সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আবদিরহমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ‘সিরো’র ইসরায়েল সফরকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইসরায়েল প্রথমবারের মতো সোমালিল্যান্ডের কোনও নেতাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বাগত জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগের পেছনে শুধু কূটনৈতিক সম্পর্ক নয়, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালীর কৌশলগত গুরুত্বও বড় ভূমিকা রাখছে।
গত রবিবার জেরুজালেমে পৌঁছান সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ। এটি ছিল কোনও সোমালিল্যান্ড নেতার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর, যা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে আবদুল্লাহ বলেন, আমি সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে এসেছি। ৩৫ বছর ধরে আমরা বিশ্বকে আমাদের স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছি। ইসরায়েল এবং আপনি নিজে প্রথম আমাদের দেখেছেন ও স্বীকৃতি দিয়েছেন।
নেতানিয়াহু এই স্বীকৃতিকে ইহুদি ইতিহাসের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, আমরাও একটি ছোট জনগোষ্ঠী হিসেবে বিশ্বের কাছে নিজেদের অধিকারের স্বীকৃতি চেয়েছিলাম। তাই আপনাদের প্রতি আমাদের স্বাভাবিক সহানুভূতি রয়েছে।
কূটনৈতিক সম্পর্ক থেকে কৌশলগত অংশীদারত্ব
সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে একটি কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ইসরায়েল ও সোমালিল্যান্ড জানিয়েছে, এই সম্পর্ক নিরাপত্তা, বাণিজ্য, কৃষি, স্বাস্থ্য ও আঞ্চলিক কৌশলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত হতে পারে।
আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলে অবস্থিত সোমালিল্যান্ড ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি ইয়েমেনের বিপরীতে এডেন উপসাগরের তীরে অবস্থিত এবং লোহিত সাগর হয়ে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথের কাছে অবস্থান করছে।
নেতানিয়াহুও বৈঠকে উল্লেখ করেন, সোমালিল্যান্ডের অবস্থান বাব আল-মান্দাব প্রণালীর কাছে, যা লোহিত সাগরকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য এই জলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইসরায়েলের জন্য এই অঞ্চল আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ গত দুই বছর ধরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘাত এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বাধার ঘটনা দেশটির নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে জল্পনা
সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের সবচেয়ে আলোচিত দিক হচ্ছে নিরাপত্তা সহযোগিতা। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার গত জানুয়ারিতে সোমালিল্যান্ড সফরের সময় বলেছিলেন, দুই দেশ একটি ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার দিকে এগোচ্ছে।
সোমালিয়ার কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল ইয়েমেনের হুথিদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযানের জন্য সোমালিল্যান্ডে সামরিক স্থাপনা তৈরি করতে আগ্রহী। তবে সোমালিল্যান্ডের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনও অবস্থান জানাননি।
সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আবদুররহমান আবদুল্লাহ ইসরায়েলি গণমাধ্যম আই২৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বর্তমানে কোনও সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা নেই। তবে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি তা পুরোপুরি উড়িয়ে দিতে পারছি না।
এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সোমালিল্যান্ডের বৃহত্তম উপকূলীয় শহর বারবেরা। এডেন উপসাগরের তীরে অবস্থিত এই শহরের বিমানবন্দর আগে সোভিয়েত ইউনিয়ন নির্মাণ করেছিল এবং পরে নাসা ব্যবহার করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এটি সামরিক ব্যবহারের উপযোগী করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ‘গোপনে বিভিন্ন কার্যক্রমে’ সহযোগিতা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও উচ্চ পর্যায়ে যাবে।
সোমালিয়ার উদ্বেগ
সোমালিয়া ইসরায়েল-সোমালিল্যান্ড সম্পর্ক নিয়ে তীব্র উদ্বেগ জানিয়েছে। সোমালিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী ওমর বলেন, তাদের সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হলো- সোমালিল্যান্ড যেন ইসরায়েলের আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে না পড়ে।
তিনি বলেন, এই ধরনের হস্তক্ষেপ এমন একটি অঞ্চলে নতুন সংঘাত নিয়ে আসতে পারে, যা ইতোমধ্যেই অনেক সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
সোমালিয়া জানিয়েছে, তারা সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে সংলাপের জন্য সবসময় প্রস্তুত, তবে দেশের অখণ্ডতার প্রশ্নে কোনও আপস করবে না।
১৯৯১ সালে সোমালিয়ায় গৃহযুদ্ধের পর সোমালিল্যান্ড নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে। তবে এখন পর্যন্ত অধিকাংশ দেশ এটিকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ইসরায়েলের স্বীকৃতির ফলে দীর্ঘদিনের এই বিরোধ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন গুরুত্ব পেয়েছে।
জেরুজালেমে দূতাবাস খোলা নিয়ে বিতর্ক
সফরের সময় সোমালিল্যান্ড জেরুজালেমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের দূতাবাস চালু করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার।
বেশিরভাগ দেশ জেরুজালেমের মর্যাদা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিরোধের কারণে তাদের দূতাবাস তেল আবিবে রাখে। ইসরায়েলের পুরো জেরুজালেমের ওপর সার্বভৌমত্বের দাবিও আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক স্বীকৃতি পায়নি।
সোমালিল্যান্ডের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিন, আরব লীগ, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থাসহ (ওআইসি) কয়েকটি দেশ ও সংগঠন।
ইসরায়েলের লক্ষ্য লোহিত সাগর?
দক্ষিণ আফ্রিকাভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর সিকিউরিটি স্টাডিজের গবেষক মোসেস ক্রিসপাস ওকেলো বলেন, ইসরায়েলের আসল লক্ষ্য শুধু সোমালিল্যান্ড নয়, বরং লোহিত সাগর।
তার মতে, ইসরায়েল বর্তমানে আঞ্চলিকভাবে আরও বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়েছে। তাই সোমালিল্যান্ডের মতো একটি কৌশলগত অবস্থানের অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
সোমালিল্যান্ডেও শুরু হয়েছে বিতর্ক
ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের সিদ্ধান্ত সোমালিল্যান্ডে ব্যাপক সমর্থন পেলেও বিরোধিতাও তৈরি হয়েছে।
সোমালিল্যান্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট মুসে বিহি আবদি সরকারকে ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, সোমালিল্যান্ডকে কোনও আঞ্চলিক সামরিক সংঘাতে ব্যবহার করা হতে পারে।
তিনি বলেন, আমাদের সংবিধান এমন কোনও পদক্ষেপ অনুমোদন করে না, যা মুসলিম জনগণের ক্ষতি করে বা ধর্মীয় মূল্যবোধের বিরুদ্ধে যায়।
দেশটির ইসলামি আলেমদের মধ্যেও এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন, আবার কেউ কঠোর সমালোচনা করছেন।
আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া
সোমালিল্যান্ড আশা করেছিল, ইসরায়েলের পর আরও কয়েকটি দেশ তাদের স্বীকৃতি দেবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য কোনও দেশ এখনও সে পথে হাঁটেনি।
সৌদি আরব, তুরস্ক, মিসর, আফ্রিকান ইউনিয়ন, ওআইসি ও আরব লীগ ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ইয়েমেনের হুথিরা সবচেয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, সোমালিল্যান্ডে ইসরায়েলিরা উপস্থিতি হলে সেটিকে তারা ‘সামরিক লক্ষ্য’ হিসেবে বিবেচনা করবে।
তবে সোমালিল্যান্ডের নেতারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের লক্ষ্যে তারা ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত।
চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক ইয়োসি মেকেলবার্গ বলেন, “এই সম্পর্ক দুই পক্ষকেই কিছু সুবিধা দেবে, তবে এটি তাদের মূল সমস্যার সমাধান করবে না। ইসরায়েল ফিলিস্তিন ইস্যু এড়িয়ে অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর চেষ্টা করছে, আর সোমালিল্যান্ডও এই সম্পর্ক থেকে অনেক বেশি প্রত্যাশা করছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
পর্তুগালে জনসমক্ষে এমনভাবে মুখ ঢেকে রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নতুন আইন কার্যকর হয়েছে, যাতে ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন এই বিধান বোরকা ও নিকাব পরা মুসলিম নারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়ায় দেশটিতে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নতুন আইনে বলা হয়েছে, জনসমক্ষে এমন কোনো পোশাক বা উপকরণ ব্যবহার করা যাবে না, যার কারণে ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়। আইন লঙ্ঘন করলে ১৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এই বিধান থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন, পেশাগত দায়িত্ব, শিল্প ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে মুখ ঢাকার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। আইনটির সমর্থকদের মতে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনের সময় ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করার সুযোগ রাখতেই এই বিধান করা হয়েছে। অন্যদিকে মানবাধিকারকর্মীরা এর বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে, জনসমক্ষে মুখঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তির নিজস্ব পোশাক নির্বাচনের অধিকারে হস্তক্ষেপের ঝুঁকি রয়েছে। স্পেনেও বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধের উদ্যোগ: এদিকে স্পেনের বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জেও বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ আলোচনায় এসেছে। দেশটির ডানপন্থী দল ভক্স ও পিপলস পার্টির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবে নিষেধাজ্ঞা বারবার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ইউরো জরিমানা এবং কাউকে জোর করে বোরকা বা নিকাব পরতে বাধ্য করলে সর্বোচ্চ চার বছর কারাদণ্ডের বিধানের কথা বলা হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মুখঢাকা পোশাক নিয়ে এমন উদ্যোগের ফলে জননিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—এ নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হচ্ছে।
হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) শীর্ষ দুই কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্তরা হলেন, বৈশ্বিক এই আদালতের প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এবং জ্যেষ্ঠ ট্রায়াল আইনজীবী আবদুলায়ে সেয়ে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের আইসিসিকে ‘ভেঙে দেওয়ার’ প্রচেষ্টার সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলো। যুদ্ধাপরাধসহ আন্তর্জাতিক অপরাধ তদন্তের এখতিয়ার থাকা আদালটির সদস্যরাষ্ট্রের সংখ্যা ১২০টির বেশি। রুবিও অভিযোগ করেন, আকানে ও সেয়ে এমন কর্মকর্তাদের বিচারের আইসিসির প্রচেষ্টায় যুক্ত ছিলেন, যাদের সরকারের পক্ষ থেকে আদালতকে বিচারিক এখতিয়ার দেওয়া হয়নি। তিনি আইসিসিকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত ও মারাত্মকভাবে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত’ একটি আন্তর্জাতিক আদালত হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের ওপর আদালতের ‘হস্তক্ষেপ’ মেনে নেবে না। তবে আইসিসি যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের সমালোচনা করে জানিয়েছে, তারা আদালতের কর্মীদের পাশে রয়েছে। আদালতের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ আইনের শাসনকে দুর্বল করে। ট্রাম্প প্রশাসন এর আগেও আইসিসির অন্তত ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এর মধ্যে ৯ জন বিচারক এবং প্রধান কৌঁসুলিও রয়েছেন। এসব নিষেধাজ্ঞার আওতায় সম্পদ জব্দ, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে বিভিন্ন সেবা পাওয়ার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক সদস্যদের বিরুদ্ধে আইসিসির তদন্ত এবং গাজায় কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার জেরেই আগের নিষেধাজ্ঞাগুলো দেওয়া হয়েছিল। নেতানিয়াহু যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং আইসিসিকে ইহুদিবিদ্বেষ দ্বারা প্রভাবিত বলে অভিযোগ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দুই দেশই আইসিসির সদস্য নয়। তবে ফিলিস্তিন ২০১৫ সালে আইসিসিতে যোগ দেওয়ায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সংঘটিত কথিত অপরাধ নিয়ে তদন্তের পথ আদালটির জন্য উন্মুক্ত হয়। আইসিসির সঙ্গে ট্রাম্পের বিরোধ অবশ্য নতুন নয়। তার প্রথম মেয়াদেও তিনি আদালতটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন এবং বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে আইসিসির ‘কোনো এখতিয়ার, বৈধতা বা কর্তৃত্ব’ নেই। সূত্র: বিবিসি
ইসরায়েলের সঙ্গে নির্দিষ্ট কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সিরিয়ার কোনো চুক্তি হয়নি বলে দাবি করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এ ধরনের চুক্তির যে দাবি করা হয়েছে, তা ‘মিথ্যা’ বলেও মন্তব্য করেছে দামেস্ক। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কূটনৈতিক সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে, ইসরায়েল আবু আল-দুহুর সামরিক বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। অথচ হামলার আগে ইসরায়েলকে জানানো হয়েছিল, ওই ঘাঁটিতে কোনো বিদেশি বাহিনী উপস্থিত নেই। তবে এই তথ্য ইসরায়েলকে কখন বা কোন মাধ্যমে জানানো হয়েছিল, তা স্পষ্ট করেনি সূত্রটি। সিরীয় সূত্রটি আরও বলেছে, ‘বেসামরিক ও সামরিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে’ এমন কোনো চুক্তিতে সিরিয়া যেতে পারে না। একই সঙ্গে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদারে সিরিয়ার ভূমিকা সীমিত করে, এমন কোনো চুক্তিও দামেস্ক মেনে নেবে না। এর আগে ইদলিব বিমানবন্দরে ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে চিঠি দিয়েছিল সিরিয়া। চিঠিতে সিরিয়ার ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারেরও দাবি জানানো হয়। ইসরায়েল হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দেশটির দাবি, তুরস্ক ওই সামরিক ঘাঁটিতে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে এমন ধারণা থেকেই বিমানঘাঁটিটিতে হামলা চালানো হয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা