অন্যান্য

মনোনয়নপত্র নিয়ে যে বার্তা দিলেন বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৮, ২০২৬

ঋণখেলাপির তালিকা থেকে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম বাদ দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত।

 

এর ফলে তিনি ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হবেন এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

 

তবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী দাবি করেছেন, তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়নি। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ দাবি করেন।

 

এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, গণমাধ্যমে যেভাবে বিষয়টি প্রচার করা হচ্ছে, সেটি সত্য নয়। তার মনোনয়নপত্র নিয়ে কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি। এ বিষয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। ভিডিও চলাকালে তিনি তার আইনজীবীকে ফোনে যুক্ত করেন।

 

বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে আইনজীবী বলেন, ব্যক্তি হিসেবে মুন্সীর কোনো ঋণখেলাপি নেই। তার কোম্পানির বিষয় নিয়ে সমস্যা হয়েছিল। এ কারণে চেম্বার আদালত আগের স্টে অর্ডারটি স্থগিত করেছেন। এ বিষয়ে রোববার (১১ জানুয়ারি) আপিল করা হবে।

 

তিনি আরও দাবি করেন, স্টে অর্ডার স্থগিত হওয়া মানে মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যাওয়া নয়।

 

এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান বলেন, বিষয়টি আপিলে নিষ্পত্তি হবে।

 

এ নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন। এর আগে ঋণখেলাপির তালিকা থেকে ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম স্থগিত করে আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই আদেশ দেন। তবে ওই আদেশের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ চেয়ে প্রিমিয়ার ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেম্বার আদালতে আবেদন করে।

 

বৃহস্পতিবার চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন।

 

আদালতে প্রিমিয়ার ব্যাংকের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার বিভূতি তরফদার। চেম্বার আদালতের সর্বশেষ আদেশে হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশ কার্যকর না থাকায় ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী আইনগতভাবে ঋণখেলাপি হিসেবেই বিবেচিত থাকবেন। প্রচলিত আইন অনুযায়ী, ঋণখেলাপিরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য।

 

এদিকে কুমিল্লা-৪ দেবিদ্বার আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্র করে নেবে, জামায়াত চুপ মেরে গুপ্ত হয়ে যাবে: মাহফুজ আলম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষাপটে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।  সোমবার (১ জুন) সন্ধ্যা ৭টা ১৪ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, লীগ প্রশ্নে এখন যা চলছে, তা হচ্ছে দুই বড় দলের ইনসিকুরিটি। কৌন বনেগা লীগকা বাপ? ‘৮৬ আর ‘৯৬ এর স্মৃতি বিএনপি ভুলতে পারছে না আর জামায়াত আছে আদর্শিক শত্রুতা/সহিংসতার ভয়ে, যা বিএনপি-লীগের ‘৯০ দশকের যৌথ আক্রমণের স্মৃতি থেকে উৎসারিত। ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মাহফুজ লিখেছেন, আগামীতে বিএনপি (আল্লাহ না করুক) ক্ষমতায় থেকে ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র’ করে নেবে আর জামায়াত চুপ মেরে গুপ্ত হয়ে যাবে। আসল বিপদ এ প্রজন্মের যারা লীগের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়েছেন, তাদের। সে বিপদ আরো ত্বরান্বিত হয়েছে জামায়াত জোটে যাওয়ায়। তিনি লিখেছেন, দুঃখজনক হলো, এ প্রজন্ম ব্যস্ত নিজেদের হাতের তালুর চেয়ে ছোট রুটি ভাগাভাগিতে। রুটিটা বড় করেন। আপনাদের তাকদ আছে এ জাতিকে, গ্লোবাল সাউথকে লিড দেয়ার। যার যার পার্টি, দোকান, ফেরকা, তরিকা থেকে সংগঠিত হোন। প্রতিষ্ঠান গড়ুন। স্বচ্ছল হোন। রাজনীতিতে নয় শুধু, সমাজেও প্রভাব তৈরি করুন। দীর্ঘমেয়াদি লড়াই ও সংহতির পাটাতন গড়ে তুলুন। প্রবীণ নেতাদের ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে মাহফুজ আলম লেখেন, বড়দের আস্কারা-উস্কানিতে অনেক শক্তিক্ষয় হয়েছে। বড়রা হাটে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে এ প্রজন্মকে। সত্তর ও নব্বইয়ের দশকেও একইভাবে তরুণ প্রজন্মকে ব্যবহার করা হয়েছিল। তিনি লেখেন, লড়াইটা প্রজন্মের। আগের প্রজন্ম আপনাদের বাঁচাবে না। সিম্পল কথা।  এটা খেয়াল রেখে কৌশল নির্ধারণ করুন। যার যার ইমাম, খতিব, ফেরকা, তরিকা বানান, সমস্যা নাই। নিজেদের মধ্যে ব্যক্তি আক্রমণ আর বিদ্বেষচর্চা বন্ধ করেন। মতাদর্শের তর্ক তো হবেই, হোক। কিন্তু কেবলা রাখেন জুলাই আর এন্টি-ফ্যাসিজম।  শেষে মাহফুজ লেখেন, পুনশ্চঃ আমরা ফ্যাসিস্ট লীগ তাড়াইছি নিশ্চিত মৃত্যু জেনে। সেই সাহসের সাথে এখন সাংগঠনিক শক্তি আর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা যুক্ত করেন। ফ্যাসিবাদ কোনো ফর্মেই আর ফিরতে পারবে না।

মারিয়া রহমান জুন ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন

ছবি: সংগৃহীত

এশিয়ার সেরা ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায় ৩ বাংলাদেশি

ছবি : সংগৃহীত

মাস শেষে কমবে বিদ্যুৎ বিল, মেনে চলুন ফ্রিজ ব্যবহারের সহজ কিছু নিয়ম

ছবি : সংগৃহীত
২৫ কোটি টাকা ‘খাওয়ার’ অভিযোগে যে ব্যাখ্যা দিলেন আসিফ-হাসনাত

কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ১৫ কোটি টাকা এবং হাসনাত আব্দুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন—জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়ার এমন মন্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তবে এই অভিযোগের জবাবে পৃথকভাবে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন আসিফ মাহমুদ ও হাসনাত আব্দুল্লাহ।   শনিবার (৩০ মে) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় আসিফ মাহমুদ বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন তিনি ও হাসনাত ব্যক্তিগতভাবে অর্থ গ্রহণ করেছেন। অথচ বাস্তবে এটি ছিল স্থানীয় সরকার বিভাগের বিশেষ উন্নয়ন বরাদ্দ।   তার বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য সরকারি বরাদ্দকে ব্যক্তিগতভাবে টাকা নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে তুলনা করা যেমন অযৌক্তিক, তেমনি মানহানিকরও। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় বাজেট অনুমোদনের অর্থ এই নয় যে সরকারপ্রধান ব্যক্তিগতভাবে সেই অর্থ গ্রহণ করছেন। একইভাবে কোনো এলাকায় উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সেই অর্থ নিজের কাছে নিয়েছেন, এমন ব্যাখ্যা সঠিক নয়।   আসিফ মাহমুদ জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের বাজেটের একটি অংশ ‘বিশেষ বরাদ্দ’ হিসেবে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে দেওয়া হয়। এই বরাদ্দ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা বা সচিবের অনুমোদনের মাধ্যমে আবেদন ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে দেওয়া হয়ে থাকে।   তিনি উল্লেখ করেন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা এবং সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে এসব অর্থ ব্যয় করা হয়। বরাদ্দ অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট জেলার প্রশাসক বা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বাধীন কমিটি সিদ্ধান্ত নেয় কোন খাতে অর্থ ব্যয় হবে। কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসকের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, রাজস্ব খাত ও বিশেষ বরাদ্দ খাতের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। রাজস্ব খাত থেকে কোনো ব্যক্তি বা এলাকার জন্য আলাদা বরাদ্দ নিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, আলোচিত অর্থের ব্যয়ের সিদ্ধান্ত জেলা পরিষদের সভায় নেওয়া হয়েছে এবং সরকারি ক্রয়বিধি অনুযায়ী ই-টেন্ডারের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।   নিজের বক্তব্যের পক্ষে উদাহরণ দিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, কুমিল্লা জেলা পরিষদের সভার কার্যবিবরণীতেই দেখা যায় যে বিশেষ বরাদ্দের অর্থ সোলার লাইট স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্র ক্রয়, মসজিদ সংস্কারসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে এই অর্থ ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ বা ব্যয়ের কোনো সুযোগ ছিল না।   অন্যদিকে একই বিষয়ে সরাসরি ব্যাখ্যা চান হাসনাত আব্দুল্লাহ। জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়ার সঙ্গে তার ফোনালাপের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।   ফোনালাপে হাসনাত আব্দুল্লাহ জানতে চান, তার বিরুদ্ধে ‘টাকা খাওয়ার’ অভিযোগ করা হয়েছে কি না। জবাবে মো. মোস্তাক মিয়া বলেন, রাজস্ব খাতসহ সব খাত মিলিয়ে হাসনাতের এলাকায় ১০ কোটি টাকা গেছে। তারা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করেছেন। তার উপজেলায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে, আর আসিফ মাহমুদের এলাকায় ১৫ কোটি টাকা গেছে।   তিনি আরও বলেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ টাকা খেয়েছেন, সেটা তিনি বলেননি। তিনি বলেছেন, উন্নয়নমূলক কাজের জন্য তাদের দুই উপজেলায় মোট ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। হয়তো তার বক্তব্য গণমাধ্যমে সঠিকভাবে উপস্থাপিত হয়নি।   হাসনাত আব্দুল্লাহও দাবি করেন, আলোচিত অর্থ তার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে নয়, বরং সংশ্লিষ্ট এলাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।   বিষয়টি নিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, বরাদ্দ দেওয়া এবং অর্থ ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করার মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক তার বক্তব্য আরও পরিষ্কার করবেন। অন্যথায় বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায়ও যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।   ভিডিও বার্তার শেষাংশে দেশের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, কোনো তথ্য বিশ্বাস বা প্রচার করার আগে তা যাচাই করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য জনসম্মুখে তুলে ধরা হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ৩১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ফসলের সুরক্ষায় প্রথম ওপেন-সোর্স এলএলএম

‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের মহিষ: সত্যিই কি বিরল প্রজাতি?

ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আ.লীগ নেতার জানাজা ও দাফন

ছবি : সংগৃহীত
রাজস্ব তহবিল থেকে আসিফের ১৫, হাসনাতের ১০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন পরিষদের বর্তমান প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া। একই সঙ্গে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।   আজ শনিবার দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও মহানগর বিএনপি এই কর্মসূচির আয়োজন করে। মোস্তাক মিয়া বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহসাংগঠনিকের পদে রয়েছেন।   আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদ প্রশাসক মোস্তাক মিয়া বলেন, ‘আমার জেলা পরিষদ থেকে মুরাদনগরের আসিফ মাহমুদ ১৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন। তিনি আমাদের নিজস্ব রাজস্বের টাকা ১৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন। আরেকজন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি নিয়ে গেছেন ১০ কোটি টাকা। এটা হলো সমন্বয়ের অবস্থা। তাঁরা চেয়েছিলেন যে বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী একটা সমন্বয়ের রাজনীতি, কিন্তু তাঁদের মধ্যে সেটা ছিল না।’   মোস্তাক মিয়া আরও বলেন, ‘আজ বাংলাদেশ সরকার আপনাদের ভোটে নির্বাচিত। জনগণের ভোটে নির্বাচিত আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান আজ প্রধানমন্ত্রী, তিনি এই সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ধ্বংস হওয়া অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের জন্য আজ আমাদের প্রিয় নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাজ করছেন। তাঁর কাঁধে দায়িত্বে পড়েছে—যেই অর্থনীতি ধ্বংস করেছিল, এটাকে পুনরুদ্ধারের জন্য। সেটা নিয়ে উনি কাজ করছেন।’   বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে শনিবার রাতে মোস্তাক মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি বলছি না ওই টাকা তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছেন। তাঁরা দুজনই নিজেদের উপজেলায় বিশেষ বরাদ্দ বা উন্নয়ন বরাদ্দের নামে বিপুল পরিমাণ ওই টাকা নিয়ে অন্যান্য উপজেলাগুলোকে বঞ্চিত করেছে; আমি সেটি বোঝাতে চেয়েছি। কারণ আসিফ মাহমুদ আর হাসনাত আবদুল্লাহ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করেছিলেন। কিন্তু তাঁরাই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিশেষ বরাদ্দ নিয়ে বাকি উপজেলাগুলোকে বঞ্চিত করেছে। এই কারণে অন্যান্য উপজেলাগুলো বৈষম্যের শিকার হয়েছে। ওই অর্থবছরে জেলার বাকি উপজেলাগুলো সেই অর্থে কোনো বরাদ্দই পাইনি। আমি এই বিষয়টি বোঝাতে চেয়েছিলাম।’   জেলা পরিষদের হিসাব বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে বিশেষ বরাদ্দে ওই টাকা গেছে মুরাদনগর ও দেবীদ্বার উপজেলায়। এই দুই উপজেলার মধ্যে মুরাদনগর আসিফ আহমদের বাড়ি এবং দেবীদ্বার হাসনাত আবদুল্লাহর বাড়ি। একই অর্থবছরে মুরাদনগর ও দেবীদ্বার উপজেলার বাইরে এক কোটি টাকার মতো বরাদ্দ পেয়েছিল চৌদ্দগ্রাম উপজেলা। জেলার ১৭টি উপজেলার মধ্যে অন্যান্য উপজেলাগুলো ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে সেভাবে তেমন বরাদ্দ পায়নি।   উপজেলার বাজেটের টাকা তো আমাকে দেওয়া হয়নি: হাসনাত আবদুল্লাহ   জেলা পরিষদ প্রশাসকের এ বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসনাত আবদুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘জেলা পরিষদের প্রশাসক যে কথা বলেছেন, তিনি সেটি দ্বারা উপজেলার জন্য বাজেট নেওয়ার কথা বুঝিয়েছেন। আর উপজেলার জন্য বাজেটের টাকা তো আমাকে দেওয়া হয়নি। এ বাজেট তো কোনো ব্যক্তিকে দেওয়া হয় না। দেওয়া হয়েছে উপজেলাকে।’   দেবীদ্বার উপজেলাকে কোন কোন খাতে, কোন কাজে টাকা দেওয়া, সে তালিকা জেলা প্রশাসনের কাছে আছে জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘উপজেলাও সে টাকা কোন খাতে কত টাকা, কোথায় খরচ করেছে, সে হিসাব আছে। তারা সেটি প্রকাশ করুক।’   উপজেলার উন্নয়নের জন্য সবকিছু করতে রাজি আছেন জানিয়ে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমি আমার উপজেলার মানুষের জন্য কোথাও যদি কোনো কিছু ভিক্ষা চাইতে হয়, সেটি নিয়েও আমার আপত্তি নাই। কারণ, আমি তো আমার জন্য চাচ্ছি না। আমি মানুষের জন্য চাচ্ছি।’ হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এই বরাদ্দ স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেওয়া বিশেষ বরাদ্দ, যেটা জেলা পরিষদের মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে। দেবীদ্বার উপজেলাকে ৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ এডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের রাজস্বের সঙ্গে এর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।   জেলা পরিষদ প্রশাসকের বক্তব্যের সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘উনি এমনভাবে বলেছেন মনে হচ্ছে, টাকা আমরা নিজেরা পকেটে নিয়ে গেছি। অথচ দেবীদ্বারের বিভিন্ন কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উনি বলেছেন, রাজস্ব খাত থেকে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এটি তো রাজস্ব খাতের বরাদ্দ নয়, এডিপি প্রকল্পের বরাদ্দ।’   ‘জাতির দুঃসময়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন জিয়াউর রহমান’   কুমিল্লার আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত জাতির প্রতিটি দুঃসময়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং সংকটকালে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে জাতির হাল ধরেছেন।   মন্ত্রী বলেন, দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক। তাঁর জীবনাদর্শ, সততা, দায়িত্ববোধ ও জনগণমুখী রাজনীতি দেশের মানুষের কাছে আজও অনুকরণীয়। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক আদর্শের অনুসারীদের আচরণ, দায়িত্ববোধ, জনসম্পৃক্ততা ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। জনগণ যেন তাঁদের কর্মকাণ্ডে শহীদ জিয়ার আদর্শ ও মূল্যবোধের প্রতিফলন দেখতে পায়, এ বিষয়ে নেতা–কর্মীদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।   অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা (টিপু)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুম। এতে বিএনপি, এর অঙ্গসংগঠনের নেতারাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ৩১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

চোখে দেখেন না, ছুঁয়ে প্রধানমন্ত্রীকে দোয়া করলেন নূরজাহান

ছবি : সংগৃহীত

উপজেলার বাজেটের টাকা আমাকে নয়, দেওয়া হয়েছে উপজেলাকে : হাসনাত আবদুল্লাহ

প্রতীকী ছবি

মোবাইলের স্ক্রিনে ‘জয়ের’ ফাঁদ, বাস্তবে সর্বনাশ

0 Comments