কম্বোডিয়ায় মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের অন্যতম প্রধান মো. মাহাফুজ উল্লাহ সিদ্দিকীকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর বনশ্রী-সংলগ্ন আফতাবনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) নিয়াজ মেহেদী বলেন, সিটিটিসির ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে মাহাফুজ উল্লাহ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করে।
সিটিটিসি সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া মাহাফুজ বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনের একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। প্রাথমিক তদন্তে তিনি কম্বোডিয়াকেন্দ্রিক মানবপাচার চক্রের অন্যতম প্রধান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।
পুলিশের তথ্যমতে, বিদেশে চাকরি ও উচ্চ আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলমান রয়েছে।
নিয়াজ মেহেদী বলেন, মানবপাচার ও আন্তর্দেশীয় অপরাধ দমনে সিটিটিসির অভিযান এবং গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশে পরিচালিত জুয়ার ওয়েবসাইট সমূহে এমএফএস অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে দৈনিক ৭০০ থেকে এক হাজার কোটি টাকার উপরে লেনদেন সংঘটিত হয়ে থাকে। যা দেশের বাইরে পাচার হচ্ছে। গাজীপুর ও কুমিল্লা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল সরঞ্জামসহ অনলাইন জুয়া পরিচালনার চক্রের মূল হোতা আরিফুল ইসলাম রিফাতসহ চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। ডিবি বলছে, এই চক্রের মূলহোতা অবৈধ এই জুয়া পরিচালনার মাধ্যমে দেশে চক্রের মূল হোতা আরিফুল দৈনিক ৫ কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার করতেন। আর দেশের বাইরে থেকে এই চক্রটিকে নিয়ন্ত্রণ করতেন চাইনিজ নাগরিক নাতান। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম। যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তারা হলেন— মো. আরিফুল ইসলাম রিফাত (২৩), মো. আরমান হোসেন জিহাদ (২৩), মাসুদ হোসেন (২২), আব্দুল রাব্বী (২৩), কৌশিক আহমেদ শুভ (২৩) ও মশিউর রহমান তারেক (২০)। মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ডিবি কর্তৃক গাজীপুর ও কুমিল্লায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ৬ হাজার ৫০০ টি এমএফএস (বিকাশ/নগদ) অ্যাকাউন্ট সম্বলিত সিমকার্ড, ৬৭টি বিভিন্ন কোম্পানির সিমকার্ড, একটি ল্যাপটপ, ৭০ এর অধিক মোবাইল ডিভাইস ও একটি মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়। ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম ডিভিশন কর্তৃক সাইবার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে অনলাইনে জুয়ার বেশ কিছু ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন শনাক্ত করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ওয়েবসাইটগুলো পর্যালোচনায় দেখা যায়, অনলাইন জুয়া কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সাইটগুলোতে মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিসের এজেন্ট অ্যাকাউন্টের ব্যবহার করা হয়। জুয়ার সাইট ও মোবাইল অ্যাপস থেকে প্রাপ্ত এমএফএস অ্যাকাউন্ট পর্যালোচনা করে অনলাইন জুয়ার সাথে সম্পৃক্ত একটি সংঘবদ্ধ চক্রকে শনাক্ত করা হয়। তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল হোতা আরিফুল ইসলাম রিফাত সহ ৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলা ডিবির সহায়তায় কুমিল্লা সদরের এলিট প্যালেস হোটেলে অভিযান চালিয়ে আরও ৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিসের অ্যাকাউন্ট সংরক্ষণের জন্য তারা বড় রেজিস্টার বই ব্যবহার করে অত্যন্ত সুশৃংখলভাবে কাজটি পরিচালনা করত। অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট ও অ্যাপস পরিচালনার কাজে অনেকগুলো পেমেন্ট কোম্পানি কাজ করে থাকে জানিয়ে তিনি বলেন, উল্লেখযোগ্য কিছু পেমেন্ট কোম্পানি হলো পে কাশমা, গো পে, লাকি পে, এলকিউ পে, এক্সই পে ও কুল পে। বাংলাদেশ কেন্দ্রিক জুয়ার সাইটে যেসব পেমেন্ট কোম্পানি কাজ করে তার অধিকাংশই চাইনিজ নাগরিকদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এসব পেমেন্ট কোম্পানির বাংলাদেশে ব্যবসা চালানোর জন্য স্থানীয় প্রচলিত লেনদেনের মাধ্যম প্রয়োজন হয়। এই কারণে তারা অনলাইনে যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশিদের কাছ থেকে মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিস ও ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট সংগ্রহ করে। তিনি বলেন, ব্যাংকের তুলনায় সহজলভ্য এবং দুর্বল মনিটরিংয়ের সুযোগের কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব পেমেন্ট কোম্পানি এমএফএস অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে থাকে। জুয়ার সাইট এবং অ্যাপস পরিচালনার জন্য সাধারণত এমএফএস এজেন্ট অ্যাকাউন্ট, মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট ও মার্চেন্ট এপিআই ব্যবহার করা হয়। এসব এজেন্ট অ্যাকাউন্টে হওয়া লেনদেন দিনশেষে হিসাব করে লভ্যাংশ এজেন্ট অ্যাকাউন্ট থেকে এমএফএস পারসোনাল অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। এই অর্থ ব্যবহার করে ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্ম (বাইন্যান্স, বাইবিট, বিটগেট প্রভৃতি) থেকে ক্রিপ্টো ডলার (ইউএসডিটি) ক্রয় করা হয়। পরবর্তী সময়ে পেমেন্ট কোম্পানির দেওয়া ওয়ালেট অ্যাড্রেসে ক্রিপ্টো ডলার পাঠানো হয়। তিনি আরও বলেন, আরিফসহ যে চক্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের ডিভাইসের তথ্য বিশ্লেষণ জানা গেছে, এখানে প্রায় দৈনিক ৫ কোটি টাকার লেনদেন করা হতো। আরিফ আগেও গ্রেপ্তার হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ৪টি মামলা রয়েছে। আরিফ অবৈধ উপার্জনের টাকায় বিলাশী জীবনযাপন করেন। কিছুদিন আগে পূর্বাচলে তার একটি বিএমডব্লিউ উল্টে গেছে। এরপর তিনি আবার একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি কিনেছেন। পুলিশে হাত থেকে বাঁচতে ভিন্ন কৌশলের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা যেখান থেকে তাকে ধরেছি, সেখানেও তিনি তিনটা রুম বুকিং করেছিলেন। তিনি যে রুমে ছিলেন, সেই রুমের ভাড়াই প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা। তিনি এখানে হয়ত চার-পাঁচ দিন থাকতেন। এরপর পুলিশ যখন তাকে লোকেট করবে, ঠিক তখন তিনি জায়গা পরিবর্তন করে অন্য কোনো হোটেলে বা কক্সবাজারে নামি-দামি হোটেলে রুম ভাড়া করতেন। দীর্ঘদিন তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে এই কৌশল অবলম্বন করেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি এই চক্রের বস নাথানের ছদ্মনাম এলিয়েন। তিনি একজন চাইনিজ নাগরিক। দেশে জুয়ার সাইট থেকে প্রতিদিন কী পরিমাণ অর্থ পাচার হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আমাদের দেশে ৭০০ থেকে এক হাজার কোটি টাকা ট্রানজেকশন হচ্ছে। এই সিমগুলো যেসব মার্চেন্ট বা দোকানদারের নামে রেজিস্ট্রেশন করা আছে, তাদেরকে আপনারা আইনের আওতায় আনবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এই সিমের মালিকদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করছি এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরকেও গ্রেপ্তার করা হবে। এর আগে যারা বিকাশ ও নগদ কোম্পানির সঙ্গে জড়িত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
কম্বোডিয়ায় মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের অন্যতম প্রধান মো. মাহাফুজ উল্লাহ সিদ্দিকীকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর বনশ্রী-সংলগ্ন আফতাবনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) নিয়াজ মেহেদী বলেন, সিটিটিসির ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে মাহাফুজ উল্লাহ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করে। সিটিটিসি সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া মাহাফুজ বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনের একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। প্রাথমিক তদন্তে তিনি কম্বোডিয়াকেন্দ্রিক মানবপাচার চক্রের অন্যতম প্রধান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। পুলিশের তথ্যমতে, বিদেশে চাকরি ও উচ্চ আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলমান রয়েছে। নিয়াজ মেহেদী বলেন, মানবপাচার ও আন্তর্দেশীয় অপরাধ দমনে সিটিটিসির অভিযান এবং গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। ব্রিফিংয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, বিদেশে গ্রেফতার আসামিদের প্রত্যর্পণ, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানো, মাদকবিরোধী অভিযান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদের তালিকা, পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন তিনি। ব্রিফিংয়ের এক পর্যায়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন— আন্দোলনের পেছনে কারা রয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “পেছনে যে-ই থাকুক, সামনে তো আমরা আছি।” শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিসহ শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের পেছনে কোনও রাজনৈতিক বা নিষিদ্ধ সংগঠনের ইন্ধন রয়েছে কিনা প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারকে বিব্রত করতে কিছু মহল বিভিন্ন ইস্যুতে পরিচয় গোপন করে পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। তিনি বলেন, “যারা আন্দোলন করছে, তাদের মধ্যে অনেককে দেখা যাচ্ছে তারা শিক্ষার্থী বা পরীক্ষার্থীই নয়। সংখ্যাও খুব বেশি নয়। তবে গণমাধ্যমে আসার কারণে বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে এবং আমরা নজর রাখছি।” এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, পরীক্ষা বাতিল, বিনা পরীক্ষায় পাস কিংবা অটোপাসের দাবিতে কোনও আন্দোলন মেনে নেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক সমস্যাগুলোর সমাধান করা হলেও শিক্ষার মান ক্ষুণ্ণ হয়— এমন কোনও সিদ্ধান্ত সরকার নেবে না।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কোনও শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে তাকে পরবর্তী সময়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। প্রশ্নপত্রে ভুল থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের নম্বর পরীক্ষার্থীদের দেওয়া হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপরও আন্দোলনের নামে রাস্তা বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি কিংবা পরীক্ষা ছাড়াই পাসের দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষামন্ত্রীর একটি মন্তব্যে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশ করেছেন উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সমস্যাগুলোর সমাধান হয়ে গেছে। এরপরও আন্দোলন অব্যাহত রাখার যৌক্তিকতা নেই। আন্দোলনের কারণে সড়ক বন্ধ ও জনদুর্ভোগের বিষয়ে সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, “অতীতে সচিবালয়ে ঢুকে পরীক্ষা স্থগিত বা বিনা পরীক্ষায় পাসের ঘোষণা আদায় করার একটি অপসংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল। সেই প্রবণতা এখনও কারও কারও মধ্যে রয়ে গেছে।” তিনি বলেন, “আমরা শিক্ষার মানের সঙ্গে আপস করবো না। নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নিতে চাই। বাংলাদেশের শিক্ষার মান অনেক নিচে নেমে গিয়েছিল। সেটি পুনরুদ্ধার করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।” স্বৈরাচারী শাসনামলে অটোপাস, পরীক্ষায় নম্বর বাড়িয়ে দেওয়া এবং নির্বিচারে জিপিএ-৫ দেওয়ার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, সরকার জ্ঞানসমৃদ্ধ, প্রযুক্তিনির্ভর এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম একটি শিক্ষিত জাতি গড়ে তুলতে চায়। শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার পুরোনো ছবি সাম্প্রতিক আন্দোলনের বলে প্রচারের অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এগুলো ডিসইনফরমেশন। প্রকৃত ছবি ও ভিডিও সবার সামনে আছে। কিছু মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য পুরোনো কনটেন্ট ব্যবহার করছে।”