জাতীয়

‘স্বপ্নের সেতু’ নির্মাণ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে গিয়ে অবরুদ্ধ সেতুমন্ত্রী

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বাউফলের বগা এলাকায় লোহালিয়া নদীর ওপর প্রস্তাবিত ‘স্বপ্নের সেতু’ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে গিয়ে বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের মুখোমুখি হয়ে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুর ১টার দিকে সেতুমন্ত্রী বগা ফেরিঘাটে পৌঁছান। সেখান থেকে নদীর পূর্বপাড়ে আয়োজিত এক সভায় যোগ দিতে ফেরিতে ওঠেন। সভার আয়োজন করেছিলেন বাউফল আসনের জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

তবে সভাস্থলে মন্ত্রীর যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাধা দেন। মন্ত্রী পূর্বপাড়ে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে বিভিন্ন দিক থেকে ঘিরে ফেলে সেতুমন্ত্রীর গাড়িবহর অবরুদ্ধ করা হয়। এ সময় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকেন।

প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর পরিস্থিতিতে বিরক্ত হয়ে সেতুমন্ত্রী একই ফেরিতে পশ্চিমপাড়ে ফিরে যান। পরে তিনি গাড়িবহর নিয়ে পটুয়াখালীর উদ্দেশে রওনা দেন।

ঘটনাস্থলে পটুয়াখালীর এমপি আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সেতুমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন বাউফলের এমপি ও জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জামায়াত আয়োজিত সভায় মন্ত্রীকে অংশ নিতে না দিতেই পরিকল্পিতভাবে বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। ঘটনাস্থলে বাউফলের বিএনপির পরাজিত এমপি প্রার্থী শহীদুল আলম তালুকদারসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। অন্যদিকে বিএনপির স্থানীয় শীর্ষ নেতারাও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ কালবেলাকে বলেন, সভাস্থলের ব্যানারে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ছবি না থাকায় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সেতুমন্ত্রীকে অবরুদ্ধ করেছিলেন। এ ছাড়া আর কোনো তথ্য তিনি দিতে পারেননি।

উল্লেখ্য, বাউফলের লোহালিয়া নদীতে বাংলাদেশ-চীন নবম মৈত্রী সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল বিগত সরকারের আমলে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই উদ্যোগ স্থবির হয়ে পড়ে। পরে জাতীয় সংসদে সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে সেতুমন্ত্রীকে বাউফল সফরের আমন্ত্রণ জানান এমপি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

এ ঘটনায় প্রস্তাবিত ‘স্বপ্নের সেতু’ নির্মাণের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
ঢাবির আইএমএল পরিচালকের বিরুদ্ধে শিক্ষক হয়রানির অভিযোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের (আইএমএল) পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবছার কামালের বিরুদ্ধে এক ভাষাবিদ ও শিক্ষকের চুক্তিভিত্তিক খণ্ডকালীন নিয়োগের মেয়াদ নবায়নে প্রশাসনিক হয়রানি ও গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে।   বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দেওয়া এক লিখিত আবেদনে ওই শিক্ষক দাবি করেছেন, তিনি নিয়ম অনুযায়ী আবেদন জমা দিলেও দীর্ঘদিন তা গ্রহণ করা হয়নি। পরে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানের হস্তক্ষেপে আবেদনটি প্রক্রিয়াকরণ শুরু হয়। তবে এক বছরের পরিবর্তে তাকে মাত্র ছয় মাসের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়, যার মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ৩০ জুন।   অভিযোগে বলা হয়, চলতি বছরের মে মাসে তিনি যথাসময়ে মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বরং বিভিন্ন মহলের প্রভাবে তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন তিনি।   ওই শিক্ষক আরও অভিযোগ করেন, তার আন্তর্জাতিক মানের পাঠদান পদ্ধতির সঙ্গে অন্য এক শিক্ষকের পাঠদানের ধরন মিল নেই— এমন মন্তব্য করে তার পেশাগত সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।   তিনি জানান, গত ২৫ বছরে যুক্তরাজ্য, ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনসহ বিভিন্ন দেশে শিক্ষকতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। এছাড়া ক্যামব্রিজ, অক্সফোর্ড, কিংস কলেজ লন্ডন ও সোয়াসসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা শিক্ষা ও ভাষা অর্জনবিষয়ক সেমিনার, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেছেন এবং প্রশিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।   বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি নিরসনের জন্য একাধিকবার আইএমএল পরিচালকের সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ জানালেও কোনো সাড়া পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।   অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি নিজে এবং তার শিক্ষার্থীরা পৃথকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন। উপাচার্য আবেদনগুলো রেজিস্ট্রার দপ্তরের মাধ্যমে আইএমএলে পাঠালেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তার।   এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে অধ্যাপক পদে আবেদন করার সময় যে গোষ্ঠী তার বিরোধিতা করেছিল, একই গোষ্ঠী এখন আইএমএলেও তার বিরুদ্ধে সক্রিয় রয়েছে।   নিজেকে দীর্ঘদিনের বৈষম্যের শিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, গবেষণা এবং একাধিক ভাষায় দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও ব্যক্তিগত পক্ষপাতের কারণে তাকে বারবার পেশাগতভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও যোগ্য শিক্ষকদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।   অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আইএমএল পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবছার কামাল বলেন,   ‘আমাদের ইতোমধ্যে একজন অনারারি অধ্যাপক আছেন। বর্তমানে কোনো শিক্ষক প্রয়োজন নেই। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’   তিনি আরও বলেন, ‘ওনার যোগ্যতা নিয়ে আমাদের কোনো প্রশ্ন নেই। তবে তিনি আগে ফার্সি বিভাগে ছিলেন। আমাদের কোর্সগুলো খুবই বেসিক, সে হিসেবে তাকে ওভারকোয়ালিফায়েড মনে হয়েছে। এছাড়া সিলেবাস অনুসরণ নিয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ ছিল। এই মুহূর্তে আমাদের শিক্ষকের প্রয়োজন নেই। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে বিষয়টি দেখব।’

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

র‌্যাবের নাম বদলে ‘এসআরবি’ করার উদ্যোগ, খসড়া আইন প্রকাশ

ফাইল ছবি

বিমানবন্দরে ভিআইপি-সিআইপিসহ সবার তল্লাশির নির্দেশ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ফাইল ছবি

ভারত সফর করবেন কি না, সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানদের অপসারণ প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানদের অপসারণ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।   এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মামুন মাহবুব। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. মেহেদী হাসান।   এর আগে উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু সালেহসহ ২৩৬ জন এ রিট দায়ের করেন।   পরে আইনজীবী মামুন মাহবুব জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৪ সালে উপজেলা পরিষদ আইনের ১৩(ঘ) ধারা সংশোধন করে বিশেষ পরিস্থিতিতে অত্যাবশ্যক বিবেচনা করলে বা জনস্বার্থে, যে কোনও বা সব উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বা অন্যান্য সদস্যগণকে সরকার অপসারণ করতে পারবে, এমন বিধান যুক্ত করে। এরপর এক আদেশে সব উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানদের অপসারণ করে। এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে আমরা রিট করেছি।   তিনি আরও বলেন, ‘রিটে আমরা আইনের সংশোধন ও অপসারণের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছি। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ওই আইনের সংশোধনী এবং উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান-মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানদের অপসারণ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন।’   চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ০৬, ২০২৬

২-৩ দিনে কাটবে জ্বালানি সংকট: বিদ্যুৎমন্ত্রী

ইউনূসের চেয়ে হাজারগুণ ভালো দেশ চালাচ্ছেন তারেক রহমান: কাদের সিদ্দিকী

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হবে, সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে: শামা ওবায়েদ

ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও ভূমি অধিকার নিশ্চিতের দাবি

আজ সকাল ১০:৩০ মিনিটে ঢাকাস্থ সিরডাপ মিলনায়তনে এএলআরডি ও বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামসহ জাতীয় পর্যায়ের ১৭টি অধিকারভিত্তিক সংস্থার যৌথ উদ্যোগে  ‘‘আদিবাসী জনগণ:  জীবন, ভূমি অধিকার ও সংস্কৃতির সম্মান” শীর্ষক একটি জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।  সেমিনারে জাতীয় সংসদের সম্মানিত  সদস্য আন্না মিনজ এমপি ও অ্যাড. মাধবী মারমা এমপি সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।  এতে মানবাধিকার কর্মী ইলিরা দেওয়ান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সেমিনারে প্যানেল আলোচক হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন- ট্রান্সপারেন্সি  ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, গবেষক ও নৃ-বিজ্ঞানী ড. ঈশিতা দস্তিদার, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভানেত্রী ডা: ফওজিয়া মোসলেম। এছাড়াও সমতল ও পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী নেতা-নেত্রী এবং অন্যান্য সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।   স্বাগত বক্তব্যে এএলআরডি এর নির্বাহী পরিচালক জনাব শামসুল হুদা বলেন, বর্তমান সরকার আদিবাসীদের উন্নয়নে ইতিবাচক কথা বলে যা আমাদের আশান্বিত করে তবে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই আমাদের আশাকে স্বার্থক করতে পারে। তিনি আরো বলেন আদিবাসী বিষয়ক জাতিসংঘের স্থায়ী ফোরামে (UNPFII) সরকারীভাবে প্রতিবছর বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করে, কিন্তু দেশে সরকার আদিবাসী দিবস উদযাপন করেনা যা হতাশাজনক। তিনি সরকারিভাবে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালনের আহবান জানান।   মূল প্রবন্ধে মানবাধিকারকর্মী ইলিরা দেওয়ান সরকারের কাছে আদিাবসীদের উন্নয়নে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো  সংবিধানের ২৩ক ধারায় বর্ণিত “উপজাতি, নৃ-গোষ্ঠী” শব্দগুলো বাদ দিয়ে তার পরিবর্তে Indigenous People এর যথোপযুক্ত বাংলা শব্দ যা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কাছে গ্রহণযোগ্য তা যুক্ত করা; পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে কার্যকর করতে অবিলম্বে উদ্যোগ নেয়া এবং এর সভা নিয়মিত সম্পন্ন করে কমিশনকে গতিশীল করা;  সমতলের আদিবাসীদের জন্য স্বতন্ত্র ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে; আদিবাসী এলাকায় পর্যটন শিল্প প্রসারিত করার আগে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনধারা যাতে ব্যাহত না হয় এবং তাদের সংস্কৃতি, কৃষ্টির প্রতি সম্মান রেখে ভ্রমণের জন্য সরকারীভাবে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা ইত্যাদি।   গবেষক ও নৃবিজ্ঞানী ঈশিতা দস্তিতার আদিবাসীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে আদিবাসীদের লোকজ জ্ঞান ও চিকিৎসাসেবার স্বীকৃতিসহ আদীবাসী ধাত্রি, সেবিকাদের আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা বিষয়ে প্রশিক্ষণসহ দুর্গম অঞ্চলে আদিবাসীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে বিশেষ ব্যবস্থাগ্রহণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।   বাংলাদেশ আদবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, আমাদের দেশের বৈচিত্রের যে সংস্কৃতি তাকে ধরে রেখে এগিয়ে যেতে হবে। বর্তমান সরকার যে রংধনু জাতির কথা বলছে, যে অন্তর্ভুক্তিমূলক, মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছে যা আদিবাসীদের জন্য সম্ভাবনার, নতুন পথে চলার প্রেরণা দিচ্ছে। কিন্তু তাকে   বাস্তবে রূপ না দিলে আবার আমরা পিছিয়ে যাব। যে বৈষম্য নিরসনের চেতনার কথা বলা হচ্ছে আদিবাসীদের বাদ রেখে তা সম্ভব নয়।   মাননীয় সংসদ সদস্য আন্না মিনজ এমপি বলেন, আদিবাসীদের না পাওয়ার বঞ্চনা যেমন সর্বস্বীকৃত কিন্তু পাওয়ার বিষয়টিকেও আমাদের স্বীকার করতে হবে। আদিবাসীদের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো সামানের দিনগুলোতে কীভাবে আমরা আরো এগিয়ে যেতে পারি সে দিকটির প্রতি বেশি জোর দেয়া। তিনি বলেন বর্তমান সরকারের  নির্বাচনী ইশতেহার থেকে শুরু করে অন্যান্য ডকুমেন্টে আদিবাসীদের উন্নয়নের বিষয়টি যুক্ত করা অন্যতম স্বীকৃতি। তিনি বলেন জাতীয় বাজেট থেকে শুরু করে অন্যান্য কর্মসূচীতে সরকারের উদ্যোগগুলো ইতিবাচক যা আদিবাসীদের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।   ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আদিবাসীদের কোন বিতর্ক ব্যাতীত সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়া উচিৎ। তিনি বলেন,  আদিবাসীদের তাদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে যাতে কারে স্বার্থান্বেষীগোষ্ঠী তাদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে তাদের ন্যায্য দাবীকে দুর্বল করে না দেয়। তিনি বলেন, আদিবাসীদের প্রথাগত ভূমির মালিকানার আইনগত স্বীকৃতি নেই, এটিকে স্বীকৃতি দিতে হবে। তিনি সংসদীয় আদিবাসী বিষয়ক ককাস  গঠন এবং এটিকে সক্রিয়ভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে সরকারকে আহ্বান জানান।   বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভানেত্রী ডা: ফওজিয়া মোসলেম বলেন, এবারের আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের প্রতিপাদ্য  “  আদিবাসী ধাত্রীদের সম্মান জীবনের নিরাপত্তা ও কল্যান”  যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন কর্মসূচীতে আদিবাসী ধাত্রীরা তাদের লোকজ জ্ঞান নিয়ে যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে তার স্বীকৃতির পাশাপাশি আদিবাসীদের মাতৃমৃত্যু, নবজাতক শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা ও সাধারণ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে সরকারের উদ্যোগ নেয়া উচিৎ বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন আদিবাসীদের সংস্কৃতি, সমাজ সবকিছু ভূমির সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। বর্তমানের আদিবাসীদের যে ভূমিহীনতার সংস্কৃতি দৃশ্যমান তা বন্ধ করে আদিবাসীদের ন্যায্য ভূমি অধিকার নিশ্চিতে তিনি সরকারকে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান।   বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাননীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট মাধবী মারমা এমপি বলেন, আদিবাসীদের উন্নয়ন ও অধিকার সুরক্ষায় সরকারের ইতিবাচক কর্মসূচী ও পরিকল্পনাগুলোকে কাজে লাগানোর জন্য আদিবাসীদের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জুম চাষ নিয়ে একটি মহল পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে বলে নেতিবাচক ধারণা ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন পৃথিবীর অনেক দেশেই জুম চাষ হচ্ছে যা পরিবেশ বান্ধব হিসেবেই স্বীকৃত। আমাদের জুম চাষকে আরো কীভাবে উন্নত করা যায় সে বিষয়ে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন,  বর্তমান সরকার বনের উন্নয়ন ও কৃষির সম্প্রসারনের ওপর বিশেষভাবে কাজ করছে সেখানে আদবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনি আরো আদিবাসীদের মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা যায় কিনা সে বিষয়ে  সরকারের সাথে কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি আদিবাসী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটগুলোর সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো কাজ করছে বলেন জানান, অন্যান্য আলোচকরা আদিবাসীদের এলাকায় ইকো ট্যুরিজম থেকে শুরু করে যে কোন উন্নয়নকাজের ক্ষেত্রে আদিবাসীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবী জানান। তারা বলেন পাবর্ত্য অঞ্চলে বন্যা খুবই অপরিচিত ছিল।   কিন্তু অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফলে এ বছরে পার্বত্যঅঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকায় বন্যায় আক্রান্ত হয়।  ১৯৯৭ সালের শান্তি চুক্তির অধীনে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনে ২৭ হাজারের বেশি ভূমি বিরোধের আবেদন থাকলেও স্বার্থান্বেষী মহলের বিরোধিতায় কখনও কমিশনের সভা হতে পারছেনা। আলোচকবৃন্দ জরুরিভিত্তিতে ভূমি কমিশনের সক্রিয়তা নিশ্চিত করার আহবান জানান। এছাড়া ১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাসত্ত্ব আইন এর ৯৭ ধারা বাস্তবায়নে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) যাতে আদিবাসীদের ভূমি বিষয়ে স্বতপ্রণোদিত হয় কাজ করেন সে বিষয়ে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৬, ২০২৬

চবির একাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতার অভিযোগ, সত্যতা যাচাইয়ে কমিটি

ভারত শেখ হাসিনাকে কেন এই সুযোগ দিল: প্রশ্ন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অভিবাসন ব্যবস্থাপনা এখন জাতীয় নিরাপত্তার অংশ: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

0 Comments