সংসদ নির্বাচন জোটগতভাবে করলেও সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিজেদের শক্তিতেই করতে চাইছে জামায়াতে ইসলামী। সেই পরিকল্পনা নিয়ে ১২টি সিটি করপোরেশনে ১২ জন মেয়র পদপ্রার্থী ঠিকও করে ফেলেছে দলটি। এ ক্ষেত্রে তরুণদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বলে দলটির নেতাদের সূত্রে জানা গেছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াত অংশ নিয়েছিল ১১–দলীয় ঐক্য গড়ে। এই মোর্চায় আরও কয়েকটি ইসলামি দলের পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) ছিল। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিশেষ করে সিটি করপোরেশনে এককভাবেই প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জামায়াত নেতারা।
দলটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, একসময় শুধু রুকনদের (শপথধারী কর্মী) দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হলেও এখন সেই নীতিতে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কর্মী-সমর্থক এমনকি ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদেরও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই নীতি অনুসরণ করা হতে পারে।
এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে তরুণ নেতৃত্বকে। ২০২৪ সালের ছাত্র গণ–অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সামনে আনতে চায় জামায়াত। এই পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে দলটির ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদেরও।
জামায়াত একসময় শুধু রুকনদের মনোনয়ন দিলেও এখন সেই নীতি থেকে সরে এসেছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কর্মী-সমর্থক এমনকি ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদেরও মনোনয়ন দেওয়া হয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই নীতি অনুসরণ করা হতে পারে। এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে তরুণ নেতৃত্বকে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১–দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ ১০ মে প্রথম আলোকে বলেন, পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দলীয় প্রার্থীদের চূড়ান্ত করা হচ্ছে। প্রার্থী বাছাইয়ে অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব যোগ্যতায় কিছু এলাকায় ১১-দলীয় ঐক্যের শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা হতে পারে। তবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১১–দলীয় ঐক্যভুক্ত দলগুলো নিজ নিজ দলের প্রার্থী দেবে—এখন পর্যন্ত এমন সিদ্ধান্তই বহাল আছে বলে জানিয়েছেন জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
চার সিটিতে প্রার্থী ঘোষণা
সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য স্থানীয় শাখাগুলোকে তিন সদস্যের প্যানেল পাঠাতে বলেছিল জামায়াত। সেই তালিকা যাচাই-বাছাই করেই সম্ভাব্য প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে চার সিটির প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করতে বলা হয়েছে। দলের আলাদা আলাদা দায়িত্বশীল সমাবেশ থেকে তাঁদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী করা হচ্ছে দলের মহানগর শাখার আমির আবদুল জব্বারকে। তিনি ২০১২–২০১৩ মেয়াদে শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি এবং ২০১৪–২০১৫ মেয়াদে সভাপতি ছিলেন।
গাজীপুর সিটিতে মেয়র পদে দলটির প্রার্থী হচ্ছেন হাফিজুর রহমান, যিনি তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি। তাঁকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৬ আসনে প্রার্থী করেছিল জামায়াত। তবে উচ্চ আদালতের নির্দেশে তিনি প্রার্থিতা হারান।
চার সিটিতে জামায়াতের মেয়র প্রার্থীরা (ওপরে বাঁ থেকে) নারায়ণগঞ্জে আবদুল জব্বার এবং গাজীপুরে হাফিজুর রহমান; (নিচে বাঁ থেকে) চট্টগ্রামে শামসুজ্জামান হেলালী এবং রংপুরে এ টি এম আজম খান।
চট্টগ্রাম সিটিতে প্রার্থী করা হচ্ছে জামায়াতের চট্টগ্রাম নগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর শামসুজ্জামান হেলালীকে। সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ আসনে দলের প্রার্থী ছিলেন, তবে জিততে পারেননি। রংপুরে সিটিতে প্রার্থী হচ্ছেন দলের মহানগর আমির এ টি এম আজম খান।
ঢাকার দুই সিটিতে কারা
জামায়াতের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে বিবেচনায় আছেন। দক্ষিণে আলোচনায় রয়েছেন ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক (সাদিক কায়েম)।
সম্প্রতি সাদিক কায়েমকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনারও সৃষ্টি হয়। তবে জামায়াতের নেতারা বলছেন, নির্বাচনের সময় পর্যন্ত তাঁর ডাকসুর মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। পাশাপাশি ছাত্রত্ব শেষ হলে ছাত্রশিবিরে তিনি আর থাকবেন না। ফলে প্রার্থী হতে সাংগঠনিক কোনো বাধা থাকবে না।
জামায়াত সূত্র জানায়, ঢাকা দক্ষিণে এনসিপির পক্ষ থেকে তাঁদের দলীয় মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে জোটের প্রার্থী করার প্রস্তাব ছিল। তবে জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতাই এ প্রস্তাবে আপত্তি তোলেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা প্রথম আলোকে বলেন, ‘উপদেষ্টা থাকাকালে আসিফ মাহমুদের কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁকে সমর্থন দিলে রাজনৈতিক দায়ভার জামায়াতের ওপরই পড়বে। সে কারণে ঢাকা দক্ষিণে সমঝোতার সম্ভাবনা কম।’
কেন একক পথে?
জামায়াতের ভেতরে এখন বড় আলোচনা—জোটগত নির্বাচন নাকি একক লড়াই। দলটির নেতারা বলছেন, অতীতে বিএনপির সঙ্গে চার–দলীয় জোটে থেকেও আলাদাভাবে নির্বাচন করে তাঁরা তুলনামূলক বেশি সফলতা পেয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতাই এবার একক প্রস্তুতির পেছনে বড় কারণ।
জামায়াত নেতারা মনে করছেন, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলেছে এবং জামায়াতের জনসমর্থনও বেড়েছে। নিজেদের এখন প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে বিবেচনা করছেন তাঁরা। তাই স্থানীয় পর্যায়ে এককভাবে নির্বাচন করতেই বেশি আগ্রহ তাঁদের।
দলটির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেছে, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলেছে এবং জামায়াতের জনসমর্থনও বেড়েছে। নিজেদের এখন প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে দলটি। তাই স্থানীয় পর্যায়ে এককভাবে নির্বাচন করতেই বেশি আগ্রহ তাদের।
এককভাবে এগোচ্ছে এনসিপিও
জোটের আশা না ছাড়লেও এনসিপি স্থানীয় সরকার নির্বাচন আলাদাভাবে করার প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে। গত ২৯ মার্চ ঢাকার দুই সিটিসহ পাঁচ সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করে দলটি। সর্বশেষ গত রোববার ১০০ পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করা হয়। ২০ মে দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণার কথা রয়েছে।
তবে এনসিপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনেক নেতা এখনো ১১-দলীয় ঐক্যের হয়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা ভাবছেন।
এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম গত রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জোটগতভাবে নির্বাচন হবে, নাকি এককভাবে হবে, সেই সিদ্ধান্ত নির্বাচনের আগে হবে। তবে স্থানীয় নির্বাচনে ব্যাপক প্রস্তুতির লক্ষ্য থেকে তাঁরা এককভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেছেন।
প্রার্থী বাছাইয়ে অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব যোগ্যতায় কিছু এলাকায় ১১-দলীয় ঐক্যের শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা হতে পারে। তবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
জামায়াতের সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসও স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে নতুন গতি পেয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে সারা দেশকে ১৪টি সাংগঠনিক অঞ্চলে ভাগ করে অঞ্চল পরিচালক মনোনীত করেছে দলটি। তারা এখন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করছে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির প্রথম ধাপে প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ের কাজ প্রায় শেষ। এরপর নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা হলে দ্বিতীয় ধাপে বিভিন্ন নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন এবং তৃতীয় ধাপে গণসংযোগ শুরু হবে।
৫০ শতাংশের বেশি ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও পৌরসভায় দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করে তাঁদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। কিছু এলাকায় বাস্তবতার কারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগতে পারে বলেও জানান তিনি।
দ্রুত নির্বাচন চায় জামায়াত
২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্বে অনেক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার পর ১১টি সিটি করপোরেশনে দলীয় নেতাদের প্রশাসক পদে বসিয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে বিএনপির শাহাদাত হোসেন মেয়রের পদে রয়েছেন। বিএনপির এমন রাজনৈতিক নিয়োগ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে।
দলীয় প্রশাসকদের রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, এমন মত জামায়াতের। তাই তারা দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং প্রশাসকদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সরকার প্রশাসক নিয়োগ দিতে পারে না। তাই দ্রুত নির্বাচন দিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব ফিরিয়ে দিতে হবে।
নির্বাচন কবে?
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে ভিন্ন ভিন্ন সময়সীমার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ঈদুল ফিতরের পর থেকে সারা বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচন চলবে, এ কথা গত ১ মার্চ বলেছিলেন নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ। তার দুই মাস গড়ালেও এখনো নির্বাচনের দৃশ্যমান তৎপরতা নেই।
৫ মে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হতে পারে।
একই দিন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, চলতি বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন শুরু হবে। আর স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন শেষ হতে নির্বাচন শুরুর পর ১০ মাস থেকে ১ বছর লাগতে পারে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই মাঠ গোছাতে শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। তবে শেষ পর্যন্ত জোটগত সমঝোতা হবে, নাকি আলাদা লড়াই—তা নির্ভর করবে নির্বাচনের তফসিল ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রত্যাশিত নবম বেতন কাঠামো চালুর লক্ষ্যে নীরবে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নতুন পে স্কেলের প্রাথমিক রূপরেখা উপস্থাপন করা হতে পারে। জীবনযাত্রার ব্যয় ও বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ বেতন কাঠামো কার্যকর করা গেলে তা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হবে। তবে নতুন স্কেলের আওতায় সব ধরনের আর্থিক সুবিধা পুরোপুরি পেতে ২০২৯ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে সংশ্লিষ্টদের। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য বরাদ্দ নিয়ে কাজ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে বাস্তবায়নের পদ্ধতি ও সময়সূচিতে কিছু কৌশলগত সমন্বয় আনা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও আর্থিক চাপ বিবেচনায় রেখে সরকার বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছে বলে জানা গেছে। খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো একযোগে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের চিন্তা করছে সরকার। শুরুতে মূল বেতনে আংশিক বৃদ্ধি দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা মোট প্রস্তাবিত কাঠামোর তুলনায় সীমিত হতে পারে। তবে দ্রব্যমূল্যের বর্তমান ঊর্ধ্বগতির মধ্যে এ উদ্যোগ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ স্বস্তি বয়ে আনবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। পরে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বেতন সুবিধা ও ভাতা সমন্বয়ের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে। পে-কমিশনের সুপারিশে প্রায় ১৪ লাখ কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখ অবসরভোগীর আর্থিক সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। তবে একসঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থ ছাড়ের চাপ সামাল দিতে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কৌশল নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮-২৯ অর্থবছরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সুবিধা কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে রাষ্ট্রীয় অর্থভাণ্ডারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না হয়। একই সঙ্গে প্রশাসনের বিভিন্ন ক্যাডারের পাশাপাশি বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্য পৃথক বা বিশেষায়িত বেতন কাঠামো প্রণয়নের কাজও এগিয়ে চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। আসন্ন জাতীয় বাজেটের আগেই ‘জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫’-এর চূড়ান্ত সুপারিশ প্রকাশ ও বাস্তবায়নের জোরালো আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি। সংগঠনটির নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল ঘোষণার পর থেকে জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে গেলেও এখনো নবম পে-স্কেল কার্যকর হয়নি। ফলে দ্রব্যমূল্য, বাসাভাড়া ও চিকিৎসা খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীরা। প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ (গ্রেড অনুযায়ী তালিকা) নিচে ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত জাতীয় বেতন স্কেলের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেওয়া হলো, যা সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি করেছে: গ্রেড বেতন স্কেল (টাকা) ০১ ১,৬০,০০০/- টাকা (নির্ধারিত) ০২ ১,৩২,০০০ – ১,৫৩,০০০ টাকা ০৩ ১,১৩,০০০ – ১,৪৮,৮০০ টাকা ০৪ ১,০০,০০০ – ১,৪২,৪০০ টাকা ০৫ ৮৬,০০০ – ১,৩৯,৭০০ টাকা ০৬ ৭১,০০০ – ১,৩৪,০০০ টাকা ০৭ ৫৮,০০০ – ১,২৬,৮০০ টাকা ০৮ ৪৭,২০০ – ১,১৩,৭০০ টাকা ০৯ ৪৫,১০০ – ১,০৮,৮০০ টাকা ১০ ৩২,০০০ – ৭৭,৩০০ টাকা ১১ ২৫,০০০ – ৬০,৫০০ টাকা ১২ ২৪,৩০০ – ৫৮,৭০০ টাকা ১৩ ২৪,০০০ – ৫৮,০০০ টাকা ১৪ ২৩,৫০০ – ৫৬,৮০০ টাকা ১৫ ২২,৮০০ – ৫৫,২০০ টাকা ১৬ ২১,৯০০ – ৫২,৯০০ টাকা ১৭ ২১,৪০০ – ৫১,৯০০ টাকা ১৮ ২১,০০০ – ৫০,৯০০ টাকা ১৯ ২০,৫০০ – ৪৯,৬০০ টাকা ২০ ২০,০০০ – ৪৮,৪০০ টাকা বি:দ্র: এটি একটি প্রস্তাবিত তালিকা মাত্র। সরকারি প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশিত হলে সেটিই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা সেলিনা হোসেন কাজ করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। দিনভর অফিসে ব্যস্ত সময় পার করে ক্লান্ত শরীরে সন্ধ্যায় বাসায় ফেরেন। এরপর পরিবারের সদস্যদের জন্য যান রান্না করতে। আর তখনই ঘটছে বিপত্তি। কারণ নিভুনিভু করে জ্বলতে থাকা চুলার আগুনের সেই তাপে তো আর রান্না করা যায় না। রাত ১২টার আগে চুলায় গ্যাসের চাপ না আসায় তাকে অপেক্ষা করতে হয় মধ্যরাত পর্যন্ত। আবাসিকে গ্যাসের এ বিড়ম্বনা শুধু সেলিনা হোসেনের নয়। রাজধানীর অধিকাংশ এলাকার বাসিন্দারা বর্তমানে গ্যাস সংকটের মধ্যে রয়েছেন। দিনের অধিকাংশ সময় পাইপলাইনের চুলায় গ্যাস থাকছে না, আসে গভীর রাতে। এতে করে গৃহিণী ও কর্মজীবী উভয়েই পড়ছেন বিপাকে। সেলিনা হোসেন বলেন, সকাল-দুপুর বাইরেই খেতে হয়। সারাদিন অফিস শেষে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরে ইচ্ছা হয় দ্রুত সব কাজ শেষ করে বিশ্রাম নেওয়ার। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়ে ওঠে না। গ্যাসের অপেক্ষায় বসে থাকা লাগে। এমনও অনেক দিন গেছে, ছুটির সময়ে দুপুরে রান্না করতে পারিনি, খাওয়াও হয়নি পরিবারের সদস্যদের। পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, দেশীয় গ্যাস খাতের উৎপাদন প্রতিনিয়তই কমছে। বুধবার দেশের ২২ গ্যাসক্ষেত্র থেকে মোট গ্যাস উৎপাদিত হয়েছে ৯৬৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। অথচ গত বছর একই দিনে গ্যাস উৎপাদিত হয়েছ ১১২৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। অর্থাৎ, বছরের ব্যবধানে গ্যাস উৎপাদন কমেছে ১৫৭ মিলিয়ন ঘনফুট বিজ্ঞাপন গ্যাসের এ বিড়ম্বনার কথা জানান মিরপুরে বসবাসকারী গৃহিণী হোসনে আরা। তিনি বলেন, সকাল থেকে চুলায় কোনো গ্যাস থাকে না, মিটিমিটি জ্বলে। তা দিয়ে রান্নাবান্না করা সম্ভব হয় না। সারাদিন শেষে রাত ১২-১টা নাগাদ গ্যাসের চাপ আসে। এ ভোগান্তির শেষ কবে, জানা নেই। পাইপলাইন গ্যাসের এ দুর্ভোগ শুধু মোহাম্মদপুর বা মিরপুরেই নয়; বিরাজ করছে রাজধানীর অধিকাংশ এলাকাজুড়েই। রামপুরা, বাড্ডা, বনশ্রী, মগবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ভোগান্তি পোহাচ্ছেন গ্রাহকরা। বাড্ডা নিবাসী মো. ফাহাদ বলেন, সারাদিন বা সন্ধ্যায়ও চুলায় গ্যাস থাকে না, একেবারে রাতে আসে। এতে করে রান্নাবান্না, খাওয়া-দাওয়ার রুটিন ওলট-পালট হয়ে গেছে। বেড়েছে খরচ সরকারি পাইপলাইনের দুই চুলার গ্যাস বিল বর্তমানে ১০৮০ টাকা। যদিও, গ্যাস সংকটে এ বিল এখন গ্রাহকের বাড়তি বোঝা হয়েই দাঁড়িয়েছে। রাতজেগে অধিকাংশ গ্রাহকের পক্ষে রান্নাবান্নার কাজ করা সম্ভব হয় না। ফলে একপ্রকার বাধ্য হয়ে গ্রাহকদের কিনতে হয় এলপি গ্যাস। বর্তমানে বিদ্যুতে সরবরাহ করা হচ্ছে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস, যদিও তাদের চাহিদা ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। একইভাবে সারে এখন চাহিদা ২৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট, সরবরাহ করা হচ্ছে ১৬৫ মিলিয়ন ঘনফুট। প্রধান খাতগুলো ঘাটতিতে থাকায় চাপ এসে পড়ছে আবাসিকে, ফলে গ্রাহকরা ভোগান্তির মধ্যেই রয়ে যাচ্ছেন যদিও, এলপি গ্যাসের দাম সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি। সর্বশেষ ১২ কেজি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। ‘বাজার অব্যবস্থাপনায়’ গ্রাহকদের তা কিনতে হয় ২১০০-২২০০ টাকায়। ফলে, শুধু গ্যাসের পেছনেই প্রতি মাসে গ্রাহকের খরচ হচ্ছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা। মিরপুর নিবাসী জসীম উদ্দিন বলেন, প্রতি মাসে ঠিকই বিল দিই, অথচ গ্যাস আসে মাঝরাতে। সে সময় গ্যাস দিয়ে আমি কী করবো? সংকটের কারণ কী? গ্যাস সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে খাতসংশ্লিষ্টরা সরবরাহের পরিমাণ কমে যাওয়াকেই উল্লেখ করছেন। দেশে বর্তমানে গ্যাসের দৈনিক মোট চাহিদা ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বুধবার (১৩ মে) পর্যন্ত মোট সরবরাহ করা হয়েছে ২৭২৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এর মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাস খাত থেকে এসেছে ১৬৭৩ মিলিয়ন ঘনফুট ও এলএনজি থেকে এসেছে ১০৫১ মিলিয়ন ঘনফুট। পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, দেশীয় গ্যাস খাতের উৎপাদন প্রতিনিয়তই কমছে। বুধবার দেশের ২২ গ্যাসক্ষেত্র থেকে মোট গ্যাস উৎপাদিত হয়েছে ৯৬৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। অথচ গত বছর একই দিনে গ্যাস উৎপাদিত হয়েছে ১১২৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। অর্থাৎ, বছরের ব্যবধানে গ্যাস উৎপাদন কমেছে ১৫৭ মিলিয়ন ঘনফুট। দেশে সবচেয়ে বেশি গ্যাস উৎপাদনকারী বিবিয়ানা গ্যাসফিল্ডের উৎপাদন কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। গতবছর একইদিনে (১৩ মে) ক্ষেত্রটি গ্যাস উৎপন্ন করেছিল ৯৩৩ মিলিয়ন ঘনফুট, গতকাল যা উৎপাদন করেছে ৭৯০ মিলিয়ন ঘনফুট। পেট্রোবাংলা বলছে, বিবিয়ানার উৎপাদন ২০২৯ সালের শুরুতে ৪৫০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসতে পারে। দেশে গ্যাসের যে সংকট রয়েছে, সেটি আরো প্রকট করে তুলেছে অবৈধ সংযোগ। প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করেও তা রোধ করা যাচ্ছে না। এতে করে বৈধ গ্রাহকরা গ্যাসের চাপ কম পাচ্ছেন এদিকে, গ্যাসের চাহিদা সামাল দিতে ২০১৮ সালে দেশে এলএনজি সরবরাহ শুরু করা হয়। ওই সময় দেশীয় উৎস থেকে দৈনিক সরবরাহ হতো ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বাইরে তখন একটি এলএনজি টার্মিনাল দিয়ে দৈনিক ৩০০ থেকে ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হতো। এরপর ক্রমান্বয়ে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমতে থাকায় আরও একটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা হয়। দুটি টার্মিনাল দৈনিক ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারে। এখন দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমতে থাকায় অবকাঠামো না থাকায় এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি করাও সম্ভব নয়। নতুন টার্মিনাল স্থাপন করলেও ২০২৮ সালের আগে তা উৎপাদনে আসতে পারবে না। গুরুত্বের তালিকায় নেই আবাসিক খাত! তিতাস গ্যাসের আওতায় বর্তমানে পাইপলাইন গ্যাসের গ্রাহক রয়েছেন ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ৯৬৪ জন। তবে সরকারি নীতির অধীনে, গ্যাস সরবরাহের তালিকায় আবাসিক খাত এখন গুরুত্বের তালিকায় নেই। সরকার প্রধানত এখন গুরুত্ব দিচ্ছে বিদ্যুৎ, সার এবং ইন্ডাস্ট্রিতে। বর্তমানে বিদ্যুতে সরবরাহ করা হচ্ছে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস, যদিও তাদের চাহিদা ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। একইভাবে সারে এখন চাহিদা ২৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট, সরবরাহ করা হচ্ছে ১৬৫ মিলিয়ন ঘনফুট। প্রধান খাতগুলো ঘাটতিতে থাকায় চাপ এসে পড়ছে আবাসিকে, ফলে গ্রাহকরা ভোগান্তির মধ্যেই রয়ে যাচ্ছেন। তিতাস সূত্রে জানা যায়, সামগ্রিক গ্যাস সংকটের বিষয়টি উপলব্ধি করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আবাসিক খাতে গ্যাসের সংযোগ একেবারেই বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে ছিল। তার বিপরীতে এলপিজি ব্যবহারের বিষয়টি বিকল্প সমাধান হিসেবে ভাবা হয়। তার ধারাবাহিকতায় শর্তসাপেক্ষে সরকারিভাবে এলপিজি আমদানি করতে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি বিপিসিকে নীতিগত অনুমোদন দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। গ্যাস সংকটের ফলে আবাসিকে পুরোপুরি গ্যাস দেওয়াও সম্ভব নয়। কারণ বিদ্যুৎ, সারে গ্যাস দিতে গিয়ে সেখানেও একটা ঘাটতি যাচ্ছে। আমার মতে, আবাসিকে গ্যাস সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া উচিত এবং বিকল্প হিসেবে সেখানে এলপিজির ব্যবহার বাড়ানো উচিত এদিকে, আবাসিকে গ্যাস সংকটের বিষয়টির সমাধানে প্রিপেইড গ্যাস মিটার স্থাপনের উদ্যোগ নেয় তিতাস গ্যাস। বর্তমানে ৪ লাখ ৪০ হাজার গ্রাহক প্রিপেইড মিটারের অধীনে রয়েছেন। তিতাস আরো ১৭ লাখ প্রিপেইড মিটার স্থাপনের পরিকল্পনার খসড়া মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। তবে, নতুন সরকার সে প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়নি। কি বলছেন সংশ্লিষ্টরা? গ্যাস সংকটের কারণ হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাসের পরিমাণ কমে যাওয়ার পাশাপাশি, অবৈধ সংযোগকেও বহুলাংশে দায়ী করছেন তিতাসের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান। ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেন, দেশে গ্যাসের যে সংকট রয়েছে, সেটি আরো প্রকট করে তুলেছে অবৈধ সংযোগ। প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করেও তা রোধ করা যাচ্ছে না। এতে করে বৈধ গ্রাহকরা গ্যাসের চাপ কম পাচ্ছেন। তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে গ্যাসের উৎপাদন না বাড়লে সংকট কাটার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এখন বিদ্যুৎ, সারে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। আর সহসা এলএনজির সরবরাহ বাড়ানোও সম্ভব নয়। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেন বলেন, গ্যাস সংকটের ফলে আবাসিকে পুরোপুরি গ্যাস দেওয়াও সম্ভব নয়। কারণ বিদ্যুৎ, সারে গ্যাস দিতে গিয়ে সেখানেও একটা ঘাটতি যাচ্ছে। আমার মতে, আবাসিকে গ্যাস সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া উচিত এবং বিকল্প হিসেবে সেখানে এলপিজির ব্যবহার বাড়ানো উচিত। তবে অবশ্যই, সেজন্য এলপিজিতে সরকারের ভর্তুকি দিতে হবে, যাতে জনগণের ওপর চাপ না পড়ে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজ পোলিও টিকা অনুদান হিসেবে প্রদান করেছে চীনের শীর্ষস্থানীয় টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাইন্ডেশন। বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) চলমান কার্যক্রমকে আরও বেশি বেগবান, গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে এই টিকা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ উপলক্ষে আজ (বুধবার) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লী সাওপোং এবং সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের চিফ বিজনেস ডাইরেক্টর লী নিং ও উপস্থিত ছিলেন। টিকা নিয়ে বাংলাদেশের এই দুঃসময়ে সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশনের টিকা অনুদানের জন্য চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক খাতের পরম বন্ধু হিসেবে চীন যে বাংলাদেশের পাশে আছে সেটা আবারও প্রমাণিত হল। মন্ত্রী বলেন, হামের টিকার ব্যবস্থা হলেও এখনও ডেঙ্গু, পোলিও ও হান্টাসহ অনেক রোগ চোখ রাঙ্গাচ্ছে। এগুলো মোকাবিলা করা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ। তবে, পোলিও, যক্ষাসহ যেসব রোগের টিকার প্রয়োজন তার কোনো ঘাটতি নেই। এসব রোগ প্রতিরোধে টিকা কার্যক্রম চলছে। এখন পর্যন্ত ৬ মাস থেকে ৫ বছর পর্যন্ত প্রায় সব শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে। বাকিদের শিগগিরই টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি আরও জানান, শিগরিরই ‘ভিটামিন-এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন’ শুরু হবে। সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের চিফ বিজনেস ডাইরেক্টর লী নিং বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা করতে পেরে আমরা অত্যন্ত গর্বিত। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সিনোভ্যাকের তৈরি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রি-কোয়ালিফিকেশন যোগ্যতা অর্জনকারী ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮৪ ডোজ পোলিও (এসআইপিভি) ভ্যাকসিন অনুদান প্রদান করতে পেরে আমরা আনন্দিত।’ তিনি আরও বলেন, আশা করি এই টিকা বাংলাদেশের ইপিআই কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে, শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং দেশের পোলিও নির্মূল কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। লী নিং জানান, বাংলাদেশের নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে ভবিষ্যতেও সিনোভ্যাক পাশে থেকে দু’দেশের মধ্যকার বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করে যেতে সিনোভ্যাক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উল্লেখ্য, চীনা টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাকের তৈরি মোট ৭৬,৬১৬ ভায়াল (৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজ) পোলিও টিকার চালান এরই মধ্যে ইপিআই সংরক্ষণাগারে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে পরবর্তীতে চাহিদা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন এলাকার টিকাদান কেন্দ্রে হবে। সিনোভ্যাকের তৈরি পোলিও (পোলিওমাইলাইটিস ভ্যাকসিন, ভেরো সেল, ইনঅ্যাক্টিভেটেড সেভিন স্ট্রেইন-এসআইপিভি)- টিকা ২০২২ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে প্রি-কোয়ালিফিকেশন যোগ্যতা অর্জন করে। বৈশ্বিক পোলিও নির্মূল প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সিনোভ্যাক ইতোমধ্যে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় একই ভ্যাকসিন সফলভাবে সরবরাহ করে আসছে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকতা, চীনা দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি হোআং মৌচং, সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের হেড অব ইন্টারন্যাশনাল রেগুলেটরি ওয়াং পোং এবং সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই), ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।