ফুটবল ইতিহাসের মহাতারকা লিওনেল মেসিকে এক ঝলক দেখতে কলকাতার সল্ট লেকের যুবভারতী স্টেডিয়ামে হাজির হয়েছিলেন কমপক্ষে এক লাখ দর্শক। সবার উদ্দেশ্য একটাই- প্রিয় তারকাকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ। তবে, মেসিকে ঘিরে ভিড় সামলাতে ব্যর্থ হয় পুলিশ ও উদ্যোক্তারা।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সল্ট লেকের যুবভারতী স্টেডিয়ামে মেসি উন্মাদনায় বিশৃঙ্খলা এক পর্যায়ে চরমে পৌঁছায়। দর্শকদের অভিযোগ, মাঠে মেসির সঙ্গে প্রচুর ভিড় থাকায়, মেসিকে দেখতেই পাননি দর্শকরা। ক্ষুব্ধ দর্শকরা আসন থেকে ছোড়েন পানির বোতল। ফলে, নির্ধারিত সময়ের আগেই মাত্র ২০ মিনিটেই মাঠ ছাড়েন মেসি।
মেসিকে মাঠ থেকে বের করার সময় গ্যালারি থেকে সমস্ত দর্শক মাঠে ঢুকে পড়ে। ফলে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় কলকাতা ছাড়ার কথা থাকলেও ১২টা ২০ মিনিট নাগাদ শহর ছাড়েন এই মহাতারকা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
আগামীকাল শনিবার পর্দা উঠবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের দশম আসরে এবার প্রতিনিধিত্ব করছে ২০ দল। এবারের আসরে থাকছে না বাংলাদেশ। মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে যেতে রাজি হয়নি তারা। প্রায় একমাস ধরে এ নিয়ে আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে আলাপ চলেছে। আইসিসি বাংলাদেশের অনড় অবস্থানের বিপরীতে তাদের দাবি মেনে নেয়নি। বাংলাদেশকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে সুযোগ দেওয়া হয়। গ্রুপ ‘এ’ : ভারত, পাকিস্তান, নেদারল্যান্ডস, নামিবিয়া, যুক্তরাষ্ট্র গ্রুপ ‘বি’ : শ্রীলংকা, অস্ট্রেলিয়া, জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড, ওমান গ্রুপ ‘সি’ : স্কটল্যান্ড, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল, ইতালি গ্রুপ ‘ডি’ : দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সূচি (বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী) : ৭ ফেব্রুয়ারি : পাকিস্তান-নেদারল্যান্ডস, সকাল ১১:৩০টা, কলম্বো ৭ ফেব্রুয়ারি : স্কটল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ, বিকাল ৩:৩০, কলকাতা ৭ ফেব্রুয়ারি : ভারত-যুক্তরাষ্ট্র, সন্ধ্যা ৭:৩০, মুম্বাই ৮ ফেব্রুয়ারি : নিউজিল্যান্ড-আফগানিস্তান, সকাল ১১:৩০, চেন্নাই ৮ ফেব্রুয়ারি : ইংল্যান্ড-নেপাল, বিকাল ৩:৩০, মুম্বাই ৮ ফেব্রুয়ারি : শ্রীলংকা-আয়ারল্যান্ড, সন্ধ্যা ৭:৩০, কলম্বো ৯ ফেব্রুয়ারি : স্কটল্যান্ড-ইতালি, সকাল ১১:৩০,কলকাতা ৯ ফেব্রুয়ারি : জিম্বাবুয়ে-ওমান, বিকাল ৩:৩০, কলম্বো ৯ ফেব্রুয়ারি : দক্ষিণ আফ্রিকা-কানাডা, সন্ধ্যা ৭:৩০, আহমেদাবাদ ১০ ফেব্রুয়ারি : নেদারল্যান্ডস-নামিবিয়া, সকাল ১১:৩০, দিল্লি ১০ ফেব্রুয়ারি : নিউজিল্যান্ড-সংযুক্ত আরব আমিরাত, বিকাল ৩:৩০, চেন্নাই ১০ ফেব্রুয়ারি : পাকিস্তান-যুক্তরাষ্ট্র, সন্ধ্যা ৭:৩০, কলম্বো ১১ ফেব্রুয়ারি : দক্ষিণ আফ্রিকা-আফগানিস্তান, সকাল ১১:৩০, আহমেদাবাদ ১১ ফেব্রুয়ারি : অস্ট্রেলিয়া-আয়ারল্যান্ড, বিকাল ৩:৩০, কলম্বো ১১ ফেব্রুয়ারি : ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ, সন্ধ্যা ৭:৩০, মুম্বাই ১২ ফেব্রুয়ারি : শ্রীলংকা-ওমান, সকাল ১১:৩০, ক্যান্ডি ১২ ফেব্রুয়ারি : নেপাল-ইতালি, বিকাল ৩:৩০, মুম্বাই ১২ ফেব্রুয়ারি : ভারত-নামিবিয়া, সন্ধ্যা ৭:৩০, দিল্লি ১৩ ফেব্রুয়ারি : অস্ট্রেলিয়া-জিম্বাবুয়ে, সকাল ১১:৩০, কলম্বো ১৩ ফেব্রুয়ারি : কানাডা-সংযুক্ত আরব আমিরাত, বিকাল ৩:৩০, দিল্লি ১৩ ফেব্রুয়ারি : যুক্তরাষ্ট্র-নেদারল্যান্ডস, সন্ধ্যা ৭:৩০, চেন্নাই ১৪ ফেব্রুয়ারি : আয়ারল্যান্ড-ওমান, সকাল ১১:৩০, কলম্বো ১৪ ফেব্রুয়ারি : স্কটল্যান্ড-ইংল্যান্ড, বিকাল ৩:৩০, কলকাতা ১৪ ফেব্রুয়ারি : নিউজিল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা, সন্ধ্যা ৭:৩০, আহমেদাবাদ ১৫ ফেব্রুয়ারি : ওয়েস্ট ইন্ডিজ-নেপাল, সকাল ১১:৩০, মুম্বাই ১৫ ফেব্রুয়ারি : যুক্তরাষ্ট্র-নামিবিয়া, বিকাল ৩:৩০, চেন্নাই ১৫ ফেব্রুয়ারি : ভারত-পাকিস্তান, সন্ধ্যা ৭:৩০, কলম্বো ১৬ ফেব্রুয়ারি : আফগানিস্তান-সংযুক্ত আরব আমিরাত, সকাল ১১:৩০, দিল্লি ১৬ ফেব্রুয়ারি : ইংল্যান্ড-ইতালি, বিকাল ৩:৩০, কলকাতা ১৬ ফেব্রুয়ারি : অস্ট্রেলিয়া-শ্রীলংকা, সন্ধ্যা ৭:৩০, ক্যান্ডি ১৭ ফেব্রুয়ারি : নিউজিল্যান্ড-কানাডা, সকাল ১১:৩০, চেন্নাই ১৭ ফেব্রুয়ারি : আয়ারল্যান্ড-জিম্বাবুয়ে, বিকাল ৩:৩০, ক্যান্ডি ১৭ ফেব্রুয়ারি : স্কটল্যান্ড-নেপাল, সন্ধ্যা ৭:৩০, মুম্বাই ১৮ ফেব্রুয়ারি : দক্ষিণ আফ্রিকা-সংযুক্ত আরব আমিরাত, সকাল ১১:৩০, দিল্লি ১৮ ফেব্রুয়ারি : পাকিস্তান-নামিবিয়া, বিকাল ৩:৩০, কলম্বো ১৮ ফেব্রুয়ারি : ভারত-নেদারল্যান্ডস, সন্ধ্যা ৭:৩০, আহমেদাবাদ ১৯ ফেব্রুয়ারি : ওয়েস্ট ইন্ডিজ-ইতালি, সকাল ১১:৩০, কলকাতা ১৯ ফেব্রুয়ারি : শ্রীলংকা-জিম্বাবুয়ে, বিকাল ৩:৩০, কলম্বো ১৯ ফেব্রুয়ারি : আফগানিস্তান-কানাডা, সন্ধ্যা ৭:৩০, চেন্নাই ২০ ফেব্রুয়ারি : অস্ট্রেলিয়া-ওমান, সকাল ১১:৩০, ক্যান্ডি সুপার এইট পর্ব ২১ ফেব্রুয়ারি : ওয়াই ২-ওয়াই ৩, সন্ধ্যা ৭:৩০, কলম্বো ২২ ফেব্রুয়ারি : ওয়াই ১- ওয়াই ৪, বিকাল ৩:৩০, ক্যান্ডি ২২ ফেব্রুয়ারি : এক্স ১-এক্স ৪, সন্ধ্যা ৭:৩০, আহমেদাবাদ ২৩ ফেব্রুয়ারি : এক্স ২-এক্স ৩, সন্ধ্যা ৭:৩০, মুম্বাই ২৪ ফেব্রুয়ারি : ওয়াই ১-ওয়াই ৩ সন্ধ্যা ৭:৩০, ক্যান্ডি ২৫ ফেব্রুয়ারি : ওয়াই ২-ওয়াই ৪ সন্ধ্যা ৭:৩০, কলম্বো ২৬ ফেব্রুয়ারি : এক্স ৩ -এক্স ৪ বিকাল ৩:৩০, আহমেদাবাদ ২৬ ফেব্রুয়ারি : এক্স ১ -এক্স ২ সন্ধ্যা ৭:৩০, চেন্নাই ২৭ ফেব্রুয়ারি : ওয়াই ১-ওয়াই ২ ৭:৩০, কলম্বো ২৮ ফেব্রুয়ারি : ওয়াই ৩-ওয়াই ৪ সন্ধ্যা ৭:৩০, ক্যান্ডি ০১ মার্চ :এক্স ২-এক্স ৪, বিকাল ৩:৩০, দিল্লি ০১ মার্চ : এক্স ১ -এক্স ৩, সন্ধ্যা ৭:৩০, কলকাতা সেমিফাইনাল ৪ মার্চ : প্রথম সেমিফাইনাল, সন্ধ্যা ৭:৩০, কলকাতা/ কলম্বো ৪ মার্চ : দ্বিতীয় সেমিফাইনাল, সন্ধ্যা ৭:৩০, মুম্বাই ফাইনাল ৮ মার্চ : ফাইনাল, সন্ধ্যা ৭:৩০, আহমেদাবাদ/ কলম্বো
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬–এ ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ খুলেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানাতেই নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান সরকার বা পিসিবির কোনো শীর্ষ কর্মকর্তার কাছ থেকে এই প্রথম প্রকাশ্যে এমন ব্যাখ্যা এসেছে। বুধবার মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শাহবাজ শরিফ বলেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে আমরা খুব স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছি। আমরা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলব না। কারণ খেলাধুলার মাঠে রাজনীতি থাকা উচিত নয়। আমরা ভেবেচিন্তে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাংলাদেশের পাশে পুরোপুরি দাঁড়ানো উচিত। আমার মনে হয় এটি একেবারেই সঠিক সিদ্ধান্ত। এর আগে রোববার পাকিস্তান সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, দলটি বিশ্বকাপে অংশ নেবে। তবে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ ম্যাচ খেলবে না। ওই ঘোষণায় কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। আইসিসি ওই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক বিবৃতি দেয়। সেখানে বলা হয়, আইসিসি আশা করে পিসিবি ক্রিকেটের বৈশ্বিক ব্যবস্থার ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করবে। কারণ এই ব্যবস্থার সদস্য ও সুবিধাভোগী পাকিস্তান নিজেও। আইসিসি আরও জানায়, তারা চায় পিসিবি এমন সমাধান খুঁজুক, যাতে সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষা হয়। তবে এখনও জানা যায়নি, পিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে কিছু জানিয়েছে কি না। শাহবাজ শরিফের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে আইসিসির ‘দ্বৈত নীতি’র অভিযোগ রয়েছে। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি একে ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ডস’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখিয়ে বাংলাদেশ সরকার দলকে ভারতে পাঠাতে রাজি হয়নি। তারা চেয়েছিল, বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় খেলুক। শ্রীলঙ্কা এই টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক এবং পাকিস্তানও সেখানে খেলছে। তবে আইসিসি বোর্ড ১৪–২ ভোটে বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পিসিবি ও বিসিবি এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর মহসিন নাকভি বলেছিলেন, ডাবল স্ট্যান্ডার্ড চলতে পারে না। একটি দেশের জন্য এক নিয়ম আর অন্যদের জন্য ভিন্ন নিয়ম হতে পারে না। তাই আমরা এই অবস্থান নিয়েছি। বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। তারা বিশ্বকাপে খেলার অধিকার রাখে। ক্রিকেটে তারা বড় অংশীদার। শাহবাজ শরিফের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কারণ প্রকাশ্যে এসেছে, এবং স্পষ্ট হয়েছে যে পাকিস্তান পুরোপুরি বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করছে।
আবারও অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ভারত। হারারেতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আজ আফগানিস্তানের বড় সংগ্রহকে পাত্তাই দিল না রোহিত-কোহলির উত্তরসূরীরা। ৩১০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৭ উইকেট ও ৫৩ বল হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় ভারতীয় যুবারা। রান তাড়ায় এটা নতুন বিশ্ব রেকর্ড। এই জয়ে ফাইনালে উঠে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে তারা। টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় আফগানিস্তান। জোড়া সেঞ্চুরিতে ভর করে তারা তোলে ৪ উইকেটে ৩১০ রান। ওপেনার ফয়সাল সিনোজাদা ৯৩ বলে ১৫ চারের সাহায্যে করেন ১১০ রান। অপর প্রান্তে উজাইরউল্লাহ নিয়াজাই ৮৬ বলে অপরাজিত ১০১ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন। তবে আফগানদের এই দুই সেঞ্চুরির জবাব ভারত দিয়েছে এক সেঞ্চুরিতেই। ওপেনার অ্যারন জর্জ ১০৪ বলে ১১৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। আরেক ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে মাত্র ৩৩ বলে করেন ৬৮ রান। মাঝের ওভারে অধিনায়ক আয়ুশ এমহাত্রে যোগ করেন ৬২ রান, আর ভিহান মালহোত্রা ৩৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে ৩০০ ছাড়িয়ে যায় ভারত, বড় লক্ষ্য তাড়ায় কোনো চাপই পড়তে হয়নি তাদের। শেষ পর্যন্ত ৪১.১ ওভারে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়েই ৩১১ রান সংগ্রহ করে ফেলে ভারত। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে রান তাড়ায় যে কোন দলের জন্যই এটা সবচেয়ে বড় জয়। যা নতুন বিশ্ব রেকর্ড। এর আগে ৩০৫ রান তাড়ায় জয়ের রেকর্ড গড়েছিল নিউজিল্যান্ড। ২০০৬ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। এছাড়া ২০২২ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ২৯৪ রানে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ২০১০ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৯২ রান তুলে জয়ের রেকর্ড দেখেছিল অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ। শুধু তাই নয়? এটা ভারতের টানা ষষ্ট বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠার নজীরও। এর আগে ২০১৬, ২০১৮, ২০২০, ২০২২ এবং ২০২৬ বিশ্বকাপেও ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল টিম ইন্ডিয়া। সর্বোচ্চ ১০ বার ফাইনালে খেলার রেকর্ডটাও ভারতের দখলে। যেখানে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছয়বার ফাইনাল খেলার রেকর্ড রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার। এছাড়া পাঁচবার ফাইনাল খেলেছে পাকিস্তান। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ভারতের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। শুক্রবার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে একে অপরের মুখোমুখি হবে দুই দল।