অন্যান্য

কীভাবে টানা ৮ মাস আত্মগোপনে ছিলেন সাবেক মন্ত্রী মোমেন

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ড. একে এম আব্দুল মোমেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সিলেট-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা, সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রয়াত আবুল মাল আব্দুল মুহিতের ছোট ভাই। শেখ পরিবারের সঙ্গে দুই ভাইয়েরই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এমনকি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এই দুই সহোদরকে বিশেষ সমীহ করতেন।


চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পুরো সময়জুড়েই দেশে অবস্থান করছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা ড. একে এম আব্দুল মোমেন। তবে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের অন্যান্য মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের মতো তিনিও আত্মগোপনে চলে যান। এরপর দেশের ভেতরেই টানা আট মাস আত্মগোপনে ছিলেন তিনি।

জানা গেছে, গ্রেপ্তার এড়াতে ও জনসমাগম থেকে দূরে থাকতে একাধিকবার বাসা পরিবর্তন করেন ড. মোমেন। লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের আশঙ্কায় মোবাইল ফোনের সিম পরিবর্তন করেছেন অন্তত ছয়বার। পরিচিতি এড়াতে চেহারায়ও বড় পরিবর্তন আনেন—দাড়ি রাখেন এবং বাহ্যিক রূপ বদলে ফেলেন।

সম্প্রতি তিনি নিজেই সামনে এসে জানান, বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। দেশে পালিয়ে থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই কথা বললেও কীভাবে দেশ ছাড়লেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, এখনো সে কথা বলার সময় আসেনি—এমন মন্তব্য করে বিষয়টি রহস্যের মধ্যেই রাখেন।

আত্মগোপনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ড. মোমেন বলেন, গণঅভ্যুত্থানের আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই ছিলেন। সেখান থেকে দেশে ফেরার পরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তখন অন্য মন্ত্রী-এমপিদের মতো তাকেও আত্মগোপনে যেতে হয়।

দেশের ভেতরে পালিয়ে থাকার সময় তিনি কোনো আত্মীয়-স্বজনের বাসায় ওঠেননি বলে জানান। কারণ, তার আত্মীয়স্বজন সবাই পরিচিত মুখ। বরং সাধারণ মানুষের ভাড়া বাসায় অবস্থান করেন, যা তাকে আড়ালে থাকতে সহায়তা করেছে। ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন বাসায় অবস্থান করেছেন, যাতে কেউ তাকে শনাক্ত করতে না পারে।

তিনি বলেন, পরিচয় গোপন রাখতে এক বাসায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নাপিত ডেকে চুল-দাড়ি কাটিয়েছেন। সেটিও নিজের বাসা নয়—অন্যের বাসায়। যাতে কেউ বুঝতে না পারে তিনি কোথায় ছিলেন। সবকিছুই করেছেন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে।

ড. মোমেন জানান, একসঙ্গে কোথাও বের হলে মবের শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকায় চেহারা সম্পূর্ণ বদলে ফেলেছিলেন। দীর্ঘ সময় পালিয়ে থাকতে হয়েছে, কষ্টের মধ্য দিয়েই দিন কেটেছে। দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্তে স্ত্রীর চাপ ও বুদ্ধিই বড় ভূমিকা রেখেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দেশ ছাড়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই বের হয়েছেন। মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না পারায় যোগাযোগের সব ব্যবস্থা অন্যদের ওপর নির্ভর করেই হয়েছে। নানা প্রলোভন ও প্রতারণার আশঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত জীবিত অবস্থায় দেশ ছাড়তে পেরেছেন বলে জানান।

তিনি আরও বলেন, সরাসরি কোনো বিমানবন্দর ব্যবহার করে দেশ ছাড়েননি। বিমানবন্দরের আশপাশে যাওয়াও সম্ভব ছিল না। বিভিন্নভাবে পালিয়ে দেশ ছাড়তে হয়েছে। এ বিষয়ে এখনই বিস্তারিত বলতে চান না, কারণ সরকারি পর্যায়ের কিছু মানুষ তাকে সহায়তা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

কথা শেষে ড. মোমেন বলেন, দেশকে বাঁচাতে সবাইকে উদ্যোগী হতে হবে। দেশ যেন জঙ্গিবাদে না জড়িয়ে পড়ে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

উল্লেখ্য, চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় সিলেটের বিভিন্ন থানায় দায়ের করা হত্যা, হামলা, ভাঙচুর ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় ড. একে এম আব্দুল মোমেন এজাহারভুক্ত আসামি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা হচ্ছে:নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানকে নাই করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসে এসব কথা বলেন তিনি।   নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সংস্কার যদি পার্লামেন্টে (সংসদে) বাস্তবায়ন না হয় সেটা মাঠে গড়াবে। রাজনৈতিকভাবে সেটার ফয়সালা হবে। সংস্কার ও বিচার হতেই হবে। আপনারা দেখেছেন, বিচারপতি মানিক, ইনু ও মেনন যারা শেখ হাসিনার বৈধতা উৎপাদন করেছিল ভারতের সঙ্গে মিলে, তাদের বিভিন্ন মামলায় জামিন দেওয়া হচ্ছে।   এনসিপির এই নেতা বলেন, বুধবার শহীদ মিনারে জয় বাংলা স্লোগান দেওয়া হয়েছিল। শহীদ পরিবার এবং আমাদের যারা আহত ভাইয়েরা রয়েছেন তাদের এখনও আমরা বিচার দিতে পারিনি। এমতাবস্থায় যখন জয় বাংলা স্লোগান হয় সরকারের তত্ত্বাবধানে, তখন এটা আমাদের আশঙ্কা সৃষ্টি করে যে ইলেকশনটা ইন্ডিয়ার সঙ্গে একটা নেগোসিয়েশন করেই হয়েছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে নেগোসিয়েশন করে হয়েছে। আমরা সরকারকে এই জায়গা থেকে সরে আসার আহ্বান জানাই।   তিনি বলেন, সরকারকে দায়িত্ব নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে যারা জয় বাংলা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আছে বাংলাদেশে তাদের নিবৃত্ত করতে হবে। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের বিচার এবং সংস্কার দুইটা বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করতে হবে। যদি এটা না হয়, আমাদের হয়তো আবার মাঠে নামতে হবে। অনেকেই বলেন যে, আমাদের ডাকে মানুষ মাঠে নামবে কি না? মানুষ প্রস্তুত হয়ে আছে, সাইলেন্ট হয়ে আছে। জাস্ট কল হবে মানুষ মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত আছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

জনগণ এখন স্বাধীন, আমরা সম্পূর্ণ মুক্ত: মির্জা ফখরুল

জাতীয় স্মৃতিসৌধে বিরোধীদলীয় নেতার শ্রদ্ধা নিবেদন। ছবি : সংগৃহীত

স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিসৌধে বিরোধীদলীয় নেতার শ্রদ্ধা নিবেদন

সংগৃহীত ছবি

সাদিক কায়েমকে ছাত্রলীগের একনিষ্ঠ কর্মী বললেন ছাত্রদল সভাপতি

সংগৃহীত ছবি
স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও বহু প্রত্যাশা অপূর্ণ : জামায়াত আমির

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও দেশের মানুষের বহু প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি। গতকাল মঙ্গলবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন। তবে এই বিবৃতির কোথাও পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করেননি জামায়াত আমির। আর এর একটা বড় অংশজুড়ে আছে জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ। বিবৃতিতে শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী জনতা গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল প্রত্যাশা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও দুঃশাসনমুক্ত একটি রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যেই সর্বস্তরের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। তিনি বলেন, ‘লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশ স্বাধীনতা লাভ করে। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর মানুষের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাব করলে দেখা যায়, বহু প্রত্যাশা এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে।’ বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটেছে এবং দেশে একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এমন প্রেক্ষাপটে আর কেউ ফ্যাসিবাদী আচরণে ফিরে যাবে না। তিনি বলেন, দেশের মানুষ ভয়ভীতিমুক্তভাবে চলাফেরা ও মতপ্রকাশ করতে চায়। নাগরিকদের জানমাল ও সম্মানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই যেন শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ বাস্তবায়নে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছে এবং গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ নাগরিক এর পক্ষে মত দিয়েছে। তবে এ সনদ বাস্তবায়নে সরকারের অনীহা দেখা যাচ্ছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো ধরনের টালবাহানা জনগণ মেনে নেবে না। সরকারকে অবিলম্বে এ সনদ বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।’ স্বাধীনতা দিবসে তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণআন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করেন। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা এবং শহীদ পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি। বিশ্ব পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাতের কারণে মানবতা হুমকির মুখে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি দেশবাসীকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানান এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দোয়া করেন।

মারিয়া রহমান মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি

সব বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নে হবে এইচএসসি পরীক্ষা, কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের পরিকল্পনা

ছবি : সংগৃহীত

স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

পাঠ্যবইয়ে ফুটবল-ক্রিকেট-দাবাসহ সাতটি খেলা অন্তর্ভুক্তির নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত
উচ্চশিক্ষা নীতিসংক্রান্ত আলোচনা, ইউজিসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে এপিইউবি বৈঠক

নবনিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি (এপিইউবি)-এর প্রতিনিধি দল। মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওস্থ ইউজিসি ভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।   এপিইউবি চেয়ারম্যান ড. মো. সাবুর খানের নেতৃত্বে ভাইস চেয়ারম্যান বেনজির আহমেদ, সেক্রেটারি জেনারেল ইশতিয়াক আবেদীন, কোষাধ্যক্ষ কাইয়ুম রেজা চৌধুরী, নির্বাহী কমিটির সদস্য ফারুক হাসান, লুৎফে এম. আইয়ুব, নওশাদ শামসুল আরেফিন এবং আবুল কাসেম হায়দার ইউজিসি চেয়ারম্যানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ নেন। আলোচনায় বাংলাদেশের বেসরকারি উচ্চশিক্ষা খাতে একাডেমিক মানোন্নয়ন, গবেষণা কার্যক্রমের প্রসার, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইউজিসি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি এর মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।   ইউজিসি চেয়ারম্যান এপিইউবি প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান এবং উচ্চশিক্ষায় প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। তিনি এ খাতের সার্বিক উন্নয়নে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলায় পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। এ সময় ইউজিসি সচিব ড. মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এবং এপিইউবি সচিবালয়ের পরিচালক বেলাল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠক দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

স্বাধীনতার ৫৫ বছরে বহু আশা এখনো পূরণ হয়নি: জামায়াত আমির

ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষে পাকিস্তান, দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশ

জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ছবি: সংগৃহীত

২৫ মার্চের কালরাত জাতিকে জাগিয়ে তুলেছিল: আসিফ মাহমুদ

0 Comments