আন্তর্জাতিক

কুরবানির অনুমতি নিয়ে বিতর্ক, বিপাকে রাজ্য সরকার

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৪, ২০২৬
কলকাতা হাইকোর্ট। সংগৃহীত ছবি
কলকাতা হাইকোর্ট। সংগৃহীত ছবি

পশু জবাই সংক্রান্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিকে ঘিরে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর না করায় রাজ্য সরকারকে আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠানো হয়েছে। 

 

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এ ঘটনায় রাজ্যজুড়ে কুরবানি নিয়ে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়ছে। জানা গেছে, গবাদিপশু জবাই সংক্রান্ত রাজ্যের বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে একাধিক মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে সামাজিক ন্যায়বিচার ফোরামের করা মামলায় প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ গত বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয়। আদালত পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইনের ১২ ধারার আওতায় কিছু ক্ষেত্রে শিথিলতা দেওয়া যায় কিনা, তা বিবেচনা করতে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেয়। এ বিষয়ে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতেও বলা হয়েছিল।

কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও রাজ্য সরকার এ বিষয়ে কোনও নির্দেশিকা প্রকাশ করেনি। সংবাদমাধ্যমেও কোনও সরকারি অবস্থান জানানো হয়নি। এরপরই আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ তুলে রাজ্যের মুখ্যসচিব, প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের সচিব এবং স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সচিবের কাছে আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠানো হয়েছে। 

সামাজিক ন্যায়বিচার ফোরামের পক্ষে আইনজীবী নাসিরুল হক এ নোটিশ পাঠান। তিনি বলেন, আদালত স্পষ্টভাবে বলেছিল আইন অনুযায়ী ছাড় বা শিথিলতার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। কিন্তু সরকার সেই নির্দেশ কার্যকর করেনি।

এ মামলায় আরও বেশ কয়েকজন আইনজীবী রাজ্যের বিজ্ঞপ্তির সমালোচনা করেন। আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য আদালতে বলেন, ১৯৫০ সালের পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন মূলত কৃষিকাজের স্বার্থে গবাদিপশু রক্ষার জন্য তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে কৃষিকাজ আর গরু বা মহিষের ওপর নির্ভরশীল নয়। তার দাবি, আইনটির ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতাও রয়েছে এবং মূলত পৌর এলাকার মধ্যেই এটি প্রযোজ্য ছিল।

আইনজীবীদের একাংশের বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরোনো আইনের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে ভাবা প্রয়োজন। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এখনও প্রকাশ্যে বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। 

উল্লেখ্য, আগামী ২৮ মে ঈদুল আজহা। মুসলমানদের অন্যতম বড় এ ধর্মীয় উৎসবে কুরবানির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ফলে পশু জবাই নিয়ে প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন গবাদিপশু ব্যবসায়ী ও খামারিরা। বছরের এ সময়টিতে কুরবানির পশু বিক্রির জন্য তারা দীর্ঘ প্রস্তুতি নেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির কারণে অনেকেই আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। 

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন পশুর হাটেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে জানা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারি অবস্থান স্পষ্ট না হওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যেও দ্বিধা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় অনুভূতি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং আইনি জটিলতা মিলিয়ে বিষয়টি এখন অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থায় পৌঁছেছে। ঈদের আগে আদালতের পরবর্তী অবস্থান এবং রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে সাধারণ মানুষ।

 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ভারতে বিক্ষোভে হামলার শিকার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা

ভারতের রাজস্থান রাজ্যের জয়পুরে এক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে হামলার শিকার হয়েছেন তরুণদের সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সমাবেশ চলাকালে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর ওপর শারীরিকভাবে আক্রমণ চালান।   জানা গেছে, প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা এবং বেকারত্বের প্রতিবাদে জয়পুরের শহীদ স্মারকে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। সমাবেশে বক্তব্য ও স্লোগান দেওয়ার সময় হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তি অভিজিৎ দিপকের কাছে গিয়ে তাঁকে ধাক্কা ও আঘাত করেন।   প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর উপস্থিত সমর্থকরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে হামলাকারীদের কয়েকজনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।   হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় অভিজিৎ দিপকে বলেন, সহিংসতার মাধ্যমে তাদের আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না। তিনি শান্তিপূর্ণ উপায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।   রাজস্থান পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং হামলার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।   উল্লেখ্য, সিজেপি সম্প্রতি শিক্ষা খাতে অনিয়ম, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং বেকারত্বের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করে আলোচনায় আসে। বিক্ষোভ সমাবেশটি নির্দিষ্ট কিছু শর্তসাপেক্ষে প্রশাসনের অনুমতি পেয়েছিল বলে জানা গেছে।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৬, ২০২৬
বাঁ থেকে- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ফাইল ছবি

আমেরিকা-ইরান সমঝোতায় মধ্যস্থতা, প্রশংসায় ভাসছে পাকিস্তান

ফাইল ছবি

হরমুজ প্রণালি ব্যবহারে ‘সেবা ফি’ নেবে ইরান

সংগৃহীত ছবি

আজ রাত থেকেই স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, ঘোষণা ইরানের

ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তির কারণে ক্ষুব্ধ ইসরায়েলি ডানপন্থিরা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পর ইসরায়েলের ডানপন্থি রাজনৈতিক মহলে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকটি ডানপন্থি সংবাদমাধ্যম ট্রাম্পের সমালোচনা শুরু করেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের অবস্থানের মধ্যে এখন কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের ঘোষিত চুক্তি কার্যকর হলে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান সীমিত হতে পারে। এমনকি দেশটি লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার বা হামলা স্থগিত করতেও বাধ্য হতে পারে। এ পরিস্থিতি ইসরায়েলের কট্টরপন্থিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাদের দাবি, চুক্তিটি ইরানের জন্য রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে বিবেচিত হবে। আর তেহরানের এমন সাফল্য ইসরায়েলের জন্য একটি ‘কৌশলগত পরাজয়’ হিসেবে দেখা হতে পারে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত ইসরায়েলে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বেশ উঁচু ছিল। তবে ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির উদ্যোগের পর দেশটির ডানপন্থি মহলের একটি অংশ এখন ট্রাম্পের অবস্থানের সমালোচনা করছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তির খবরে কমল তেলের দাম

ছবি: সংগৃহীত

আরব সাগরে আটকে পড়া ১৪ ভারতীয় নাবিককে উদ্ধার করল যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত, ১৯ জুন স্বাক্ষর

ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প–পুতিন ফোনালাপ: আলোচনায় ইরান চুক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিনে তাকে ফোন করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এ সময় তারা ইউক্রেন ও ইরান যুদ্ধসহ ওয়াশিংটনের দূতদের আসন্ন রাশিয়া সফর নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে ক্রেমলিন জানিয়েছে।   রোববার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে টেলিফোন করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।   ক্রেমলিনের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ সাংবাদিকদের বলেছেন, টেলিফোনে আলাপকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে খসড়া সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন দুই রাষ্ট্র নেতা। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, একটি চুক্তি খুব কাছাকাছি রয়েছে।   উশাকভ বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার—যারা বর্তমানে ইরানি বিষয়ক নানা প্রক্রিয়ায় ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত; তারা শিগগিরই রাশিয়ায় ফিরবেন।   ক্রেমলিনের এই উপদেষ্টা বলেছেন, মার্কিন দূত উইটকফ ও কুশনার শিগগিরই রাশিয়া সফর করবেন বলে একমত হয়েছেন পুতিন এবং ট্রাম্প।   এর আগে, একই দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের সঙ্গে চুক্তিটি আজই স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, চুক্তি সইয়ের পরপরই হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।   গত এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর থেকে আলোচনায় বারবার বিলম্ব হওয়া সত্ত্বেও ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, একটি বড় ধরনের সাফল্য খুব দ্রুতই আসছে। কিন্তু ট্রাম্পের এই দ্রুত সাফল্য আসার সময়সীমা নিয়ে বিশ্লেষকরা এখন সন্দেহ প্রকাশ করছেন।   এদিকে, ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তির বিষয়ে তেহরান এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি কিংবা ঘোষণা করেনি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই শনিবার বলেছেন, চুক্তি সইয়ের তারিখ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি এবং এটি রোববার হচ্ছে না।   তবে ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার কাছাকাছি রয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলছেন, আলোচনা এখনও চলছে এবং কোনও চূড়ান্ত চুক্তি নিশ্চিত করা হয়নি।   সূত্র: এএফপি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগকে ‘আত্মসমর্পণ দলিল’ বলছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত চুক্তি নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ইরান

ছবি: সংগৃহীত

সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের সম্ভাব্য ইসরাইল সফর নিয়ে আলোচনা

0 Comments