সংসদ নির্বাচন জোটগতভাবে করলেও সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিজেদের শক্তিতেই করতে চাইছে জামায়াতে ইসলামী। সেই পরিকল্পনা নিয়ে ১২টি সিটি করপোরেশনে ১২ জন মেয়র পদপ্রার্থী ঠিকও করে ফেলেছে দলটি। এ ক্ষেত্রে তরুণদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বলে দলটির নেতাদের সূত্রে জানা গেছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াত অংশ নিয়েছিল ১১–দলীয় ঐক্য গড়ে। এই মোর্চায় আরও কয়েকটি ইসলামি দলের পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) ছিল। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিশেষ করে সিটি করপোরেশনে এককভাবেই প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জামায়াত নেতারা।
দলটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, একসময় শুধু রুকনদের (শপথধারী কর্মী) দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হলেও এখন সেই নীতিতে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কর্মী-সমর্থক এমনকি ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদেরও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই নীতি অনুসরণ করা হতে পারে।
এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে তরুণ নেতৃত্বকে। ২০২৪ সালের ছাত্র গণ–অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সামনে আনতে চায় জামায়াত। এই পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে দলটির ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদেরও।
জামায়াত একসময় শুধু রুকনদের মনোনয়ন দিলেও এখন সেই নীতি থেকে সরে এসেছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কর্মী-সমর্থক এমনকি ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদেরও মনোনয়ন দেওয়া হয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই নীতি অনুসরণ করা হতে পারে। এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে তরুণ নেতৃত্বকে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১–দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ ১০ মে প্রথম আলোকে বলেন, পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দলীয় প্রার্থীদের চূড়ান্ত করা হচ্ছে। প্রার্থী বাছাইয়ে অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব যোগ্যতায় কিছু এলাকায় ১১-দলীয় ঐক্যের শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা হতে পারে। তবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১১–দলীয় ঐক্যভুক্ত দলগুলো নিজ নিজ দলের প্রার্থী দেবে—এখন পর্যন্ত এমন সিদ্ধান্তই বহাল আছে বলে জানিয়েছেন জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
চার সিটিতে প্রার্থী ঘোষণা
সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য স্থানীয় শাখাগুলোকে তিন সদস্যের প্যানেল পাঠাতে বলেছিল জামায়াত। সেই তালিকা যাচাই-বাছাই করেই সম্ভাব্য প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে চার সিটির প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করতে বলা হয়েছে। দলের আলাদা আলাদা দায়িত্বশীল সমাবেশ থেকে তাঁদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী করা হচ্ছে দলের মহানগর শাখার আমির আবদুল জব্বারকে। তিনি ২০১২–২০১৩ মেয়াদে শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি এবং ২০১৪–২০১৫ মেয়াদে সভাপতি ছিলেন।
গাজীপুর সিটিতে মেয়র পদে দলটির প্রার্থী হচ্ছেন হাফিজুর রহমান, যিনি তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি। তাঁকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৬ আসনে প্রার্থী করেছিল জামায়াত। তবে উচ্চ আদালতের নির্দেশে তিনি প্রার্থিতা হারান।
চার সিটিতে জামায়াতের মেয়র প্রার্থীরা (ওপরে বাঁ থেকে) নারায়ণগঞ্জে আবদুল জব্বার এবং গাজীপুরে হাফিজুর রহমান; (নিচে বাঁ থেকে) চট্টগ্রামে শামসুজ্জামান হেলালী এবং রংপুরে এ টি এম আজম খান।
চট্টগ্রাম সিটিতে প্রার্থী করা হচ্ছে জামায়াতের চট্টগ্রাম নগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর শামসুজ্জামান হেলালীকে। সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ আসনে দলের প্রার্থী ছিলেন, তবে জিততে পারেননি। রংপুরে সিটিতে প্রার্থী হচ্ছেন দলের মহানগর আমির এ টি এম আজম খান।
ঢাকার দুই সিটিতে কারা
জামায়াতের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে বিবেচনায় আছেন। দক্ষিণে আলোচনায় রয়েছেন ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক (সাদিক কায়েম)।
সম্প্রতি সাদিক কায়েমকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনারও সৃষ্টি হয়। তবে জামায়াতের নেতারা বলছেন, নির্বাচনের সময় পর্যন্ত তাঁর ডাকসুর মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। পাশাপাশি ছাত্রত্ব শেষ হলে ছাত্রশিবিরে তিনি আর থাকবেন না। ফলে প্রার্থী হতে সাংগঠনিক কোনো বাধা থাকবে না।
জামায়াত সূত্র জানায়, ঢাকা দক্ষিণে এনসিপির পক্ষ থেকে তাঁদের দলীয় মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে জোটের প্রার্থী করার প্রস্তাব ছিল। তবে জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতাই এ প্রস্তাবে আপত্তি তোলেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা প্রথম আলোকে বলেন, ‘উপদেষ্টা থাকাকালে আসিফ মাহমুদের কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁকে সমর্থন দিলে রাজনৈতিক দায়ভার জামায়াতের ওপরই পড়বে। সে কারণে ঢাকা দক্ষিণে সমঝোতার সম্ভাবনা কম।’
কেন একক পথে?
জামায়াতের ভেতরে এখন বড় আলোচনা—জোটগত নির্বাচন নাকি একক লড়াই। দলটির নেতারা বলছেন, অতীতে বিএনপির সঙ্গে চার–দলীয় জোটে থেকেও আলাদাভাবে নির্বাচন করে তাঁরা তুলনামূলক বেশি সফলতা পেয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতাই এবার একক প্রস্তুতির পেছনে বড় কারণ।
জামায়াত নেতারা মনে করছেন, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলেছে এবং জামায়াতের জনসমর্থনও বেড়েছে। নিজেদের এখন প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে বিবেচনা করছেন তাঁরা। তাই স্থানীয় পর্যায়ে এককভাবে নির্বাচন করতেই বেশি আগ্রহ তাঁদের।
দলটির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেছে, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলেছে এবং জামায়াতের জনসমর্থনও বেড়েছে। নিজেদের এখন প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে দলটি। তাই স্থানীয় পর্যায়ে এককভাবে নির্বাচন করতেই বেশি আগ্রহ তাদের।
এককভাবে এগোচ্ছে এনসিপিও
জোটের আশা না ছাড়লেও এনসিপি স্থানীয় সরকার নির্বাচন আলাদাভাবে করার প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে। গত ২৯ মার্চ ঢাকার দুই সিটিসহ পাঁচ সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করে দলটি। সর্বশেষ গত রোববার ১০০ পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করা হয়। ২০ মে দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণার কথা রয়েছে।
তবে এনসিপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনেক নেতা এখনো ১১-দলীয় ঐক্যের হয়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা ভাবছেন।
এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম গত রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জোটগতভাবে নির্বাচন হবে, নাকি এককভাবে হবে, সেই সিদ্ধান্ত নির্বাচনের আগে হবে। তবে স্থানীয় নির্বাচনে ব্যাপক প্রস্তুতির লক্ষ্য থেকে তাঁরা এককভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেছেন।
প্রার্থী বাছাইয়ে অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব যোগ্যতায় কিছু এলাকায় ১১-দলীয় ঐক্যের শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা হতে পারে। তবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
জামায়াতের সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসও স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে নতুন গতি পেয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে সারা দেশকে ১৪টি সাংগঠনিক অঞ্চলে ভাগ করে অঞ্চল পরিচালক মনোনীত করেছে দলটি। তারা এখন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করছে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির প্রথম ধাপে প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ের কাজ প্রায় শেষ। এরপর নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা হলে দ্বিতীয় ধাপে বিভিন্ন নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন এবং তৃতীয় ধাপে গণসংযোগ শুরু হবে।
৫০ শতাংশের বেশি ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও পৌরসভায় দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করে তাঁদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। কিছু এলাকায় বাস্তবতার কারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগতে পারে বলেও জানান তিনি।
দ্রুত নির্বাচন চায় জামায়াত
২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্বে অনেক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার পর ১১টি সিটি করপোরেশনে দলীয় নেতাদের প্রশাসক পদে বসিয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে বিএনপির শাহাদাত হোসেন মেয়রের পদে রয়েছেন। বিএনপির এমন রাজনৈতিক নিয়োগ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে।
দলীয় প্রশাসকদের রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, এমন মত জামায়াতের। তাই তারা দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং প্রশাসকদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সরকার প্রশাসক নিয়োগ দিতে পারে না। তাই দ্রুত নির্বাচন দিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব ফিরিয়ে দিতে হবে।
নির্বাচন কবে?
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে ভিন্ন ভিন্ন সময়সীমার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ঈদুল ফিতরের পর থেকে সারা বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচন চলবে, এ কথা গত ১ মার্চ বলেছিলেন নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ। তার দুই মাস গড়ালেও এখনো নির্বাচনের দৃশ্যমান তৎপরতা নেই।
৫ মে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হতে পারে।
একই দিন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, চলতি বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন শুরু হবে। আর স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন শেষ হতে নির্বাচন শুরুর পর ১০ মাস থেকে ১ বছর লাগতে পারে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই মাঠ গোছাতে শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। তবে শেষ পর্যন্ত জোটগত সমঝোতা হবে, নাকি আলাদা লড়াই—তা নির্ভর করবে নির্বাচনের তফসিল ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, পরিবেশ রক্ষা আমাদের একটি জাতীয় আন্দোলন। সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে আমাদের তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষ সবুজ অর্থনীতি গড়ে তুলতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। রোববার (৯ আগস্ট) আগারগাঁওয়ের বন ভবনের হৈমন্তী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, এবারের মাসব্যাপী মেলায় মোট ৭৪টি নার্সারি অংশ নিয়েছিল। মেলা থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সবুজপ্রেমী মানুষ প্রায় ১৬ লাখ চারাগাছ ক্রয় করেছেন, যার মোট বিক্রয় মূল্য প্রায় ১৬ কোটি টাকা। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক দেশে প্রথম বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরু করেছিলেন। জলবায়ু ও পরিবেশের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর একটি বৃহৎ কর্মসূচি শুরু করেছেন। এছাড়া সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে বন অধিদপ্তর আজ দেশের দারিদ্র্য বিমোচনে এক বিপ্লব ঘটিয়েছে। এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭ হাজার হেক্টরের বেশি ব্লক ও ৮২ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি স্ট্রিপ বাগান করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৮ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ অংশীদার হয়েছেন এবং এর একটি বিশাল অংশই নারী। বনায়ন থেকে অর্জিত কাঠের অর্থ ইতোমধ্যেই সাধারণ অংশীদারদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পরিবেশমন্ত্রী দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, মেলা আনুষ্ঠানিকভাবে আজ শেষ হলেও আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়নি; বরং আসল কাজ এখন শুরু। আসুন শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্দীপনা এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বলিষ্ঠ রাজনৈতিক নেতৃত্বে একতাবদ্ধ হয়ে আমরা সবাই বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ, জলবায়ু-সহনশীল, সবুজ ও নিরাপদ সোনার বাংলায় রূপান্তরিত করার অঙ্গীকার করি। তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, প্রতিটি পরিবার ও প্রতিষ্ঠান যদি অন্তত একটি করে গাছ লাগায়, তবে ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশের বৃক্ষাচ্ছাদন ২৭ শতাংশে উন্নীত করার যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, তা সময়ের আগেই অর্জিত হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসেন চৌধুরী। তিনি দেশের উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলায় চলমান চরম বৃক্ষশূন্যতার কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রায় ৩ কোটি মানুষের এই কংক্রিটের ঢাকা শহরে বর্তমানে মাত্র সাড়ে ১০ ভাগ সবুজ এলাকা রয়েছে। অথচ একটি শহরকে বাসযোগ্য রাখতে কমপক্ষে ২০ ভাগ সবুজ থাকা প্রয়োজন। এ ঘাটতি পূরণে ঢাকা শহরের ছাদগুলোতে পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানোর তাগিদ দেন তিনি।
রাজধানীর মহাখালীর টিবি গেট এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ৫ হাজার ৫৬৭ পিস ইয়াবা, মাদক বিক্রির নগদ টাকা এবং ১৬টি দেশীয় অস্ত্রসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বনানী থানা পুলিশ। রোববার (৯ আগস্ট) ভোরে মহাখালী টিবি গেট এলাকার দুটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন— আমান উল্লাহ জুজু (৫২), তাছলিমা আক্তার (২৬) ও চৌধুরী জাহিদ রহমান (২৫)। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোর ৪টার দিকে বনানী থানার একটি দল সাততলা বস্তি এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালায়। সেখানে আমান উল্লাহ জুজু ও তাছলিমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযান থেকে উদ্ধার করা হয়— ৫ হাজার ৫৬৭ পিস ইয়াবা মাদক বিক্রির নগদ ৩৯ হাজার টাকা একই সময়ে মহাখালী টিবি গেট এলাকার আরেকটি বাসায় পৃথক অভিযান চালিয়ে চৌধুরী জাহিদ রহমানকে গ্রেপ্তার করে বনানী থানা পুলিশের আরেকটি দল। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়— ৭টি হাঁসুয়া ২টি বড় হাঁসুয়া ৩টি বিভিন্ন আকারের হাঁসুয়া ১টি বেসবল ব্যাট ১টি ডাসা ১টি ছেনি ১টি কাটানি সব মিলিয়ে মোট ১৬টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ডিএমপি জানায়, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও অস্ত্র-সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, গ্রামীণ জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। গ্রামের মানুষ যেন চিকিৎসার জন্য শহরমুখী হতে বাধ্য না হন, সে লক্ষ্যেই স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম ও সেবার মান দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, হাসপাতালটিকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা ও অবকাঠামো নিয়ে খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত দুটি ভবন অপসারণ করে নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেন। হাসপাতালে দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকায় চিকিৎসক ডা. সিদ্দিকুর রহমান টুটুল এবং নার্স রেহেনা আক্তারের এক দিনের বেতন কর্তনের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে রোগীদের খাবারের মান ও হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে তিনি হাসপাতালসংলগ্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সাকিব হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াবেটিস সেন্টার পরিদর্শন করেন। সেখানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় পরিবেশ ছাড়পত্র দেখাতে না পারায় কর্তৃপক্ষকে এক মাসের মধ্যে তা সংগ্রহের নির্দেশ দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছাড়পত্র না পেলে হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেন তিনি। এ সময় ওই হাসপাতালে সরকারি চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. ফাতেমা আক্তার সপ্তাহে তিন দিন রোগী দেখেন বলে জানতে পেরে মন্ত্রী অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট রোগী রেজিস্টারও নিয়ে যান। আকস্মিক এ পরিদর্শনে মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম ইশমাম উপস্থিত ছিলেন।