একটি ফেডারেল আপিল আদালত বৃহস্পতিবার ন্যাশনাল গার্ড সৈন্যদের আগামী সপ্তাহে মার্কিন রাজধানী ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া নিম্ন আদালতের আদেশকে সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন।
এই স্থগিতাদেশের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন রাখতে আপাতত আর কোনো বাধা নেই। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক জিয়া কব গত মাসে রায় দেন যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাজার হাজার ন্যাশনাল গার্ড সৈন্যকে ওয়াশিংটনে মোতায়েন করা অবৈধ।
ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক জিয়া কব ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই মোতায়েন বন্ধ করার নির্দেশ দেন।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনকে আপিল করার সময় দিতে ২১ দিনের জন্য তার আদেশ স্থগিত করেন।
ডিসি সার্কিটের যুক্তরাষ্ট্রের আপিল আদালতের তিন বিচারকের প্যানেল ট্রাম্প প্রশাসনের অনুরোধ মঞ্জুর করে ডিস্ট্রিক্ট বিচারকের আদেশ স্থগিত রাখার অনুমতি দিয়েছেন, যাতে তারা মামলাটি পারিচালনা করতে সময় পায়।
একটি সংক্ষিপ্ত আদেশে, প্যানেলটি জোর দিয়ে বলেছে যে এই পদক্ষেপকে ‘কোনোভাবেই মামলার মূল বিষয়ের ওপর সিদ্ধান্ত হিসেবে ধরা উচিত নয়।’
ট্রাম্প অপরাধ মোকাবেলা ও অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে তার কঠোর পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণাধীন ওয়াশিংটন, লস অ্যাঞ্জেলেস ও মেমফিসে ন্যাশনাল গার্ড সৈন্য পাঠিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস ও মেমফিস শহরের কর্তৃপক্ষ ফেডারেল সেনা মোতায়েনের প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেছে।
এই বিষয়ে তাদের মত হলো, স্থানীয় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৈন্য মোতায়েনের কোন প্রয়োজন নেই।
তবে মার্কিন আইনের অধীনে সীমিত স্বায়ত্তশাসনের রাজধানী ওয়াশিংটনের মেয়র হোয়াইট হাউসের নেওয়া কঠোর অবস্থানের সঙ্গে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সমন্বয় রক্ষা করে চলছেন।
ফেডারেল বিচারকরা অন্য দুটি ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত শহর শিকাগো ও পোর্টল্যান্ডে এই সৈন্য মোতায়েন সাময়িকভাবে বন্ধ করেছেন এবং সুপ্রিম কোর্ট শীঘ্রই সিদ্ধান্ত দেবে যে এই পদক্ষেপগুলো আইনসম্মত কি-না।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, দেশটির আকাশসীমা লঙ্ঘনের পর একটি মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। খবর আলজাজিরার। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তারা ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করা শত্রু বিমান শনাক্ত করার পর ওই ড্রোনে হামলা চালায়। একই সঙ্গে একটি আরকিউ-৪ ড্রোন ও অনুপ্রবেশকারী একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করেও গুলি চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। তবে ঘটনাগুলো ঠিক কখন ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। আইআরজিসি আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে, তাহলে তার জবাব দেওয়ার বৈধ ও চূড়ান্ত অধিকার ইরানের রয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের কিছু রকেট উৎক্ষেপণ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এর পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সংগঠিত করতে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এ বিষয়ে গত ২৩ মে রাইটার্স বিল্ডিংয়ের ফরেনার্স শাখা থেকে সব জেলা প্রশাসকের কাছে জরুরি নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। রাজ্য সরকারের দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও অনুপ্রবেশ রোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই, সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এসব কেন্দ্রে রাখা হবে। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অবৈধ অনুপ্রবেশ মোকাবিলায় ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতির কথা বলে আসছেন। তার ভাষায়, প্রথমে অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করা, পরে সরকারি নথি থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং সবশেষে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো-এই তিন ধাপেই কাজ এগোবে। এর আগে ২০২৫ সালে অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে ফেরত পাঠানোর নির্দেশিকা জারি করেছিল ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। তবে সে সময়ের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সরকার সেই নির্দেশ কার্যকর করেনি বলে বিজেপির অভিযোগ। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সন্দেহভাজন বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গাদের আটক করে সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত ‘হোল্ডিং সেন্টার’-এ রাখা যাবে। এছাড়া যারা আগে থেকেই আটক অবস্থায় রয়েছেন এবং যাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে, তাদেরও এসব কেন্দ্রে রাখা হবে। প্রশাসনের দাবি, ‘হোল্ডিং সেন্টার’ ও ‘ডিটেনশন সেন্টার’-এর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। ডিটেনশন সেন্টার সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি আটককেন্দ্র, যেখানে আদালত বা বিদেশি ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে অবৈধ বিদেশিদের রাখা হয়। অসমে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) প্রক্রিয়ার পর বহু মানুষকে এ ধরনের কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল। অন্যদিকে ‘হোল্ডিং সেন্টার’কে প্রশাসন সাময়িক ট্রানজিট কেন্দ্র হিসেবে ব্যাখ্যা করছে। অর্থাৎ ফেরত পাঠানোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে সেখানে রাখা হবে আটক ব্যক্তিদের। তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। মানবাধিকার, নাগরিকত্ব, সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ-এসব ইস্যুকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত কমাতে পাকিস্তানের নেওয়া শান্তি উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে চীন। একই সঙ্গে পাকিস্তানের সঙ্গে অটুট সম্পর্ক বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। খবর আরবনিউজের। চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সঙ্গে বৈঠকে শি জিনপিং বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যেমনই হোক, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ককে সবসময় গুরুত্ব দেবে চীন। তিনি পাকিস্তানের শান্তি প্রচেষ্টার প্রশংসা করে বলেন, ইরান সংকট নিরসনে ইসলামাবাদ ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। পাকিস্তান ও চীন যৌথভাবে পাঁচ দফা শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে। এতে যুদ্ধবিরতি, সংলাপ, বেসামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনার নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচলের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরও উপস্থিত ছিলেন। তিনি সম্প্রতি ইরান সফর করে দেশটির নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। শেহবাজ শরীফ চীন ও পাকিস্তানকে আয়রন ব্রাদার বা ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের তুলনা নেই। চীনে চার দিনের সফরে থাকা শেহবাজ শরীফের উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, কৃষি, জলবায়ু, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও জ্বালানি খাতে বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যানবাহন, ওষুধ শিল্প ও স্মার্ট প্রযুক্তি খাতে প্রায় ১২২ কোটি ডলারের বিনিয়োগ চুক্তিও হয়েছে বলে জানা গেছে।