৯ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে লাবণী থেকে কলাতলী পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সৈকত ঘুরে অন্তত ১৫টি অংশে ভাঙনের চিত্র দেখা গেছে। কোথাও জিও ব্যাগ ছিঁড়ে গেছে, কোথাও নিচ থেকে বালু সরে গিয়ে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়েছে। আবার কোথাও বালুচর কেটে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ খাল।
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, জোয়ারের ধাক্কায় অনেক জায়গায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ছিঁড়ে গেছে। শুধু জিও ব্যাগ দিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে সমুদ্রভাঙন ঠেকানো সম্ভব নয়। প্রাকৃতিক বালিয়াড়ি পুনর্গঠনে সাগরলতা, নিশিন্দাসহ উপকূলীয় উদ্ভিদ লাগানো প্রয়োজন। বালিয়াড়ি উঁচু ও শক্তিশালী হলে তা ঢেউয়ের আঘাত থেকে সৈকতকে প্রাকৃতিকভাবে রক্ষা করতে পারে।
কক্সবাজার সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আশরাফুল হক বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও বড় ঢেউয়ের আঘাতে জিও ব্যাগের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভাঙনপ্রবণ এলাকায় সাময়িকভাবে বাঁশ ও কাঠের খুঁটি ব্যবহারের মতো ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রয়োজন।
৩২ বছর ধরে লাবণী পয়েন্টে শামুক-ঝিনুকের ব্যবসা করেন বাহারছড়ার বাসিন্দা মফিজুর রহমান। তাঁর চোখের সামনে গত পাঁচ বছরে সৈকতের প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ ফুট বালুচর সাগরে বিলীন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মফিজুর রহমান বলেন, তিন দশক আগে বর্তমান সৈকতের জায়গা থেকে সমুদ্র অনেক দূরে ছিল। সেখানে পর্যটকদের বসার জন্য চেয়ার-ছাতা বসানো হতো। এখন ধীরে ধীরে বালুচর ভেঙে সমুদ্রের পানি ওপরে উঠে আসছে। প্রতিবছর জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তাতে ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না।
কক্সবাজার কিটকট (চেয়ার-ছাতা) ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, কলাতলী থেকে লাবণী পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার সৈকতে আগে বিশাল বালুচর ছিল। এখন লাবণী, কলাতলী ও সি-গাল পয়েন্টের কয়েকটি অংশে ভাঙন ও গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে পর্যটকদের গোসল ও হাঁটার জায়গাও কমে এসেছে।
লাবণী পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, ভাটার সময় পর্যটকেরা জিও ব্যাগের পশ্চিম পাশে বসানো চেয়ারে বসে সমুদ্র দেখছেন। বালুচরে তৈরি হয়েছে অসংখ্য গর্ত ও কয়েকটি লম্বা খাল। সেগুলো পার হয়ে পর্যটকেরা পানির দিকে যাচ্ছেন।
দক্ষিণ দিকে সুগন্ধা পয়েন্টে অবশ্য একই সময়ে পর্যটকের ভিড় ছিল বেশি। প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় হাজারো পর্যটক দেখা গেলেও সেখানে ভাঙনের চিত্র তুলনামূলক কম।
সৈকতের বিভিন্ন অংশে দেখা যায়, একের পর এক ঢেউ জিও ব্যাগের বাঁধে আছড়ে পড়ছে। কোথাও জিও ব্যাগ বিলীন হয়েছে, কোথাও কয়েক ফুট গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও আবার জিও ব্যাগ ছিঁড়ে বালু বেরিয়ে গেছে।
সৈকতে পর্যটকদের উদ্ধার তৎপরতায় নিয়োজিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সি-সেফ লাইফগার্ডের কর্মী মো. ফারুক ও জয়ানাল আবেদীন বলেন, লাবণী পয়েন্ট থেকে উত্তর দিকে ডায়াবেটিকস পয়েন্ট পর্যন্ত জিও ব্যাগ দেওয়ার পরও ভাঙন কমেনি। বরং বিভিন্ন অংশে ভাঙন বেড়েছে বলে তাঁদের পর্যবেক্ষণ।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর রশিদ বলেন, বালুচর ও বালিয়াড়ি ভেঙে ঝাউগাছও সাগরে পড়ে যাচ্ছে।
ভাঙনে ভোগান্তিতে পড়ছেন পর্যটকেরাও। ঢাকার পর্যটক ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, ছবি ও ভিডিওতে কক্সবাজার সৈকতের যে চিত্র দেখেছেন, বাস্তবে এসে তার সঙ্গে মিল পাননি। বালুচরের গর্ত ও ছড়িয়ে থাকা জিও ব্যাগের কারণে শিশুদের নিয়ে হাঁটতেও সমস্যা হচ্ছে।
কুমিল্লার পর্যটক সাজ্জাদুল কবীর বলেন, বালু সরে গিয়ে তৈরি হওয়া গর্তে পা আটকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। দ্রুত ভাঙন রোধ করা না গেলে পর্যটকেরা আগ্রহ হারাতে পারেন।
সৈকতের চেয়ার-ছাতা ব্যবসায়ী মো. আলমগীর বলেন, জোয়ারের সময় চেয়ার সরিয়ে জিও ব্যাগের পেছনে নিতে হয়। এতে পর্যটকেরা চেয়ার ব্যবহার করতে চান না। জিও ব্যাগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ব্যবসার পাশাপাশি সৈকতের সৌন্দর্যও নষ্ট হচ্ছে।
২০২৫ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় কক্সবাজার-টেকনাফ উপকূলের ১৯৮৯ থেকে ২০২৪ সালের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ৩৫ বছরে এই উপকূলে ১ হাজার ৮৫ হেক্টর ভূমি সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়েছে। বিপরীতে পলি জমে নতুন করে ভূমি তৈরি হয়েছে ২৮৪ হেক্টর এলাকায়। অর্থাৎ পলি জমে যতটা ভূমি তৈরি হয়েছে, ক্ষয়ের পরিমাণ তার প্রায় চার গুণ। গবেষকেরা বলছেন, ঢেউ, সাগরের স্রোত, জোয়ার, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো প্রাকৃতিক কারণের পাশাপাশি মানুষের নানা কর্মকাণ্ডও এই ভাঙনের জন্য দায়ী।
কক্সবাজার উপকূলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার বিষয়টিও গবেষণায় উঠে এসেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের জন্য সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, কক্সবাজারে বছরে গড়ে ৫ দশমিক ০৫ মিলিমিটার এবং মহেশখালীতে ৭ দশমিক ৫ মিলিমিটার করে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। এই হার বৈশ্বিক গড়ের সাম্প্রতিক বৃদ্ধির হারের চেয়ে বেশি। তবে গবেষকেরা বলছেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শুধু জলবায়ু পরিবর্তন নয়, ভূমির ধীরে ধীরে নিচে নেমে যাওয়া, জোয়ারের ধরন এবং উপকূলের ভূ-আকৃতির পরিবর্তনের মতো বিষয়ও ভূমিকা রাখে।
কক্সবাজার উপকূলের ভাঙনের ঝুঁকি নিয়ে ২০২৫ সালে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণাতেও জলোচ্ছ্বাস, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং মানুষের হস্তক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গবেষণাটিতে ভাঙনের ঝুঁকিতে জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব ২০ শতাংশ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ এবং মানুষের হস্তক্ষেপের প্রভাব ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ হিসেবে ধরা হয়েছে। ফলে কক্সবাজার-টেকনাফ উপকূলের ভাঙনকে শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির পাশাপাশি উপকূলে মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডও ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
জলবায়ুবিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাব থেকে কক্সবাজার রক্ষা করা না গেলে আগামী কয়েক দশকে পর্যটন শহর বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে।
কক্সবাজার-টেকনাফ উপকূলে ভাঙনের কারণ একক নয়। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ওশেনোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের একটি বিশেষজ্ঞ দল সৈকতের ভাঙন পর্যালোচনা করে অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, উচ্চ জোয়ার, ঢেউ এবং প্রাকৃতিক বালিয়াড়ি নষ্ট হওয়ার মতো কারণ চিহ্নিত করেছিল। দলটি প্রাকৃতিক সুরক্ষা, আধা প্রকৌশল ব্যবস্থা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকৌশলগত ব্যবস্থা—তিন ধরনের পদক্ষেপের সুপারিশ করে।
সমুদ্রবিজ্ঞানী ও জলবায়ুবিষয়ক গবেষক ড. আবদুল কাইয়ুম বলেন, কক্সবাজারের দীর্ঘ সৈকতে জিও ব্যাগ ব্যবহার করে স্থায়ী সমাধান পাওয়া সম্ভব নয়। উপকূল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।
আবদুল কাইয়ুম বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ‘ইন্টেগ্রেটেড কোস্টাল জোন ম্যানেজমেন্ট’ বা সমন্বিত উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সৈকত রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে। বাংলাদেশেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রাকৃতিক বালিয়াড়ি সংরক্ষণ, সৈকতে নিয়মিত বালি পুনঃস্থাপন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকৌশলগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
গবেষণাতেও কক্সবাজার-টেকনাফ উপকূলে ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনায় সৈকতে বালি পুনঃস্থাপন বা ‘বিচ নরিশমেন্ট’ এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, বালিয়াড়ি উপকূলের প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ। কৃত্রিম বাঁধের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে সাগরলতা, নিশিন্দাসহ বালু ধরে রাখতে সক্ষম উপকূলীয় উদ্ভিদ দিয়ে বালিয়াড়ি পুনর্গঠন করা যেতে পারে।
কক্সবাজার বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. আয়াছুর রহমান বলেন, জোড়াতালি দিয়ে প্রতিবছর জিও ব্যাগ ফেলার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। বালু পুনঃস্থাপন ও প্রাকৃতিক বালিয়াড়ি ব্যবস্থাপনার মতো প্রকৃতিনির্ভর উদ্যোগ বিবেচনা করা যেতে পারে।
সৈকতে জিও ব্যাগের প্রতিরক্ষা বাঁধ দিচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সংস্থাটির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম বলেন, সমুদ্রভাঙন রোধে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে স্থায়ী প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির কাজ চলছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে ভাঙন রোধে কাজ শুরু করা হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক কুরআন তিলাওয়াত ও হিফজ প্রতিযোগিতায় পুরুষদের হিফজ বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বাংলাদেশের এহতিশামুল হক হিরা। ঢাকার মারকাযু ফয়জিল কোরআন আল ইসলামী প্রতিষ্ঠানের এই প্রতিযোগী ৯৭ নম্বর পেয়ে যৌথভাবে প্রথম হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। একই নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন সিরিয়ার আবদুল রহমান জামাল ইব্রাহিম। এ বিভাগে মালয়েশিয়ার মুহাম্মদ ইজ্জুল আফনান সাজালি ৯৬.৩৩ নম্বর পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। পাঁচ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কুরআন তিলাওয়াত ও হিফজ প্রতিযোগিতা। মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) শুরু হওয়া এ আয়োজন চলে শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) পর্যন্ত। কুয়ালালামপুরের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে (ডব্লিউটিসি) ৬৬তম আন্তর্জাতিক কোরআন তিলাওয়াত ও হিফজ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। শনিবার ১০ অক্টোবর বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় পুরস্কার। হিরার সাফল্যে উচ্ছ্বসিত মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সাফল্যের ইতিহাসও দীর্ঘ। ১৯৮২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩৫ জন বাংলাদেশি হাফেজ বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় মোট ৪৩ বার প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। একই হাফেজ একাধিক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বিজয়ীর সংখ্যা ৩৫ হলেও প্রথম স্থান অর্জনের সংখ্যা ৪৩। মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় নারীদের তিলাওয়াত বিভাগে স্বাগতিক দেশের নুর শাকুরা মোহাম্মদ মুসা ৯১.৮৩ নম্বর পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হন। তিনি সারাওয়াকের বাসিন্দা। এ বিভাগে সিঙ্গাপুরের আতিকাহ বিনতে সুহাইমি ৯১ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় এবং ব্রুনেইয়ের দায়াংকু সিতি উম্মি শায়জানা বিনতে পেঙ্গিরান হাজি মারজুকি ৯০.৮৩ নম্বর পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। পুরুষদের তিলাওয়াত বিভাগে ইন্দোনেশিয়ার মুহাম্মদ ফাউজি রিদওয়ান ৯৪.৬৭ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছেন। মালয়েশিয়ার সিক হাসনুল তাকিয়ুদ্দিন সিক সাজালি ৯২.৯৯ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় এবং বেলজিয়ামের ব্রাহিম বুগালাব ৯২.১৭ নম্বর পেয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। নারীদের হিফজ বিভাগে নাইজারের চাফাতু ইসুফু ৯৬.১৭ নম্বর পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। লিবিয়ার মিন্নাহ আলী আলসুদানি আগনাইয়াহ ৯৫.৫০ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় এবং মিয়ানমারের থেইন গি মোন ৯৫ নম্বর পেয়ে তৃতীয় হন। আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সাফল্যের সূচনা হিসেবে ১৯৮২ সালে লিবিয়ায় কারি আবদুল হকের প্রথম স্থান অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। হুফ্ফাজুল কোরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক হিফজ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে প্রথম স্থান অর্জনকারী প্রথম হাফেজ তিনি। এরপর ১৯৯৪ সালে ইরানে সাখাওয়াত হোসাইন এবং ১৯৯৬ সালে একই দেশে মাহমুদুল হাসান প্রথম স্থান অর্জন করেন। ১৯৯৯ সালে মিশরে ইমদাদুল্লাহ এবং ইরানে ফরিদ আহমদ চ্যাম্পিয়ন হন। ২০০০ সালে মিশরে নাবিল ওয়ালিদ, ২০০১ সালে ইব্রাহিম বিন হেলাল, ২০০২ সালে জর্ডানে হোসাইন আহমাদ এবং ২০০৩ সালে মিশরে আবদুল কাদির প্রথম স্থান অর্জন করেন। ২০০৭ সালে দুবাইয়ে প্রথম হন ফজলে রাব্বি আদেল। ২০০৯ সালে মিশরেও প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। ২০১০ সালে জর্ডানে মো. সাইফুল ইসলাম এবং ২০১১ সালে ইরানে হাফেজ সালাহউদ্দিন চ্যাম্পিয়ন হন। ২০১২ সালে সৌদি আরবে পৃথক বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন মো. তানভীর হোসাইন, এহসান উদ্দিন নোমান ও মুহাম্মদ সাদ সুরাইল। ২০১৩ সালে সৌদি আরবে মো. ইমাদুল্লাহ, জর্ডানে ফারিয়া তাসলিম এবং দুবাইয়ে হাফেজ নাজমুস সাকিব প্রথম হন। পরের বছর সৌদি আরবেও প্রথম স্থান অর্জন করেন নাজমুস সাকিব। একই বছর মিশরে অনুষ্ঠিত ২১তম আন্তর্জাতিক হিফজ প্রতিযোগিতায় প্রথম হন হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া। ২০১৫ সালে সুদানে প্রথম হন নাজমুস সাকিব। একই বছর মিশরে পৃথক বিভাগে নাহিয়ান কায়সার ও মুহিব্বুল্লাহ এবং জর্ডানে সাঈদ হাসান প্রথম স্থান অর্জন করেন। ২০১৬ সালে তুরস্কে আবদুল আখের এবং বাহরাইনে হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া চ্যাম্পিয়ন হন। ২০১৭ সালে সৌদি আরব ও মিশরে আবদুল্লাহ আল মামুন এবং দুবাইয়ে তারিকুল ইসলাম প্রথম স্থান অর্জন করেন। ২০১৮ সালে মিশরে মুজাহিদুল ইসলাম এবং ২০১৯ সালে জর্ডানে মো. সাইফুর রহমান ত্বাকী চ্যাম্পিয়ন হন। ২০২১ সালে ইরান এবং ২০২৩ সালে দুবাইয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন হাফেজ সালেহ আহমদ তাকরিম। ২০২৪ সালে ইরানে বশির আহমদ, সৌদি আরবে আনাস বিন আতিক, তুরস্কে মুআজ মাহমুদ, কুয়েতে আনাস মাহফুজ এবং সেনেগালে অনুষ্ঠিত ১১তম আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় হাফেজ আবু রাইহান প্রথম হন। একই বছর সৌদি আরবে হিফজুল কুরআনের ১৫ পারা বিভাগেও প্রথম স্থান অর্জন করেন মুআজ মাহমুদ। ২০২৫ সালে মিশরে প্রথম হন আনাস বিন আতিক। ২০২৬ সালে মালয়েশিয়ায় হাফেজ ইব্রাহিম শেখ এবং সৌদি আরবে ১৫ পারা হিফজ বিভাগে হাফেজ মোহাম্মদ নুরুদ্দিন জাকারিয়া প্রথম স্থান অর্জন করেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের সংরক্ষিত তথ্যে ১৯৯৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের হাফেজদের ৩৭টি প্রথম স্থান অর্জনের তথ্য রয়েছে। এর বাইরে ১৯৮২ সালের কারি আবদুল হকের সাফল্য এবং ২০১৪, ২০১৫, ২০২৪ ও ২০২৬ সালের কয়েকটি বিজয়ের তথ্য হুফ্ফাজুল কোরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক কিরাত সংস্থা বাংলাদেশ থেকে পাওয়া গেছে। বিভিন্ন উৎসের তথ্য সমন্বয় করে ১৯৮২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মোট ৪৩টি প্রথম স্থান অর্জন বাংলাদেশের। ১৯৮২ সালে লিবিয়ায় কারি আবদুল হকের প্রথম স্থান অর্জনের মধ্য দিয়ে যে সাফল্যের ধারাবাহিকতার তথ্য পাওয়া যায়, তা ২০২৬ সাল পর্যন্ত চলমান রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ৩৫ জন বাংলাদেশি হাফেজের ৪৩টি প্রথম স্থান অর্জনের এই হিসাব দেশের হিফজ শিক্ষার দীর্ঘদিনের সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে। এখন এই অর্জন ধরে রাখার পাশাপাশি তাজবিদ, ওয়াকফ-ইবতিদা, প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সাভারের আশুলিয়ায় ফায়ার সার্ভিসের আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় জুট ও তুলার গোডাউনের আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে, আগুন ছড়িয়ে পড়ায় গোডাউনের পাশে থাকা কয়েকটি বাড়ির কক্ষ আগুনে পুড়ে গেছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত ১২টা ২০ মিনিটে দিকে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এর আগে, রাত সাড়ে ৯টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে, অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিস জানায়, শুক্রবার রাতে জামগড়া এলাকার ওই তুলার গোডাউনে হঠাৎ আগুনের শিখা দেখতে পান স্থানীয়রা। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন গোডাউনে থাকা তুলায় ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে তা ভয়াবহ রূপ নেয়। এরপর ওই গোডাউন থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের জুটের গোডাউন ও বাসাবাড়িতে আগুন লাগে। পরে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান ঢাকা পোস্টকে জানান, অগ্নিকাণ্ডে দশটি গোডাউন আগুনে পুড়ে গেছে। আগুন ছড়িয়ে পড়ার কারণে গোডাউনের পাশের বাসাবাড়িতে আগুন লাগে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা।
বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষ্যে জেলায় সপ্তাহব্যাপী চিঠি লেখা উৎসব শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকেল ৪ টায় ডিসি পার্ক আঙিনায় এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোছা. সুমনী আক্তার। এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, আমাদের প্রত্যাশা, নতুন প্রজন্ম চিঠি লেখায় অভ্যস্ত হয়ে উঠুক। তাদের হাতের স্পর্শ ডাক বিভাগের মাধ্যমে পৌঁছে যাক কাঙ্খিত গন্তব্যে। রাজশাহী বিভাগের ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেল মো. রকিব বিশ্বাস বলেন, ডাক বিভাগের নতুন সার্ভিস ‘স্পীড পোস্ট সার্ভিস’ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। পাশাপাশি ই-কমার্স সার্ভিসও গতি পেয়েছে। জনগণের আস্থার জায়গায় ডাকঘরকে সমুন্বত রেখে খুব দ্রুত তাদের প্রত্যাশা পূরণে ডাক বিভাগ সক্ষম হবে। নাটোর প্রধান ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার মো. শফিকুল ইসলাম বাসস’কে জানান, ডাকঘরের মাধ্যমে চিঠি প্রেরণের ব্যবস্থাকে জনপ্রিয় করতে পোস্টম্যানকে দ্রুতগতির স্কুটি প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে অন্যান্য কার্যক্রমও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। চিঠি লেখার উৎসবে বিকেল তিনটা থেকে ছোট্ট শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার অসংখ্য মানুষ চিঠি লেখা শুরু করেন। সন্ধ্যার মধ্যে শতাধিক চিঠি লেখা হয়। এসব চিঠি বিনামূল্যে ডাক বিভাগ প্রাপকের কাছে পৌঁছে দেবে। আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিনামূল্যে চিঠি প্রেরণের সুযোগ থাকছে। আগামী বুধবার নাটোর নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজে চিঠি লেখার উৎসব আয়োজন করা হবে। চিঠি লেখার অনুভূতি ব্যক্ত করে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আসমা খাতুন বাসস’কে জানান, তথ্য প্রযুক্তির এই সময়ে কাগজে-কলমে চিঠি লেখার এন্টিক মূল্য আছে। নস্টালজিয়ায় মনে হচ্ছে, প্রায় এক যুগ আগে চিঠি লেখার দিনগুলোতে ফিরে গেছি।