আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নেওয়ার ঘোষণার ঠিক একদিন পরই একই পথে হাঁটলেন আন্তোনিও রুডিগার। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই জার্মান ডিফেন্ডার। তরুণদের সুযোগ করে দিতেই জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৩৩ বছর বয়সী এই তারকা।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান রুডিগার। তিনি বলেন, “বেশ কিছুদিন চিন্তাভাবনা করার পর আমার মনে হয়েছে, জাতীয় দলের হয়ে ক্যারিয়ারের ইতি টানার এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য জায়গা ছেড়ে দেওয়ার এটাই সঠিক সময়।”
২০১৪ সালে জার্মানির হয়ে অভিষেকের পর থেকে জাতীয় দলের জার্সিতে ৮৬টি ম্যাচ খেলেছেন রুডিগার। বড় কোনও শিরোপা জিততে না পারার আক্ষেপ থাকলেও এই দীর্ঘ পথচলাকে নিজের ক্যারিয়ারের বিশেষ এক অধ্যায় হিসেবেই দেখছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে এই ডিফেন্ডার লেখেন, “২০১৪ সালে যখন প্রথম ডিএফবি (জার্মানি) জার্সি গায়ে জড়িয়েছিলাম, তখন স্বপ্নেও ভাবিনি যে দেশের হয়ে ৮৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবো। যদিও গত কয়েকটি টুর্নামেন্টে আমরা বড় কোনো শিরোপা ছুঁয়ে দেখতে পারিনি এবং কিছু যন্ত্রণাদায়ক হারের স্বাদ পেতে হয়েছে, তারপরও এই সময়টা আমার জন্য অবিশ্বাস্যরকমের বিশেষ একটি অধ্যায়— যা আজীবন আমার স্মৃতিতে অম্লান হয়ে থাকবে।”
জাতীয় দলে নিজের এই যাত্রায় পাশে থাকার জন্য সতীর্থ, কোচ এবং সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন রুডিগার। আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর পর এখন থেকে কেবল ক্লাব ফুটবলেই নিজের পুরো মনোযোগ ধরে রাখতে চান তিনি।
বিদায়ী বার্তায় রুডিগার আরও বলেন, “আমার জন্য এখন নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে, যেখানে আমি পুরোপুরিভাবে আমার ক্লাবের দিকেই মনোযোগ দেবো। আমার এই যাত্রায় সঙ্গী হওয়ার জন্য সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।”
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ফুটবল বিশ্বের দুই পরিচিত মুখ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও ওয়েন রুনি। একসময় ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জার্সিতে একসঙ্গে মাঠ মাতিয়েছেন তারা। তবে এবার জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় সাবেক সতীর্থ রোনালদোর কঠোর সমালোচনা করেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা ফুটবলার ওয়েন রুনি। পর্তুগাল জাতীয় দলের কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে অনুশীলন ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রোনালদো। পরবর্তী সময়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কোচের বিরুদ্ধে দুইবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তোলেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। একই সঙ্গে জাতীয় দলের সতীর্থ ও দেশের মানুষের কাছে ক্ষমাও চান তিনি। তবে রোনালদোর এমন সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় মোটেও সন্তুষ্ট নন রুনি। তার মতে, একজন অভিজ্ঞ ও বিশ্বমানের ফুটবলারের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়। রোনালদোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন রুনির সম্প্রতি ‘স্টিক টু ইউনাইটেড’-এর সঙ্গে আলাপকালে রোনালদোর ক্যাম্প ছাড়ার ঘটনা নিয়ে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেন রুনি। তিনি বলেন, ‘রোনালদো নিঃসন্দেহে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। কিন্তু যেভাবে সে পর্তুগালের অনুশীলন ক্যাম্প ছেড়েছে এবং পরবর্তী সময়ে বক্তব্য দিয়েছে, আমার কাছে পুরো বিষয়টিই ভুল মনে হয়েছে।’ রুনির মতে, কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে কোচের মতবিরোধ তৈরি হতেই পারে। কিন্তু সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে পেশাদারত্ব ও দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোচ-সতীর্থদের প্রতি অসম্মানের অভিযোগ শুধু ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্তই নয়, রোনালদোর আচরণে কোচিং স্টাফ, সতীর্থ এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের প্রতি অসম্মান প্রকাশ পেয়েছে বলেও মনে করেন সাবেক ইংলিশ তারকা। রুনি বলেন, ‘কোচ ও সতীর্থদের প্রতি তার আচরণ ছিল ভুল। এমনকি পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের প্রতিও সে যথাযথ সম্মান দেখায়নি। ফুটবলের দৃষ্টিকোণ থেকে পুরো ঘটনাটি নেতিবাচক।’ তার মতে, এমন ঘটনা শুধু একজন খেলোয়াড় ও কোচের সম্পর্কেই প্রভাব ফেলে না, বরং পুরো দলের পরিবেশ এবং পারস্পরিক আস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ সময় নিয়েও মন্তব্য রোনালদোর দীর্ঘ ফুটবল ক্যারিয়ার ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেছেন রুনি। তিনি মনে করেন, প্রত্যেক ফুটবলারের জীবনেই এমন একটি সময় আসে, যখন তাকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা বলেন, ‘প্রত্যেক খেলোয়াড়কেই একসময় আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাতে হয়। এটা স্বাভাবিক বাস্তবতা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে রোনালদো পরিস্থিতিটি ভালোভাবে সামলাতে পারেনি। পুরো বিষয়টি দেখা ছিল বিব্রতকর।’ দীর্ঘদিনের সাবেক সতীর্থের এমন আচরণে হতাশা প্রকাশ করলেও রোনালদোর ফুটবলীয় দক্ষতা ও অর্জনের প্রতি নিজের শ্রদ্ধার কথাও জানিয়েছেন রুনি। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল খেলোয়াড় রোনালদোকে ঘিরে এমন মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে একজন তারকা ফুটবলারের সিদ্ধান্ত, নেতৃত্ব এবং পেশাদার আচরণ কেমন হওয়া উচিত—সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
পারফরম্যান্স আর পরিসংখ্যানও বলে টেস্টে অবিশ্বাস্য লিটন দাস। সীমিতর চেয়ে রাজকীয় সংস্করণে তার ব্যাট হাসে বেশি। নিজেও স্বীকার করলেন তিনি। টেস্ট খেলতে ভীষণ পছন্দ করেন বলে জানান লিটন। কেন পছন্দ করেন তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি। আবুধাবি টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান বলেছেন, ‘তিন সংস্করণই আমার ভালো লাগে, কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটের মজাটা একটু ওপরে। কারণ, ম্যাচটাতে অনেক কিছু হয়। প্রথম দিন থেকে পঞ্চম দিন পর্যন্ত অনেক চ্যালেঞ্জ থাকে এবং উপভোগ করার মতো অনেক পরিস্থিতি থাকে। তাই টেস্ট ক্রিকেট পছন্দ করি।’ ক্যারিয়ারের ৭ম সেঞ্চুরির দিনে উইকেটরক্ষকের গ্লাভস হাতে রেকর্ড গড়েছেন লিটন। খালেদ মাসুদ পাইলটকে (৭ ডিসমিশাল) পেছনে ফেলে বাংলাদেশের হয়ে এক টেস্টে সর্বোচ্চ ৮ ডিসমিশালের কীর্তি গড়েছেন তিনি। এই ভূমিকা তার ব্যাটিংয়ে অবদান রাখে বলে জানান লিটন। তিনি বলেছেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই সহায়তা করে। কারণ, উইকেটের পেছন থেকে অনেক কিছু বুঝতে পারি। উইকেট সম্বন্ধে একটা ধারণা চলে আসে। সেটা আমার ব্যাটিংয়ে অনেকটা সহায়তা করে।’ একমাত্র টেস্ট জিততে শেষ দিনে বাংলাদেশের দরকার ৭ উইকেট। বিপরীতে জয়ের জন্য আফগানিস্তানের প্রয়োজন ৩৪৭ রান। কিংবা ড্র করতে পঞ্চম দিন মাটি কামড়ে থাকা। তবে লিটনের বিশ্বাস শেষ দিনে পিচ থেকে স্পিনাররা একটু সহায়তা পেলে জয়ের কাজটা সহজ হবে। পিচ নিয়ে লিটন বলেছেন, ‘উইকেটটা খুব একটা স্পিন ফ্রেন্ডলি না। তবে পঞ্চম দিনে অনেক সময় রাফ প্যাচ থেকে অনেক বল বাঁক নেওয়া শুরু করে। আশা করি, আমাদের স্পিনাররা ভালো জায়গায় বল করবে। এরই মধ্যে ভালো জায়গায় করছে, আরও ভালো জায়গায় করে চাপ দিবে এবং উইকেট থেকে যদি একটু সহায়তা পায়, তাহলে তাদের জন্য কাজটা সহজ হবে।’
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের আগে স্বস্তি ফিরেছে প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি) শিবিরে। নির্ধারিত বিশ্রাম শেষে দলের অনুশীলনে ফিরেছেন দুই গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার উসমান দেম্বেলে ও নুনো মেন্দেস। তাদের প্রত্যাবর্তনে শক্তি বেড়েছে ফরাসি চ্যাম্পিয়নদের। চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বে বুধবার ম্যানচেস্টার সিটির মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে পিএসজির। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচকে সামনে রেখে দল সাজানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন কোচ লুইস এনরিকে। আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসা দেম্বেলে এবং রক্ষণভাগের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মেন্দেসের ফেরায় একাদশ নির্বাচনে বাড়তি সুবিধা পাবেন স্প্যানিশ এই কোচ। আন্তর্জাতিক বিরতির ব্যস্ত সূচির পর শারীরিক ক্লান্তি কাটিয়ে উঠতে দুই ফুটবলারকে অতিরিক্ত বিশ্রাম দিয়েছিল পিএসজি কর্তৃপক্ষ। সেই বিশ্রাম শেষে তারা অনুশীলনে যোগ দেওয়ায় ম্যানচেস্টার সফরে প্রায় পূর্ণ শক্তির দল পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপ-এর বরাতে জানা গেছে, ক্লাবের মেডিকেল ও কোচিং স্টাফদের পরিকল্পনা অনুযায়ী দুই খেলোয়াড়ের ফেরার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। শনিবার প্রথমে অনুশীলন কেন্দ্রে ফেরেন উসমান দেম্বেলে। পরদিন রোববার দলের সঙ্গে যোগ দেন পর্তুগিজ ডিফেন্ডার নুনো মেন্দেস। চলতি মৌসুমের ব্যস্ত সূচিতে খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে পিএসজি। গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপীয় ম্যাচের আগে দুই তারকার প্রত্যাবর্তন তাই দলের প্রস্তুতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে স্বস্তির খবরের মধ্যেও চোটজনিত দুশ্চিন্তা পুরোপুরি কাটেনি ফরাসি ক্লাবটির। তরুণ মিডফিল্ডার সেনি মায়ুলুকে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফ্রান্সের যুব দলের হয়ে আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনের সময় পেশির চোটে পড়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই ফুটবলারের ফেরায় আত্মবিশ্বাস বাড়ছে পিএসজির। ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স উপহার দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই প্রস্তুতি নিচ্ছে লুইস এনরিকের দল।