিনি খাদ্য ও অন্যান্য জরুরি প্রয়োজন মেটাতে আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। ফলে উপকারভোগীদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের ঘটনায় নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ইতোমধ্যে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত ও নিরাপত্তা জোরদারের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইরানে ফের যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

ছবি: সংগৃহীত

লেবানন থেকে ছোড়া দুই ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিতের দাবি ইসরায়েলের

ছবি: সংগৃহীত

হিজবুল্লাহ হামলা না থামালে বৈরুতে আঘাত হানবে ইসরায়েল: নেতানিয়াহু

ছবি: সংগৃহীত
নেতানিয়াহুর ওপর প্রকাশ্যেই ক্ষোভ ঝাড়লেন ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর প্রকাশ্যেই ক্ষোভ ঝাড়লেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি দীর্ঘদিনের মিত্র নেতানিয়াহুকে ‘বদ্ধ উন্মাদ ও অকৃতজ্ঞ’ বলেও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে একটি উত্তপ্ত ফোনালাপ হয়। এর ঠিক আগে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সেই প্রেক্ষাপটেই দুই নেতার মধ্যে কথোপকথন হয়।   অ্যাক্সিওসের দাবি, ফোনালাপের একপর্যায়ে ট্রাম্প এতটাই ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন যে নেতানিয়াহুকে সরাসরি প্রশ্ন করেন, তুমি আসলে কী করছ? মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার জবাবে ইসরায়েল যে ধরনের পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর বলে মনে করছেন ট্রাম্প। জানা গেছে, ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের সবচেয়ে উত্তপ্ত ফোনালাপগুলোর মধ্যে একটি ছিল এটি।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে অকৃতজ্ঞ বলেও অভিযুক্ত করেন। তার দাবি, অতীতে বিভিন্ন সংকটে তিনি নেতানিয়াহুর পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং রাজনৈতিক সমর্থন দিয়েছেন। আমেরিকার সমর্থন না থাকলে নেতানিয়াহুকে বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হতো বলেও মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সূত্রগুলোর দাবি, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে বলেন, বৈরুতে বড় ধরনের হামলা চালালে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।   ফোনালাপ শেষে নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে জানান, ইসরায়েলের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এর পরপরই ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, তার অনুরোধের পর ইসরায়েলি বাহিনী বৈরুতে বড় অভিযান থেকে সরে এসেছে। ট্রাম্প নেতানিয়াহুর এই পাল্টাপালটি অবস্থানের পর কূটনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন- এবার বন্ধুত্বে চিড় ধরেছে ট্রাম্প নেতানিয়াহুর। এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা বন্ধ করে দিতে পারে এমন খবরও ছড়িয়ে পড়ে। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চূড়ান্ত হতে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

লেবানন ও গাজায় হামলা না থামলে বাব-এল-মান্দেবেও বিধিনিষেধের হুমকি ইরানের

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ‘পারিবারিক কলহের জেরে’ এলোপাতাড়ি গুলি, নিহত ৭

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চুক্তি হতে পারে আগামী সপ্তাহেই: ট্রাম্প

0 Comments