আন্তর্জাতিক

মাদুরোর মতো অপহৃত হতে পারেন জার্মান চ্যান্সেলরও

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ০৬, ২০২৬ 0
ফ্রিডরিখ মার্জ|, ছবি: সংগৃহীত
ফ্রিডরিখ মার্জ|, ছবি: সংগৃহীত


ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর আটক করার ঘটনাটি শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে আন্তর্জাতিক আইনের কফিনে বলে দাবি করেছে রাশিয়া। পুতিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপ-প্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইনের এই পতনের যুগে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জও মাদুরোর মতো একইভাবে অপহৃত হতে পারেন এবং তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। খবর আনাদোলু।

 

মাদুরোকে কারাকাসে থেকে বন্দি করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়ার মার্কিন সামরিক অভিযানকে 'অবৈধ দস্যুতা' হিসেবে বর্ণনা করেছেন মেদভেদেভ। তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটন এই কাজের মাধ্যমে আন্তঃরাষ্ট্রীয় বৈধতার অবসান ঘটিয়েছে। মেদভেদেভ আরো বলেন, ‘মাদুরোর সঙ্গে যা ঘটেছে, তারপরে একইভাবে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মার্জকে অপহরণ করা হলেও কারো অবাক হওয়া উচিত নয়।‘

 

রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি চ্যান্সেলর মার্জকে চরম কট্টরপন্থী হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘তাকে অপহরণের চিত্রনাট্য বাস্তবও হতে পারে। জার্মানিতেই তাকে বিচারের আওতায় আনার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তার নিজের দেশের মানুষই তার কারণে কষ্ট পাচ্ছে।‘

 

মেদভেদেভের এই আক্রমণাত্মক মন্তব্যের পর জার্মানিতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। জার্মান সরকারের উপ-মুখপাত্র সেবাস্টিয়ান হিল এই হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘আমরা এই ধরনের হুমকিকে কঠোরতম ভাষায় প্রত্যাখ্যান করছি।‘

 

তবে এই হুমকির কারণে চ্যান্সেলরের নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নে হিল জানান যে বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট শক্তিশালী। তিনি বলেন, ‘চ্যান্সেলর মার্জকে যথাযথ এবং নিরাপদ সুরক্ষা দেয়া হচ্ছে। এই ধরনের হুমকিতে আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন নেই।‘

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস। ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশি শনাক্তে এআই প্রযুক্তি আনছে ভারত

ভারতের মুম্বাই থেকে অবৈধ অভিবাসী উচ্ছেদে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে মহারাষ্ট্র সরকার। বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে একটি আধুনিক এআই টুল তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস।   রোববার (১১ জানুয়ারি) মুম্বাই পৌরসভা (বিএমসি) নির্বাচন উপলক্ষে ক্ষমতাসীন মহাযুতি জোটের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশের সময় এই ঘোষণা দেন তিনি। এ তথ্য জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। ফড়নবিস বলেন, মুম্বাইকে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গামুক্ত করাই সরকারের লক্ষ্য। এজন্য আইআইটির সহায়তায় একটি এআই টুল তৈরি করা হবে, যা অবৈধ অভিবাসীদের দ্রুত ও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হবে। একই সঙ্গে তিনি প্রতিটি পৌর স্কুলে এআই ল্যাব স্থাপনের প্রতিশ্রুতিও দেন। বিজেপি নেতৃত্বাধীন মহাযুতি জোট প্রযুক্তিনির্ভর শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং মুম্বাইকে একটি বৈশ্বিক শক্তিকেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছে। ফড়নবিস দাবি করেন, অবৈধ অভিবাসীরা প্রথমে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করে জাল নথিপত্র সংগ্রহ করে, পরে মুম্বাইসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে—এমন একটি নির্দিষ্ট ধারা তাদের নজরে এসেছে। বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, মুম্বাইয়ে বসবাসরত বৈধ অ-মারাঠি ভাষাভাষীরা সম্পূর্ণ নিরাপদ। তার মতে, কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের বিভ্রান্ত করছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, এনডিএ সরকারের মূল লক্ষ্য মুম্বাইকে একটি টেকসই ও প্রাণবন্ত মহানগরীতে রূপান্তর করা। এ লক্ষ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধের পাশাপাশি যানজট নিরসন ও অবকাঠামো উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার কড়া সমালোচনা করেছে মহারাষ্ট্র কংগ্রেস। দলটির মুখপাত্র শচীন সাওয়ান্ত ফড়নবিসকে ‘স্বপ্নের সওদাগর’ আখ্যা দিয়ে বলেন, সরকার বিপুলসংখ্যক অবৈধ অভিবাসী শনাক্তের দাবি করলেও এ বিষয়ে কোনো দাপ্তরিক তথ্য বা পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।   তিনি বলেন, সরকার যদি সত্যিই এত বিপুলসংখ্যক অবৈধ অভিবাসী শনাক্ত করে থাকে, তবে সেই তথ্য জনসমক্ষে আনা উচিত। শচীন সাওয়ান্ত আরও অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিলেও অতীতের ঘোষণাগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি। উদাহরণ হিসেবে তিনি ২০১৭ সালের মধ্যে মুম্বাইকে বন্যামুক্ত করার প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেন, যা এখনো বাস্তব রূপ পায়নি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনকে নজরে রাখতে নতুন নৌঘাঁটি করছে ভারত

ছবি: সংগৃহীত

ভারত–পাকিস্তান সীমান্তে আবারও উত্তেজনা, আকাশে একাধিক ড্রোন

ছবি: সংগৃহীত

বিক্ষোভ ছড়িয়ে ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা ইরানের নির্বাসিত নেতা রেজা পাহলভি

ছবি: সংগৃহীত
বিক্ষোভকারীদের অনেকে বিদেশি এজেন্টদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত : ইরান

ইরানে চলমান বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেকেই বিদেশি এজেন্টদের দ্বারা প্রশিক্ষিত বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।   রোববার (১১ জানুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। পেজেশকিয়ান বলেন, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সুসংগঠিত ও প্রশিক্ষিত এবং বিদেশি এজেন্টদের মাধ্যমে দেশে প্রবেশ করেছে। তিনি জানান, এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস দাবি করেছিল, তারা ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এক এজেন্টকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি বলেন, সরকার জনগণের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, দেশজুড়ে চলমান অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং স্থানীয় মুদ্রার মারাত্মক অবমূল্যায়ন সাধারণ মানুষকে রাস্তায় নামতে বাধ্য করছে। এসব বাস্তবতা সরকারও উপলব্ধি করছে। তবে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পাশাপাশি সহিংসতার বিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সংঘর্ষ ও সহিংসতা উভয় পক্ষ থেকেই ঘটছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা উসকে দিতে ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান হলেও সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, মানুষের উদ্বেগ বাস্তব। আমাদের উচিত তাদের সঙ্গে বসে কথা বলা এবং দায়িত্ব থাকলে সমস্যার সমাধান করা। তবে কিছু দাঙ্গাবাজ যেন পুরো সমাজকে ধ্বংস করতে না পারে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০০ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন।   উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানের মুদ্রার বড় ধরনের অবমূল্যায়নের পর দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে হঠাৎ মুদ্রার দরপতনে নিত্যপণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ চরমে পৌঁছে। শুরুতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদ হলেও পরবর্তীতে এসব আন্দোলন সরকারবিরোধী রূপ নেয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১২, ২০২৬ 0
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি : সংগৃহীত

বিক্ষোভ চলাকালে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ইরানের প্রেসিডেন্টের

ছবি: সংগৃহীত

ইরানে বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে: মানবাধিকার সংস্থা

ছবি: সংগৃহীত

ইরানে ‘শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর’ দেখতে চায় ব্রিটেন

ছবি: সংগৃহীত
বিক্ষোভ প্রশমনে অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি ইরানের

দুই সপ্তাহ ধরে চলা ক্রমবর্ধমান সহিংস বিক্ষোভের মাঝেই ইরানের বিপর্যস্ত অর্থনীতি ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, তার সরকার জনগণের কথা শোনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।   রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান আপসের সুরে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, চাপের মুখে থাকা ইরানের প্রশাসন দেশের অর্থনৈতিক সব সমস্যা সমাধানের বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। একই সঙ্গে প্রাণঘাতী অস্থিরতিশীলতা উসকে দেওয়ার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করেন।   পেজেশকিয়ান বলেন, সরকারের দায়িত্ব হলো সমস্যার সমাধান করা, মানুষের উদ্বেগের জবাব দেওয়া এবং তিনি যাদের দাঙ্গাকারী বলেছেন, তাদের দেশকে অস্থিতিশীল করতে না দেওয়া। তিনি বলেন, সুতরাং আমরা পরিবারগুলোর কাছে অনুরোধ করছি—তাদের সন্তানদের যেন সন্ত্রাসী ও দাঙ্গাবাজদের সৃষ্ট অস্থিরতায় জড়িয়ে পড়তে না দেন।   ইরানের এই প্রেসিডেন্ট বলেন, শত্রুপক্ষ প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসীদের দেশে ঢুকিয়েছে... দাঙ্গাবাজরা প্রতিবাদী মানুষ নন। আমরা প্রতিবাদীদের কথা শুনছি এবং তাদের সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।   তিনি বলেন, আমাদের যা কিছু আছে, তা জনগণের মাঝে ন্যায্যভাবে বণ্টন করাই সরকারের লক্ষ্য। তারা যে দল, গোষ্ঠী, জাতিগোষ্ঠী, বর্ণ, এমনকি যে প্রদেশ, উপভাষা বা ভাষারই হোক না কেন।   গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানি মুদ্রার ভয়াবহ পতনের পর দেশটিতে ব্যাপক অর্থনৈতিক সংকটের সূচনা হয়। বছরের পর বছর ধরে চলা অর্থনৈতিক চাপের প্রেক্ষাপটে মুদ্রার অবমূল্যায়ন জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ক্ষোভ থেকে সৃষ্ট বিক্ষোভ-প্রতিবাদ দেশটিতে ভয়াবহ রাজনৈতিক ও সরকারবিরোধী আন্দোলনের সূচনা করেছে।    প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান চলমান বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, তারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিকারী বিভিন্ন গোষ্ঠীকে নির্দেশনা দিয়ে দেশে ‌‌‘‘অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা’’ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। দেশের মানুষকে দাঙ্গাবাজ ও সন্ত্রাসীদের থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।   গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা ইরানের এই বিক্ষোভ ২০২২-২০২৩ সালের আন্দোলনের পর সবচেয়ে বড় বলে ধারণা করা হচ্ছে। নারীদের জন্য কঠোর পোশাকবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনি পুলিশ হেফাজতে মারা যাওয়ার পর দেশটিতে ওই আন্দোলন শুরু হয়েছিল।   পেজেশকিয়ান বলেন, মানুষের উদ্বেগ আছে। আমাদের তাদের সঙ্গে বসতে হবে এবং যদি সেটাই আমাদের দায়িত্ব হয়, তাহলে তাদের উদ্বেগের সমাধান করতে হবে। কিন্তু আরও বড় দায়িত্ব হলো—কোনো দাঙ্গাকারী গোষ্ঠীকে পুরো সমাজ ধ্বংস করতে না দেওয়া।   তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক তোহিদ আসাদি বলেন, ইরানি কর্মকর্তারা গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিবাদীদের সঙ্গে বিদেশে প্রশিক্ষিত দাঙ্গাকারীদের মধ্যে পার্থক্য টানার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, ইরানের জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তারা জনরোষকে ন্যায্য বলে স্বীকার করেছেন। এর কারণ হিসেবে তিনি দ্রুত বাড়তে থাকা দাম, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং স্থানীয় মুদ্রার ভয়াবহ অবমূল্যায়নের কথা উল্লেখ করেছেন। এসবই এই মুহূর্তে সাধারণ মানুষের পকেটে বিপুল চাপ সৃষ্টি করছে।   ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বলেছে, বিক্ষোভ চলাকালে দেশজুড়ে ১০৯ জন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন। রোববার আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ শান্তিপূর্ণ ও সশস্ত্র বিক্ষোভকারীদের মধ্যে পার্থক্যের কথা জোর দিয়ে বলেছেন। তিনি বলেছেন, ইরান অর্থনৈতিক উদ্বেগ নিয়ে মানুষের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ স্বীকার করে। তবে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে সরকার।    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের হত্যা করলে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পর ওয়াশিংটনকে কড়া সতর্কবার্তাও দিয়েছেন দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সাবেক কমান্ডার ঘালিবাফ।   তিনি বলেন, ইরানে হামলা হলে দখলকৃত ভূখণ্ডের (ইসরায়েল) পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সব ঘাঁটি ও জাহাজ আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে। এ সময় কিছু আইনপ্রণেতাকে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিতে শোনা যায়।   ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ‘‘সহায়তা দিতে প্রস্তুত’’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন। সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত দিলেও মার্কিন সামরিক বাহিনী পাঠানোর বিষয়টি নাকচ করেছেন তিনি।   ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশে অস্থিরতা কমে আসছে বলে রোববার দাবি করেছে। অন্যদিকে, দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা মৃত্যুদণ্ডের মুখে পড়তে পারেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থা বলেছে, ইরানজুড়ে ৬০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা, এএফপি।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ইরানে সহিংস সংঘর্ষে প্রাণ গেল শতাধিক নিরাপত্তা সদস্যের

ছবি: সংগৃহীত

ইরান ইস্যুতে ফের মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র, পাল্টাপাল্টি হামলার হুমকি

ছবি: সংগৃহীত

ফের আলোচনায় নির্বাসিত ইরানি 'যুবরাজ' রেজা পাহলাভি

0 Comments