কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আর্থিক প্রযুক্তি বা ফিনটেক খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্য ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তিকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। অঞ্চলটির বিপুল অর্থ, তরুণ জনগোষ্ঠী, জ্বালানি সুবিধা, উন্নত ডিজিটাল অবকাঠামো এবং ভৌগোলিক অবস্থান এ সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করছে বলে এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে।
বিশ্বে এআই ও ফিনটেকের বাজার দ্রুত বাড়ছে। এআইয়ের বৈশ্বিক বাজার ২০২৭ সালের মধ্যে ৪০৭ বিলিয়ন থেকে ৯৯০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে ফিনটেক খাতের আয় গত বছর প্রায় ৫০০ থেকে ৬৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা ২ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম সুবিধা হলো এর তরুণ জনগোষ্ঠী। অনেক দেশে মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকের বয়স ৩০ বছরের নিচে। প্রযুক্তি খাতে দক্ষতা ও কর্মসংস্থান বাড়াতে পারলে এই তরুণ জনগোষ্ঠী বড় ধরনের অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হতে পারে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌম সম্পদ তহবিলে বিপুল অর্থ রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তি ও অবকাঠামো বিনিয়োগে কাজে লাগানো সম্ভব।
এআই ডেটা সেন্টারের জন্য বিপুল বিদ্যুৎ প্রয়োজন। মধ্যপ্রাচ্যের তুলনামূলক সস্তা ও প্রচুর জ্বালানি এ ক্ষেত্রে অঞ্চলটিকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। পাশাপাশি ৫জি নেটওয়ার্ক, ক্লাউড প্রযুক্তি ও ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণের ফলে ডিজিটাল অবকাঠামোও দ্রুত উন্নত হচ্ছে। ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার মধ্যবর্তী অবস্থানও মধ্যপ্রাচ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা তৈরি করেছে।
সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতোমধ্যে এআই ও ফিনটেক খাতে বড় বিনিয়োগ শুরু করেছে। সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’-এর অন্যতম লক্ষ্য অর্থনীতিকে জ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর করা। দেশটির সৌদি ডেটা অ্যান্ড এআই অথরিটি এআই বিনিয়োগ, স্টার্টআপ ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির কর্মসূচি পরিচালনা করছে। ২০২৬ সালকে সৌদি আরব ‘এআইয়ের বছর’ হিসেবেও ঘোষণা করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতও ২০৩১ সালের মধ্যে এআই খাতে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েছে। দেশটিতে এআইবিষয়ক মন্ত্রণালয়, বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগ তহবিল গড়ে উঠেছে। সরকারি সেবা, জ্বালানি ও পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে এআই ব্যবহারের পরীক্ষাও চলছে।
ফিনটেক খাতেও মধ্যপ্রাচ্যের বিশেষ সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ইসলামিক ফিনটেক অঞ্চলটির বড় শক্তি হতে পারে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইসলামিক ফিনটেকের বৈশ্বিক লেনদেনের পরিমাণ চলতি দশকের মাঝামাঝি প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার ছিল এবং দশকের শেষ নাগাদ তা ৩৪০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশকেও এআই ও ডিজিটাল প্রযুক্তির জন্য সুস্পষ্ট জাতীয় কৌশল গ্রহণ, ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় বিনিয়োগ এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে আরবি ভাষাভিত্তিক এআই ও ইসলামিক ফিনটেকের মতো নিজস্ব শক্তির জায়গাগুলোকে কাজে লাগাতে হবে।
বিশ্লেষক ড. মাজিদ রাফিজাদেহের মতে, জনসংখ্যাগত সুবিধা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, জ্বালানি সম্পদ, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও সরকারের উচ্চাভিলাষ—এই সবকিছুর সমন্বয়ে মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে এআই ও ফিনটেকের বৈশ্বিক কেন্দ্র হওয়ার একটি বিরল সুযোগ পেয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
হুথিদের চলমান হামলার কারণে সৌদি আরবের সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদির এসব চাহিদা পূরণে তুরস্ক প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তিনি। এনটিভির বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। শনিবার তুরস্কের সম্প্রচারমাধ্যম এনটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, সৌদি আরবের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর গুরুতর হামলা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় তিন দেশের মধ্যে জোটগত সহযোগিতার বিষয় রয়েছে। সামরিক ও বিশেষ করে প্রযুক্তিগত কিছু প্রয়োজন হলে তা পূরণে তুরস্কের কোনও আপত্তি নেই। সাম্প্রতি তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নামে এই চুক্তি সই করে। এতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনও একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ফিদান বলেন, সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য করা মেনে নেওয়া যায় না। সৌদি আরবও এই সংঘাতে যোগ দিতে চায় না। যুদ্ধ বন্ধে বিভিন্ন পক্ষের কাছে নতুন কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এদিকে পাকিস্তান জানিয়েছে, হুথিদের হামলার জবাবে মক্কা চুক্তির আওতায় সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ইসলামাবাদে কোনও আলোচনা হয়নি। তবে সময় এলে পাকিস্তান পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে দেশটি। হুথিদের হামলার নিন্দা জানিয়ে তুরস্ক তা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
ফিলিস্তিনি নেতা মাহমুদ আব্বাসকে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ভিসা না দেওয়ার যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে ‘গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ’ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। ভিসা না দেওয়ায় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশনে আব্বাসের সরাসরি অংশ নেওয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে শুক্রবার জাতিসংঘের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বৃহস্পতিবার জানায়, আগামী সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে আব্বাসসহ অন্যান্য ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাকে ভিসা দেওয়া হবে না। ফলে, মঙ্গলবার শুরু হতে যাওয়া এই অধিবেশনে শুধু জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের মিশনের সদস্যরা অংশ নিতে পারবেন। জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক বিবৃতিতে বলেন, এই সিদ্ধান্তের কারণে জাতিসংঘের কার্যক্রমে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পূর্ণাঙ্গ অংশগ্রহণের সক্ষমতার ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে গুতেরেস উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, জাতিসংঘের সঠিকভাবে কাজ করার জন্য সংগঠনের কার্যক্রমে সব প্রতিনিধিদলের পূর্ণ অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘ মহাসচিব আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে তার দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সব প্রতিনিধিদলের সদস্যদের ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন বলেও জানান ডুজারিক। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবেন। গত বছরও ট্রাম্প প্রশাসন ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের ভিসা দেয়নি। ফলে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নিয়মিত অংশগ্রহণকারী আব্বাসকে ভিডিওবার্তার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত এই ফোরামে বক্তব্য দিতে হয়েছিল। এ বছরও আব্বাসকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে বৃহস্পতিবার সাধারণ পরিষদে ভোট পড়ে ১৫২-৩। অর্থাৎ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরাষ্ট্র তাঁর ভার্চুয়াল উপস্থিতির পক্ষে ভোট দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ)-র এমন একটি ব্যবস্থা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে, যার আওতায় কারাগারে থাকা বা নিহত ফিলিস্তিনিদের পরিবারের সদস্যদের অর্থ দেওয়া হতো। এসব ব্যক্তির মধ্যে ইসরাইলিদের বিরুদ্ধে হামলা চালানো ব্যক্তিরাও ছিলেন। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি এই ব্যবস্থা সংস্কার করেছে। নতুন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক পরিচয় বা কেউ কারাগারে ছিলেন কি না—তার পরিবর্তে পরিবারের আর্থিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আরও বলেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) মাধ্যমে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেওয়ার ফিলিস্তিনি উদ্যোগেরও বিরোধিতা করে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এ ধরনের উদ্যোগ আলোচনার পরিবর্তে একতরফাভাবে স্বীকৃতি আদায়ের মাধ্যমে আলোচনা পাশ কাটানোর চেষ্টা। ওয়াশিংটন আরও অভিযোগ করেছে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ‘সন্ত্রাসীদের ভাতা দেওয়া’ এবং প্রকাশ্য বক্তব্য ও স্কুলের পাঠ্যবইয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও সন্ত্রাসীদের প্রশংসা করা অব্যাহত রেখেছে। গত বছর জাতিসংঘে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া ১৪২টি সদস্যরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মতবিরোধ রয়েছে। এদিকে আব্বাসকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীদের হাতে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেড়েছে। ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরাইল পশ্চিম তীর দখল করে রেখেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরাইলে হামলার পর থেকে ওই অঞ্চলে সহিংসতা আরও বেড়েছে। ওই হামলার পরই গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ শুরু হয়। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে এএফপির করা হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ওই হামলার পর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনা ও বসতিস্থাপনকারীদের হাতে কমপক্ষে ১,১০৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে যোদ্ধা ও বেসামরিক—উভয়েই রয়েছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় ইসরাইলে ১,২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়ছিল। এর জবাবে ইসরাইল গাজায় ব্যাপক হামলা চালিয়ে আসছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এসব হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৩,৮২১ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। গাজার এই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হামাসের নিয়ন্ত্রণাধীন হলেও, তাদের প্রকাশিত হতাহতের পরিসংখ্যানকে জাতিসংঘ নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচনা করে। এই সহিংসতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তুলনামূলকভাবে নীরব। ওয়াশিংটন শুধু জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের যেকোনো ধরনের সংযুক্তিকরণের (অ্যানেক্সেশন) বিরোধিতা করে মার্কিন সরকার।
বাব আল-মান্দাব প্রণালি দিয়ে নিজেদের বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইতালি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) যৌথ সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা না করেই ইতালি এ পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে ক্রোসেত্তো বলেন, বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সুরক্ষিত রাখার সক্ষমতা ইতালির রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ অচল হয়ে পড়লে এর অর্থনৈতিক প্রভাব হবে গুরুতর। বাব আল-মান্দাব প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে এটি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথ। সুয়েজ খাল দিয়ে যাতায়াতকারী তেল, গ্যাস ও কনটেইনারবাহী জাহাজের জন্যও প্রণালিটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে গত কয়েক সপ্তাহে বাব আল-মান্দাবের কৌশলগত গুরুত্ব নতুন করে সামনে এসেছে। ইরান-সমর্থিত হুতি আন্দোলন ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় লোহিত সাগর উপকূলে দ্রুত সামরিক অভিযান চালিয়ে পুরো উপকূলীয় এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দ্বীপও তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এ পরিস্থিতিতে বাব আল-মান্দাব দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশটি নিজেদের বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে এককভাবে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সূত্র: আলজাজিরা