বিশ্ব

যেভাবে মধ্যপ্রাচ্যে জন্ম নিল এক ‘বিষফোড়া’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ১৪, ২০২৬

ঐতিহাসিক ফিলিস্তিন ভূমিতে সন্ত্রাস, হত্যা–নির্যাতন, উচ্ছেদ–দখলের মধ্য দিয়ে ১৯৪৮ সালের ১৪ মে স্বাধীন ইসরায়েল রাষ্ট্রের ঘোষণা দেন জায়নবাদী নেতা ডেভিড বেন গুরিয়ন। কীভাবে অন্যায়ভাবে ফিলিস্তিনিদের উৎখাত করে ১৯৪৮ সালের এই দিনে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা নিয়ে আজকের আয়োজন।

‘উড়ে এসে জুড়ে বসা’ যাকে বলে। ফিলিস্তিন ভূমিতে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ঘটেছে তেমনটাই।

না, বাংলা ভাষার এই সরল বাগধারায় আসল পরিস্থিতির চিত্র পুরোপুরি ফুটে ওঠে না। তাহলে কী সেই আসল পরিস্থিতি?

হুট করে ফিলিস্তিনের বুকে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। উগ্র ইহুদিবাদীদের দীর্ঘদিনের সুনিপুণ পরিকল্পনা, গভীর ষড়যন্ত্রের সফল বাস্তবায়ন ‘ইসরায়েল’।

এই পরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ধর্মগ্রন্থ–আশ্রিত এক কল্পকাহিনি সামনে এনে তা বিশ্বাসযোগ্য, প্রতিষ্ঠিত করতে উঠেপড়ে নামে জায়নবাদীরা। এই মিথ প্রতিষ্ঠায় অন্যায়ভাবে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় ব্রিটিশরা। অপরাধের হলো শুরু, আর ফিলিস্তিনিদের সারার সূচনা।

পরের ইতিহাস পাপে–অপরাধে পূর্ণ। কী হয়নি? অন্যায়-অবিচার, অত্যাচার-নির্যাতন-নিপীড়ন, জোর-জুলুম, সন্ত্রাস, জবরদখল, ধ্বংসযজ্ঞ, উচ্ছেদ-বিতাড়ন, ধর্ষণ-লুটতরাজ, হত্যা-গণহত্যা।

এসবের মধ্য দিয়ে ১৯৪৮ সালের ১৪ মে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন ইসরায়েল রাষ্ট্রের ঘোষণা দেওয়া হয়।

এখানেই শেষ নয়। ইসরায়েলের চূড়ান্ত লক্ষ্য ঐতিহাসিক ফিলিস্তিন ভূমি থেকে ফিলিস্তিনিদের পূর্ণ বিনাশ। এ লক্ষ্য অর্জনে দশকের পর দশক ধরে ফিলিস্তিনি জাতিহত্যার মিশন চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।

অস্ট্রীয় লেখক নাথান বারনবুম ১৮৯৫ সালে ‘জায়নিজম’ বা জায়নবাদ শব্দটি প্রবর্তন করেন। ‘নিজভূমিতে’ ইহুদিদের নিজস্ব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জাতীয় আন্দোলনই হলো ‘জায়নবাদ’(ইহুদি জাতীয়তাবাদ)।

এরপর ১৮৯৭ সালের আগস্টে সুইজারল্যান্ডের ব্যাসেলে প্রথম বিশ্ব জায়নবাদী সম্মেলন হয়। সম্মেলনের উদ্যোক্তা অস্ট্রিয়ার ইহুদি সাংবাদিক, নাট্যকার ও রাজনীতিক থিওডর হারজেল।

তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে গঠিত হয় জায়নবাদী সংস্থা। পরে যার নাম হয় বিশ্ব জায়নবাদী সংস্থা। একই সম্মেলনে ইহুদিদের জন্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার রূপরেখা গ্রহণ করা হয়।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে একটি কল্পকাহিনি নির্মাণ করেন জায়নবাদীরা। এর জন্য তাঁরা ইহুদি ধর্মগ্রন্থ হিব্রু বাইবেলের (তানাখ) আশ্রয় নেন। এই ধর্মগ্রন্থ–আশ্রিত কল্পকাহিনিকে প্রতিষ্ঠিত ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে তাঁরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাঁরা নানা ধরনের তৎপরতা চালিয়ে যেতে থাকেন।

তিন বয়ান
জায়নবাদীদের কল্পকাহিনির মূল বয়ান মূলত তিনটি। এগুলো হলো—‘প্রতিশ্রুত ভূমি’, ‘মনোনীত সম্প্রদায়’ ও ‘ভূমিহীন মানুষের জন্য মনুষ্যহীন ভূমি।’

তানাখ অনুসারে, নবী আব্রাহামকে (মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে যিনি ইব্রাহিম (আ.) নামে পরিচিত) তাঁর বংশধরদের জন্য একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ঈশ্বর। এই ভূখণ্ড পুণ্যভূমি হিসেবে বংশপরম্পরায় সংরক্ষিত থাকবে।

ভৌগোলিকভাবে এই ভূমি সেখানেই, যেখানে আজকের ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের অবস্থান। তবে তানাখের অন্য বিবরণে মিসর থেকে ফোরাত নদীর তীর পর্যন্ত এই ভূমির সীমা।

ইহুদিদের বিশ্বাস, তাঁরা ঈশ্বরের মনোনীত জাতি। সেই হিসেবে তাঁরা ঈশ্বরের প্রতিশ্রুত ভূমিতেই বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু তাঁরা এই ভূমি থেকে বিতাড়িত হন। দুই হাজার বছরের বেশি সময় আগে ৭০ খ্রিষ্টাব্দে তাঁদের উৎখাত করে রোমানরা। তাঁরা উৎখাত হওয়ার পর যাঁরা সেখানে থেকেছেন, অর্থাৎ ফিলিস্তিনিরা, তাঁরা এই ভূমির মানুষ নন। উগ্র ইহুদিদের চিন্তাধারা কতটা অসুস্থ তার একটি নমুনা হচ্ছে, তারা ফিলিস্তিনিদের কোনো মানব সম্প্রদায় মনে করে না। এই হিসেবে তারা এই ভূমিকে ‘মনুষ্যহীন ভূমি’ মনে করে।

সুতরাং এই ‘মনুষ্যহীন ভূমির’ আসল মালিক ইহুদিরা। তাই এখান থেকে ফিলিস্তিনিদের উৎখাত করে ভূমির মালিকানা ফিরিয়ে নেওয়াই যথাযথ।

ইহুদিদের ‘নিজভূমিতে’ ফেরা, ‘নিজভূমির’ ওপর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জায়নবাদীরা জাতীয় আন্দোলন শুরু করে। তারা দাবি তোলে, ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনের ভূমিতেই ইহুদিদের নিজস্ব রাষ্ট্র গড়তে হবে।

বেলফোর ঘোষণা
১৫১৬ থেকে ফিলিস্তিন ছিল অটোমান সাম্রাজ্যের অধীনে। ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে অটোমানরা অক্ষশক্তির পক্ষে যোগ দেয়।

১৯১৭ সালের ৩১ অক্টোবর মিত্রশক্তিভুক্ত ব্রিটিশ নেতৃত্বাধীন বাহিনী অটোমানদের কাছ থেকে বীরশেবা দখল করে নেয়। এর মধ্য দিয়ে সিনাই–ফিলিস্তিন অঞ্চলের অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করে তারা। ক্রমে অটোমান প্রতিরক্ষাব্যূহ ভেঙে পড়ে। ব্রিটিশ নেতৃত্বাধীন বাহিনী ধাপে ধাপে পুরো অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর অটোমান সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।

তৎকালীন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার জেমস বেলফোর ১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর জায়নবাদী নেতা ওয়াল্টার রথসচাইল্ডকে একটি চিঠি দেন।

ইংরেজিতে লেখা সংক্ষিপ্ত চিঠিটির মূল কথা ছিল মাত্র ৬৭ শব্দে। চিঠিতে লেখা হয়েছিল—‘মহামান্য (ব্রিটিশ) সরকার ফিলিস্তিনে ইহুদি জনগণের জন্য একটি জাতীয় আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। আর এ লক্ষ্য অর্জনে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে। তবে এই বিষয়টি পরিষ্কার, এমন কিছু করা হবে না, যা ফিলিস্তিনে অবস্থানরত অ-ইহুদি সম্প্রদায়ের নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকার কিংবা অন্য কোনো দেশে বসবাসকারী ইহুদিদের বিদ্যমান অধিকার ও রাজনৈতিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে পারে।’

অর্থাৎ এই চিঠির মধ্য দিয়ে স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করা হয়, ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য জাতীয় আবাসভূমি গড়ে তোলার লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় সবকিছুই করবে ব্রিটিশ সরকার।

এই চিঠি ইতিহাসে ‘বেলফোর ঘোষণা’ নামে পরিচিতি পায়। বেলফোরের ঘোষণাটি ছিল জায়নবাদের প্রতি ব্রিটিশ সরকারের খোলামেলা স্বীকৃতি। তাঁর এই ঘোষণা ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ পরিষ্কার করে দেয়। ঘোষণাটি জায়নবাদীদের কাছে হয়ে ওঠে ফিলিস্তিনে ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম ভিত্তি।

তখনকার ফিলিস্তিনে ৯০ শতাংশ বা তার বেশি ছিল আরব অধিবাসী। আরবদের বেশির ভাগই ছিলেন মুসলিম। এ ছাড়া সেখানে কিছু খ্রিষ্টান ও ইহুদি অধিবাসীর বসবাস ছিল। এই বাস্তবতায় ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইহুদিদের জন্য রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেলফোর অন্যায়-অবিচার-অপরাধ করেছিলেন। তাঁর ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস, ভূরাজনীতিকে চিরতরে বদলের সূত্রপাত ঘটায়।

ব্রিটিশ শাসকের মদদ, সমর্থনের ধারাবাহিকতায় ইউরোপসহ অন্যান্য দেশ থেকে ইহুদিরা দলে দলে ফিলিস্তিনে আসতে শুরু করে।

১৯২০ সালে ইতালির সান রেমো বৈঠকে বেলফোর ঘোষণা কার্যকরের সিদ্ধান্ত হয়। আর তা কার্যকরের দায়িত্ব ব্রিটিশ সরকারকেই দেওয়া হয়। ফিলিস্তিনে আসা অভিবাসী ইহুদিরা নিজেদের অবস্থান শক্তপোক্ত করতে, দখলদারি জোরালো করতে, ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ-বাস্তুচ্যুত করতে একই বছর গঠন করে ‘হাগানাহ’ নামের একটি আধা সামরিক বাহিনী।

১৯২২ সালে লিগ অব নেশনসের কাছ থেকে অখণ্ড ফিলিস্তিনের ওপর ‘ম্যান্ডেট’ লাভ করে ব্রিটিশরাজ।

ফিলিস্তিনে ইহুদিদের ব্যাপক আগমনে স্থানীয় ফিলিস্তিনি-আরবদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। শুরু হয় সংঘাত। ত্রিশের দশকে বড় ধরনের প্রতিবাদ-বিক্ষোভ-বিদ্রোহ করেন ফিলিস্তিনিরা। অবশ্য ব্রিটিশ সরকার তা কঠোরভাবে দমন করে।

ফিলিস্তিনি আরব ও ইহুদিদের মধ্যকার সংঘাতের কারণ অনুসন্ধানে উদ্যোগ নেয় ব্রিটিশ সরকার। তারা লর্ড রবার্ট পিলের নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করে। এই কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় ১৯৩৭ সালে।

ফিলিস্তিনকে দুভাগে বিভক্ত করার এক অন্যায্য-অন্যায় সুপারিশ করে পিল কমিশন। সুপারিশ অনুযায়ী, বণ্টনটা হবে এভাবে—৭৫ শতাংশ আরবদের জন্য, বাকিটা ইহুদিদের। ফিলিস্তিনি আরবরা এই সুপারিশ প্রত্যাখ্যান করেন। তবে ভূমি বিভাজনের এই নীতি সমর্থন করে ইহুদিরা।

হলোকাস্টকে হাতিয়ার
১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধে জার্মান নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলারের নেতৃত্বে ইউরোপে ইহুদি নিধনযজ্ঞ চলে, যা ইতিহাসে ‘হলোকাস্ট’ নামে পরিচিত। বিভিন্ন ইতিহাসবিদ ও গবেষকের তথ্যমতে, নাৎসি বাহিনীর হাতে প্রায় ৬০ লাখ ইহুদি নিহত হন। এই ইহুদি নিধনযজ্ঞ পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। সে সময় অনেক ইহুদি পালিয়ে ফিলিস্তিনে যান।

১৯৪২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোরে অনুষ্ঠিত হয় জায়নবাদী সম্মেলন। এই সম্মেলনে ফিলিস্তিনে ইহুদি রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণা গৃহীত হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয় ১৯৪৫ সালে। যুদ্ধে পরাজিত হয় জার্মানি-জাপান-ইতালি অক্ষশক্তি। যুদ্ধ শেষে বিশ্বজুড়ে ইহুদিদের প্রতি সহানুভূতি তুঙ্গে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে হলোকাস্টকে সামনে আনেন জায়নবাদী নেতারা, তাঁদের আন্তর্জাতিক সমর্থকেরা। তাঁরা ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইহুদিদের নিজস্ব আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার জোর যুক্তি দেন।

ইসরায়েল রাষ্ট্রের পক্ষে জোরালো অবস্থান তুলে ধরেন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান। হিটলারের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া এক লাখ ইহুদিকে অতিদ্রুত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে স্থান দেওয়া হোক, এমনটা তিনি তখনই চেয়েছিলেন।

ইসরায়েল রাষ্ট্রের ঘোষণা
ব্রিটিশ সরকার একপর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তারা আর ফিলিস্তিন শাসন করবে না। বিষয়টি জাতিসংঘের হাতে তুলে দেয় তারা। জাতিসংঘ ১৯৪৭ সালের ২৯ নভেম্বর ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে দুটি রাষ্ট্র গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। একটি ইহুদিদের রাষ্ট্র (৫৫ শতাংশ)। অপরটি ফিলিস্তিনি আরবদের (৪৫ শতাংশ)। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত এই পরিকল্পনায় জেরুজালেমকে আন্তর্জাতিক নগরের মর্যাদা দেওয়া হয়। পরিকল্পনাটি মেনে নেন ইহুদিরা। তবে তা প্রত্যাখ্যান করেন আরবরা।

নিজভূমি থেকে ফিলিস্তিনিদের তাড়ানোর ছক তৈরি করেন জায়নবাদীরা। তাঁরা ‘প্ল্যান ডি’ নামের পরিকল্পনা নেন। এই পরিকল্পনার নেতৃত্বে ছিলেন জায়নবাদী নেতা ডেভিড বেন গুরিয়েন। তিনি পরে ইসরায়েলের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন।

পরিকল্পনাটির লক্ষ্য ছিল—হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি আরবদের নিজভূমি থেকে বিতাড়িত করা। ১৯৪৮ সালের ১০ মার্চ পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত হয়। তখন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ঝাঁপিয়ে পড়ে হাগানাহ, স্টার্ন গ্যাংসহ ইসরায়েলি সন্ত্রাসবাদী সশস্ত্র সংগঠনগুলো।

ইহুদিদের হামলা, নির্যাতন, নিপীড়ন ও হত্যার শিকার হতে থাকেন স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা। তাঁরা প্রাণ বাঁচাতে নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

১৯৪৮ সালের ১৪ মে মধ্যরাতে ফিলিস্তিনে ব্রিটিশ ম্যান্ডেট (শাসন) শেষ হওয়ার সময় নির্ধারিত ছিল। ঠিক তার কয়েক ঘণ্টা আগে সেদিন বিকেলে তেল আবিবে বেন গুরিয়ন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন ইসরায়েল রাষ্ট্রের ঘোষণা দেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেন। এর মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর আনুষ্ঠানিকভাবে মহাবিপর্যয় নেমে আসে।

১৯৪৮ সালের মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে অন্তত সাত লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থী হন। তাঁরা আশপাশের আরব দেশে আশ্রয় নেন। জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুসারে, এই ফিলিস্তিনিদের নিজভূমিতে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তাঁরা আর কখনোই ফিরতে পারেননি। অন্যদিকে যাঁরা ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে রয়ে যান, তাঁরা হয়ে পড়েন ‘নিজভূমে পরবাসী’।

প্যালেস্টাইন সেন্ট্রাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্যমতে, বিশ্বজুড়ে এখন ফিলিস্তিনিদের মোট সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৮১ লাখ প্রবাসে বসবাস করছেন। আর প্রায় ৭৪ লাখ বসবাস করছেন ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনে।

ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে থাকা ফিলিস্তিনিরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ইসরায়েলি দখলদারি, উচ্ছেদ, জেল-জুলুম, হামলা-নির্যাতন, সন্ত্রাস, হত্যাযজ্ঞসহ মানবিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে এক ভয়াবহ জীবন পার করছেন।

বিগত ৭৮ বছরে চারটি আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ হয়। প্রতিটি যুদ্ধে আরবরা পরাজিত হন। আর ফলাফল হিসেবে ফিলিস্তিনিরা ক্রমেই নিজভূমিতে কোণঠাসা হয়ে পড়েন। অন্যদিকে এই সময়কালে ইসরায়েলের রাজনৈতিক-সামরিক শক্তি বহুগুণ বেড়েছে। সম্প্রসারিত হয়েছে দখলদারি ও সামরিক আগ্রাসন। সর্বোপরি ফিলিস্তিনি জাতি হত্যার পরিধি, কৌশল ও ভয়াবহতা আরও বিস্তৃত হয়েছে।

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর নির্বিচারে নৃশংস হামলা শুরু করে ইসরায়েল। গাজায় এই ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৭৩ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত ১ লাখ ৭২ হাজার ফিলিস্তিনি। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গাজার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সব ধরনের প্রায় ৮১ শতাংশ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাজার ৫০ শতাংশের বেশি হাসপাতাল অকার্যকর।

উপত্যকার প্রায় সব স্কুল ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত। সব মিলিয়ে গাজা পরিণত হয়েছে এক ধ্বংসস্তূপে। সেখানে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এমনই যে এখন গাজাকে বলা হচ্ছে ‘মর্ত্যের নরক’।

গাজার অর্ধেকের বেশি ভূখণ্ড এখন ইসরায়েলি বাহিনীর দখলে। পুরো গাজা দখলের পাঁয়তারা করছে ইসরায়েল।

ইসরায়েলি আগ্রাসন শুধু ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ নয়। ইরান, লেবানন, সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইসরায়েল প্রকাশ্য বা গোপনে হামলা-আগ্রসন চালিয়ে যাচ্ছে। পাপ, অপরাধ, সন্ত্রাস, দখলদারি, রক্তখেলার মধ্য দিয়ে জন্ম নেওয়া ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যের এক ‘বিষফোড়া’। এই বিষফোড়ার ভুক্তভোগী পুরো মধ্যপ্রাচ্য, এমনকি সারা বিশ্ব।

তথ্যসূত্র:

*আল-জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি, রয়টার্স, আনাদলু, প্রথম আলো।

*ইয়ান ক্যারল, ইসরায়েল অ্যান্ড প্যালেস্টাইন: দ্য কমপ্লিট স্টোরি (২০১৮ কিন্ডল ই-বুক সংস্করণ)।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কর্ণাটকে হিজাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, গেরুয়া শাল কি পরা যাবে

ভারতের কর্ণাটকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব পরা নিয়ে ২০২২ সালের বিতর্কিত আদেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে রাজ্য সরকার। বুধবার এক নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, এখন থেকে নির্ধারিত স্কুল ইউনিফর্মের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা হিজাব, পৈতা বা রুদ্রাক্ষের মতো ঐতিহ্যগত ও ধর্মীয় প্রতীক পরিধান করতে পারবে। নতুন বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কর্ণাটকের সব সরকারি, সাহায্যপ্রাপ্ত এবং বেসরকারি স্কুল-কলেজে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম অনুযায়ী ইউনিফর্ম কার্যকর থাকবে। তবে শিক্ষার্থীরা চাইলে তাদের ধর্মীয় বা গোষ্ঠীগত ঐতিহ্যের প্রতীকগুলো সীমিত আকারে ব্যবহার করতে পারবে। তবে শর্ত দেওয়া হয়েছে যে, এসব প্রতীক যেন ইউনিফর্মের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত না করে। সরকার অনুমোদিত প্রতীকের একটি তালিকাও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- হিজাব (মাথার স্কার্ফ), পৈতা বা পবিত্র সুতা (জানিভারা), শিভাধারা, রুদ্রাক্ষ ও শরবস্ত্র। এ ছাড়া শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও শিক্ষার্থী শনাক্তকরণে বাধা না দিলে অন্যান্য ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। তবে সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে যে, ‘গেরুয়া শাল’ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না। সরকারের মতে, গেরুয়া শাল ধর্মের আওতায় পড়ে না, যেখানে পৈতা বা পবিত্র সুতা অনুমোদিত। নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনও শিক্ষার্থীকে হিজাব বা পৈতা পরার জন্য যেমন বাধ্য করা যাবে না, তেমনি কেউ এগুলো পরলে তাকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশে বাধাও দেওয়া যাবে না। এমনকি পরীক্ষা হল বা ক্লাসেও তাদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তবে জাতীয় বা রাজ্য পর্যায়ের পরীক্ষার সময় কর্তৃপক্ষ চাইলে নির্দিষ্ট পোশাকবিধি প্রয়োগ করতে পারবে। স্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষকে এই নীতি ধর্মনিরপেক্ষ ও বৈষম্যহীনভাবে পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১২তম শতাব্দীর সমাজ সংস্কারক বাসভান্নার ‘ইভা নামাভা’ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক চেতনার কথা উল্লেখ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিক্ষার্থীদের প্রতি মানবিক হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ২০২২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি কর্ণাটকের তৎকালীন সরকার একটি আদেশ জারি করেছিল, যেখানে ‘সাম্য, সংহতি ও জনশৃঙ্খলার’ দোহাই দিয়ে হিজাব পরে ক্লাসে আসা কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সেই সময় উদুপির একটি কলেজে মুসলিম ছাত্রীদের হিজাব পরায় বাধা দিলে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও আইনি লড়াই শুরু হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় হিন্দু ছাত্রদের একাংশ গেরুয়া শাল পরে কলেজে আসতে শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নতুন এই আদেশের মাধ্যমে পূর্বের সেই সব বিধিনিষেধ বাতিল বলে গণ্য হবে। সরকার আরও জানিয়েছে, নতুন এই আদেশের পরিপন্থি কোনও প্রাতিষ্ঠানিক নির্দেশনা বা প্রথা এখন থেকে অবৈধ বলে বিবেচিত হবে। সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাদের অবিলম্বে এই নির্দেশনা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ১৪, ২০২৬

হরমুজ অভিযানে ফ্রান্স-যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যোগ দেবে অস্ট্রেলিয়া

যেভাবে মধ্যপ্রাচ্যে জন্ম নিল এক ‘বিষফোড়া’

ছবি : সংগৃহীত

আইনজীবীর পোশাকে হাইকোর্টে হাজির মমতা

ছবি : সংগৃহীত
বৃহত্তম জাহাজ তৈরি করলো চীন, একসঙ্গে কত গাড়ি বহন করবে

গাড়ি পরিবহনের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক জাহাজ তৈরির কাজ শেষ করেছে চীনের গুয়াংজু শিপইয়ার্ড ইন্টারন্যাশনাল। ২৩০ মিটার দীর্ঘ এবং ৪০ মিটার প্রস্থের এই বিশাল ধাতব দানবটি একসঙ্গে ১০ হাজার ৮০০টি যানবাহন পরিবহন করতে সক্ষম। এই জাহাজে সাধারণ গাড়ির পাশাপাশি ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (ইভি), হাইড্রোজেনচালিত যান এবং ভারী ট্রাকও পরিবহন করা যাবে। দক্ষিণ কোরীয় গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান হুন্দাইয়ের জন্য নির্মিত এই জাহাজটির নাম রাখা হয়েছে ‘গ্লোভিস লিডার’। এটি একটি পিওর কার অ্যান্ড ট্রাক ক্যারিয়ার (পিসিটিসি)। চায়না স্টেট শিপবিল্ডিং কর্পোরেশনের (সিএসএসসি) অধীনে থাকা গুয়াংজু শিপইয়ার্ড ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেড এবং চায়না শিপবিল্ডিং ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড নির্ধারিত সময়ের আগেই জাহাজটির নির্মাণকাজ শেষ করেছে। ‘গ্লোভিস লিডার’ জাহাজটির নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যে এর ১৪টি ডেকের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ গাড়ি বহন করা সম্ভব। এর আগে গাড়ি পরিবহনের সবচেয়ে বড় জাহাজের রেকর্ডটি ছিল ‘হেগ অরোরা’র দখলে, যার ধারণক্ষমতা ছিল ৯ হাজার ১০০টি যানবাহন। নতুন এই জাহাজটি আগেরটির চেয়ে ১ হাজার ৭০০টি বেশি গাড়ি বহন করতে পারবে। জাহাজটির গতিবেগ ঘণ্টায় ১৯ নট এবং এটি ১০.৫ মিটার গভীরতায় চলতে সক্ষম। বিশাল এই জাহাজটিতে অত্যাধুনিক এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এর বডির নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যাতে ঘর্ষণ কম হয় এবং এটি বর্জ্য তাপ পুনরুদ্ধার সিস্টেমের মাধ্যমে শক্তি সাশ্রয় করতে পারে। সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং সাধারণ জ্বালানি উভয় মাধ্যমেই চলতে সক্ষম। আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) টায়ার থ্রি নির্গমন মানদণ্ড অনুযায়ী এটি নাইট্রোজেন অক্সাইড নির্গমন উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনবে। সূত্র: ওডিটি সেন্ট্রাল

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ১৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

কেন ইরানের ভরসা হয়ে উঠতে পারছে না চীন

ছবি : সংগৃহীত

হরমুজে জ্বালানি পরিবহনে ইরানের সঙ্গে চুক্তি করল ইরাক ও পাকিস্তান

ভারতীয় রুপি। ছবি : সংগৃহীত

এশিয়ার সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রা এখন ভারতীয় রুপি

মোসাদ প্রধান ডেভিড বার্নিয়া ও শেন বেট প্রধান ডেভিড জিনি। ছবি : সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের সময় গোপনে আমিরাতে যান মোসাদ প্রধান

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার সমন্বয় করতে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান ডেভিড বার্নিয়া গোপনে দুইবার সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছেন বলে নতুন এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইসরায়েলের যুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক আমির বারামও একটি নিরাপত্তা প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়ে আমিরাত সফর করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ার্ল্ড স্ট্রিট জার্নাল আরব আমিরাত কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গত মার্চ ও এপ্রিলে অন্তত দুইবার আবুধাবি সফর করেন ডেভিড বার্নিয়া। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তেল আবিব ও আবুধাবির মধ্যে ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান সমন্বয় করতেই এসব সফর করা হয়। এদিকে ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম ক্যান নিউজ জানিয়েছে, দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শেন বেট-এর প্রধান ডেভিড জিনিও সাম্প্রতিক আমিরাত সফর করেছেন। এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের আরেক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ইরানের বিরুদ্ধে একাধিক গোপন হামলা চালিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটন ও তেহরানের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গত এপ্রিলে ইরানের লাভান দ্বীপের একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালায় আমিরাত। গত মাসে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই আমিরাতে একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠায় ইসরায়েল। সেই সঙ্গে এটি পরিচালনার জন্য সেনাও মোতায়েন করা হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস-এর প্রতিবেদনে দুই ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর আবুধাবি জরুরি ভিত্তিতে মিত্রদের কাছে সহায়তা চাইলে গোপনে এই মোতায়েন করা হয়। ইরান বহুবার অভিযোগ করেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত সরাসরি আগ্রাসনে ভূমিকা রাখছে। তেহরানের দাবি, আমিরাত তাদের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীকে অবস্থানের সুযোগ দিয়েছে, ইরানি ব্যক্তি ও স্থাপনা নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য মার্কিন বাহিনীকে বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে দিয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ ৪০ দিনের অভিযানের সময় পারস্য উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করা হয় বলেও দাবি করেছে তেহরান। এর মধ্যে ছিল বাহরাইন, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, এবং জর্ডান। এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ওইসব দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কৌশলগত স্থাপনা এবং দখলকৃত ভূখণ্ড লক্ষ্য করে শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরান বরাবরই হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে সহায়তাকারী যেকোনো দেশকে সরাসরি দায়ী করা হবে। সূত্র : প্রেস টিভি

মোঃ ইমরান হোসেন মে ১৩, ২০২৬
পরিস্থিতি দ্রুতই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। ছবি : সংগৃহীত

ফিলিপাইনে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সিনেটে গুলির ঘটনায় চাঞ্চল্য

ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল মোহাম্মদ আক্রামিনিয়া। ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে : ইরানের হুঁশিয়ারি

সোনিয়া গান্ধী। ছবি : সংগৃহীত

অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি সোনিয়া গান্ধী

0 Comments