নারী বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের সূচি গতকাল প্রকাশ করেছে আইসিসি। নেপালে শুরু হতে যাওয়া বাছাই পর্বের জন্য আজ দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের ১৫ সদস্যের দলে যথারীতি নেতৃত্ব দেবেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। তার ডেপুটি হিসেবে থাকছেন নাহিদা আক্তার।
এ ছাড়া নিয়মিত তারকারই থাকছেন বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের দলে। অন্যদিকে স্ট্যান্ডবাই হিসেবে ৫ জনকে রেখেছে বিসিবি। টুর্নামেন্টটিতে খেলতে আগামী ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশ ছাড়বেন জ্যোতি-মারুফা আক্তাররা।
আগামী ১৮ জানুয়ারি নেপালের দুই স্টেডিয়াম কীর্তিপুর ও মুলপানিতে বাছাই পর্ব শুরু হবে।
উদ্বোধনী দিনে বাংলাদেশও মাঠে নামবে। প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র। ১০ দলের এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ‘এ’ গ্রুপে পড়েছে। গ্রুপের অপর তিন সঙ্গী হলো—পাপুয়া নিউগিনি, নামিবিয়া ও আয়ারল্যান্ড।
২০ জানুয়ারি বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাপুয়া নিউগিনি। অন্যদিকে ২২ জানুয়ারি নামিবিয়ার বিপক্ষে খেলার পর গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে ২৪ জানুয়ারি আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে মারুফা আক্তার-ফারজানা হক পিংকিরা।
আগামী জুন-জুলাইয়ে নারী বিশ্বকাপের ১০ম আসর হবে ইংল্যান্ডে। ইতিমধ্যে ৮ দল বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে। বাকি ৪ টিকিটের জন্য বাছাই পর্বে লড়বে ১০ দল।
৫ দল করে দুটি গ্রুপে ভাগ হওয়া শীর্ষ তিন দল সুপার সিক্সে জায়গা পাবে। সেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে এক গ্রুপের দল অন্য গ্রুপের দলগুলোকে পাবে।
শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে যে চার দল থাকবে তারা অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গী হবে। বাছাই পর্বের ম্যাচ হবে দুটি ভেন্যুতে—কীর্তিপুরের ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট গ্রাউন্ড ও মুলপানি ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। মূলপর্বে নামার আগে নেদারল্যান্ডস ও থাইল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের স্কোয়াড—
নিগার সুলতানা জ্যোতি (অধিনায়ক), নাহিদা আক্তার (সহ-অধিনায়ক), সোবহানা মোস্তারি, ফারজানা হক পিংকি, শারমিন আক্তার সুপ্তা, দিলারা আক্তার, জুয়াইরিয়া ফেরদৌস, রিতু মনি, ফাহিমা খাতুন, স্বর্ণা আক্তার, রাবেয়া খান, মারুফা আক্তার, ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা, সানজিদা আক্তার মেঘলা ও সুলতানা খাতুন।
স্ট্যান্ডবাই—
শারমিন সুলতানা, ফারজানা ইয়াসমিন, শরিফা খাতুন, ফাতেমা জাহান সোনিয়া ও হাবিবা ইসলাম পিংকি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়ে ব্রাজিলিয়ান তারকা ফেলিপে কৌতিনিয়ো। ফ্রি-এজেন্ট হিসেবে ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব সান্তোসে যোগ দিয়েছেন সাবেক লিভারপুল ও বার্সেলোনা তারকা। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের বন্ধু নেইমার জুনিয়রের সঙ্গে একই ক্লাবের হয়ে খেলার সুযোগ তৈরি হলো তার। ৩৪ বছর বয়সী কৌতিনিয়ো মূলত অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে খেলেন। ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে দীর্ঘ সময় কাটালেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজের সেরা ছন্দে দেখা যায়নি তাকে। এবার ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে ফিরে সান্তোসের কঠিন সময় কাটানোর দায়িত্ব নিতে হচ্ছে অভিজ্ঞ এই ফুটবলারকে। সান্তোস বর্তমানে ব্রাজিলের শীর্ষ ফুটবল প্রতিযোগিতা ব্রাসিলেইরাওয়ে প্রত্যাশিত অবস্থানে নেই। ২৫ ম্যাচ শেষে দলটির জয় ও ড্র—দুটিই আটটি করে। পয়েন্ট তালিকায় তাদের অবস্থান ১৩তম। ফলে দলের আক্রমণভাগে অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতা বাড়াতে কৌতিনিয়োর মতো একজন ফুটবলারকে দলে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। নেইমারের চোটে নতুন সমীকরণ: কৌতিনিয়োর সান্তোসে যোগ দেওয়ার সময়টিও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ বিরতির পর শৈশবের ক্লাবে ফিরে দলটিকে সাফল্যের পথে ফেরানোর চেষ্টা করছিলেন নেইমার। কিন্তু সম্প্রতি ডান উরুর রেকটাস ফেমোরিস পেশিতে গ্রেড-২বি ধরনের চোট পাওয়ায় তাকে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হচ্ছে। গত মৌসুমেও চোটের সমস্যা নিয়েই সান্তোসের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন নেইমার। দলকে অবনমন থেকে বাঁচাতেও তার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। এবার তার অনুপস্থিতিতে দলের সৃজনশীলতা ধরে রাখতে কৌতিনিয়োকে দ্রুত দলে টেনেছে সান্তোস। নেইমার ও কৌতিনিয়োর বন্ধুত্ব অবশ্য নতুন নয়। ব্রাজিলের ফুটবলে বেড়ে ওঠার সময় থেকেই তাদের মধ্যে পরিচয় ও বন্ধুত্ব রয়েছে। যদিও শৈশবে দুজন ছিলেন দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবে—কৌতিনিয়ো সান্তোসের প্রতিপক্ষ ভাস্কো দা গামার হয়ে খেলেছেন, আর নেইমার ছিলেন সান্তোসের তারকা। এবার সেই পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার গল্প পেছনে ফেলে একই ক্লাবের জার্সিতে তাদের দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বছরের শেষ পর্যন্ত চুক্তি: দলবদলবিষয়ক ইতালিয়ান সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানোর তথ্য অনুযায়ী, কৌতিনিয়োর সঙ্গে চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে সম্মত হয়েছে সান্তোস। তবে নেইমারের চোটের কারণে দুজনকে একসঙ্গে মাঠে দেখার জন্য আপাতত অপেক্ষা করতে হবে। নেইমার কবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরবেন, সেটিই এখন সান্তোস সমর্থকদের বড় প্রশ্ন। সান্তোসের লক্ষ্য অবশ্য পরিষ্কার—কঠিন মৌসুমে নিজেদের অবস্থান শক্ত করা। আর সেই পরিকল্পনায় কৌতিনিয়োর অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতা দলটিকে কতটা এগিয়ে নিতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
দলে একের পর এক চোটের সমস্যায় বড় সিদ্ধান্ত নিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। হাই-লেভেল রিভিউ মিটিংয়ের পর টিম ইন্ডিয়ার প্রধান ফিজিও কমলেশ জৈনের চুক্তি বাতিল করেছে বোর্ড। নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর, বর্তমানে নোটিস পিরিয়ডে রয়েছেন জৈন। খুব শীঘ্রই তার জায়গায় নতুন কাউকে নিয়োগ করা হতে পারে। ২০২২ সালে নীতীন প্যাটেলের কাছ থেকে টিম ইন্ডিয়ার প্রধান ফিজিওর দায়িত্ব নিয়েছিলেন কমলেশ জৈন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের বারবার চোটে ছিটকে যাওয়ার ঘটনায় চাপ বাড়ছিল তার উপর। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, দলের মেডিক্যাল সাপোর্ট ব্যবস্থায় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে বিসিসিআই। শুধু চোটের সমস্যা নয়, বোর্ডের মেডিক্যাল ব্যবস্থার উপরও আস্থা কমেছে বলে খবর। বেঙ্গালুরুর সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে নিজস্ব মেডিক্যাল টিম থাকা সত্ত্বেও একাধিক সিনিয়র ক্রিকেটার চিকিৎসা ও পরামর্শের জন্য বাইরের বিশেষজ্ঞদের দ্বারস্থ হয়েছেন। ফলে বোর্ডের অভ্যন্তরীণ মেডিক্যাল প্রোটোকল নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এর পাশাপাশি সাপোর্ট স্টাফে পরিবর্তনও দলের সমস্যাকে আরও বাড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সাবেক স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ সোম দেশাইয়ের বিদায়ের পর তার জায়গায় দায়িত্ব নিয়েছেন অ্যাড্রিয়ান লে রক্স। নতুন সাপোর্ট স্টাফের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে ক্রিকেটারদেরও কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সব মিলিয়ে টিম ইন্ডিয়ার মেডিক্যাল ও ফিটনেস সাপোর্ট সিস্টেমে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত মিলছে। কমলেশ জৈনের পরিবর্তে নতুন ফিজিও নিয়োগ সেই প্রক্রিয়ারই প্রথম ধাপ হতে পারে।
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) ইতিহাস গড়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক স্পিনার ইমরান তাহির। সবচেয়ে বেশি বয়সে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন তিনি। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ের উপর ভর করেই সেন্ট লুসিয়াকে চার উইকেটে হারিয়ে ম্যাচ জেতে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স। বুধবার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে সেন্ট লুসিয়া কিংসকে ১১৯ রানে অলআউট করে দেয় গায়ানা। জবাবে ১৮.৩ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১২২ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় তারা। এই জয়ের নায়ক ছিলেন ইমরান তাহির। চার ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেন তিনি। ৪৭ বছর ১৬৬ দিন বয়সে এই কীর্তি গড়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি বয়সে পাঁচ উইকেট নেওয়ার নজির তৈরি করেন। এর আগে এই রেকর্ড ছিল কুক আইল্যান্ডসের বোলার টোমাকানুটে রিতাভার দখলে। তিনি ২০২২ সালে ৪৬ বছর ২৯৯ দিন বয়সে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন। তাহির প্রথমে ৪৩ রান করা কামিল পুরানকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন। এরপর রস্টন চেজ, ম্যাকেঞ্জি ক্লার্ক, ম্যাথিউ ফোর্ড ও জশুয়া বিশপকে আউট করে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন। জশুয়া বিশপ তার গুগলিতে সম্পূর্ণ বিভ্রান্ত হন। রিভিউ নিলেও মাঠের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে। ম্যাচ শেষে ইমরান তাহির নিজের অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘সত্যি বলতে আমি অনেক দিন ধরেই এমন একটা পারফরম্যান্সের অপেক্ষায় ছিলাম। মাঝের ওভারগুলোয় রান আটকে রাখাই আমার কাজ। আমি সব সময় আক্রমণাত্মক বোলিং করতে ভালোবাসি। আমার ছেলে এখনো আমাকে অনুপ্রাণিত করে। ও চায় আমার সঙ্গে খেলতে। এই জায়গায় পৌঁছতে আমি প্রচুর পরিশ্রম করেছি। পরিশ্রমের ফল এভাবে পেলে খুব ভালো লাগে। ব্যক্তিগত রেকর্ড নিয়ে আমি ভাবি না, সবটাই দলের জন্য।’ বয়স যে শুধু সংখ্যা, তা আরও একবার প্রমাণ করে দিলেন ইমরান তাহির। ৪৭ বছর বয়সেও তার লড়াই, ফিটনেস এবং ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।