জাতীয়

আরবি হরফের পতাকা নিয়ে উগ্রবাদী তৎপরতার প্রমাণ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

 

দেশের বিভিন্ন স্থানে আরবি হরফ লেখা পতাকা প্রদর্শনের ঘটনায় কারা জড়িত প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, কিছু মানুষ ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করতে পারে। কিছু সংগঠনকে চরমপন্থি বলা যেতে পারে। তবে দেশে কোনও সংগঠিত জঙ্গিবাদী তৎপরতা বা বড় ধরনের উগ্রবাদী সংগঠনের অস্তিত্ব আছে বলে আমরা মনে করি না।

 

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ব্রিফিংয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, বিদেশে গ্রেফতার আসামিদের প্রত্যর্পণ, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানো, মাদকবিরোধী অভিযান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদের তালিকা, পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন তিনি।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীও স্পষ্ট করেছেন যে, বাংলাদেশে উগ্রবাদী বা মৌলবাদী কোনও শক্তির উত্থান ঘটতে দেওয়া হবে না।

 

মাদকবিরোধী অভিযানে ডগ স্কোয়াড, অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ

 

বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনা এবং পরবর্তী মামলায় বিপুলসংখ্যক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করার অভিযোগ প্রসঙ্গে সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ লিখিতভাবে দেওয়া হলে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে।

 

তিনি বলেন, মাদকের বিস্তার, বাণিজ্য ও অপব্যবহার রোধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি কঠোর মাদকবিরোধী আইন পাস করা হয়েছে। তবে আইনটির পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগের আগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

 

মন্ত্রী জানান, অধিদফতরে ডগ স্কোয়াড গঠন, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহ, পরীক্ষাগার স্থাপন এবং তদন্তক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য আর্থিক সংস্থান ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে কিছুটা সময় লাগবে।

 

তিনি বলেন, আগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের নিরস্ত্র কর্মকর্তাদের অস্ত্রধারী মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান করতে হতো। অনেক কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ভবিষ্যতে সে অবস্থা থাকবে না।

 

নতুন আইন গেজেট প্রকাশের সঙ্গে কার্যকর হয়েছে উল্লেখ করে সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, এখন থেকেই ওই আইনের অধীনে মামলা ও তদন্ত চলবে। শক্তিশালী শাস্তির বিধান নিজেই অপরাধীদের জন্য প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করবে।

 

চাঁদাবাজি ও জুয়া ঠেকাতে আইন সংস্কারের উদ্যোগ

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধু মাদক নয়, জুয়া, চাঁদাবাজিসহ অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও বিদ্যমান আইনের দুর্বলতা রয়েছে। দণ্ডবিধিতে চাঁদাবাজির শাস্তি ও মামলার প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা যায় কি না, সরকার তা পর্যালোচনা করছে।

 

তিনি বলেন, বর্তমানে চাঁদাবাজির শিকার ব্যক্তি মামলা না করলে অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ বা রাষ্ট্র নিজে থেকে মামলা করতে পারে না। এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে শক্তিশালী আইনি ভিত্তি তৈরি করা প্রয়োজন।

 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদকমুক্ত ও চাঁদাবাজিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী আইন যেমন দরকার, তেমনই মানুষের মানসিক পরিবর্তন ও সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণও প্রয়োজন। যুবসমাজকে রক্ষায় গণমাধ্যমকে জনসচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে হবে।

 

অনিয়মকারী পুলিশের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে

 

পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করার পাশাপাশি যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাদের তালিকা প্রকাশের দাবি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পেশাদারত্ব বজায় রাখতে ব্যর্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, আমরা যেমন ভালো কাজের জন্য পুরস্কৃত করছি, তেমনই অনিয়মের জন্য তিরস্কার ও শাস্তিও দিচ্ছি।

 

চট্টগ্রামে একজন ক্রিকেটারকে হয়রানির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

তেজগাঁওয়ের একটি হোটেলে বিএনপির পরিচয় দিয়ে তিন সাংবাদিককে হয়রানি ও দীর্ঘ সময় আটকে রাখার অভিযোগ সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনাটি তার নজরে আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক তদন্তের ব্যবস্থা করা হবে।

 

শহীদের প্রকৃত সংখ্যা দুই হাজারের বেশি হতে পারে

 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে প্রায় এক হাজার ৪০০ জনের মৃত্যুর কথা বলা হলেও সরকারের ধারণা, প্রকৃত সংখ্যা দুই হাজারের বেশি হতে পারে।

 

তিনি বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের পতনের আগে অনেক হাসপাতাল থেকে নথিপত্র গায়েব করা হয়েছে। অনেককে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি, লাশ গুম করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত হিসেবে দাফন করা হয়েছে। এখনও অনেক স্বজন কবর খুঁজে বেড়াচ্ছেন।

 

গণকবর থেকে উদ্ধার মরদেহের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হলে শহীদের তালিকা আরও বাড়বে বলে জানান তিনি।

 

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে গেজেটভুক্ত শহীদ এবং আহতদের তিনটি শ্রেণিতে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করলেও ব্রিফিংয়ের সময় সঠিক সংখ্যা তার সামনে নেই বলে জানান মন্ত্রী।

 

ভুয়া মামলা ও হাজারো আসামি নিয়ে আবার বৈঠক

 

জুলাই আন্দোলনে নিহত দেখিয়ে মামলা করা হলেও কথিত নিহত ব্যক্তি বিদেশে জীবিত রয়েছেন– এমন ঘটনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অভিযোগের ভিত্তিতে অনেক তালিকা তৈরি হয়েছিল। পর্যাপ্ত তদন্তের সুযোগ না থাকায় সেখানে ভুল থাকতে পারে।

 

তিনি বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে কেউ জীবিত প্রমাণিত হলে তার নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।

 

হাজার হাজার মানুষকে আসামি করে দায়ের করা মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, তদন্তে নির্দোষ ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ ধারার পুলিশ প্রতিবেদনের মাধ্যমে অভিযোগপত্র দেওয়ার আগেই বাদ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, এটা নিয়ে আমরা আবার বসবো।

 

মিথ্যা অভিযোগকারী বাদীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদনে মিথ্যা অভিযোগের বিষয়টি উল্লেখ করতে পারে। তবে বাদীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত আদালতের এখতিয়ার।

 

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতা বাড়াবে বাংলাদেশ

 

সাম্প্রতিক বিদেশ সফর সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি জাতিসংঘ পুলিশপ্রধানদের সম্মেলনে অংশ নিতে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম বৃহৎ অংশগ্রহণকারী দেশ হওয়ায় সম্মেলনটি দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

 

তিনি জানান, সফরে জাতিসংঘের তিন জন আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, শান্তি বিনির্মাণ এবং লজিস্টিক সহায়তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমান সরকারের সম্পর্ক সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক খুবই ভালো।

 

নির্বাহী আদেশে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের পক্ষে নয় সরকার

 

রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাহী বা প্রশাসনিক আদেশে কোনও রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হোক– এটি বিএনপি ও সরকারের নীতিগত অবস্থান নয়। আমরা চাই, সবকিছু বিচারিক ও আইনানুগ প্রক্রিয়ায় হোক।

 

তবে রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, আইন সংশোধনের ফলে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে এখন ব্যক্তির পাশাপাশি সংগঠনেরও বিচার করা যায়।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা এবং দেশবাসী মনে করি, আওয়ামী লীগ দল হিসেবে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে অভিযোগ দাখিল হলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু হবে।

 

তদন্ত দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট তদন্ত দলকে অনুরোধ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
‘গুপ্তবাহিনী’ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অতীতের মতো আবারও ‘গুপ্তবাহিনী’ বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে এবং জনগণের কাছে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   রোববার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।     প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য কোনো দল রাজনীতি করে থাকলে সেই দলটির নাম বিএনপি। কিন্তু কিছু সংখ্যক রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়িয়ে এই উন্নয়নকর্মে বাধা দেয়ার চেষ্টা করছে।     তিনি বলেন, যারা রাজপথ বন্ধ করতে চায়, মানুষকে বিভ্রান্ত করতে যায়, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া যায়, তা নির্ধারণ করবে দেশের জনগণ।     প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া যাবে না। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।     উন্নয়নের জন্য চট্টগ্রামে যা যা প্রয়োজন, পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তারেক রহমান।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

পরিবেশ রক্ষাকে জাতীয় আন্দোলন বানানোর তাগিদ পরিবেশমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

ফ্যাসিবাদের মূল নেতৃত্ব চলে গেলেও প্রভাব এখনো রয়ে গেছে: প্রধানমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

রিজার্ভ চুরি মামলা: প্রতিবেদন দাখিলে ৯৭তম বারের মতো সময় বৃদ্ধি

ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য: ‘গণতন্ত্রবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে কিছু রাজনৈতিক শক্তি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। অতীতের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করা শক্তিগুলো বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্রের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।   রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৮৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিরোধিতা করেছিল, পরবর্তীতে তারাই অন্য এক স্বৈরাচারী শাসনের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেয়। তিনি অভিযোগ করেন, সেই সময় যাদের ‘গুপ্তবাহিনী’ বলা হয়েছিল, তারা পরে ১৯৯৬ সালেও স্বৈরাচারী শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল এবং গণতন্ত্রের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।   তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে জনগণের বড় অংশ বিএনপির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে, কারণ মানুষ বিশ্বাস করে জনগণের কল্যাণে কাজ করে বিএনপি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমলে শিক্ষা ও যোগাযোগ খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।   দেশ পরিচালনার দায়িত্ব আবারও পাওয়ার পর সরকার উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল বাধা সৃষ্টি ও অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। দেশের মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না।   তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে একই সময়ে স্বাধীন হওয়া অনেক দেশ উন্নয়নের দিক থেকে অনেক এগিয়ে গেছে। নানা চড়াই-উতরাই অতিক্রম করেও বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছাতে হবে। এজন্য জাতীয় উন্নয়নের পথে কোনো বাধা মেনে নেওয়া হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মহাখালীতে পৃথক অভিযানে ইয়াবা ও দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৩

ছবি: সংগৃহীত

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে ৪২ শীর্ষ ঋণখেলাপির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অভিযান

ছবি: সংগৃহীত

বাকৃবিতে সংঘর্ষের ঘটনায় ৪২ শিক্ষার্থীকে শোকজ

ছবি: সংগৃহীত
যবিপ্রবির হলে মাদকবিরোধী কড়াকড়ি, তথ্যদাতাকে ৫ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণা

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ছেলেদের মুন্সি মেহেরুল্লাহ হলে মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন, বহন ও সংরক্ষণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে হল প্রশাসন। একই সঙ্গে র‍্যাগিং ও ধূমপানের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।   রোববার (৯ আগস্ট) হলের প্রভোস্ট ড. মো. আব্দুর রউফ সরকার স্বাক্ষরিত এক নোটিসে এসব নির্দেশনা জারি করা হয়।   নোটিসে বলা হয়েছে, হলের ভেতরে ধূমপান এবং সব ধরনের মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্য—যেমন মদ, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ অন্যান্য নেশাজাতীয় উপাদান সেবন, বহন বা সংরক্ষণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কোনো শিক্ষার্থী এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত অবস্থায় ধরা পড়লে যবিপ্রবির ‘রুলস অব ডিসিপ্লিন ফর স্টুডেন্টস’ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   এছাড়া, উপযুক্ত প্রমাণসহ মাদক সেবন, বহন বা সংরক্ষণের তথ্য হল কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারলে তথ্যদাতাকে ৫ হাজার টাকা নগদ পুরস্কার দেওয়া হবে বলে নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে।   র‍্যাগিং প্রসঙ্গে নোটিসে বলা হয়, এটি একটি সামাজিক অপরাধ এবং এর ফলে শিক্ষার্থীরা গুরুতর মানসিক ও শারীরিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। তাই যেকোনো ধরনের র‍্যাগিং, বিশেষ করে মানসিক ও শারীরিক লাঞ্ছনামূলক আচরণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   র‍্যাগিংয়ে জড়িত থাকা, অন্যকে উৎসাহিত করা বা সহযোগিতা করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।   নোটিসে আরও বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষার্থী র‍্যাগিংয়ের শিকার হলে বা এ-সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ থাকলে দ্রুত হলের প্রভোস্ট বা সহকারী প্রভোস্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।   বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ উদ্যোগকে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ আবাসিক পরিবেশ নিশ্চিত করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কাজ করছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধার অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ না করায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ডিজির বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল

ছবি: সংগৃহীত

আবাসন সংকট নিরসনে নতুন হল নির্মাণের দাবিতে ঢাকা কলেজে বিক্ষোভ

0 Comments