টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে সৃষ্ট অচলাবস্থায় এসেছে নতুন মোড়। সময়ের চাপ, আইসিসির কঠোর অবস্থান এবং সরকারের অনড় মনোভাবের মধ্যে এবার সরাসরি ক্রিকেটারদের মতামত জানতে বৈঠকে বসছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বাংলাদেশের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন আসিফ নজরুল। তার সামনে সবচেয়ে বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দেখিয়ে ভারতে খেলতে অনীহা জানিয়েছে বাংলাদেশ। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বাংলাদেশের এই যুক্তি গ্রহণ করেনি।
আইসিসির মতে, মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা একটি বিচ্ছিন্ন বিষয় এবং সেটিকে কেন্দ্র করে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। একাধিক দফা আলোচনার পর আইসিসি ২১ জানুয়ারি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, ২২ জানুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশকে তাদের সিদ্ধান্ত জানাতে হবে—তারা ভারতে খেলবে কি না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না জানালে বাংলাদেশকে ছাড়াই বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি নেবে সংস্থাটি।
এই আল্টিমেটামের পরপরই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয়, বৃহস্পতিবার বিকেলের আগেই বিশ্বকাপ দলে থাকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলাদা বৈঠকে বসবেন আসিফ নজরুল। এই বৈঠকে ক্রিকেটারদের অবস্থান ও মতামত শোনা হবে, যা পরবর্তী সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
ক্রিকেটাররা যদি ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে আগ্রহ প্রকাশ করেন, তাহলে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না—এ প্রশ্ন এখন আলোচনার কেন্দ্রে। যদিও বিসিবি সভাপতি ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ আয়োজনের দাবিতে তারা এখনও অনড় অবস্থানে রয়েছেন।
তবে পুরোপুরি আশার আলো নিভিয়ে দিচ্ছেন না আমিনুল ইসলাম বুলবুল। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিশ্বকাপে খেলতে সবাই চায়, কিন্তু সরকারকে কোনো ধরনের চাপ দিতে চান না তিনি। নিরাপত্তা নিয়ে যে উদ্বেগ রয়েছে, তার কারণেই শ্রীলঙ্কা বিকল্প ভেন্যু হিসেবে বিবেচনায় আছে এবং এই অবস্থান থেকে আপাতত সরে আসছেন না তিনি।
সব মিলিয়ে, ক্রিকেটারদের সঙ্গে আসিফ নজরুলের এই বৈঠকই নির্ধারণ করে দিতে পারে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভবিষ্যৎ—বিশ্বের অন্যতম বড় এই টুর্নামেন্টে টাইগাররা খেলবে, নাকি ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ আসর মিস করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক হিসেবে হার্দিক পাণ্ডিয়ার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। পাঁচবারের আইপিএল চ্যাম্পিয়ন এই দলটি এবার শেষ চারের আগেই বিদায় নেয়। দলের পারফরম্যান্স নিয়ে তৈরি হওয়া অস্থিরতা এবং ড্রেসিংরুমের ভিতরের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমেরি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ আইপিএলের আগে গুজরাট টাইটান্স থেকে হার্দিক পাণ্ডিয়াকে দলে ফিরিয়ে এনে অধিনায়ক করা হয়। নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় দীর্ঘদিন দলকে নেতৃত্ব দেওয়া অভিজ্ঞ ক্রিকেটার রোহিত শর্মাকে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই দলের ভিতরের পরিবেশ আগের মতো নেই বলে দাবি করা হয়। আইপিএলের একটি দলের ঘনিষ্ঠ সূত্রকে উদ্ধৃত করে রিপোর্টে বলা হয়েছে, হার্দিক ফিরে আসার পর থেকেই ড্রেসিংরুমে মতবিরোধ ও বিভাজন বেড়ে গিয়েছে। পাশাপাশি দলের ভিতরের তথ্য বাইরে ফাঁস হওয়ার ঘটনাও ম্যানেজমেন্টের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিটি ড্রেসিংরুমেই মতভেদ থাকে, কিন্তু মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে এই বিভাজন ও তিক্ততা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছে। দলটি সবসময়েই তাদের কোর গ্রুপের জন্য পরিচিত ছিল, কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু খেলোয়াড়ের ইমোজি পোস্টকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা নিয়েও ম্যানেজমেন্ট সন্তুষ্ট নয়। দলের শৃঙ্খলা, খেলোয়াড়দের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ এবং মাঠের পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া ম্যানেজমেন্ট ভবিষ্যতে ড্রেসিংরুমের গোপনীয়তা ফাঁসের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করতে পারে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং ২০২২ সালের রানার্স-আপ ফ্রান্স এবারও বিশ্বকাপের অন্যতম শীর্ষ দাবীদার হিসেবে আসছে। তবে বিশ্বের এক নম্বর র্যাঙ্কিংধারী দলটিকে গ্রুপ ‘আই’-এ সেনেগাল ও নরওয়ের বিপক্ষেকঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। এই গ্রুপে আন্ডারডগ হিসেবে রয়েছে ইরাকও। গত সাতটি বিশ্বকাপের মধ্যে ফ্রান্স দুবার শিরোপা জিতেছে এবং আরও দুবার টাইব্রেকারে ফাইনাল হেরেছে। এর মধ্যে সর্বশেষ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে তারা আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে পরাজিত হয়, যদিও সেই মহাকাব্যিক ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। এবারের বিশ্বকাপ হবে দীর্ঘদিনের কোচ দিদিয়ের দেশ্যমের অধীনে ফ্রান্সের শেষ টুর্নামেন্ট। ২০১২ সাল থেকে তিনি দলের দায়িত্বে আছেন এবং ধারণা করা হচ্ছে তার স্থলাভিষিক্ত হবেন জিনেদিন জিদান। দেশ্যম জানেন তাদের গ্রুপটি অত্যন্ত কঠিন। অতীতেও ফেবারিট হিসেবে হোঁচট খেয়েছে ফ্রান্স। ২০০২ বিশ্বকাপে শিরোপাধারী হিসেবে গিয়ে তারা কোনো গোল না করেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল। সেবার সিউলে উদ্বোধনী ম্যাচে তারা সেনেগালের কাছে হেরেছিল। এবারও তারা চাইবে না ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটুক। আগামী ১৬ জুন নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তারা ‘লায়ন্স অব তেরাঙ্গা’-র মুখোমুখি হবে। দেশ্যম বলেন, “এটি সবচেয়ে কঠিন গ্রুপগুলোর একটি। সেনেগালের সঙ্গে আমাদের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, কারণ তাদের অনেক দ্বৈত নাগরিক খেলোয়াড় ফরাসি ক্লাবে খেলেছে এবং ফরাসি খেলোয়াড়দের ভালোভাবে চেনে। আর নরওয়ে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল।” ফ্রান্সের আক্রমণভাগ বিশ্ব ফুটবলে ঈর্ষণীয়। এর নেতৃত্বে রয়েছেন অধিনায়ক এমবাপ্পে- যিনি এই মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে লা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতা। তার সাথে আরও রয়েছেন বর্তমান ব্যালন ডি’অর বিজয়ী ওসমানে দেম্বেলে। এছাড়া দলে আছেন মাইকেল ওলিসে ও রায়ান শেরকির মতো তারকারাও। ২০০২ সালে ফ্রান্সকে হারিয়ে সেনেগাল তাদের ইতিহাসের সেরা সাফল্য- কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত খেলেছিল। এবারও তারা আরও দূরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। তবে তাদের প্রস্তুতি ব্যাহত হয়েছে জানুয়ারির আফ্রিকান নেশন্স কাপের ফাইনালের বিতর্কে। অতিরিক্ত সময়ে মরক্কোকে ১-০ গোলে হারালেও, ম্যাচের শেষ দিকে স্বাগতিকদের পক্ষে দেওয়া পেনাল্টির প্রতিবাদে সেনেগাল খেলোয়াড়রা মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান। এর জেরে পরে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন তাদের শিরোপা কেড়ে নেয়। সেনেগাল এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসে আপিল করেছে। সেনেগালের দলে এখনো নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাদিও মানে। বর্তমানে তার বয়স ৩৪। চোটের কারণে তিনি গত বিশ্বকাপ মিস করেছিলেন। অন্যদিকে নরওয়ে ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে ফিরছে এবং ইউরো ২০০০-এর পর এটিই তাদের প্রথম বড় কোন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। কোচ স্টালে সোলবাকেনের অধীনে নরওয়ের সাফল্যের কেন্দ্রে রয়েছেন আর্লিং হালান্ড। ম্যানচেস্টার সিটির ২৫ বছর বয়সী এই সুপারস্টারকে ২১ শতকের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে ধরা হয়। নরওয়ে তাদের অভিযান শুরু করবে বোস্টনে ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সেনেগালের মুখোমুখি হবে এবং শেষে আবার বোস্টনে ফিরে ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলবে। সেই ম্যাচে প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হালান্ডের মুখোমুখি হবেন এমবাপ্পে। ইতালির বিপক্ষে হোম ও অ্যাওয়ে জয়সহ বাছাইপর্বে আট ম্যাচে ১৬ গোল করেছিলেন হালান্ড। তাকে দারুণভাবে সহায়তা করছেন আর্সেনালের প্লেমেকার মার্টিন ওডেগার্ড এবং এ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার সোরলথ। এই তিন দলই পরবর্তী পর্বে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে খেলবে। পাশাপাশি সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দলও শেষ ৩২-এ জায়গা পাবে। বিশ্বকাপে খেলতে পারাটাই ইরাকের জন্য বিশাল অর্জন। তারা সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। বাছাইপর্বে তাদের মোট ২১টি ম্যাচ খেলতে হয়েছে, যার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে নাটকীয় এশিয়ান প্লে-অফও ছিল। মার্চে মেক্সিকোতে আন্ত:মহাদেশীয় প্লে-অফে বলিভিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে ইরাক।
রিয়াল মাদ্রিদ আবারও বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান ফুটবল ক্লাব হিসেবে শীর্ষে রয়েছে। ফোর্বস প্রকাশিত সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ মৌসুমে ক্লাবটি রেকর্ড ১.২৭ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। এই আয় ২০২৪ সালে এনএফএল দল ডালাস কাউবয়েসের ১.২৩ বিলিয়ন ডলারের আয়কেও ছাড়িয়ে গেছে। মুদ্রাস্ফীতি সমন্বয় ছাড়া এটি এখন পর্যন্ত কোনো ক্রীড়া দলের সর্বোচ্চ বার্ষিক আয়ের রেকর্ড। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছর ধরে এবং শেষ ১৩ বছরের মধ্যে ১০ বার বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান ফুটবল ক্লাব হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। মাঠের পারফরম্যান্সে গত দুই মৌসুমে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি স্প্যানিশ জায়ান্টরা। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে কোনও শিরোপানা এলেও, মাঠের বাইরে অর্থনৈতিক সাফল্যে তারা এখনো বিশ্ব ফুটবলের মানদন্ডকে অনেক উপরে নিয়ে গেছে। বর্তমানে ক্লাবটির মোট মূল্য ধরা হয়েছে ৯.৫ বিলিয়ন ডলার, যা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ও লা লিগা চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনার চেয়ে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার বেশি। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা বার্সেলোনাও পিছিয়ে নেই। খেলোয়াড় বিক্রির আয় বাদ দিয়েও বছরে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করা একমাত্র অন্য ফুটবল ক্লাব তারাই। যদিও তালিকার শীর্ষ দুইয়ে রয়েছে লা লিগার দুই ক্লাব, তবে সংখ্যার বিচারে আধিপত্য রয়েছে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবের। শীর্ষ ৩০ ক্লাবের মধ্যে ১১টিই ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের। এটি সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় ইংলিশ ক্লাবগুলোর আধিপত্যের ব্যাখ্যাও হতে পারে। ইংলিশ দলগুলো টানা দুই মৌসুম উয়েফা ইউরোপা লিগ ও উয়েফা ইউরোপা কনফারেন্স লিগ জিতেছে। আর শনিবার আর্সেনাল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে পারলে ইংলিশ ক্লাবগুলোর পূর্ণ আধিপত্য নিশ্চিত হবে। আগামী বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে আমেরিকান ক্লাবগুলোর জন্যও এটি বড় ইতিবাচক খবর। মেজর লিগ সকারের সাতটি ক্লাব শীর্ষ ৩০’এ জায়গা পেয়েছে, যা প্রিমিয়ার লিগের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। অন্যদিকে, সিরি-আ’র চারটি ক্লাব তালিকায় রয়েছে। আর বুন্দেসলিগা ও লা লিগার রয়েছে তিনটি করে ক্লাব। ফ্রান্সের প্রতিনিধিত্ব করছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী পিএসজি ও পর্তুগালের প্রতিনিধিত্ব করছে বেনফিকা। ফোর্বসের ২০২৬ সালের সবচেয়ে দামী ফুটবল ক্লাবের তালিকা : ১. রিয়াল মাদ্রিদ- ৯.৫ বিলিয়ন ডলার ২. বার্সেলোনা- ৭.৫ বিলিয়ন ডলার ৩. ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড- ৭.২ বিলিয়ন ডলার ৪. লিভারপুল- ৬.২ বিলিয়ন ডলার ৫. পিএসজি- ৫.৮ বিলিয়ন ডলার ৬. বায়ার্ন মিউনিখ- ৫.৭ বিলিয়ন ডলার ৭. ম্যানচেস্টার সিটি- ৫.৫ বিলিয়ন ডলার ৮. আর্সেনাল- ৫.৪ বিলিয়ন ডলার ৯. চেলসি- ৪.২ বিলিয়ন ডলার ১০. টটেনহ্যাম- ৩ বিলিয়ন ডলার ১১. এ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ- ২.৯৫ বিলিয়ন ডলার ১২. জুভেন্টাস- ২.৪ বিলিয়ন ডলার ১৩. বরুসিয়া ডর্টমুন্ড- ২.২ বিলিয়ন ডলার ১৪. এসি মিলান- ১.৮৫ বিলিয়ন ডলার ১৫. ইন্টার মিলান- ১.৮ বিলিয়ন ডলার ১৬. এ্যাস্টন ভিলা- ১.৪ বিলিয়ন ডলার ১৭. ইন্টার মিয়াম- ১.৩৫ বিলিয়ন ডলার ১৮. এলএএফসি- ১.৩২ বিলিয়ন ডলার ১৯. নিউক্যাসল ইউনাইটেড- ১.২৫ বিলিয়ন ডলার ২০. এলএ গ্যালাক্সি- ১.০৮ বিলিয়ন ডলার ২১. নিউ ইয়র্ক সিটি- ১.০২ বিলিয়ন ডলার ২২. আটালান্টা ইউনাইটেড- ১ বিলিয়ন ডলান ২৩. বেনফিকা- ৯৬০ মিলিয়ন ডলার ২৪. এএস রোমা- ৯৪০ মিলিয়ন ডলার ২৫. এভারটন- ৯৩০ মিলিয়ন ডলার ২৬. ফুলহ্যাম- ৯২০ মিলিয়ন ডলার ২৭. ব্রাইটন- ৯১০ মিলিয়ন ডলার ২৮. স্টুটগার্ট- ৮৮০ মিলিয়ন ডলার ২৯. সিটল সাউন্ডার্স- ৮৬০ মিলিয়ন ডলার ৩০. অস্টিন এফসি- ৮৫৫ মিলিয়ন ডলার