খেলাধুলা

ক্রিকেটার নাঈমকে মারধরের নেপথ্যে সোনা চোরাচালানের তথ্য

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে ডিবি পরিচয়ে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক সোনা চোরাচালানের একটি চালান আটকের উদ্দেশ্যে বসানো চেকপোস্টে ভুল সন্দেহের শিকার হন এই ক্রিকেটার। পরিচয় দেওয়ার পরও ওসির নির্দেশে তাকে মারধর করে থানায় নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে প্রায়ই সোনা চোরাচালানের ঘটনা ঘটে। শুক্রবার রাতেও সোনার একটি চালান পাচারের তথ্য পেয়ে লালখান বাজার ফ্লাইওভারের মুখে চেকপোস্ট বসানো হয় খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানের নির্দেশে। ওই অভিযানে খুলশী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য এবং সোর্স অংশ নেন।

 

সূত্র জানায়, বিমানবন্দরে থাকা সোর্সের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামান ওই পুলিশ সদস্যরা। ওই অটোরিকশাতেই ছিলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান। পুলিশ সদস্যরা প্রথমে ধারণা করেছিলেন, নাঈম তার পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছেন বা ভুয়া পরিচয় দিচ্ছেন। এরইমধ্যে নাঈমকে নিয়ে বাকবিতণ্ডার মধ্যে লোকজন জড়ো হয় ঘটনাস্থলে। তাদের অনেকে নাঈমকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার বলে শনাক্তও করেন। কিন্তু তাতে কর্ণপাত করেনি পুলিশ। বরং সেখানে থাকা পুলিশের সোর্স নাঈমকে পেটানও।

 

পরে ওসি আরিফুর রহমানের সঙ্গে কথা বলে নাঈম হাসানাকে থানায় নিয়ে যান এসআই শফিকুল ইসলাম। 

 

থানায় নেওয়ার পরও নাঈম নিজেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দেন। নিজের পরিচয়পত্র দেখানোর পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে কথা বলার একপর্যায়ে নাঈমকে হুমকি দিয়ে চোখ নামিয়ে কথা বলতে বলেন ওসি। ঠিক ওই মুহূর্তেই ওসির মোবাইলে একটি কল আসে। ফোনে কারও সাথে কথা বলার পর ওসির সুর পুরোপুরি চেঞ্জ হয়ে যায়। তখন উনি আমাকে বলেন, ‘ভাইয়া আপনি বসেন।’ অথচ প্রথমে ওনার আচরণ ছিল অন্যরকম। 

 

নগর পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সোনা চোরাচালানের তথ্যের ভিত্তিতেই ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। তবে ধারণা করা হচ্ছে, যে অটোরিকশায় নাঈম ছিলেন সেটিতে কোনো চোরাকারবারি ওঠার কথা ছিল অথবা আগে কোনো চোরাকারবারি নেমে যাওয়ার পর সেখানে নাঈম উঠেছিলেন। এ কারণেই তিনি পুলিশের সন্দেহের মধ্যে পড়েন।

 

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, বিমানবন্দর ফেরত যাত্রীদের লক্ষ্য করে তল্লাশির বিষয়ে আগে থেকেই তথ্য ছিল। সাধারণত এ ধরনের অভিযান ডিবি পুলিশ বেশি পরিচালনা করে থাকে। তবে ওসি আরিফ খুলশী থানায় যোগ দেওয়ার পর থেকে প্রায় সময় অভিযানে নামেন। তার আওতাধীন এলাকায় লালখান বাজার ফ্লাইওভারে চেকপোস্ট বসানো হয়। সেখানে বিমানবন্দরে যাতায়াতকারীদের থামানো হয়।

 

খুলশী থানার উপ-পরিদর্শক পদমর্যাদার একজন বলেন, সোনা বহনের তথ্য পেয়েই ওসি স্যারের নির্দেশে এসআই শফিকুল ইসলাম অভিযান পরিচালনা করেন। তার নির্দেশেই নাঈমকে থানায় নেওয়া হয়।

 

তবে খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমানের দাবি উল্টো। তিনি দাবি করছেন এই অভিযানের বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। 

 

ঢাকা পোস্টকে ওসি বলেন, অভিযানের বিষয়ে ওই এসআই আমাকে কিছু জানাননি। রাতে কাজ শেষে আমি থানা থেকে বের হবো এমন সময়ে তাকে ধরে নিয়ে আসে এসআই শফিকসহ তার টিম। এ সময় আমি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করি এবং পরিচয় পেয়ে তাকে ছেড়ে দিই। আমার নির্দেশনা না নিয়ে অভিযানে যাওয়ায় ওই এসআইয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

তবে ওসির এই বক্তব্যের সঙ্গে নাঈমের হাসানের বাবার বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। নাঈমের বাবা অভিযোগ করে বলেন, থানায় এসে পরিচয় দেওয়ার পরও ওসি আরিফ হোসেন আমার ছেলেকে অপমানজনক কথা বলেছেন।

 

নাঈম হাসানের বাবা মাহবুব আলম বলেন, রাতে খবর পেয়ে আমি দ্রুত থানায় যাই। পুলিশ আমাকে প্রথমে থানায় ঢুকতেই দেয়নি; দূরে গিয়ে বসতে বলে। পরে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে থানায় প্রবেশের সুযোগ পাই। জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় পাওয়ার পরও আমার ছেলেকে ন্যাক্কারজনকভাবে মারধর করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। থানায় এসে পরিচয় দেওয়ার পরও ওসি আরিফ হোসেন আমার ছেলেকে অপমানজনক কথা বলেছেন।

 

নাঈমের গলা টিপে পুলিশ বলে ‘তুই গাড়িতে ওঠ’


শুক্রবার রাতে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফিরে বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাসায় যাচ্ছিলেন নাঈম। রাত সাড়ে ১১টার দিকে লালখান বাজার ফ্লাইওভারের মুখে তাকে বহনকারী অটোরিকশা থামানো হয়।

 

এর পরে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নাঈম হাসান বলেন, আমি পুলিশকে বললাম, আপনি আমার ব্যাগ চেক করেন দরকার হলে। আমাকে গলা টিপে ধরে বললো– ‘তুই গাড়িতে ওঠ’। এই বলে আমাকে গাড়িতে তুলল। আমি “আপনি আমার গলা টিপে ধরছেন কেন” বলে ধাক্কা দিয়ে বের হয়ে গেলাম। এরপর ওরা গলা টিপে ধরেই আমাকে মেরেছে এবং হেনস্তা করেছে। পুলিশ ছিল দুজন, আরেকজন পাঞ্জাবি পরা মানুষ ছিল। ও কোনো পরিচয় দেয়নি, মারছিল পাইপ দিয়ে। পরে ১০০-২০০ মানুষ ছিল সেখানে, তারা আমার পরিচয় দিয়েছে, তবুও আমাকে মারছিল। বলছিল “তুই আসামি, কথা বলবি না”। আমি আইডি কার্ড দেখিয়েছি, তাও ওরা আমাকে মারছিল।’

 

নাঈম হাসান বলেন, ‘গাড়িতে থাকতেই ওসির সঙ্গে কথা বলেছে, উনি থানায় নিয়ে আসতে বলেন। এরপর আমাকে ব্যাগসহ এখানে (থানায়) এনে বলা হয় “স্যার (ওসিকে) নিয়ে আসছি।” আজ পর্যন্ত পুলিশ, আর্মি আমাদের ডাকলে দাঁড়ায়, উনারা চেক করে ছেড়ে দেয়। কিন্তু গায়ে হাত দেবে কেন? সোর্সটা মেরেছে, পুলিশও লাঠি দিয়ে মেরেছে। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই। এটা স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার কিছু নেই। আজকে আমাকে মেরেছে, আরেকদিন অন্য কাউকে মারলে তার জন্য কেউ আসবে?’

 

এ ঘটনায় শনিবার সকালে নাঈমের ভাই সাব্বির আলম বাদী হয়ে খুলশী থানায় মামলা করেছেন। মামলায় খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও পুলিশ সোর্স সোহেলকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে মারধর ও অপহরণের চেষ্টার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার পর খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও অভিযানে থাকা আরেক পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, নাঈম ন্যায়বিচার পাবেন। পুলিশ সদস্য যেই হোক না কেন, এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশিং প্রক্রিয়ায় কাউকে মারধরের সুযোগ নেই। চোরাচালান সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সদস্যরা গিয়েছিলেন কি না, তথ্যের উৎস কতটা নির্ভরযোগ্য ছিল এবং অভিযান পরিচালনার প্রক্রিয়া যথাযথ ছিল কি না—সব বিষয় যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

পুলিশ সদস্যরা চরম অপেশাদার আচরণ করেছেন


পুলিশের এ আচরণের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আজ (শনিবার) বেলা ১১টার দিকে নাঈম হাসানের সঙ্গে দেখা করতে তার বাসায় যান সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। সেখানে তিনি স্বীকার করেন, পুলিশ সদস্যরা চরম অপেশাদার আচরণ করেছেন।  

 

কমিশনার বলেন, জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যকে ইতোমধ্যেই দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত একজনকে আটক করা হয়ছে। এ ঘটনায় বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

 

সিএমপির একাধিক সূত্র জানায়, ২০১৯-২০ সালের দিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে পরিদর্শক আরিফুর রহমান দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এলাকা কোম্পানিগঞ্জ থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন। ওই সময়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ ওসিও নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ২০২১-২০২২ সালে কুমিল্লার দেবিদ্বার থানার ওসি ছিলেন আরিফুর। ওইসময় ওই এলাকার চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন সরকারের কাছ থেকে স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে ১ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন। বিষয়টি পরবর্তীতে জানাজানি হলে পুলিশ সদরদপ্তর তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক ব্যবস্থা নেয়। পরবর্তীতে সিএমপির বিশেষ শাখাতেও কাজ করেন তিনি।

 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন হলে হঠাৎ নিজেকে ছাত্রদলের সাবেক নেতা বলে পরিচয় দিতে থাকেন তিনি। এই পরিচয়ে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানায় যোগ দেন তিনি। সেখানেও ভূমি দখল এবং মাদক কারবারিদের সহায়তার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ সময়ে তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনও করেন ভুক্তভোগীরা। এ ছাড়া নিজের সহকর্মী ও পার্শ্ববর্তী থানা পাঁচলাইশের ওসি মোহাম্মদ সোলাইমানকে নিয়ে বিষোদগার করেন তিনি। তালিকাভুক্ত এক সন্ত্রাসীর সঙ্গে ওসি আরিফের একটি কথোপকথন ছড়িয়ে পড়লে সহকর্মীকে নিয়ে তার নানা আপত্তিকর মন্তব্যও শোনা যায়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
তদন্তের মাঝেই আর্জেন্টিনার প্রশংসায় ফিফা সভাপতি, নতুন বিতর্কের জন্ম

২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের পর আর্জেন্টিনা দলের আচরণ নিয়ে যখন ফিফার তদন্ত চলছে, ঠিক সে সময় দলটির ‘পেশাদারিত্বের’ প্রশংসা করে নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।   আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াকে পাঠানো ইনফান্তিনোর একটি ব্যক্তিগত চিঠি প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলের পারফরম্যান্স, খেলোয়াড়দের পরিশ্রম ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেছেন ফিফা প্রধান।   তবে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ স্পেনের কাছে ফাইনালে হারের পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ে বর্তমানে তদন্ত করছে ফিফা। একদিকে আর্জেন্টিনা ফুটবলারদের বিশৃঙ্খল আচরণ নিয়ে ফিফার তদন্ত, অন্যদিকে আলবিসেলেস্তেদের পেশাদারিত্বের জন্য ইনফান্তিনোর ধন্যবাদ- অনেকেই দুটি বিষয়কে সাংঘর্ষিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   তা ফিফা কেন আর্জেন্টিনাকে নিয়ে তদন্ত করছে? এর বেশ কয়েকটি কারণ থাকলেও সবচেয়ে সাম্প্রতিক ছিল ফাইনাল ম্যাচের শেষ বাঁশির বাজার পরের ঘটনা। ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ আছে, ওই সময় লিয়ান্দ্রো পারেদেস স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। এ ঘটনায় ফিফা তদন্ত শুরু করেছে।   এই তদন্ত চলাকালেই এএফএ সভাপতি তাপিয়াকে ধন্যবাদ জানানো ইনফান্তিনোর চিঠি সামনে এসেছে। শুরুতে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এ চিঠির সত্যতা যাচাই করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল। ওই চিঠিতি ইনফান্তিনো লিখেছেন, ‘আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এই বিশ্বকাপকে অসাধারণ একটি আয়োজনে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’   আর্জেন্টিনার প্রশংসা করে ওই চিঠিতে ফিফা সভাপতি আরও লিখেছেন, ‘এই ধরনের সাফল্য আসে ধারাবাহিক পরিশ্রম, পেশাদারিত্ব, খুঁটিনাটির প্রতি মনোযোগ, পাশাপাশি আবেগ, নিবেদন ও ভালোবাসা থেকে।’ চিঠিতে ইনফান্তিনো আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়, কোচ লিওনেল স্কালোনি, কোচিং স্টাফ ও সমর্থকদেরও অভিনন্দন জানান।   তবে ফিফা সভাপতির এই মন্তব্যের সঙ্গে সাম্প্রতিক বিতর্কের বিষয়টি অনেকের কাছেই সাংঘর্ষিক মনে হচ্ছে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার খেলার ধরন নিয়েও সমালোচনা হয়েছিল। দলটির বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষকে উসকানি দেওয়া, সময় নষ্ট করা এবং রেফারির সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার চেষ্টা করার অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে ফাইনালের পরের ঘটনা নিয়ে ফিফার তদন্তের পাশাপাশি সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচেও আর্জেন্টিনার আচরণ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। সেই ম্যাচে জুড বেলিংহামের সঙ্গে রেফারির সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ফাইনালে হারের পর আর্জেন্টিনার কিছু খেলোয়াড় ও সমর্থকদের উদযাপন নিয়েও সমালোচনা হয়। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে রাজনৈতিক বার্তা সংবলিত ব্যানার ব্যবহারের ঘটনাও বিতর্ক তৈরি করেছিল।   এদিকে, ফিফার তদন্তের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তবে একদিকে আর্জেন্টিনার আচরণ নিয়ে তদন্ত, অন্যদিকে ইনফান্তিনোর প্রশংসা— দুই বিষয় মিলিয়ে বিশ্ব ফুটবলে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৬, ২০২৬
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ছবি : সংগৃহীত

রোনালদোর ক্লাব আল-নাসরে বিশাল ঋণ, থামল খেলোয়াড় কেনা

ছবি: সংগৃহীত

হাতাহাতি থামাতে গিয়ে মাঠেই অজ্ঞান নারী রেফারি

৫৯ বছর বয়সে গোল, ফুটবল বিশ্বকে আবারও চমকে দিলেন কিং কাজু

হৃদয়ভাঙা পরাজয়ের পর অবশেষে দেখা দিলেন লিওনেল মেসি

বিশ্বকাপের ফাইনালের সেই বেদনাদায়ক রাতের পর অবশেষে দেখা মিললো ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় নামটির! কোটি ভক্তের হৃদয় ভেঙে দেওয়া পরাজয়ের পর সব আলো থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু এবার নিজের শহর রোজারিওতে হঠাৎ উপস্থিত হয়ে আবারও আবেগে ভাসালেন সমর্থকদের।   শনিবার নিজের শহর রোজারিওর কাছের আরোয়ো সেকোর আন্তোনিও দি জিয়াকোমো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রিমেরা সি লিগের ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন তিনি। ম্যাচটি ছিল তার পরিবারের পরিচালিত ক্লাব লিওনেস এফসি এবং সেন্ট্রাল কর্দোবার মধ্যে।   মেসি কালো হুডি পরে খেলা শুরুর পর স্টেডিয়ামে পৌঁছান, যাতে খুব বেশি নজরে না পড়েন। কিন্তু ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই তারকাকে চিনতে সমর্থকদের এক মুহূর্তও লাগেনি। অল্প সময়ের মধ্যেই টেলিভিশন ক্যামেরা ও দর্শকদের মোবাইল ফোনে ধরা পড়ে গোলপোস্টের পেছনের একটি বারান্দায় বসে খেলা উপভোগ করা মেসির দৃশ্য।   ৩৯ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি হাসিমুখে হাত নেড়ে উপস্থিত সমর্থকদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। শিশুসহ হাজারো দর্শক তার নাম ধরে স্লোগান দিতে থাকলে পুরো স্টেডিয়াম করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে।   তবে মাঠের লড়াইয়ে আনন্দের কিছু ছিল না স্বাগতিক লিওনেস এফসির। মার্কোস কর্দোবা ও ফ্রাঙ্কো ফার্নান্দেজের গোলে সেন্ট্রাল কর্দোবা ২-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। এই হারে জোন বি-তে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে লিওনেস। শীর্ষে থাকা কানুয়েলাসের সংগ্রহ ৩৬ পয়েন্ট।   বিশ্বকাপে রানার্সআপ হওয়ার পর আর্জেন্টিনা দল যখন কোচ লিওনেল স্ক্যালোনির নেতৃত্বে বুয়েনস এইরেসে ফিরে হাজারো সমর্থকের সংবর্ধনা গ্রহণ করে, তখন মেসি সরাসরি রোজারিওতে চলে যান পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে। তিনি বর্তমানে কাছের ফুনেস এলাকায় পরিবারের সঙ্গেই ছুটি উপভোগ করছেন।   এদিকে ক্লাব ফুটবলেও তার প্রত্যাবর্তনের দিনক্ষণ এখনও অনিশ্চিত। ইন্টার মায়ামি এখনো জানায়নি কবে মেসি দলে ফিরবেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মাঠে ফিরেই জোড়া গোলে ঝলক দেখালেন নেইমার

ছবি: সংগৃহীত

ভিনিসিয়ুসকে দলে ভেড়াতে বড় বাজি আর্সেনালের

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগের অল-স্টার ম্যাচে খেলবেন না মেসি

ছবি: সংগৃহীত
এলপিএলে ওপেনিংয়ে নেমেও ব্যর্থ মিরাজ

লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) ব্যাটিং অর্ডারে উন্নতি হলেও ভাগ্য বদলাল না মেহেদী হাসান মিরাজের। এবার ওপেনিংয়ে নামার সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ হয়েছেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার।   শনিবার ডাম্বুলায় ক্যান্ডি রয়্যালসের বিপক্ষে ম্যাচে গল গ্যালান্টসের হয়ে ইনিংস শুরু করেন মিরাজ। তবে মাত্র ৫ বলে ৫ রান করেই ফিরে যান তিনি।   ইনিংসের শুরুতে ভিজয় শঙ্কাকে লেগ সাইড দিয়ে দৃষ্টিনন্দন এক বাউন্ডারি হাঁকান মিরাজ। কিন্তু পরের ওভারেই নুয়ান থিসারার নিখুঁত ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।   শুধু ব্যাট হাতেই নয়, এ ম্যাচে বল করার সুযোগও পাননি বাংলাদেশের এই স্পিনিং অলরাউন্ডার। চলতি আসরে চার ম্যাচ খেললেও এখন পর্যন্ত উইকেটশূন্য রয়েছেন তিনি।   এলপিএলে মিরাজের ব্যাটিং পারফরম্যান্সও আশানুরূপ নয়। জাফনা কিংসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে করেন ১০ রান। এরপর কলম্বো ক্যাপসের বিপক্ষে ১৩ এবং ডাম্বুলা সিক্সার্সের বিপক্ষে ১৬ রান করেছিলেন। ওপেনিংয়ে নেমেও এবার দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি তিনি।   ক্যান্ডি রয়্যালসের দেওয়া ১৬৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই মিরাজের উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গল গ্যালান্টস।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে ছিটকে গেলেন নাহিদ

ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়া টেস্টে বড় ধাক্কা: প্রথম ম্যাচে নেই লিটন, অনিশ্চিত শরিফুল

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের গোল্ডেন বলজয়ী তারকা, রিয়ালে যোগ দেওয়ার দ্বারপ্রান্তে

0 Comments