জাতীয়

খালেদা জিয়াকে বিদেশ নেওয়া নিয়ে নতুন ভাবনা মেডিকেল বোর্ডের

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ০৭, ২০২৫

ধীরে ধীরে সেরে উঠছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্রমোন্নতি হচ্ছে। রোববার (০৭ ডিসেম্বর) তাঁর সিটিস্ক্যান, ইসিজিসহ বেশ কিছু পরীক্ষা করা হয়, যার রিপোর্ট ভালো এসেছে।

এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড ভাবছে—তাকে বিদেশে নেওয়ার প্রয়োজন আদৌ আছে কি না। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি খালেদা জিয়ার আস্থা আছে বলেও চিকিৎসকরা জানান।

রোববার রাতে বোর্ডের একজন চিকিৎসক বলেন, আগের তুলনায় খালেদা জিয়া এখন অনেকটাই সুস্থ। দেশের চিকিৎসাতেই তিনি সেরে উঠবেন বলে তাদের বিশ্বাস। ম্যাডামের স্বাস্থ্যের বিভিন্ন প্যারামিটার উন্নত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তবে সিসিইউতে আর কতদিন থাকতে হবে—তা নির্ভর করছে তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর। দেশি-বিদেশি চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কিছুটা কথা বলার চেষ্টা করছেন খালেদা জিয়া। তাঁর ছোট ভাই, ভাবি, দুই পুত্রবধূ সার্বক্ষণিক পাশে আছেন। পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান চিকিৎসার বিষয়গুলো সমন্বয় করছেন এবং কিছুদিন দেশে থাকবেন।

এদিকে কাতারের আমিরের সৌজন্যে বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রয়েছে। মেডিকেল বোর্ড সিদ্ধান্ত দিলেই সেটা ঢাকায় আসবে বলে বিএনপির নেতারা জানান।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী জানান, বোর্ডের সিদ্ধান্ত হলেই তাঁকে লন্ডনে নেওয়া হবে। চাইলে কাতারের পক্ষ থেকে যেকোনো সময় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো সম্ভব।

আগে বলা হয়েছিল, শুক্রবার সকালে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এসে তাঁকে লন্ডন নিয়ে যাবে। কিন্তু কারিগরি ত্রুটি এবং মেডিকেল বোর্ডের নতুন সিদ্ধান্তের কারণে তা পিছিয়ে যায়। এখনও এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত থাকলেও প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে তাঁর নিরাপত্তা ও সুচিকিৎসাকে।

মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন জানান, শুক্রবার অ্যাম্বুলেন্স না আসা সত্য হলেও, তার চেয়ে জরুরি ছিল বোর্ডের সিদ্ধান্ত—এ মুহূর্তে খালেদা জিয়ার উড়োজাহাজে ওঠা ঠিক হবে না। তাই যাত্রা বিলম্বিত হয়েছে।

প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন খালেদা জিয়া। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক যাত্রায় তাঁর শারীরিক অবস্থা কতটা উপযোগী হবে—এমন বিবেচনায়ই সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিচ্ছে বোর্ড।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবিঃ পাকিস্তান হাইকমিশন
কাশ্মীর সংকট সমাধানে জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকা চায় পাকিস্তান

ভারত-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর ঘিরে বিদ্যমান সংকটের ন্যায়সংগত, শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী সমাধানে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা চেয়েছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে কাশ্মীরের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রাসঙ্গিক প্রস্তাব বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। ঢাকায় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পাকিস্তান হাইকমিশন আয়োজিত ‘কাশ্মীর ব্ল্যাক ডে’ পালন এবং কাশ্মীরের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের এ অবস্থান তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, বাংলাদেশে বসবাসরত পাকিস্তানি সম্প্রদায়ের সদস্য, পাকিস্তানের বন্ধুভাবাপন্ন ব্যক্তিরা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ এবং উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর মোহাম্মদ ইসহাক দারের বার্তা পাঠ করা হয়। তাঁদের বাণীতে ১৯৪৭ সালের ২৭ অক্টোবরকে জম্মু ও কাশ্মীরের ইতিহাসের একটি বেদনাবিধুর দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পাকিস্তানের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই দিন শ্রীনগরে ভারতীয় সেনা অবতরণের মধ্য দিয়ে কাশ্মীরের জনগণের দীর্ঘ দুর্ভোগের সূচনা হয়। পাকিস্তানের নেতারা বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রাসঙ্গিক প্রস্তাবে কাশ্মীরের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের স্বীকৃতি রয়েছে। এ অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে তাঁদের দীর্ঘদিনের সংগ্রাম, ত্যাগ ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন তাঁরা। বার্তায় ভারত-শাসিত জম্মু ও কাশ্মীরে মানবাধিকার পরিস্থিতি, মৌলিক স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ এবং রাজনৈতিক নেতা ও অধিকারকর্মীদের আটক রাখার বিষয়ে উদ্বেগ জানানো হয়। পাশাপাশি ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারতের সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মাধ্যমে অঞ্চলটির বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা হয়। কাশ্মীরের জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা এবং বিরোধের স্থায়ী সমাধানে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাকিস্তানের নেতৃত্ব জানায়, কাশ্মীরের জনগণের প্রতি দেশটির নৈতিক, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের পক্ষে পাকিস্তান কাজ চালিয়ে যাবে। অনুষ্ঠানে কাশ্মীরের জনগণের দুর্ভোগ, কথিত মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ তুলে ধরে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা প্রদর্শনীটি ঘুরে দেখেন।

নাসির উদ্দিন অক্টোবর ২৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কম্বোডিয়ায় দুই তরুণকে ৫ হাজার ডলারে বিক্রির অভিযোগ, ঢাকায় গ্রেপ্তার ২

ছবি: সংগৃহীত

ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট, মরদেহ ও গুরুতর রোগী নিয়ে চরম ভোগান্তি

ছবি: সংগৃহীত

সৌদিয়ার ঢাকা–রিয়াদ ফ্লাইট বুধবার চালুর সম্ভাবনা, অপেক্ষায় যাত্রীরা

ছবি: সংগৃহীত
সকল ক্ষেত্রে প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করতে ‘আর্টিকেল ৯ কমিটি’র যাত্রা শুরু

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অবকাঠামো, পরিবহন, তথ্য ও যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে ‘আর্টিকেল ৯ কমিটি’। জাতিসংঘের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সনদের (সিআরপিডি) ধারা ৯-এর আলোকে গঠিত এই কমিটির প্রথম সভা আজ ঢাকার বারিধারায় অমনি রেসিডেন্সি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়।   নারী নেতৃত্বাধীন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন বি-স্ক্যানের উদ্যোগে এবং সিএসআইডি ও সিডিডির সহযোগিতায় ‘ডিসেবিলিটি ইনক্লুসিভ সিভিক এনগেজমেন্ট (ডিআইসিই)’ প্রকল্পের আওতায় এ সভার আয়োজন করা হয়। প্রকল্পটি নাগরিকতা সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ডের সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা জিএফএ ব্যবস্থাপনা করছে।   আর্টিকেল ৯ কমিটি একটি নাগরিক সমাজের নেতৃত্বাধীন বহুপক্ষীয় অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্ম। এর উদ্দেশ্য হলো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশগম্যতার অধিকার সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের বোঝাপড়া বাড়ানো, পারস্পরিক সহযোগিতা গড়ে তোলা এবং প্রবেশগম্যতার মানদণ্ড বাস্তবায়নে সমন্বয় ও জবাবদিহি জোরদার করা। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন, নাগরিক সমাজ, উন্নয়ন সংস্থা, পেশাজীবী প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে এই উদ্যোগে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।   সিআরপিডির ধারা ৯ অনুযায়ী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাধীনভাবে জীবনযাপন এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রে পূর্ণ ও কার্যকর অংশগ্রহণের জন্য অন্যদের সাথে সমতার ভিত্তিতে প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে ভবন, সড়ক, পরিবহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র, স্বাস্থ্যসেবা এবং জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত অন্যান্য স্থাপনা ও সেবা। একই সঙ্গে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা এবং জরুরি তথ্য ও সেবা প্রবেশগম্য করা।   প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা কেবল র‍্যাম্প নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভবনের প্রবেশপথ থেকে টয়লেট, গণপরিবহন, ওয়েবসাইট, ইশারা ভাষা এবং সহজবোধ্য ও বিকল্প বিন্যাসে তথ্যপ্রাপ্তি পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তির চাহিদা বিবেচনা করা। সার্বজনীন নকশার মাধ্যমে এসব ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পাশাপাশি প্রবীণ ব্যক্তি, শিশু, গর্ভবতী নারী এবং সাময়িকভাবে চলাচলে অসুবিধার সম্মুখীন ব্যক্তিরাও উপকৃত হন। বি-স্ক্যান এর নির্বাহী পরিচালক জনাব সালমা মাহবুব বলেন, নাগরিক সমাজের যৌথ উদ্যোগে সকলের অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে বাংলাদেশকে সকলের জন্য উপযোগী করতে এই প্লাটফর্ম জাতীয় স্তরে কাজ করার প্রয়াস নিবে।   কমিটির প্রাথমিক লক্ষ্য হলো প্রবেশগম্যতাকে একটি অধিকার এবং পরিকল্পনা ও সেবা প্রদানের অপরিহার্য অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছে তুলে ধরা। এছাড়াও এই অবকাঠামো, যোগাযোগ প্রযুক্তি, সকল সেবা এবং যাতায়াতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধা চিহ্নিত করা, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সংলাপ ও সহযোগিতা বাড়ানো এবং সার্বজনীন নকশার প্রয়োগে অ্যাডভোকেসি করার মাধ্যমে সকলের জন্য অভিগম্য বাংলাদেশ হিসেবে তৈরিতে অবদান রাখা।   সভায় বি-স্ক্যান, সিডিডি ও সিএসআইডি ছাড়াও ওয়াটারএইড, বাপা, বিআইপি, ব্লাস্ট, ব্র্যাক, ফ্রেন্ডশিপ, সিরাক, ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট, ডব্লিউডিডিএফ, এসএমএফ, এফবিসিসিআই ও মাসস্টুডিও এর প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রিয়াদ ও দাম্মামগামী ১৪৬ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ২২ হাজারের বেশি যাত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মেট্রোরেল লাইন-১ এর সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার কাজ পেল এলঅ্যান্ডটি

ছবি: সংগৃহীত

আরও শক্তি সঞ্চয় করে এগিয়ে যাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ২৭১১

দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ জন মারা গেছেন। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৭১ জন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।     স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৪০০ জন মারা গেছেন। এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ২৮ হাজার ২৩৭ জন।   এর আগে, গত ৬ ও ১৫ অক্টোবর ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২৭, ২০২৬

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারকে জোরালো সমর্থনের ঘোষণা জাপানের প্রধানমন্ত্রীর

সামুদ্রিক নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে চুক্তি সই

ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসকদের অবহেলায় যেন কোনো রোগীর ক্ষতি না হয়: প্রতিমন্ত্রী টুকু

0 Comments