স্বাস্থ্য

যেকোনো বয়সেই হতে পারে অ্যালার্জি, নেপথ্যে কী কারণ?

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

অ্যালার্জি সাধারণত শৈশবেই শুরু হয়—এমন ধারণা অনেকের। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, জীবনের যেকোনও পর্যায়েই নতুন করে অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে। এমনকি দীর্ঘদিন কোনও খাবার বা পরিবেশগত উপাদানে সমস্যা না থাকলেও প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে হঠাৎ সেটির বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থা অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।

 

অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞ কেলি কোলাস বলেন, যেকোনও মানুষ জীবনের যেকোনও সময় নতুন কোনও অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হতে পারেন। গবেষকেরা এখন মনে করছেন, এর পেছনে শুধু বংশগত কারণ নয়; বরং সংক্রমণ, রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার পরিবর্তন, অন্ত্রের জীবাণুর ভারসাম্য, হরমোনের ওঠানামা এবং কিছু ক্ষেত্রে পোকামাকড়ের কামড়ও ভূমিকা রাখতে পারে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ফুড অ্যালার্জি অ্যান্ড অ্যাজমা রিসার্চের পরিচালক রুচি গুপ্তার মতে, কারও শরীরে অ্যালার্জির জিনগত প্রবণতা থাকলেও শুধু জিনই সবকিছু নির্ধারণ করে না। কোনও কোনও ক্ষেত্রে এমন একটি ঘটনা প্রয়োজন হয়, যা রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে অ্যালার্জির দিকে ঠেলে দেয়।

 

কোভিড-১৯ কি অ্যালার্জির ‘সুইচ’ চালু করতে পারে?
নতুন অ্যালার্জির সম্ভাব্য উদ্দীপক হিসেবে এখন কোভিড-১৯ নিয়েও গবেষণা হচ্ছে। ২০২৬ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে পরবর্তী সময়ে অ্যালার্জিক রাইনাইটিস—সাধারণভাবে যাকে হে ফিভার বলা হয়—এবং হাঁপানির ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে।

 

সুইডেনের কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ও গবেষণাটির সহলেখক ফিলিপ কারম্যান বলেন, সংক্রমণ অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়িয়েছে, আর টিকাদান সেই ঝুঁকি কমিয়েছে।

 

গবেষকদের ব্যাখ্যা, কোভিড-১৯-এর মতো সংক্রমণের সময় শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা ব্যাপকভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং শরীরে প্রদাহ বাড়তে পারে। এই প্রদাহের কিছু ধরন অ্যালার্জিজনিত রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।

 

শিশুদের ক্ষেত্রে রেসপিরেটরি সিনসিশিয়াল ভাইরাস (আরএসভি) এবং সর্দি-জ্বরের জন্য দায়ী রাইনোভাইরাসের মতো ভাইরাসের সঙ্গেও পরবর্তী সময়ে অ্যালার্জি দেখা দেওয়ার সম্পর্কের ইঙ্গিত পেয়েছেন গবেষকেরা।

 

গুপ্তার ব্যাখ্যা, কোনও ভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীর যখন তীব্রভাবে লড়াই করছে, ঠিক তখন খাবার বা পরিবেশের কোনও সাধারণ উপাদান শরীরে প্রবেশ করলে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা সেটিকেও হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে। ফলে এমন কোনও পদার্থের বিরুদ্ধেও প্রতিক্রিয়া শুরু হতে পারে, যা স্বাভাবিক অবস্থায় ক্ষতিকর নয়।

 

অ্যান্টিবায়োটিকেও বদলাতে পারে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা
শুধু সংক্রমণ নয়, কোনও রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধও পরবর্তী সময়ে অ্যালার্জির ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের পর অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়তে পারে—এমন সম্পর্ক বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।

 

এর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের পরিবর্তনের কথা বলছেন। মানুষের অন্ত্রে বিপুলসংখ্যক ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য অণুজীব বসবাস করে, যাদের সামগ্রিকভাবে মাইক্রোবায়োম বলা হয়। হজম, বিপাক এবং রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে এদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

 

অ্যান্টিবায়োটিক ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার পাশাপাশি অন্ত্রের উপকারী জীবাণুগুলোকেও প্রভাবিত করতে পারে। ফলে মাইক্রোবায়োমের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হলে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার কার্যক্রমেও পরিবর্তন আসতে পারে।

 

গুপ্তার ভাষায়, এর ফলে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থায় এক ধরনের ‘বিভ্রান্তি’ তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ সাধারণত নিরীহ কোনও পদার্থকেও শরীর ভুল করে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করে তার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।

 

গর্ভাবস্থা ও হরমোনের পরিবর্তনের প্রভাব
নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থাও রোগ প্রতিরোধব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনে। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞ কেলি কোলাসের মতে, আগে থেকেই পরিবেশগত অ্যালার্জি থাকা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নারীর গর্ভধারণের পর উপসর্গ আরও বেড়ে যেতে পারে।

 

আবার এমন একটি অবস্থাও দেখা যায়, যাকে ‘প্রেগন্যান্সি রাইনাইটিস’ বলা হয়। এতে আগে কখনও অ্যালার্জি না থাকা গর্ভবতী নারীরও হাঁচি, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং নাক দিয়ে পানি পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

 

তবে এটি প্রকৃত অ্যালার্জি নয় বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সন্তান জন্মের পর সাধারণত এসব উপসর্গ চলে যায়। হরমোনের ওঠানামার সঙ্গে এ অবস্থার সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করা হলেও এর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

 

এস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের মতো নারী প্রজনন হরমোন রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে। মেনোপজের সময়ও হরমোনে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, এ সময়ও কিছু নারীর নতুন করে অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে।

 

এঁটেল পোকার কামড়ে মাংসে অ্যালার্জি!
নতুন অ্যালার্জির সবচেয়ে অদ্ভুত উদাহরণগুলোর একটি হলো আলফা-গাল সিনড্রোম—যেখানে এঁটেল পোকার কামড়ের পর গরু, খাসি বা শূকরের মতো স্তন্যপায়ী প্রাণীর মাংসে অ্যালার্জি তৈরি হতে পারে।

 

এ ধরনের অ্যালার্জির সঙ্গে বিশেষভাবে যুক্ত উত্তর আমেরিকার ‘লোন স্টার’ এঁটেল পোকা। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই এঁটেল পোকার বিস্তার নতুন নতুন এলাকায় ঘটছে বলে গবেষকেরা মনে করছেন।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাবিজ্ঞান ও মাইক্রোবায়োলজির অধ্যাপক থমাস প্ল্যাটস-মিলস নিজেই এমন অ্যালার্জির অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন।

 

২০০৭ সালে লন্ডনে এক সফরের সময় তিনি ভেড়ার মাংস খাওয়ার পর রাতে হঠাৎ সারা শরীরে চাকা ওঠার মতো অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার শিকার হন। এর কয়েক মাস আগে হাঁটার সময় লার্ভা পর্যায়ের এঁটেল পোকা তার শরীরে লেগে কামড় দিয়েছিল।

 

পরবর্তী রক্ত পরীক্ষায় তার শরীরে অ্যালার্জির সঙ্গে সম্পর্কিত অ্যান্টিবডির উচ্চমাত্রা পাওয়া যায়। তার নিজের অভিজ্ঞতা তার গবেষক দলকে এঁটেল পোকার কামড় ও মাংসে অ্যালার্জির মধ্যকার সম্পর্ক আরও গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করে।

 

এঁটেল পোকার লালায় আলফা-গাল নামের একটি শর্করা অণু থাকতে পারে। অধিকাংশ স্তন্যপায়ী প্রাণীর শরীরে এটি স্বাভাবিকভাবে পাওয়া যায়, কিন্তু মানুষের শরীরে এটি থাকে না। ফলে এঁটেল পোকার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে আলফা-গাল প্রবেশ করলে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা সেটিকে বিদেশি উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারে।

পরবর্তীতে কেউ গরু বা খাসির মাংস খেলে শরীরের ওই অ্যান্টিবডি আলফা-গালকে শনাক্ত করে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। এতে চাকা ওঠা, শরীর ফুলে যাওয়া এবং পেটের অস্বস্তির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে আলফা-গাল সিনড্রোমের শনাক্তকরণ দ্রুত বাড়ছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশটিতে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ এ সমস্যায় শনাক্ত হয়েছেন।

 

হঠাৎ হওয়া অ্যালার্জি কি পুরোপুরি ভালো করা যায়?
সব ধরনের নতুন অ্যালার্জি প্রতিরোধ বা পুরোপুরি সারিয়ে তোলার নিশ্চিত উপায় এখনও নেই। কোনও সংক্রমণ, এঁটেল পোকার কামড় বা অন্য কোনও কারণে একবার অ্যালার্জি তৈরি হলে সেটি অনেকের ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

 

অ্যালার্জির মূল প্রক্রিয়াটি মোটামুটি একই। শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা কোনও নিরীহ পদার্থকে ভুল করে বিপজ্জনক বিদেশি উপাদান হিসেবে শনাক্ত করে এবং তার বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে। পরবর্তী সময়ে একই পদার্থ শরীরে প্রবেশ করলে প্রতিরোধব্যবস্থা আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখায়।

 

এর ফলে নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি, চোখ চুলকানো থেকে শুরু করে গুরুতর ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী অ্যানাফাইল্যাক্সিসও হতে পারে।

 

তবে নতুন অ্যালার্জির সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা যত বেশি জানতে পারছেন, প্রতিরোধ ও চিকিৎসার সম্ভাবনাও তত বাড়ছে।

 

অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের পর অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্য রক্ষায় প্রোবায়োটিক, প্রিবায়োটিক, দই ও ফারমেন্টেড খাবার গ্রহণ সহায়ক হতে পারে বলে গুপ্তা মনে করেন। তবে এসব ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ।

 

ভাইরাস সংক্রমণের সময় শরীরে অতিরিক্ত প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে পরবর্তী সময়ে হাঁপানি বা অ্যালার্জির মতো জটিলতা কমানো সম্ভব কি না, সেটিও এখন গবেষণার বিষয়।

 

রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে ‘প্রশিক্ষিত’ করার চেষ্টা
অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে তৈরি কিছু ওষুধ নিয়েও গবেষণা এগোচ্ছে। জোলএয়ার (ওমালিজুমাব)-এর মতো ওষুধ রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার নির্দিষ্ট অংশকে লক্ষ্য করে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া কমাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। হাঁপানির চিকিৎসায় দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর এটি খাবারে অ্যালার্জির কিছু প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।

 

এছাড়া গবেষকেরা এমন ভ্যাকসিন তৈরির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন, যা অ্যালার্জেনের প্রতি রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া আরও নিয়ন্ত্রিত করতে পারে। আরেক ধরনের পরীক্ষামূলক চিকিৎসায় একবারের ডোজে সরাসরি অ্যালার্জেন-প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি শরীরে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

 

তবে এসব গবেষণা এখনও অ্যালার্জি পুরোপুরি নির্মূল করার নিশ্চয়তা দেয় না। গুপ্তার মতে, নতুন অ্যালার্জি পুরোপুরি উল্টে দেওয়ার নিশ্চিত পদ্ধতি এখনও হাতে আসেনি। তবে গত দুই দশকে বিশেষ করে খাদ্য অ্যালার্জি নিয়ে গবেষণায় যে অগ্রগতি হয়েছে, তাতে ভবিষ্যৎ চিকিৎসা নিয়ে আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। সূত্র: বিবিসি

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

স্বাস্থ্য

আরও দেখুন
ফাইল ছবি
টাইফয়েডের টিকা পায়নি যেসব শিক্ষার্থী, তাদের কী করণীয়

টাইফয়েড একটি গুরুতর সংক্রামক রোগ। সালমোনেলা টাইফি নামের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে এ রোগ হয়। সাধারণত দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে জীবাণু মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে টাইফয়েড গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।   টাইফয়েড কী টাইফয়েড জ্বর মূলত সালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। একই ধরনের আরেকটি সংক্রমণ সালমোনেলা প্যারাটাইফির কারণে হতে পারে, যাকে প্যারাটাইফয়েড বলা হয়। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের ঘাটতি থাকলে টাইফয়েড ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে। শিশু এবং নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের সুযোগ কম থাকা মানুষ এ রোগে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।   টাইফয়েডের প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী বা বেশি জ্বর, দুর্বলতা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, পেটে ব্যথা, ক্ষুধামন্দা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া। গুরুতর ক্ষেত্রে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে।   টাইফয়েডের টিকা কীভাবে কাজ করে টাইফয়েডের টিকা রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা টাইফয়েডপ্রবণ এলাকায় টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন বা টিসিভি ব্যবহারের সুপারিশ করে। এ টিকা এক ডোজে দেওয়া যায় এবং ছয় মাস বয়স থেকে শিশুদের দেওয়া সম্ভব। টিসিভি তুলনামূলকভাবে দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা দিতে পারে।   এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণকারীদের জন্য টাইফয়েডের অন্য ধরনের টিকাও রয়েছে। ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া টিকা সাধারণত দুই বছর বা তার বেশি বয়সিদের জন্য এবং মুখে খাওয়ার জীবিত দুর্বল জীবাণুর টিকা ছয় বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য ব্যবহৃত হয়। কোন টিকা কার জন্য উপযুক্ত, তা চিকিৎসকের পরামর্শে নির্ধারণ করা উচিত।   টিকা নিলেও সতর্কতা জরুরি টাইফয়েডের টিকা নিলেই শতভাগ সুরক্ষা নিশ্চিত হয় না। তাই নিরাপদ পানি পান, ভালোভাবে রান্না করা খাবার খাওয়া, অপরিষ্কার ও সন্দেহজনক খাবার এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস জরুরি।   পদ্ধতি অনলাইনে নিবন্ধন: টাইফয়েডের টিকা নিতে vaxepi.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে ১৭ ডিজিটের জন্মনিবন্ধন নম্বর অথবা বাবা-মায়ের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে নিবন্ধন করা যাবে। নিবন্ধনের পর ভ্যাকসিন কার্ড সংগ্রহ করা সম্ভব।   জন্মনিবন্ধন না থাকলেও সুযোগ: জন্মনিবন্ধন সনদ না থাকলেও ক্যাম্পেইন চলাকালে নির্দিষ্ট নিয়মে টিকা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী বা স্কুলের শিক্ষকদের সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে।   বেসরকারিভাবে টিকা: সরকারি ক্যাম্পেইনের বাইরে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিবন্ধিত শিশু বিশেষজ্ঞ বা হাসপাতাল থেকে নিজ খরচে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত টাইফয়েড কনজুগেট টিকা (টিসিভি) নেওয়া যেতে পারে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
প্রতীকী ছবি

যেকোনো বয়সেই হতে পারে অ্যালার্জি, নেপথ্যে কী কারণ?

ফাইল ছবি

গরমে বাড়তে পারে ৭ রোগ, সুস্থ থাকতে যা করবেন

ফাইল ছবি

আশাবাদী মানুষ কি সত্যিই বেশি দিন বাঁচেন, বলছে গবেষণা

হামে মৃত্যু ক্রমাগত বাড়ছে। ফাইল ছবি
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, শনাক্ত ১৩৪৩

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৪৩ জন।     বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।     বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৮২ জন। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপসর্গযুক্ত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮০ জনে।       একই সময়ে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৬১ জনের। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ৩৪৩ জন।     স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬০২ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৪০ জন।       গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ফলে ১৫ মার্চ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপসর্গযুক্ত হাম নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪৬ জনে।       তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে চলতি সময়ে নিশ্চিত হাম রোগে মৃতের সংখ্যা ১০০ জন।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬

জীবনযাপনে পরিবর্তন আনলে বয়স সত্তরেও থাকবেন সুস্থ

ছোটবেলা থেকেই বই পড়ার অভ্যাস মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখে: গবেষণা

গরিব এলাকায় থাকলে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের অবনতি হয়: গবেষণা

ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রে হামে মৃত্যু ও সংক্রমণ লাফিয়ে বাড়ছে: পেনসিলভানিয়ায় জরুরি সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে ২০২৬ সালে হামের সংক্রমণে চতুর্থ মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সর্বশেষ মারা গেছে মিফলিন কাউন্টির ১৮ বছর বয়সী এক কিশোর।     দেশটিতে এক বছরে হামে চারজনের মৃত্যুর ঘটনা সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ১৯৯২ সালে। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পেনসিলভানিয়ার মিফলিন কাউন্টির করোনার আন্দ্রেয়া আলকালদে জানিয়েছেন, ওই কিশোর হামের টিকা নেননি। সংক্রমণের পর তার অ্যাকিউট ডিসেমিনেটেড এনসেফালোমাইলাইটিস নামে বিরল একটি স্নায়বিক জটিলতা দেখা দেয়।   পরে তার মৃত্যু হয়।     এর আগে পেনসিলভানিয়ায় হামে আক্রান্ত দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। গত সপ্তাহান্তে জেফারসন কাউন্টিতে ৪০ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যুর কথাও জানানো হয়।     পেনসিলভানিয়ার স্বাস্থ্যসচিব ডেবরা বোগেন বলেন, তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে অঙ্গরাজ্যটি সবচেয়ে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাবের মুখোমুখি হয়েছে।     সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং আরো মৃত্যু ঠেকাতে হামের বিষয়ে সঠিক তথ্য জানানো ও এমএমআর টিকার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধকেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, চলতি বছর দেশটিতে ৩ হাজার ২০০-এর বেশি হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে পেনসিলভানিয়ার ৩৮টি কাউন্টিতে ৬৯৩টি সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে।     সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, হামের বিরুদ্ধে সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এমএমআর টিকা। টিকার দুই ডোজ হামের বিরুদ্ধে প্রায় ৯৭ শতাংশ সুরক্ষা দিতে পারে।     হামের সংক্রমণে সাধারণত জ্বর, কাশি ও শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। গুরুতর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে।     তবে পেনসিলভানিয়ায় হামে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত হামের সঙ্গে সম্পর্কিত ৪টি মৃত্যুর কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, সিডিসির সাপ্তাহিক হিসাবের মধ্যে এখনো কোনো মৃত্যুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।     সিডিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মৃত্যুর ক্ষেত্রে হাম সরাসরি কারণ ছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে আরো তথ্য প্রয়োজন। এ কারণে অঙ্গরাজ্যের ঘোষিত মৃত্যুর সংখ্যা এবং সিডিসির সরকারি হিসাবের মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়েছে।     বিষয়টি নিয়ে পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো এবং মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবাবিষয়কমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রের মধ্যে প্রকাশ্য মতবিরোধও দেখা দিয়েছে।     শাপিরো অভিযোগ করেছেন, হামে মৃত্যুর তথ্য প্রকাশে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। তবে কেনেডি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, সিডিসিকে মৃত্যুর তথ্য ‘গোপন’ রাখতে তিনি কোনো নির্দেশ দেননি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, জাতীয় স্বাস্থ্য পরিসংখ্যানকেন্দ্র রাজ্যগুলোর দেওয়া মৃত্যুসনদে হামকে মৃত্যুর মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করলে সিডিসি সেই মৃত্যু রিপোর্ট করবে।     পেনসিলভানিয়ায় হামের এই প্রাদুর্ভাব যুক্তরাষ্ট্রে টিকাদানের হার কমে যাওয়ার বিষয়টিকেও নতুন করে আলোচনায় এনেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ২০০০ সালে হাম নির্মূল ঘোষণা করা হলেও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আবারও সংক্রমণের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৩৩

প্রতীকী ছবি

পরোক্ষ ধূমপানে বিশ্বজুড়ে ১৬ লাখেরও বেশি মানুষের অকাল মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

সেপ্টেম্বরের ১২ দিনে ডেঙ্গুতে ৫২ জনের মৃত্যু

0 Comments