সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আবদিরহমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ‘সিরো’র ইসরায়েল সফরকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইসরায়েল প্রথমবারের মতো সোমালিল্যান্ডের কোনও নেতাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বাগত জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগের পেছনে শুধু কূটনৈতিক সম্পর্ক নয়, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালীর কৌশলগত গুরুত্বও বড় ভূমিকা রাখছে।
গত রবিবার জেরুজালেমে পৌঁছান সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ। এটি ছিল কোনও সোমালিল্যান্ড নেতার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর, যা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে আবদুল্লাহ বলেন, আমি সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে এসেছি। ৩৫ বছর ধরে আমরা বিশ্বকে আমাদের স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছি। ইসরায়েল এবং আপনি নিজে প্রথম আমাদের দেখেছেন ও স্বীকৃতি দিয়েছেন।
নেতানিয়াহু এই স্বীকৃতিকে ইহুদি ইতিহাসের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, আমরাও একটি ছোট জনগোষ্ঠী হিসেবে বিশ্বের কাছে নিজেদের অধিকারের স্বীকৃতি চেয়েছিলাম। তাই আপনাদের প্রতি আমাদের স্বাভাবিক সহানুভূতি রয়েছে।
কূটনৈতিক সম্পর্ক থেকে কৌশলগত অংশীদারত্ব
সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে একটি কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ইসরায়েল ও সোমালিল্যান্ড জানিয়েছে, এই সম্পর্ক নিরাপত্তা, বাণিজ্য, কৃষি, স্বাস্থ্য ও আঞ্চলিক কৌশলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত হতে পারে।
আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলে অবস্থিত সোমালিল্যান্ড ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি ইয়েমেনের বিপরীতে এডেন উপসাগরের তীরে অবস্থিত এবং লোহিত সাগর হয়ে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথের কাছে অবস্থান করছে।
নেতানিয়াহুও বৈঠকে উল্লেখ করেন, সোমালিল্যান্ডের অবস্থান বাব আল-মান্দাব প্রণালীর কাছে, যা লোহিত সাগরকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য এই জলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইসরায়েলের জন্য এই অঞ্চল আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ গত দুই বছর ধরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘাত এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বাধার ঘটনা দেশটির নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে জল্পনা
সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের সবচেয়ে আলোচিত দিক হচ্ছে নিরাপত্তা সহযোগিতা। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার গত জানুয়ারিতে সোমালিল্যান্ড সফরের সময় বলেছিলেন, দুই দেশ একটি ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার দিকে এগোচ্ছে।
সোমালিয়ার কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল ইয়েমেনের হুথিদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযানের জন্য সোমালিল্যান্ডে সামরিক স্থাপনা তৈরি করতে আগ্রহী। তবে সোমালিল্যান্ডের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনও অবস্থান জানাননি।
সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আবদুররহমান আবদুল্লাহ ইসরায়েলি গণমাধ্যম আই২৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বর্তমানে কোনও সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা নেই। তবে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি তা পুরোপুরি উড়িয়ে দিতে পারছি না।
এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সোমালিল্যান্ডের বৃহত্তম উপকূলীয় শহর বারবেরা। এডেন উপসাগরের তীরে অবস্থিত এই শহরের বিমানবন্দর আগে সোভিয়েত ইউনিয়ন নির্মাণ করেছিল এবং পরে নাসা ব্যবহার করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এটি সামরিক ব্যবহারের উপযোগী করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ‘গোপনে বিভিন্ন কার্যক্রমে’ সহযোগিতা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও উচ্চ পর্যায়ে যাবে।
সোমালিয়ার উদ্বেগ
সোমালিয়া ইসরায়েল-সোমালিল্যান্ড সম্পর্ক নিয়ে তীব্র উদ্বেগ জানিয়েছে। সোমালিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী ওমর বলেন, তাদের সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হলো- সোমালিল্যান্ড যেন ইসরায়েলের আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে না পড়ে।
তিনি বলেন, এই ধরনের হস্তক্ষেপ এমন একটি অঞ্চলে নতুন সংঘাত নিয়ে আসতে পারে, যা ইতোমধ্যেই অনেক সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
সোমালিয়া জানিয়েছে, তারা সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে সংলাপের জন্য সবসময় প্রস্তুত, তবে দেশের অখণ্ডতার প্রশ্নে কোনও আপস করবে না।
১৯৯১ সালে সোমালিয়ায় গৃহযুদ্ধের পর সোমালিল্যান্ড নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে। তবে এখন পর্যন্ত অধিকাংশ দেশ এটিকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ইসরায়েলের স্বীকৃতির ফলে দীর্ঘদিনের এই বিরোধ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন গুরুত্ব পেয়েছে।
জেরুজালেমে দূতাবাস খোলা নিয়ে বিতর্ক
সফরের সময় সোমালিল্যান্ড জেরুজালেমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের দূতাবাস চালু করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার।
বেশিরভাগ দেশ জেরুজালেমের মর্যাদা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিরোধের কারণে তাদের দূতাবাস তেল আবিবে রাখে। ইসরায়েলের পুরো জেরুজালেমের ওপর সার্বভৌমত্বের দাবিও আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক স্বীকৃতি পায়নি।
সোমালিল্যান্ডের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিন, আরব লীগ, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থাসহ (ওআইসি) কয়েকটি দেশ ও সংগঠন।
ইসরায়েলের লক্ষ্য লোহিত সাগর?
দক্ষিণ আফ্রিকাভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর সিকিউরিটি স্টাডিজের গবেষক মোসেস ক্রিসপাস ওকেলো বলেন, ইসরায়েলের আসল লক্ষ্য শুধু সোমালিল্যান্ড নয়, বরং লোহিত সাগর।
তার মতে, ইসরায়েল বর্তমানে আঞ্চলিকভাবে আরও বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়েছে। তাই সোমালিল্যান্ডের মতো একটি কৌশলগত অবস্থানের অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
সোমালিল্যান্ডেও শুরু হয়েছে বিতর্ক
ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের সিদ্ধান্ত সোমালিল্যান্ডে ব্যাপক সমর্থন পেলেও বিরোধিতাও তৈরি হয়েছে।
সোমালিল্যান্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট মুসে বিহি আবদি সরকারকে ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, সোমালিল্যান্ডকে কোনও আঞ্চলিক সামরিক সংঘাতে ব্যবহার করা হতে পারে।
তিনি বলেন, আমাদের সংবিধান এমন কোনও পদক্ষেপ অনুমোদন করে না, যা মুসলিম জনগণের ক্ষতি করে বা ধর্মীয় মূল্যবোধের বিরুদ্ধে যায়।
দেশটির ইসলামি আলেমদের মধ্যেও এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন, আবার কেউ কঠোর সমালোচনা করছেন।
আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া
সোমালিল্যান্ড আশা করেছিল, ইসরায়েলের পর আরও কয়েকটি দেশ তাদের স্বীকৃতি দেবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য কোনও দেশ এখনও সে পথে হাঁটেনি।
সৌদি আরব, তুরস্ক, মিসর, আফ্রিকান ইউনিয়ন, ওআইসি ও আরব লীগ ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ইয়েমেনের হুথিরা সবচেয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, সোমালিল্যান্ডে ইসরায়েলিরা উপস্থিতি হলে সেটিকে তারা ‘সামরিক লক্ষ্য’ হিসেবে বিবেচনা করবে।
তবে সোমালিল্যান্ডের নেতারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের লক্ষ্যে তারা ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত।
চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক ইয়োসি মেকেলবার্গ বলেন, “এই সম্পর্ক দুই পক্ষকেই কিছু সুবিধা দেবে, তবে এটি তাদের মূল সমস্যার সমাধান করবে না। ইসরায়েল ফিলিস্তিন ইস্যু এড়িয়ে অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর চেষ্টা করছে, আর সোমালিল্যান্ডও এই সম্পর্ক থেকে অনেক বেশি প্রত্যাশা করছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
২০২৬ সালেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও শেনজেন অঞ্চলের বাইরের ৬২টি দেশের নাগরিকদের জন্য স্বল্পমেয়াদি ভিসামুক্ত প্রবেশের সুবিধা বহাল রেখেছে জার্মানি। তবে এ তালিকায় স্থান পায়নি বাংলাদেশ। ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের আগের মতোই জার্মানিতে ভ্রমণের জন্য ভিসা নিতে হবে। জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকরা ১৮০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত ভিসা ছাড়াই জার্মানিতে অবস্থান করতে পারবেন। এই সুবিধা পর্যটন, ব্যবসায়িক সফর, পারিবারিক সাক্ষাৎ কিংবা অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি ব্যক্তিগত ভ্রমণের জন্য প্রযোজ্য। তবে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, ভিসামুক্ত প্রবেশের এই সুযোগ কোনো ধরনের চাকরি, কর্মসংস্থান বা দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের অনুমতি হিসেবে গণ্য হবে না। এসব উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট ধরনের ভিসা বা আবাসিক অনুমতি নিতে হবে। ভিসামুক্ত সুবিধাপ্রাপ্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশ্বের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অংশীদার—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, নিউজিল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইসরায়েল, ব্রাজিল, মেক্সিকো, ইউক্রেন, সার্বিয়া, মন্টিনিগ্রো, অস্ট্রেলিয়াসহ মোট ৬২টি দেশ ও অঞ্চল। অন্যদিকে, বাংলাদেশ এ তালিকার বাইরে থাকায় জার্মানিতে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণ, ব্যবসায়িক সফর কিংবা পারিবারিক প্রয়োজনে যেতে আগের নিয়ম অনুযায়ী শেনজেন ভিসা গ্রহণ করতে হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এ জন্য প্রণালিটি ব্যবহার করা প্রতিটি বাণিজ্যিক জাহাজের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এই প্রণালিটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখব এবং সম্ভবত আমরাই এটি পরিচালনা করব। আমরা হব এই প্রণালির অভিভাবক। সম্ভবত আমরা এর নাম দেব গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল অব দ্য স্ট্রেট (প্রণালির রক্ষাকর্তা অগ্রদূত)।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এটি পাহারা দেব এবং এর বিনিময়ে অর্থ নেব। কারণ এই প্রণালি ব্যবহারকারী অনেক দেশই অত্যন্ত ধনী। তারা আমাদের বন্ধু হতে পারে, কিন্তু বিনা মূল্যে এই সেবা পাবে না।’ পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ‘হরমুজ প্রণালির অভিভাবক’ হিসেবে কাজ করবে এবং নিরাপত্তা ব্যয়ের জন্য এই জলপথ দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি পণ্যবাহী জাহাজের কাছ থেকে ২০ শতাংশ হারে অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা করছে। এ সংক্রান্ত কাঠামো শিগগিরই তৈরি করা হবে। তবে এই পরিকল্পনা কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে বা উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস বিস্তারিত কিছু জানায়নি। এদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। ইরান ইতোমধ্যে প্রণালিটি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে, আর দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলাও অব্যাহত রয়েছে। বিশ্বের তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই জলপথের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে শুরু হওয়া বিতর্ক আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল সোমবার বলেছেন, ইরানে নতুন করে হামলা এবং দেশটির বন্দরগুলোতে আবারও নৌ-অবরোধ আরোপ করা সত্ত্বেও যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তি এখনো সম্ভব। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি মনে করি একটি চুক্তি সম্ভব। অবশ্যই আমি তা মনে করি। ট্রাম্প আরও যোগ করেন, “‘দুই দিন আগেই তাদের সঙ্গে আমাদের একটি চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু পরে তারা বলল, ‘ওহ, আমরা এই চুক্তিটি করতে পারছি না। আমাদের এটি নিয়ে আরও আলোচনা করতে হবে।’ এর আগে গতকাল উভয় দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মধ্যে ট্রাম্প ইরানের ওপর আবারও অবরোধ কার্যকরের ঘোষণা দেন। তাঁর দাবি, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে যুক্তরাষ্ট্র। নিরাপদে চলাচলের জন্য জাহাজগুলোর কাছ থেকে অর্থও নেওয়া হবে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে আজ ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করব। সম্ভবত এটা পরিচালনাও করব। আমরা প্রণালির অভিভাবক হব। এর জন্য আমাদের অর্থ দেওয়া উচিত।’ ট্রাম্প বলেন, এ দায়িত্ব পালনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অনেক অর্থ’ দেওয়া উচিত। কারণ, এ নৌপথ ব্যবহারকারী দেশগুলো ধনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিনা মূল্যে এ সেবা আশা করা উচিত নয়।