সুইজারল্যান্ডের বারগেনস্টক শহরের পাহাড়ি রিসোর্টে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জাসিম আল থানি একসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে কয়েক মিটার দূরে ছিলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।
বক্তব্য দেওয়ার সময় ভ্যান্স মুনিরের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আসিম মুনির যখন এপ্রিলে ইসলামাবাদে আমাদের স্বাগত জানিয়েছিলেন, তখন আমি মজা করে বলেছিলাম-আমার জীবনে দু’জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মানুষ আছেন। একজন ভারতীয়, অন্যজন পাকিস্তানি। ভারতীয়জন আমার স্ত্রী, আর পাকিস্তানিজন ফিল্ড মার্শাল মুনির।”
ভ্যান্সের এই মন্তব্যে উপস্থিতদের মধ্যে হাসির সৃষ্টি হয়। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জানান, গত তিন মাসে তিনি অন্য যেকোনও ব্যক্তির তুলনায় মুনিরের সঙ্গে বেশি আলোচনা করেছেন। তার ভাষায়, “তার কূটনৈতিক দক্ষতা ও সামরিক নেতৃত্ব ছাড়া আমরা এখানে পৌঁছাতে পারতাম না।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এর আগে মুনিরের ভূমিকার প্রশংসা করেছিলেন।
তবে শুধু ওয়াশিংটন নয়, তেহরানও পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সোমবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে রাষ্ট্রীয় সফরে যান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর এটি ছিল তার প্রথম বিদেশ সফর। সফরে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে পাকিস্তানের সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান।
গত কয়েক মাসে পাকিস্তান নিজেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছে। দেশটি গোপন যোগাযোগ সহজ করেছে, ইসলামাবাদে আলোচনার আয়োজন করেছে এবং একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে কূটনৈতিক ঝুঁকি সামলেছে।
১৮ জুন ঘোষিত শান্তি কাঠামো এবং বর্তমানে চলমান ৬০ দিনের আলোচনা প্রক্রিয়ার পেছনে পাকিস্তানের এই প্রচেষ্টার ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এখন ইসলামাবাদের সামনে বড় প্রশ্ন- এই কূটনৈতিক সাফল্য থেকে পাকিস্তান বাস্তবে কী লাভ করতে পারবে?
অর্থনৈতিক সুবিধার সম্ভাবনা
দুর্বল অর্থনীতির জন্য পাকিস্তানের সামনে যেকোনও অর্থনৈতিক সুবিধাই গুরুত্বপূর্ণ।
গত অর্থবছরে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ, যা চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে। বাজেট ঘাটতিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিসংখ্যানের আড়ালে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
লাহোরভিত্তিক অর্থনীতিবিদ হিনা শেখ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতায় পাকিস্তানের অর্থনৈতিক লাভ সীমিত হতে পারে। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা হলো জ্বালানি আমদানি ব্যয় কমে যাওয়া এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে ইরান-পাকিস্তান গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প আবার আলোচনায় আসা।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক উন্নতির বড় অংশ এসেছে তেলের দাম ও আমদানি ব্যয় কমার কারণে, উৎপাদন খাতের বড় ধরনের সম্প্রসারণের কারণে নয়।
পাকিস্তান বর্তমানে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। ২০২৪ সালে অনুমোদিত এই কর্মসূচি দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে পাকিস্তানের উন্নত সম্পর্ক বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে, তবে কেবল কূটনৈতিক সুনাম দেশটির দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধান করবে না।
পাকিস্তানের প্রধান সমস্যা হিসেবে রয়েছে দুর্বল কর ব্যবস্থা, সীমিত রফতানি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক কাঠামোগত দুর্বলতা।
হিনা শেখ বলেন, “কূটনৈতিক সম্পর্ক পাকিস্তানকে কিছুটা সময় ও সুযোগ দিতে পারে। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে অভ্যন্তরীণ সংস্কার দ্রুত করতে হবে।”
আঞ্চলিক সুবিধার হিসাব
পাকিস্তানের নীতিনির্ধারকদের মতে, প্রকৃত লাভ সরাসরি অর্থনৈতিক সহায়তার চেয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মাধ্যমে আসতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতা হলে পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের সীমান্ত বাণিজ্য বাড়তে পারে। বিশেষ করে বেলুচিস্তান সীমান্ত দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সীমিত থাকা বাণিজ্য কার্যক্রম পুনরায় সক্রিয় হতে পারে।
এছাড়া নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে বহু বছর ধরে স্থগিত থাকা ইরান-পাকিস্তান গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প আবার সামনে আসতে পারে।
তবে পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রভাবেরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সৌদি আরবভিত্তিক কিং ফয়সাল সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজের গবেষক উমর করিম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগের সংকটের সময় পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
তার মতে, “পাকিস্তান এমন একটি অবস্থানে ছিল যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান- দুই পক্ষের কাছেই গ্রহণযোগ্য ছিল। পাশাপাশি মিসর, তুরস্ক ও সৌদি আরবের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশটি মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছে।”
তবে তিনি বলেন, পাকিস্তানের প্রভাব এখনও এতটা শক্তিশালী নয় যে, দেশটি ইরানকে বড় ছাড় দিতে বাধ্য করতে পারে বা যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের দাবি মেনে নিতে চাপ দিতে পারে।
সবচেয়ে বেশি লাভবান কে?
এই কূটনৈতিক সাফল্যের আরেকটি দিক নিয়েও আলোচনা চলছে-কারা সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে?
বারগেনস্টকে ভ্যান্সের বক্তব্যে বিশেষভাবে আসিম মুনিরের প্রশংসা করার বিষয়টি নজর কেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক মাসে পাকিস্তানের সবচেয়ে দৃশ্যমান সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠান হলো দেশটির সামরিক বাহিনী।
পাকিস্তানের স্বাধীনতার প্রায় ৮০ বছরের ইতিহাসে তিন দশকেরও বেশি সময় সরাসরি সামরিক শাসনের অধীনে ছিল। বর্তমানে দেশটির রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে সেনাবাহিনীর প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী।
সমালোচকদের মতে, মুনির কার্যত দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় ভূমিকা রাখছেন।
তবে দেশের অভ্যন্তরে প্রশ্ন রয়েছে- এই কূটনৈতিক সাফল্যের অর্থনৈতিক সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে কি না।
বিশেষ করে বেলুচিস্তান প্রদেশের দিকে নজর রয়েছে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য, উন্নয়ন সংকট এবং সশস্ত্র বিদ্রোহের সমস্যা রয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার তুঘরাল ইয়ামিন বলেন, বেলুচিস্তানের মানুষ যদি অর্থনৈতিক সুবিধা পায়, তাহলে সেখানকার সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা সহজ হবে।
তিনি বলেন, “আমরা বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। তবে অতীতে অনেক সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে।”
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতায় পাকিস্তানের ভূমিকা দেশটির আন্তর্জাতিক অবস্থান শক্তিশালী করেছে। তবে এই কূটনৈতিক সাফল্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে কি না- সেটিই এখন বড় পরীক্ষা।
সূত্র: আল-জাজিরা
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
নিউজিল্যান্ডে প্রথমবারের মতো এইচ৫ বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়েছে। ওয়েলিংটনের পেটোন সৈকতে পাওয়া একটি পরিযায়ী বাদামি স্কুয়া সামুদ্রিক পাখির শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে বলে বুধবার জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। খবর এএফপির। দেশটির জৈব নিরাপত্তা মন্ত্রী অ্যান্ড্রু হগার্ড বলেন, ঘটনাটি নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং জনগণকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তবে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত বন্য পাখিদের মধ্যে ভাইরাসটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার বা অনেক পাখি মারা যাওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এইচ৫ বার্ড ফ্লু বিশ্বজুড়ে গৃহপালিত ও বন্য পাখির মধ্যে ব্যাপক অসুস্থতা ও মৃত্যুর কারণ হয়েছে। এর আগে গত জুনে প্রতিবেশী অস্ট্রেলিয়ায়ও প্রথমবার এইচ৫ ভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর সেখানে ১৪টি সংক্রমণের ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ দেশটির সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা পাঁচটি বিরল পাখি প্রজাতি কাকাপো, তাকাহে, শোর প্লোভার, ব্ল্যাক স্টিল্ট এবং অরেঞ্জ-ফ্রন্টেড প্যারাকিট রক্ষায় প্রজননকারী পাখিদের টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জনগণকে অনুরোধ করেছে, কোথাও একসঙ্গে তিনটি বা তার বেশি অসুস্থ পাখি দেখা গেলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে।
ইরানের তেল রপ্তানিতে সহায়তার অভিযোগে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এবার ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেইন শামখানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি শিপিং ও পরিবহন নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, ৫০টির বেশি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তারা ইরানের তেল বিদেশে পাঠাতে এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে সহায়তা করেছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, এই নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য হলো ইরানের তেল রপ্তানির সঙ্গে জড়িত আর্থিক ও পরিবহন নেটওয়ার্ক দুর্বল করে দেওয়া। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এই নেটওয়ার্ক শুধু তেল পরিবহনই নয়, আন্তর্জাতিক কনটেইনার পরিবহন ও বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্যের সঙ্গেও জড়িত। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২০০-এর বেশি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, ভারত, হংকং, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ এবং সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের কয়েকটি শিপিং কোম্পানি, পরিবহন প্রতিষ্ঠান, জাহাজ পরিচালনাকারী ব্যক্তি ও আর্থিক মধ্যস্থতাকারীরা রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ইরানের তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনে সহযোগিতা করছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ ফি আরোপের প্রস্তাব থেকে সরে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই ছিল তার অন্যতম লক্ষ্য। বিবিসির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে শুল্ক ইস্যুতে আলোচনার সময়ও বারবার এ বিষয়টি সামনে এসেছে। ট্রাম্প এর আগে দাবি করেছেন, এসব চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে ‘বড় ধরনের’ বিনিয়োগ আসবে এবং নতুন কারখানা ও সরঞ্জাম স্থাপন করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত এসব পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি ট্রাম্প যেসব উপসাগরীয় দেশকে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তাদের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে ট্রাম্পের পোস্টের শেষ অংশ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সেখানে তিনি বলেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা করার দিন ‘শেষ হয়ে গেছে’। তবে কীভাবে তিনি এ লক্ষ্য অর্জন করবেন, তা পরিষ্কার নয়। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের পরও ইরানের শাসনব্যবস্থা অনেকটাই অক্ষত রয়েছে। যদিও দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন, তারপরও ইরানের বর্তমান নেতৃত্বকে কীভাবে এমন পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। শিগগিরই হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিস থেকে এ বিষয়ে ট্রাম্প বক্তব্য রাখবেন বলে জানা গেছে।