পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেটের কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইল। তবে ইসরাইলের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, ‘ইউকে মিশন, জেরুজালেম’ নামে কূটনৈতিক মিশনটির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’ এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক বিরোধ দেখা দিয়েছে।
ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সা’আর জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) থেকে ব্রিটিশ কনসাল জেনারেলসহ প্রায় ২০ জন কূটনীতিকের দায়িত্ব শেষ হবে এবং তারা ইসরাইল ছাড়বেন।
তবে ব্রিটিশ কূটনৈতিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ না করে সীমিত পরিসরে চালানোর জন্য ভবনটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। এ ক্ষেত্রে সেখানে কর্মরত জনবলের সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড জানিয়েছেন, কনস্যুলেট ভবনটি বন্ধ করা হবে না। লন্ডনের অবস্থান অনুযায়ী, নতুন নামে মিশনটি স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখবে। পাশাপাশি, প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সেবাও অব্যাহত থাকবে।
পূর্ব জেরুজালেমের ওপর ইসরাইলের সার্বভৌমত্বের দাবি স্বীকার করে না যুক্তরাজ্য। অঞ্চলটিকে ইসরাইলের অধিকৃত ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে দেশটি। এ কারণে পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করার অধিকার ইসরাইলের রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তও মেনে নিতে নারাজ লন্ডন।
সম্প্রতি পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতিগুলোর ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা আরোপকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে এ বিরোধের সূত্রপাত। এসব বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপও নিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। ইসরাইলএই পদক্ষেপকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে উত্তেজনা বৃদ্ধির ঘটনা হিসেবে দেখছে।
১৮৩৯ সালে প্রতিষ্ঠিত পূর্ব জেরুজালেমের এই ব্রিটিশ কূটনৈতিক মিশন ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক রক্ষা এবং জেরুজালেম, পশ্চিম তীর ও গাজায় ফিলিস্তিনি জনগণের বিষয়ে কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে আসছে। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে মিশনটির কার্যক্রম ও দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে কী প্রভাব পড়ে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
পাকিস্তানে মানবাধিকারবিষয়ক আইনজীবী ইমান মাজারি ও তার স্বামী হাদি আলী চাথাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির সন্ত্রাসবিরোধী আদালত। ইমান মাজারির মা শিরিন মাজারি পাকিস্তানের সাবেক মানবাধিকারবিষয়ক মন্ত্রী। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সরকারে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিবিসির খবরে জানানো হয়, ২০২৪ সালে একটি ক্রিকেট সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে তাদের এ সাজা দেওয়া হয়েছে। ওই দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা রাজধানী ইসলামাবাদে সড়কের প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে ফেলেছিলেন এবং পুলিশ সদস্যদের কাজে বাধা দিয়েছিলেন। তবে দুজনই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেনাবাহিনীর সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে তাদের সর্বোচ্চ ১৭ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল। গত আগস্টে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ওই সাজা স্থগিত করেন। তবে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার আগেই পুলিশ তাদের পুনরায় গ্রেফতার করে। গত কয়েক মাস ধরে তারা রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। নতুন মামলাটি ২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবরের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ওই সময় পাকিস্তান সফরে ছিল ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল। প্রসিকিউশন পক্ষের অভিযোগ, ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা বহরের চলাচলের জন্য নির্ধারিত সড়কের প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে ফেলেন মাজারি ও চাথা। এ ছাড়া ইসলামাবাদের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংযোগস্থল জিরো পয়েন্টে তারা পুলিশ সদস্যদের কাজে বাধা দেন। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাদের প্রত্যেককে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের কাজে বাধা দেওয়া এবং তাদের ওপর বলপ্রয়োগের অভিযোগে আরও এক বছর ও দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে সব সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে। এ ছাড়া প্রত্যেককে ২ লাখ পাকিস্তানি রুপি জরিমানা করা হয়েছে। বিচার চলাকালে দেওয়া বক্তব্যে ওই দম্পতি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হয়েছেন তারা। ডন নিউজকে চাথা বলেন, ‘শুধু আমার স্ত্রীর কাজ ও আন্দোলনকে সমর্থন করার জন্যই নয়, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের পথকে আমাদের যৌথ জীবনের যাত্রা হিসেবে বেছে নেওয়ার কারণেও আমাকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।’ এর আগে ওই দম্পতি বলেছিলেন, ‘স্বৈরাচার, নিপীড়ন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে যারা দাঁড়ান বা দাঁড়াতে চান, তাদের আরও ভয় দেখানোর জন্য আমাদের দৃষ্টান্ত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।’ বিচারপ্রক্রিয়ার সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি বলেছে, ওই দম্পতিকে উন্মুক্ত ও সুষ্ঠু বিচার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বিচারপ্রক্রিয়া কারাগারের ভেতরে স্থানান্তর করায়ও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি। শুনানির সময় মাজারি ও চাথাকে খাঁচার মতো একটি কাঠামোর ভেতরে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে অ্যামনেস্টি। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ওই দম্পতির বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা হয়েছে। ইসলামাবাদ হাইকোর্টের বাইরে একটি কথিত সংঘর্ষের ঘটনায় করা পৃথক মামলায় গত ২৩ জানুয়ারি গ্রেফতারের পর থেকে তারা কারাগারে রয়েছেন। এর এক দিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেনাবাহিনীর সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে পাকিস্তানের ইলেকট্রনিক অপরাধ প্রতিরোধ আইনে তাদের সর্বোচ্চ ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট গত ১৭ সেপ্টেম্বর ওই সাজা স্থগিত করে তাদের জামিন দেন। কিন্তু একই দিন ২০২৫ সালের মার্চে একটি বিক্ষোভের ঘটনায় করা পৃথক মামলায় তাদের আবার গ্রেফতার করা হয়। ওই বিক্ষোভে ‘সরকারবিরোধী স্লোগান’ দেওয়া এবং ‘সড়ক অবরোধের’ অভিযোগ আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে। ইমান মাজারি ও হাদি আলী চাথা পাকিস্তানের পরিচিত মানবাধিকারবিষয়ক আইনজীবী। জোরপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি তারা বিভিন্ন আন্দোলনকর্মী ও সাংবাদিকের পক্ষে আইনি লড়াই করেছেন।
সৌদি আরবে কর্মসংস্থান সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ন্যূনতম মজুরি দুই ধাপে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল। ২০২৭ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে এই মজুরি ৪ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার সৌদি রিয়াল করা হবে। পরের বছর একই তারিখ থেকে তা বেড়ে দাঁড়াবে ৬ হাজার রিয়ালে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সৌদি প্রেস এজেন্সির বরাতে আরব নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে। মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিলের (এইচআরডিএফ) এ উদ্যোগের লক্ষ্য দেশটির নাগরিকদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো। পাশাপাশি বেসরকারি খাতে সৌদি নারী-পুরুষের নিয়োগ উৎসাহিত করা এবং শ্রমবাজারে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোও এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের ‘নিতাকাত’ কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে এ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নিতাকাতের আওতায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌদি নাগরিকদের নিয়োগের হার বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল জানিয়েছে, প্রথম ধাপে ২০২৭ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে নতুন আবেদনকারীদের জন্য ন্যূনতম সহায়তাপ্রাপ্ত মজুরি ৪ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার রিয়াল করা হবে। বিদ্যমান আবেদনগুলোর ক্ষেত্রেও ২০২৭ সালের মে মাসের সহায়তার অর্থ থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৮ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে নতুন আবেদনকারীদের জন্য ন্যূনতম মজুরি ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৬ হাজার রিয়াল করা হবে। বিদ্যমান আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এ পরিবর্তন কার্যকর হবে ২০২৮ সালের মে মাসের সহায়তার অর্থ থেকে। কর্মসূচির আওতায় যোগ্য সৌদি কর্মীদের মাসিক বেতনের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ দেবে মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল। তবে এ সহায়তার পরিমাণ মাসে সর্বোচ্চ ৩ হাজার রিয়াল নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুমোদিত বিধি ও শর্ত অনুযায়ী এ অর্থ দেওয়া হবে। তহবিলের মতে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সৌদি নাগরিকদের নিয়োগে আরও উৎসাহিত হবে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানের স্থিতিশীলতা বাড়বে এবং দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ আরও কার্যকর হবে। কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য ও যোগ্যতার শর্ত জানতে সুবিধাভোগীদের মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিলের সরকারি ওয়েবসাইট দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধে রাশিয়া পুরোপুরি প্রস্তুত। তবে মস্কো এমন কোনো সংঘাত চায় না। যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ এ খবর জানিয়েছে। খবরে বলা হয়, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে ফোনালাপের পর বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এসব মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। ফোনালাপের পর পুতিন বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে নেয়া উদ্যোগকে তিনি সমর্থন করেন। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইউরোপের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য রাশিয়া প্রস্তুত। উত্তেজনা যদি এমন পর্যায়ে পৌঁছায়, যেখানে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে, তাহলে কোনো পক্ষই জয়ী হবে না। পশ্চিমা দেশগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে পুতিন বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত, তবে ইউরোপের সঙ্গে কোনো যুদ্ধ চাই না। তবে তাদের মধ্যে কেউ যদি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে চায়, তাহলে তারা তা নিতে পারে।’ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেও একই ধরনের অবস্থান জানিয়েছিলেন পুতিন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধ করার পরিকল্পনা করছি না। তবে ইউরোপ যদি হঠাৎ আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং তা শুরু করে, তাহলে আমরা এখনই প্রস্তুত।’ বৃহস্পতিবার পুতিন আরও বলেন, রাশিয়ার কৌশলগত পরাজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্য অর্জনে পশ্চিমারা ব্যর্থ হয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘রাশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে কোনো পক্ষই জয়ী হবে না’। আর ইউরোপীয় দেশগুলোকে এই বিষয়টি ‘ভুলে না যাওয়ার’ আহ্বান জানান তিনি। এর আগে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাব এবং নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন পুতিন। রুশ নেতা জানান, ইউরোপীয় নেতারাই এই ফোনালাপের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি আলোচনাটিকে সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়ার একটি পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেন। সূত্র: টেলিগ্রাফ