বিশ্ব

যেকোনো সংঘাত মোকাবিলায় প্রস্তুত ইরানের সশস্ত্র বাহিনী: আইআরজিসি

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ০২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আগের তুলনায় বেশি প্রস্তুত এবং ভবিষ্যতের যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ সক্ষম।
মঙ্গলবার (২ জুন) ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি বলেন, বিদ্যমান সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি শত্রুর সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতাও ইরানের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।
তিনি বলেন, শত্রুপক্ষ যদি আবার সামরিক সংঘাতে ফিরে আসে, তাহলে অভিযানের ধরন, যুদ্ধক্ষেত্রের ভৌগোলিক পরিসর এবং ব্যবহৃত অস্ত্র; সবকিছুই ভিন্ন হবে। সম্ভাব্য সব পরিস্থিতির জন্য আইআরজিসি সম্পূর্ণ প্রস্তুত।


মোহেব্বির দাবি, যুদ্ধবিরতির সময়কে কাজে লাগিয়ে ইরান তার সামরিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করেছে এবং ক্ষয়ক্ষতিও মেরামত করেছে।
তিনি বলেন, বাস্তবতা হলো, যুদ্ধবিরতির সময় আমাদের সামরিক ও অপারেশনাল সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
মোহেব্বি বলেন, সাম্প্রতিক সংঘর্ষের অন্যতম বড় অর্জন হলো শত্রুপক্ষ সম্পর্কে আরও গভীর ও বাস্তবভিত্তিক ধারণা পাওয়া।


তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগে যেসব তথ্য গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও গণমাধ্যমের তথ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল, এখন তার সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতাও যুক্ত হয়েছে।


তিনি দাবি করেন, ইরানের বাহিনী এখন শত্রুপক্ষের সামরিক সম্পদ, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ঘাঁটি এবং যুদ্ধকৌশল সম্পর্কে অনেক বেশি নির্ভুল ধারণা রাখে।


মোহেব্বি বলেন, আজ শত্রুর আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম, প্রতারণামূলক কৌশল এবং সামরিক অভিযানের প্রকৃতি সম্পর্কে আমাদের ধারণা আগের তুলনায় অনেক বেশি স্পষ্ট।


ইরানের সামরিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে, এমন দাবিও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। তার মতে, যেসব দাবি করা হচ্ছে, তার বিপরীতে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নৌবাহিনী ধ্বংস হয়নি এবং দেশের সামরিক সক্ষমতাও কমে যায়নি।


মোহেব্বি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক সামরিক শক্তি ব্যবহার করলেও হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। কৌশলগত এই জলপথের ওপর ইরানের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ এখনো পুরোপুরি অক্ষুণ্ন রয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ফাইল ছবি
কাঠমান্ডুতে ১৫ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

নেপালে অনলাইনে প্রতারণার অভিযোগে ১৫ জন বাংলাদেশিসহ চার ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে কম্পিউটার, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম রাতোপতির বরাতে বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, শুক্রবার রাজধানী কাঠমাণ্ডুর ১৬ নং ওয়ার্ডের পাকনাজোলে অবস্থিত ‘হোটেল এস’ থেকে তাদের আটক করা হয়।  গ্রেপ্তারকৃত বাংলাদেশিরা হলেন মজিদুল ইসলাম রিদয় (২৫), শফিউল ইসলাম (২২), আব্দুল্লাহ আল জোবায়ের (২৬), আপন চন্দা সাহা (২২), আবুল হাসনাইন (২৬), আল শাহরিয়ার (২৪), ফয়সাল (৩০), আজাদ হোসেন (৩৫),  মো. আজমাইন (১৯), তামিম হাসান সৌরভ (২০), জাকারিয়া জান্নাত (২০), শাকিল আনোয়ার (২৪), বিল্লাল রাফাত (২১), অমিত হাসান সৈকত (২৫) এবং ইসমাম হাসান স্বাধীন (৩০)।  প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত বাংলাদেশি নাগরিকদের বেশির ভাগই আগে কম্বোডিয়ায় কাজ করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশকে বলেছেন, কম্বোডিয়ায় পরিচয় হওয়া চীনা অপারেটররা তাদের নেপালে নিয়ে এসেছেন। নেপাল পুলিশের কাঠমাণ্ডু ভ্যালি ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন অফিস জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একজন চীনা নাগরিকের চালানো একটি ‘স্ক্যাম সেন্টারে’ কর্মরত ছিলেন। ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন অফিসের মুখপাত্র ও পুলিশ সুপার রামেশ্বর কার্কি বলেছেন, ‘ওই চীনা নাগরিক বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। আমরা তাকে খুঁজছি।’ পুলিশ জানিয়েছে, স্ক্যাম সেন্টার পরিচালনার জন্য পলাতক চীনা নাগরিক থামেল এলাকার একটি পুরো হোটেল ভাড়া নিয়েছিলেন।হোটেলের মালিক প্রতি মাসে সাত লাখ নেপালি রুপি ভাড়ার বিনিময়ে হোটেলটি লিজ দিয়েছিলেন। কার্কি আরো জানান, ফেসবুকসহ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নারীদের আপত্তিকর ছবি পাঠিয়ে এ চক্রটি ভুক্তভোগীদের ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায় করত। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় নেপালিদের নয়, বরং বাংলাদেশি এবং ভারতীয় নাগরিকরা ছিলেন তাদের প্রধান টার্গেট। পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার গ্রেপ্তার ১৯ জনকেই অভিবাসন আইনের অধীনে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইমিগ্রেশন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের ডিপোর্ট, অর্থাৎ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে।

মারিয়া রহমান জুন ০২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ট্রাম্পের ঘোষণার পরও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৮

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ছবি : সংগৃহীত

খামেনির শেষ বিদায়: দাফনের তারিখ ঘোষণা করল তেহরান

তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া

হত্যাকাণ্ড নিয়ে মুখ খুললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে: মমতা

ছবি : সংগৃহীত
যেকোনো সংঘাত মোকাবিলায় প্রস্তুত ইরানের সশস্ত্র বাহিনী: আইআরজিসি

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আগের তুলনায় বেশি প্রস্তুত এবং ভবিষ্যতের যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ সক্ষম। মঙ্গলবার (২ জুন) ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি বলেন, বিদ্যমান সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি শত্রুর সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতাও ইরানের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। তিনি বলেন, শত্রুপক্ষ যদি আবার সামরিক সংঘাতে ফিরে আসে, তাহলে অভিযানের ধরন, যুদ্ধক্ষেত্রের ভৌগোলিক পরিসর এবং ব্যবহৃত অস্ত্র; সবকিছুই ভিন্ন হবে। সম্ভাব্য সব পরিস্থিতির জন্য আইআরজিসি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। মোহেব্বির দাবি, যুদ্ধবিরতির সময়কে কাজে লাগিয়ে ইরান তার সামরিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করেছে এবং ক্ষয়ক্ষতিও মেরামত করেছে। তিনি বলেন, বাস্তবতা হলো, যুদ্ধবিরতির সময় আমাদের সামরিক ও অপারেশনাল সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। মোহেব্বি বলেন, সাম্প্রতিক সংঘর্ষের অন্যতম বড় অর্জন হলো শত্রুপক্ষ সম্পর্কে আরও গভীর ও বাস্তবভিত্তিক ধারণা পাওয়া। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগে যেসব তথ্য গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও গণমাধ্যমের তথ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল, এখন তার সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতাও যুক্ত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ইরানের বাহিনী এখন শত্রুপক্ষের সামরিক সম্পদ, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ঘাঁটি এবং যুদ্ধকৌশল সম্পর্কে অনেক বেশি নির্ভুল ধারণা রাখে। মোহেব্বি বলেন, আজ শত্রুর আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম, প্রতারণামূলক কৌশল এবং সামরিক অভিযানের প্রকৃতি সম্পর্কে আমাদের ধারণা আগের তুলনায় অনেক বেশি স্পষ্ট। ইরানের সামরিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে, এমন দাবিও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। তার মতে, যেসব দাবি করা হচ্ছে, তার বিপরীতে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নৌবাহিনী ধ্বংস হয়নি এবং দেশের সামরিক সক্ষমতাও কমে যায়নি। মোহেব্বি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক সামরিক শক্তি ব্যবহার করলেও হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। কৌশলগত এই জলপথের ওপর ইরানের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ এখনো পুরোপুরি অক্ষুণ্ন রয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ০২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

জাপানে গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঝড় ‘জাংমি’র আঘাতে আহত ৯

ছবি : সংগৃহীত

ডিআর কঙ্গোর প্রধান বিমানবন্দর পুনরায় চালু

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা ‘অপরিহার্য’: রাশিয়ার হামলার পর জেলেনস্কি

ছবি : সংগৃহীত
লেবাননে শান্তিরক্ষী সদস্য রাখা অপরিহার্র্য: গুতেরেস

জাতিসংঘ প্রধান আন্তোনিও গুতেরেস সোমবার বলেছেন, লেবাননে চলতি বছর জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনের মেয়াদ শেষ হলেও, দেশটিতে শান্তিরক্ষী সদস্যদের উপস্থিতি বজায় রাখা অপরিহার্য।  তবে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল।   খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।   গত আগস্টে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সিদ্ধান্ত নেয় যে লেবাননে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনীর (ইউনিফিল) মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে।   তবে একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদ গুতেরেসকে ১ জুনের মধ্যে এমন কিছু বিকল্প প্রস্তাব দেওয়ার অনুরোধ জানায়, যাতে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীরা লেবাননে থেকে যেতে পারেন। বিশেষ করে, ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ব্লু লাইন’ পর্যবেক্ষণের জন্য  শান্তিরক্ষী  বাহিনীর উপস্থিতি জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়।    লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যকার প্রকৃত সীমারেখা হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চল বর্তমানে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।   নিরাপত্তা পরিষদে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সোমবার এএফপির জানায়, গুতেরেস তিনটি বিকল্প প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। এ সব প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ ও লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তার জন্য প্রায় ২ হাজার থেকে সাড়ে ৫ হাজারের বেশি জাতিসংঘ সদস্য মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রস্তাবিত সব বিকল্পের ক্ষেত্রেই উত্তেজনা প্রশমিত করা, সংলাপ, যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদার করা এবং লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তা দেওয়ার জন্য জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী সদস্যদের উপস্থিতি প্রয়োজন হবে।    দীর্ঘমেয়াদে সংঘাতের স্থায়ী সমাধান অর্জনের লক্ষ্যেই এই উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   শান্তিরক্ষী প্রত্যাহার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী কিছু এলাকা এখনও ইসরাইলি সেনাদের দখলে রয়েছে। একই সময়ে কয়েক দশকের বৈরিতা অবসানের লক্ষ্যে ইসরাইল ও লেবানন সরাসরি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।   বর্তমানে ইউনিফিলে প্রায় ৫০টি দেশের সাড়ে ৭ হাজার শান্তিরক্ষী সদস্য রয়েছেন। তারা দক্ষিণ লেবাননে ব্লু লাইনের কাছাকাছি এলাকায় মোতায়েন রয়েছে।   ১৯৭৮ সাল থেকে ইউনিফিল লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে শান্তি বজায় রাখার জন্য কাজ করে আসছে। তবে তাদের উপস্থিতি সত্ত্বেও দুই পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন সময় সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে।   লেবাননের একাধিক সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া বৈরুত সরকার ইউনিফিলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশটিতে জাতিসংঘের উপস্থিতি বজায় রাখার পক্ষে।   জাতিসংঘে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূত আহমদ আরাফা বলেন, ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতি লেবাননের জন্য জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে, একদিকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার নিশ্চিত করা ও অন্যদিকে পুরো ভূখণ্ডে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য এই সহায়তা অত্যন্ত জরুরি।’   এ সময় তিনি গুতেরেসের প্রতিবেদনের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান।   জাতিসংঘে চীনের রাষ্ট্রদূত ফু কং বলেছেন, ‘ইউনিফিলের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে, তাই নিরাপত্তা পরিষদের উচিত দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নেওয়া, যাতে লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর উপস্থিতি অব্যাহত থাকে এবং কোনো নিরাপত্তা শূন্যতা তৈরি না হয়।’   অন্যদিকে, গত আগস্টে ইউনিফিলের মেয়াদ বাতিলের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরাইল।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ০২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকে এল নিনোর জন্য প্রস্তুত হতে বলল জাতিসংঘ, অবস্থা খারাপের শঙ্কা

ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপের ১০ দিন আগে উত্তাল মেক্সিকো, শিক্ষকদের বিক্ষোভে টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবার যুদ্ধ অনিবার্য হতে পারে : ইরানি কর্মকর্তা

0 Comments