বিশ্বকাপ ফুটবলের অফিসিয়াল থিম সং নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ব্যস্ত সময় কাটছে বাংলাদেশি-আমেরিকান সংগীত প্রযোজক, সুরকার ও শিল্পী সানজয়ের।
বলিউড তারকা নোরা ফাতেহির সঙ্গে বিশ্বজুড়ে প্রচারণামূলক কনসার্টে অংশ নিয়ে ফুটবল উন্মাদনায় মাতিয়েছেন তিনি। তবে সেই বিশ্বমঞ্চের ব্যস্ততার মাঝেও দেশের মানুষের ভালোবাসার টানেই ফিরছেন বাংলাদেশে। আর দেশে ফেরার আগেই ভক্তদের জন্য নিয়ে এলেন বাংলার লোকগান ‘কার জন্য’।
দেশের অন্যতম অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রতিষ্ঠান কাইনেটিক মিউজিক থেকে প্রকাশিত গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় লোকসংগীতশিল্পী মাখন মিয়া। জুয়েল মোরশেদ ও রিয়াজ আলীর কথায় নির্মিত গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন সানজয়। এতে ঐতিহ্যবাহী লোক ও বাউলসংগীতের আবহকে আধুনিক ইলেকট্রনিক সাউন্ডের সঙ্গে মিলিয়ে নতুন এক সংগীতধারা উপস্থাপন করা হয়েছে।
গানটির মিউজিক ভিডিওতেও রয়েছে ভিন্নধর্মী নির্মাণ। ব্যস্ত নগরজীবনের কোলাহলের মধ্যে সংগীতের মাধ্যমে মুক্তি ও আত্মঅন্বেষণের গল্প উঠে এসেছে এতে। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ধারণ করা ভিডিওটির কোরিওগ্রাফি করেছেন রিদি শেখ। নৃত্য পরিবেশন করেছেন শানজিদা জাহান পুষ্প।
কাইনেটিক মিউজিকের এই আয়োজনের উদ্দেশ্য শুধু একটি নতুন গান প্রকাশ নয়; বরং বাংলার লোকঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক সংগীতভাষায় নতুনভাবে তুলে ধরা। নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে লোকসংগীতকে আধুনিক আঙ্গিকে পৌঁছে দিতেই এই প্রয়াস।
সনজয় বলেন , “সর্বশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে দেশে এসেছিলাম। তখনই গানটা করা হয়েছে। শুটিংও সেসময় করা। বিশ্বকাপ ফাইনালের দিনে দেশে কনসার্ট করছি। শুধুমাত্র এ জন্যই আসছি এবার।”
তিনি জানান, আগামী ১৮ জুলাই দেশে পৌঁছাবেন। পরদিন ১৯ জুলাই রাজধানীর বনানী পূজা মাঠে আয়োজিত ফ্যানফেস্টে অনুষ্ঠিত হবে তাঁর বহুল প্রতীক্ষিত হোমকামিং কনসার্ট। বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে রাত ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত চলবে এই বিশেষ পরিবেশনা। এরপর উপস্থিত দর্শকরা জায়ান্ট স্ক্রিনে একসঙ্গে উপভোগ করবেন বিশ্বকাপের গ্র্যান্ড ফাইনাল।
সানজয় দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন। বিশ্বকাপের অফিসিয়াল থিম সংকে ঘিরে নোরা ফাতেহির সঙ্গে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রচারণামূলক কনসার্টে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তিনি দক্ষিণ এশিয়ার সংগীত ও সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরছেন।
অন্যদিকে মাখন মিয়া ‘উইন্ড অব চেঞ্জ’, ‘কোক স্টুডিও বাংলা’র প্রথম মৌসুমের জনপ্রিয় গান ‘লীলাবালি’ এবং শায়ান চৌধুরী অর্ণবের সঙ্গে ‘সংস অব বেঙ্গল’ প্রকল্পের মাধ্যমে শ্রোতাদের কাছে সুপরিচিত। ‘কার জন্য’ গানে মাখন মিয়ার মাটির ঘ্রাণমাখা কণ্ঠ এবং সানজয়ের আধুনিক সংগীতায়োজনের মেলবন্ধন ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মধ্যে একটি নতুন সেতুবন্ধন তৈরি করেছে।
একদিকে বিশ্বকাপের আন্তর্জাতিক মঞ্চ, অন্যদিকে বাংলার লোকসংগীতের শেকড়—দুই ভুবনকে এক সুতোয় গেঁথে দেশে ফিরছেন সানজয়। আর সেই ফেরাটা কেবল একটি কনসার্টের জন্য নয়, নিজের মাটি, নিজের ভাষা ও নিজের সংগীতের সঙ্গে নতুন করে সংযোগ তৈরিরও এক উপলক্ষ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে ভারতের মুম্বাইয়ে। রোববার সন্ধ্যায় জুহু এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা তিন ব্যক্তি তার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালান বলে বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় টাইগার অক্ষত থাকলেও তার গাড়িচালকসহ দুজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর আহত গাড়িচালককে চিকিৎসার জন্য মুম্বাইয়ের নানাবতী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে দ্বিতীয় আহত ব্যক্তির পরিচয় ও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। টাইগার শ্রফের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও তার পরিবারের পক্ষ থেকে স্বস্তির খবর দেওয়া হয়েছে। অভিনেতার বাবা জ্যাকি শ্রফের দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টাইগার নিরাপদে আছেন। ঘটনার পর মহারাষ্ট্রের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আশিস শেলার শ্রফ পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এদিকে মুম্বাই পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জুহু থানার আওতাধীন এলাকায় সংঘটিত গুলির ঘটনার তদন্ত চলছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করা এবং হামলার উদ্দেশ্য জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। দায় স্বীকারের দাবি বিষ্ণোই গ্যাংয়ের এদিকে, হামলার দায় কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং স্বীকার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গ্যাংটির নামে প্রচারিত একটি বিবৃতিতে দাবি করা হয়, তাদের নির্দেশ অমান্য করা এবং সালমান খানের সঙ্গে কাজ করার কারণেই টাইগার শ্রফকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে এই দায় স্বীকারের দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। পুলিশের তদন্তেও হামলার সঙ্গে গ্যাংটির সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সালমান খানের সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গ বলিউডে টাইগার শ্রফের ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই সালমান খানের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা রয়েছে। তবে দুজনের একসঙ্গে কোনো পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয়ের নজির নেই। টাইগারের বলিউডে পথচলার শুরুতে সালমানের ভূমিকা ছিল বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। মুম্বাইয়ে এই গুলির ঘটনায় বলিউড অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে হামলার প্রকৃত কারণ, হামলাকারীদের পরিচয় এবং দায় স্বীকারের দাবির সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।
ভিডিও গেম থেকে সিনেমা নির্মাণের প্রবণতা বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ‘আ মাইনক্রাফট মুভি’, ‘দ্য সুপার মারিও ব্রোস. মুভি’ ও ‘ফাইভ নাইটস অ্যাট ফ্রেডিস’-এর মতো সিনেমার সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার বড় পর্দায় আসছে জনপ্রিয় ভিডিও গেম সিরিজ ‘স্ট্রিট ফাইটার’ অবলম্বনে নির্মিত নতুন চলচ্চিত্র। আগামী ১৬ অক্টোবর আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে অ্যাকশন ও মার্শাল আর্টনির্ভর সিনেমাটির। একই দিনে বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্সেও এটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। তারকাবহুল অভিনয়শিল্পী, পরিচালনায় কিতাও সাকুরাই ১৯৯৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘স্ট্রিট ফাইটার’ চলচ্চিত্রের পর নতুন সংস্করণে পরিচিত গেমের চরিত্রগুলোকে ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করা হচ্ছে। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন নোয়া সেন্টিনিও, অ্যান্ড্রু কোজি ও জেসন মোমোয়া। সবুজ ত্বকের জনপ্রিয় চরিত্র ব্ল্যাঙ্কার ভূমিকায় দেখা যাবে মোমোয়াকে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন কিতাও সাকুরাই। এর আগে ‘ব্যাড ট্রিপ’ এবং ‘দ্য এরিক আন্দ্রে শো’-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। সিনেমাটির নির্মাণ নিয়ে সাকুরাই জানিয়েছেন, প্রচলিত ভিডিও গেমভিত্তিক চলচ্চিত্রের ধরন অনুসরণ না করে নিজস্ব নির্মাণশৈলীতে কাজ করার স্বাধীনতা পেয়েছেন তিনি। মার্শাল আর্ট, লড়াই ও ষড়যন্ত্রের গল্প ‘স্ট্রিট ফাইটার’ মূলত ক্যাপকমের জনপ্রিয় ফাইটিং গেম সিরিজ অবলম্বনে নির্মিত। এতে কারাতে, কুংফুসহ বিভিন্ন লড়াইয়ের কৌশল, শক্তিশালী যোদ্ধাদের মুখোমুখি সংঘর্ষ এবং বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের মতো উপাদান রয়েছে। গেমটির পরিচিত চরিত্রগুলোকে বাস্তব অভিনয়ের মাধ্যমে পর্দায় তুলে ধরাই সিনেমাটির অন্যতম আকর্ষণ। বিশেষ করে রিউ, চুন-লি, ব্ল্যাঙ্কা ও ধালসিমের মতো চরিত্রের ভক্তদের মধ্যে ছবিটি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ জামওয়ালকে ঘিরেও আগ্রহ সিনেমাটিতে আন্তর্জাতিক তারকাদের পাশাপাশি ভারতের অ্যাকশন অভিনেতা বিদ্যুৎ জামওয়ালের উপস্থিতিও দর্শকদের আকর্ষণের অন্যতম কারণ। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাকে ধালসিম চরিত্রে দেখা যাবে। এ ছাড়া রোমান রেইন্সের মতো পরিচিত মুখের উপস্থিতিও ছবিটি ঘিরে দর্শকদের প্রত্যাশা বাড়িয়েছে। ভিডিও গেমের বিখ্যাত লড়াইগুলো বড় পর্দায় কীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন ফ্র্যাঞ্চাইজিটির অনুরাগীরা। বাংলাদেশি দর্শকদের অপেক্ষা আন্তর্জাতিক মুক্তির দিনেই বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি আসার সম্ভাবনা স্থানীয় দর্শকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে। অ্যাকশন, মার্শাল আর্ট এবং জনপ্রিয় গেমের চরিত্রের সমন্বয়ে নির্মিত ছবিটি গেমপ্রেমী ও অ্যাকশন সিনেমার দর্শকদের কাছে কতটা সাড়া ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
দেশবরেণ্য নাট্যকার ও অভিনেতা মামুনুর রশীদের টাঙ্গাইল শহরের পলাশতলী এলাকার পৈতৃক বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে টাঙ্গাইল সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মামুনুর রশীদের বোন আফিয়া খান। গত শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটে। ওই বাড়িতে মামুনুর রশীদের বোন আফিয়া খান (রোজি) বসবাস করেন। ঘটনার দিন তিনি ঢাকায় ছিলেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে ঢাকায় যাওয়ার সময় আফিয়া খান তার পূর্বপরিচিত শফিকুর রহমানকে বাড়িটি দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়ে যান। শনিবার সকাল ৯টার দিকে শফিকুর বাড়িটি তালাবদ্ধ করে বাইরে যান। তখন বাড়ির সবকিছু ঠিকঠাক ছিল। বিকেল ৫টার দিকে ফিরে তিনি বারান্দার গ্রিলের তালা ভাঙা দেখতে পান। ঘরে ঢুকে মেঝেতে বিভিন্ন জিনিসপত্র ছড়ানো-ছিটানো অবস্থায় দেখতে পান। এ ছাড়া তিনটি স্টিলের আলমারি ভাঙা এবং কাঠের একটি ওয়্যারড্রোব খোলা ছিল। আলমারিগুলোতে মামুনুর রশীদের নয় ভাই-বোনের মূল্যবান জিনিসপত্র ছিল। তবে আফিয়া খান ঢাকায় থাকায় এবং ভাই-বোনদের সবাই উপস্থিত না থাকায় কী কী জিনিস চুরি হয়েছে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আফিয়া খান জানান, ঘটনাটি নিছক চুরি, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। এ বিষয়ে নাট্যকার মামুনুর রশীদ জানান, টাঙ্গাইল শহরের পৈতৃক বাড়ির তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে আলমারির জিনিসপত্র তছনছ করার খবরটি তিনি ভাই-বোনদের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।