জাতীয়

মোটরসাইকেল মালিকদের থেকে অগ্রিম আয়কর যেভাবে আদায় করা হবে

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মোটরসাইকেল মালিকদের কাছ থেকে এআইটি বা অগ্রিম আয়কর আদায়ের যে পরিকল্পনা করছে তাতে করে এই কর কীভাবে আদায় হবে তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

এ কৌতূহলের মূল কারণ হলো একদিকে করযোগ্য আয় নেই এমন অনেকের কাছে মোটরসাইকেল বা বাইক আছে। আবার অন্যদিকে এসব বাইক মালিকদের অনেকের করযোগ্য আয় না থাকায় ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার বা টিন নেই।

ফলে কীভাবে মোটরসাইকেলের মালিকদের কাছ থেকে অগ্রিম আয়কর আদায় করা হবে তা এখনো আলোচনার পর্যায়েই আছে।

এনবিআরের কর্মকর্তারা বলেন, সরকারের দিক থেকে আগামী অর্থবছরের বাজেটে মোটরসাইকেলসহ কর নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা যানবাহনের জন্য অগ্রিম আয়কর আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, এখন মোটরসাইকেল মালিকদের প্রতি বছর ট্যাক্স টোকেন ফি দিতে হয়। ট্যাক্স টোকেনের বার্ষিক মেয়াদ শেষে এটি নবায়ন করতে হয়।

এখন ট্যাক্স টোকেনের পাশাপাশি সারাদেশের সব বাইক বা মোটরসাইকেলের জন্য অগ্রিম আয়কর বা এআইটি আরোপের চিন্তাকে ইতিবাচক বলছেন এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান।

তিনি বলেন, চিন্তাটা ভালো ও যৌক্তিক। তবে যৌক্তিক হারে করটা নির্ধারণ হতে হবে। টিন নাম্বারের মাধ্যমে নাকি অন্য কোনো পদ্ধতিতে এই কর আদায় করা হবে সেটি এনবিআরকেই ঠিক করতে হবে।

যদিও বাইক থেকে অগ্রিম কর আদায়ের সরকারি চিন্তার খবর গণমাধ্যমে আসার পর বাইক মালিক ও চালকদের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তাদের একটি দল ইতোমধ্যেই এনবিআর কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে করারোপ না করার দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে।

কীভাবে আদায়ের চিন্তা হচ্ছে

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বা বিআরটিএ-র সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ৪৯ লাখের মতো নিবন্ধিত মোটরসাইকেল রয়েছে।

সম্প্রতি এনবিআরের কর্মকর্তারা অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে এক বৈঠকে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশাকে অগ্রিম আয়করের আওতায় আনা এবং অধিক ইঞ্জিন ক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ীর ওপর বিদ্যমান অগ্রিম আয়কর বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন বলে ঢাকার সংবাদ মাধ্যমে খবর এসেছে।

এর আগে এনবিআর কর্মকর্তারা নিজেরা এটি পর্যালোচনা করেছেন। বাজেট প্রণয়ন প্রস্তুতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এনবিআরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত টিন নাম্বারের বিপরীতেই এআইটি আদায়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা পর্যালোচনা চলছে। তবে টিন নাম্বার নেওয়াটাই ভালো হবে বলে মনে হচ্ছে। কারণ এতে করে ধীরে ধীরে করের আওতায় থাকা ব্যক্তিরা একটি ট্যাক্স সিস্টেমের মধ্যে আসবেন।

অন্যদিকে বদিউর রহমান বলেন, আয়ের দিক থেকে করের ন্যূনতম স্লাব বা ধাপে না থাকলেও মানুষ যাতে করখাতে অবদান রাখার সুযোগ পায় সেজন্যই বাইক মালিকদেরও করের আওতায় থাকা দরকার।

তিনি আরও বলেন, মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের তো নিয়ম আছে। সে অনুযায়ী এনবিআর প্রসেস করবে কিভাবে কর আদায় করা যায়। এটা এমনি কর হোক, আর এআইটি হোক- সেটা রিজনাবল হতে হবে। এভাবে সবাইকেই করখাতে কন্ট্রিবিউট করার সুযোগ দিতে হবে। সরকারের আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রেও সেটি ভূমিকা রাখবে।

প্রসঙ্গত, টিআইএন বা ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার হলো একটি বিশেষ নম্বর, যা দিয়ে একজন করদাতাকে শনাক্ত করা হয়। বাংলাদেশে ব্যবসা বাণিজ্য থেকে শুরু করে অনেক কাজেই টিন থাকা বাধ্যতামূলক।

তবে বাইকের ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর আদায়ের জন্য ভিন্ন চিন্তাও রয়েছে। অর্থাৎ টিন নাম্বার ছাড়াই এখন যেভাবে বার্ষিক ট্যাক্স টোকেন ফি আদায় করা হয় তার সঙ্গেই এআইটি আদায় করা যায় কি-না।

সেটি হলে বাইক চালকদের মধ্যে যাদের ন্যূনতম করযোগ্য আয় নেই তাদের রাজস্ব বোর্ড থেকে টিন নাম্বার নিতে হবে এবং এর ফলে বিপুল সংখ্যক বাইক মালিক কোনো ঝামেলা ছাড়াই এআইটি দিতে পারবেন বলে কেউ কেউ মনে করছেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সংগৃহীত ছবি
ঢাকার সুইডিশ দূতাবাসে শেনজেন ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া বন্ধ ঘোষণা

শেনজেন ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া বন্ধ করেছে ঢাকার সুইডিশ দূতাবাস। এখন থেকে শেনজেন ভিসা, আমন্ত্রণপত্র, আপিল ও নির্দিষ্ট কোনো আবেদনসংক্রান্ত বিষয়ে জানতে সরাসরি সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সির (Swedish Migration Agency) সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।     সোমবার (২ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ঢাকার সুইডিশ দূতাবাস।     বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শেনজেন ভিসা-সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা, তথ্য বা সহায়তা দেয়ার অনুমোদন এখন আর দূতাবাসের নেই। এ কারণে আবেদনকারী ও স্পন্সরদের ভিসা-সংক্রান্ত সব ধরনের প্রশ্ন ও যোগাযোগের জন্য সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় লিংকও দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া হয়েছে।     দূতাবাস জানিয়েছে, শেনজেন ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকরণ না করার পাশাপাশি এ-সংক্রান্ত আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত মামলার বিষয়, আমন্ত্রণপত্র ও আপিলের বিষয়েও তারা আর কোনো সহায়তা দিতে পারবে না। এ বিষয়ে সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সিই হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।     বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারী ও স্পন্সরদের সহযোগিতা কামনা করেছে ঢাকার সুইডিশ দূতাবাস। তবে কবে থেকে এ পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে বা বাংলাদেশে শেনজেন ভিসা আবেদনের বিকল্প প্রক্রিয়া কী হবে, সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

মারিয়া রহমান নভেম্বর ০২, ২০২৬

আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, আরেক দল জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে : ধর্মমন্ত্রী

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ দুর্যোগ মোকাবিলা প্রশিক্ষণ মহড়া শুরু

মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনে নাশকতা : গ্রেপ্তার ২৬ জন কারাগারে

অনিয়ম পেলে সারের ডিলারশিপ বাতিল : কৃষিমন্ত্রী

কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম পেলে ডিলারশিপ বাতিল, কোন কর্মকর্তা জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   আজ মন্ত্রী সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আসন্ন রবি মৌসুমে সার সরবরাহ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।   কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খানের সভাপতিত্বে সভায় দেশের সব জেলা প্রশাসক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকগণ অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।   মন্ত্রী বলেন, সার বিতরণ ও ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা কৃষক হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেলে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সার ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে সার ব্যবস্থাপনায় কোনো কর্মকর্তা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।   সভায় সার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, নতুন ডিলার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্তদের লাইসেন্স প্রদানের পাশাপাশি তাদের ডিলারশিপ এলাকা নির্ধারণ করতে হবে। এক্ষেত্রে জমির পরিমাণ, কৃষকের সংখ্যা ও ফসলের নিবিড়তা বিবেচনায় নিতে হবে। নিয়ম লঙ্ঘনকারী ডিলারদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।   তিনি বলেন, সরকারের নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি ডিলারের দোকানে মূল্যতালিকা ও মজুতের তথ্য প্রদর্শন করতে হবে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অতিরিক্ত দাম আদায়, মজুতদারি এবং সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে সার পাচারের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে।   প্রকৃত কৃষকের কাছে ন্যায্যভাবে সার বিতরণ নিশ্চিত করতে কৃষক কার্ড ও কৃষকের তালিকা ব্যবহারের নির্দেশনাও দেন কৃষিমন্ত্রী।   আসন্ন রবি মৌসুমের জন্য সারের বরাদ্দ ও সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, চাহিদা বাড়লে তা মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত রয়েছে। তবে বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সার পাচার রোধে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। প্রতিবেশী দেশগুলোর কিছু এলাকায় নন-ইউরিয়া সারের চাহিদা ও দাম বেশি থাকায় এসব সার পাচারের আশঙ্কা রয়েছে। কোনো অবস্থাতেই দেশের সার দেশের বাইরে যেতে দেওয়া যাবে না।   মন্ত্রী বলেন, সরকার সারের ওপর বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দেয়। এই ভর্তুকির সুফল যেন প্রকৃত কৃষক পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো জেলায় সার নিয়ে অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের জবাবদিহি করতে হবে।   ইউরিয়া সার শিল্পকারখানায় কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের বিষয়েও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। বিশেষ করে বস্ত্র ও ডাইং কারখানায় ইউরিয়া ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কারখানার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। এজন্য জেলা পর্যায়ের সার মনিটরিং কমিটিকে নিয়মিত সভা করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০২, ২০২৬

গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়ে আশাবাদী ঢাকা : শামা ওবায়েদ

বিমান বাহিনীর সহায়তায় ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’ সফলভাবে সম্পন্ন

ডিএসসিসিতে ই-রিকশা নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান -ফাইল ছবি
কপের দুই দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

তুরস্কে অনুষ্ঠেয় কপ৩১-এর দুই দিনব্যাপী ‘ওয়ার্ল্ড লিডার্স সামিট’-এ যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্মেলনে গ্রান্ট বা অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন এবং প্রধান কার্বন নির্গমনকারী দেশগুলোর কাছ থেকে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানাবে বাংলাদেশ।   আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এবার অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সফরে যাবেন, তিনি দুই দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে যোগ দেবেন।’   জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (ইউএনএফসিসিসি) ৩১তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (কপ৩১) আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ার ‘আনতালিয়া এক্সপো সেন্টারে’ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে আগামী ১১ ও ১২ নভেম্বর উচ্চপর্যায়ের ‘ওয়ার্ল্ড লিডার্স ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিট’ অনুষ্ঠিত হবে।   শামা ওবায়েদ জানান, জলবায়ু সহনশীলতা ও অভিযোজনের ক্ষেত্রে নিজেদের অর্জনগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর প্রতি উন্নত দেশগুলোকে তাদের দায়িত্ব পালনে চাপ দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেবে বাংলাদেশ।   তিনি বলেন, বাংলাদেশ ঋণের পরিবর্তে অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়নের পক্ষে জোরালো অবস্থান তুলে ধরবে। কারণ, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে যেসব দেশের অবদান নগণ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের পরিণতি মোকাবিলায় তাদের ওপর অতিরিক্ত ঋণের বোঝা চাপানো উচিত নয়।   তিনি আরও বলেন, ‘কার্বন নির্গমনে বাংলাদেশের ভূমিকা প্রায় শূন্যের কোঠায় হলেও শেষ পর্যন্ত আমাদেরই এর পরিণতি ভোগ করতে হয়।’   পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক জলবায়ু চুক্তির অধীনে প্রধান কার্বন নির্গমনকারী দেশগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও বাংলাদেশ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরবে।    তিনি জানান, গত ছয় মাসে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার কর্তৃক গৃহীত পরিবেশ ও জলবায়ু সম্পর্কিত বিভিন্ন উদ্যোগ সম্মেলনে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে খাল খনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং সৌরবিদ্যুৎসহ অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ।   শামা ওবায়েদ বলেন, এসব উদ্যোগ জলবায়ু সহনশীলতা জোরদার, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।   তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া এবং বৃহত্তর এশিয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মানুষ কীভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে এবং এর বিরূপ প্রভাবের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে, তাও তুলে ধরা হবে।   প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি, সফরসঙ্গীদের তালিকা এবং সম্মেলনে বাংলাদেশের বিস্তারিত আলোচ্য অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে শামা বলেন, সফরের আগে সফরের আগে সরকারের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিং করা হবে। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগের আগে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।’   এই সম্মেলনে প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা, জলবায়ু অভিযোজন জোরদার করা, ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন জোরদার করা এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে বৈশ্বিক রূপান্তরকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর আলোকপাত করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।   জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন সহজলভ্য ও পূর্বানুমানযোগ্য করার দাবি জানিয়ে আসছে। বিশেষ করে জলবায়ু অভিযোজন, দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় এ অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে ।   জলবায়ু সংকটের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় রাজনৈতিক অঙ্গীকার জোরদার, জলবায়ু চুক্তির বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে এ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা অংশ নেবেন।   তুরস্ক এই কপ৩১ সম্মেলনটি আয়োজন ও সভাপতিত্ব করবে, অন্যদিকে আলোচনা বা দরকষাকষির মূল সভাপতিত্বের দায়িত্ব পালন করবে অস্ট্রেলিয়া।   তুরস্ক কপ-৩১-এর আয়োজক ও সভাপতিত্ব করবে। অন্যদিকে আলোচনা কার্যক্রমের সভাপতিত্ব করবে অস্ট্রেলিয়া।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০২, ২০২৬

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২২৩ টাকা, নতুন মূল্য ২ হাজার ৬০ টাকা

ছবি: সংগৃহীত

মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেট নিয়ে জটিলতার অবসান

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

0 Comments