আসন্ন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের ওপর সরাসরি অগ্রিম আয়কর আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে একেবারে খালি হাতে ফিরছে না সংস্থাটি। সরাসরি কর আদায়ের জনপ্রিয়তাবিরোধী পথে না হেঁটে, এবার ‘কৌশলী’ পথ বেছে নিয়েছে এনবিআর। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন (সিসি) মোটরসাইকেল এবং একাধিক অটোরিকশার মালিকদের রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে করের জালে বাঁধা হচ্ছে এই দুই খাতকে।
সরাসরি কর আরোপ না করলেও যাদের একাধিক অটোরিকশা আছে, নতুন বাজেটে তাদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। অর্থাৎ, এর মাধ্যমে অটোরিকশা ব্যবসায়ীদের করের আওতায় আনা হবে।
অন্যদিকে, সাধারণ মোটরসাইকেল মালিকদের ওপর সরাসরি আয়কর আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে ১৬৫ সিসির (ইঞ্জিন ক্ষমতা) ওপরের মোটরসাইকেল মালিকদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এখন থেকে এসব মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন কিংবা নবায়ন করতে হলে আয়কর রিটার্নের প্রাপ্তি স্বীকার (পিএসআর) দাখিল করতে হবে।
সাধারণ মোটরসাইকেল মালিকদের রেহাই মিললেও, ১৬৫ সিসির ওপরের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন ও নবায়ন করতে এখন থেকে আয়কর রিটার্নের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র (পিএসআর) দাখিল করতে হবে
এ বিষয়ে এনবিআরের আয়কর বিভাগের দায়িত্বশীল একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের খসড়ায় প্রথমে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় আয়কর আরোপের সুপারিশ ছিল। এরপর মোটরসাইকেল মালিকদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে করের হার কমানো হয়। সর্বশেষ দুই ধরণের যানবাহন থেকে সরাসরি কর আদায়ের সিদ্ধান্ত বাতিল হয়েছে। তবে রাজস্ব আদায় সহজ করতে সরাসরি আদায় না করে ভিন্ন কৌশলে কর সংগ্রহ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, মোটরসাইকেল কিংবা আটোরিকশা উভয় যানবাহন যেহেতু সাধারণ মানুষ ব্যবহার করে থাকে। তাই এনবিআর বিলাসবহুল মোটরসাইকেল (যেমন-১৬৫ সিসি ওপরে ) মালিকদের আয়কর রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা হবে। কারণ এই ধরনের বাহন রাইড শেয়ারিংয়ে কম ব্যবহৃত হয় বা হয় না বললেই চলে। তাই রেজিস্ট্রেশন ও নবায়নে রিটার্ন স্লিপ দেখাতে হবে। ফলে আয়কর দিতে বাধ্য হবেন তারা। অন্যদিকে অটোরিকশা শ্রমজীবী মানুষের বাহন হিসাবে আয়কর দিতে হবে না। তবে যারা একাধিক অটোরিকশা দিয়ে দিনের পর দিন ব্যবসা করে আসছে তাদের থেকে আয়কর আদায়ের চেষ্টা থাকবে আগামী বাজেটে। এক্ষেত্রে অটোরিকশা ব্যবসায়ীকে প্রতি বছর আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
এনবিআরের প্রস্তাবিত বাজেটের খসড়ার প্রথম দিকে ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল করমুক্ত রেখে ১১১ থেকে ১২৫ সিসি হলে দুই হাজার টাকা, ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসি পর্যন্ত পাঁচ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি হলে প্রতি বছর ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর আদায়ের প্রস্তাব ছিল। পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় শেষে কর কমিয়ে আমাদের নতুন প্রস্তাব তৈরি করা হয়। ওই প্রস্তাবে ১১০ সিসি থেকে ১২৫ সিসি পর্যন্ত হাজার টাকা, ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসি পর্যন্ত ৩ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি হলে বছর প্রতি ৫ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর আদায়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। এবার সেখানে থেকেও সরে আসলো এনবিআর।
শ্রমজীবী মানুষের বাহন হিসেবে সাধারণ অটোরিকশা চালকদের কর দিতে হবে না; তবে যাদের একাধিক অটোরিকশা রয়েছে এবং যারা এটি দিয়ে ব্যবসা করছেন, তাদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে
এনবিআর সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে মোটরসাইকেল কিংবা অটোরিকশার চালকদের কোনো অগ্রিম আয়কর দিতে হয় না। তবে মোটরসাইকেল চালকদের এককালীন নিবন্ধন ফি ও ২ বছর পরপর রোড ট্যাক্স দিতে হয়। ৫০ থেকে ১২৫ সিসি মোটরসাইকেলের সর্বমোট রেজিস্ট্রেশন ফি ৯ হাজার ২৯১ টাকা। পরবর্তী ২ বছর পরপর প্রতি কিস্তি এক হাজার ১৫০ টাকা করে ৪টি কিস্তিতে অবশিষ্ট চার হাজার ৬০০ টাকা রোড ট্যাক্স পরিশোধ করতে হয়। ১২৫ সিসির বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন ফি ১১ হাজার ৭৬৪ টাকা। পরবর্তী ২ বছর পরপর প্রতি কিস্তি ২,৩০০ টাকা করে ৪টি কিস্তিতে অবশিষ্ট ৯ হাজার ২০০ টাকা রোড ট্যাক্স পরিশোধ করতে হয়। বিদ্যমান আয়কর আইন অনুযায়ী, গাড়ির মালিকদের প্রতিবছর ফিটনেস নবায়নের সময় নির্দিষ্ট হারে অগ্রিম আয়কর দিতে হয়, যা বার্ষিক আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় মূল করের সঙ্গে সমন্বয় করা যায়।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৪৮ লাখ ৭০ হাজার ৭৮০। গড়ে প্রতিটি মোটরসাইকেল থেকে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে কর আদায় করা হলে সরকারের কোষাগারে বছরে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি কর আদায় করা যেতো। তবে বর্তমানে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর দুই হাজার ৫০০ টাকা, সিসিভেদে প্রাইভেট কার ও জিপে এই কর ২৫ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত, দোতলা বাস, এসি মিনিবাস ও কোস্টারের ক্ষেত্রে ২৫ হাজার টাকা, ৫২ আসনের বেশি বাসে ২৫ হাজার টাকা এবং এর কম আসনের বাসে ২০ হাজার টাকা কর দিতে হয়। আর এসি বাসে ৫০ হাজার টাকা এবং নন-এসি মিনিবাস বা কোস্টারের ক্ষেত্রে ১২ হাজার ৫০০ টাকা অগ্রিম আয়কর রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৭মে এনবিআরের সামনে কর আরোপের প্রতিবাদে মানববন্ধন করে স্বারকলিপি দিয়েছিল মটরসাইকেল চালকরা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার জন্য এনবিআর চেয়ারম্যানকে ওই স্মারকলিপি দেয়। যেখানে প্রস্তাবিত বাজেটে মোটরসাইকেলের ওপর আরোপিত অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহারের প্রস্তাব ছিল।
সারা দেশে চলাচল করা ৫০ লাখেরও বেশি ব্যাটারিচালিত রিকশাকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে এবং শৃঙ্খলায় ফেরাতে শিগগিরই চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে ‘বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫’
বাইকারদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশে মোটরসাইকেল বর্তমানে কেবল শখের বাহন নয়; বরং এটি লাখো মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত, কর্মসংস্থান ও জীবিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, রাইড শেয়ারিং চালকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সময় সাশ্রয় ও যানজট এড়াতে মোটরসাইকেলের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে অনেক নারীও ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলের মাধ্যমে নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে চলাচল করছেন। মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা ইতোমধ্যে রেজিস্ট্রেশন ফি, রোড ট্যাক্স, ফিটনেস, বিমা এবং জ্বালানির ওপর বিদ্যমান কর পরিশোধ করে আসছেন। এর পাশাপাশি নতুনভাবে অগ্রিম আয়কর আরোপ মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে।
স্মারকলিপিতে বাইকারদের চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। যৌক্তিকভাবে পুনর্বিবেচনা করা। মোটরসাইকেলকে বিলাসী পণ্য হিসেবে বিবেচনা না করে সাধারণ জনগণের প্রয়োজনীয় পরিবহন মাধ্যম হিসেবে মূল্যায়ন করা। বাইকারদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি না করে পরিবহন খাতকে জনবান্ধব ও বাস্তবসম্মত রাখার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। নারী বাইকারদের নিরাপদ ও স্বাধীন চলাচলের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মোটরসাইকেলের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা।
দেশে নিবন্ধিত ৪৮ লাখ ৭০ হাজার ৭৮০টি মোটরসাইকেল থেকে সরাসরি কর আদায় করা হলে বছরে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আসতো। তবে জনস্বার্থে সেই পথে না হেঁটে বিলাসবহুল বাইক ও একাধিক অটোরিকশার মালিকদের পরোক্ষভাবে করজালে বাঁধার কৌশল নিয়েছে সরকার
অন্যদিকে ব্যাটারিচালিত রিকশায় কোনো ধরনেরই কর দিতে হয় না। খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্যানুসারে, সারা দেশে ৫০ লাখেরও বেশি ব্যাটারিচালিত রিকশা রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকাতেই চলাচল করছে ১০ থেকে ১২ লাখের মতো। এসব রিকশা নিবন্ধনের আওতায় আনতে গত বছর ‘বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৫’র খসড়া করেছিল সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ। যা শিগগিরই চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে।
খসড়া ওই নীতিমালায় বলা হয়, গতি ও গাড়ির ধরনভেদে বিআরটিএ থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন নিতে হবে। কোনো ব্যক্তি নিজ নামে মধ্যম গতির তিনটির বেশি বা গঠিত পরিবহণ কোম্পানির নামে ২৫টির বেশি অটোরিকশা ক্রয় ও নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। ধীরগতির অটোরিকশার ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ পাঁচটি কিনতে ও নিবন্ধন করতে পারবেন। অনুমোদিত ডিলার বা বিক্রেতা নিবন্ধনসংক্রান্ত যাবতীয় কাজ সম্পন্ন না করে মধ্যম ও ধীরগতির বৈদ্যুতিক-অটোরিকশা ক্রেতার কাছে হস্তান্তর করতে পারবেন না।
বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলারের ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্ধারিত হারে কর বা শুল্ক প্রযোজ্য হবে। এ নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত থ্রি-হুইলার ও সমজাতীয় মোটরযান চলাচলের ক্ষেত্রে নিবন্ধন সনদ, হালনাগাদ ফিটনেস সনদ, ট্যাক্স টোকেন গ্রহণের বাধ্যবাধকতা আওতায় আনা হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশকে শতভাগ পণ্যে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা দিচ্ছে চীন। তবে এ সুবিধা পেয়েও দেশটিতে পণ্য রপ্তানি বাড়ানো যায়নি। দুই দেশের মধ্যে প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বার্ষিক বাণিজ্যের মধ্যে ১৯ বিলিয়ন ডলারই চীনের অনুকূলে; বাংলাদেশের বাণিজ্য ১ বিলিয়ন ডলারেরও কম। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে এ বৈষম্য কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্রগুলো জানায়, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি ও প্রযুক্তি সহযোগিতাসহ ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাণিজ্যঘাটতি কমানো, এলডিসি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে চীনা অর্থায়ন। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়টি এত গুরুত্ব পাচ্ছে যে, বাংলাদেশের অবকাঠামো প্রকল্পে সহজ শর্তে অর্থায়নের জন্য চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির (এফটিএ) বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে চীন শতভাগ পণ্যে শুল্ক সুবিধা দিচ্ছে। এলডিসি উত্তরণের পর এই সুবিধা আর পাওয়া যাবে না। সে কারণে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) দুই দেশের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্মকর্তারা জানান, এফটিএ চুক্তি করতে দুই দেশের মধ্যে একটি যৌথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরে সমীক্ষার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য ‘ভৌত বা প্রত্যক্ষ আলোচনা’ শুরুর বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে। কৃষিপণ্য রপ্তানিতে সমঝোতা স্মারক : চীনে কৃষিপণ্য বিশেষ করে আম ও কাঁঠাল রপ্তানিতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে পারে। চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস সম্প্রতি বাংলাদেশি তাজা আম আমদানির ফাইটোস্যানিটারি (উদ্ভিদ স্বাস্থ্যবিষয়ক) প্রয়োজনীয়তা অনুমোদন করেছে। এ সফরে এ-সংক্রান্ত দ্বিপক্ষীয় প্রোটোকল চূড়ান্ত ও কার্যকর হতে পারে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বাংলাদেশের কৃষি খাতের জন্য এ সফরের সবচেয়ে বড় অর্জন হতে পারে চীনের বিশাল বাজারে আম ও কাঁঠাল রপ্তানির প্রটোকল স্বাক্ষর। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ-সংক্রান্ত যেসব বিষয় আলোচনায় থাকছে : প্রধানমন্ত্রীর সফরে পণ্য রপ্তানির পাশাপাশি সেবা খাতে চীনের বিনিয়োগ বাড়িয়ে বাণিজ্যঘাটতি কমানোর বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়াতে সম্প্রতি চট্টগ্রামের আনোয়ারায় একটি ইকোনমিক জোনের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। মোংলায় দ্বিতীয় আরেকটি চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বড় ধরনের অগ্রগতি হতে পারে। ডিজিটাল অর্থনীতি এবং তথ্য-প্রযুক্তিতে দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ জোরদার করতে একটি বিশেষ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে পারে। দুই দেশের মুদ্রা বিনিময় সহজ করতে বাংলাদেশে চীনের ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবের পাশাপাশি ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’ এবং চীনের ‘ন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রেগুলেটরি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’-এর মধ্যে ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। এ ছাড়া অবকাঠামো খাতে সহায়তা হিসেবে মোংলা পোর্টের আধুনিকায়ন ও সংস্কারের জন্য একটি ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি সইয়ের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু সংস্কার ও নতুন নবম চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে দুই দেশের মধ্যে লেটার অব এক্সচেঞ্জ বিনিময় হতে পারে। বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে চীনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। বাংলাদেশ চীনের গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এউও)-এ আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হতে সমঝোতা স্মারক সই করতে পারে। এ ছাড়া ব্রিকস ও আরসিইপি জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিতে চীনের সমর্থন চাওয়া হবে। বাংলাদেশ-চীন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, চীন আমাদের শতভাগ শুল্ক সুবিধার মাধ্যমে যে সুযোগটি দিয়েছে তা কাজে লাগানো যায়নি। এখন সময় তো কাজে লাগানোর। আমরা ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ নামে একটি ব্রান্ড হিসেবে চীনে পরিচিত হতে চাই। সে লক্ষ্যে, প্রধানমন্ত্রীর সফর কেন্দ্র করে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতের কাছে কিছু সুনির্র্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বিসিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে। এর মধ্যে চীনের বিভিন্ন শহরে ৩০টি আউটলেট স্থাপন, যেখানে বাংলাদেশি পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি হবে; টেকনোলজি ট্রান্সফার : চীনা প্রযুক্তি বিষয়ে বাংলাদেশিদের দক্ষতা বাড়াতে ২০টি পলিটেকনিক স্কুল স্থাপন; এবং বাংলাদেশে একটি ব্যাংক স্থাপন, যার মাধ্যমে দুই দেশের মুদ্রা বিনিময়ের পাশাপাশি বাণিজ্যিক এলসি করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে গতিশীল করতে নীতিগত সংস্কার, কর ও শুল্ক হ্রাস এবং সহজ অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ‘সৌর বিপ্লব’ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার ক্ষেত্র হতে পারে, বিশেষ করে রুফটপ সোলার ও বিতরণভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্প্রসারণে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘পাকিস্তানে সৌর বিপ্লব: জাতীয় বাজেটের দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা’ শীর্ষক এক সংলাপের আয়োজন করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংলাপে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে অগ্রসর হওয়ার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ইতিবাচক হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, “পাকিস্তানে স্বল্প সময়ে সৌরবিদ্যুতের বিস্তৃত ব্যবহার বিদ্যুৎ খাতের চিত্র বদলে দিয়েছে। বাংলাদেশও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারে।” তিনি জানান, এবারের বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যান (ইভি) ও ব্যাটারি শিল্পে কিছু কর ও রাজস্ব সুবিধা রাখা হয়েছে। তবে কৃষি খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, “জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচির অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাদ ব্যবহার করে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।” সংলাপে উপস্থাপিত ‘সোলার রাশ’ শীর্ষক প্রবন্ধে মোহাম্মদ বাসিত ঘৌরি বলেন, “বাংলাদেশ সৌরবিদ্যুতের রূপান্তরের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। তবে উচ্চ কর, অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা এবং নীতিগত জটিলতা এ খাতের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।” তিনি জানান, ২০২৫ অর্থবছরে পাকিস্তানে সৌর প্যানেল আমদানি ১৭ দশমিক ৯ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে, যা দেশটির গ্রিড সক্ষমতার চেয়েও বেশি। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ২৮ থেকে ৩৮ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপিত হয়েছে, যার বড় অংশই বিতরণভিত্তিক ব্যবস্থায়। তার ভাষ্যে, বিদ্যুতের উচ্চমূল্য ও গ্রিড ব্যবস্থার ওপর আস্থাহীনতা পাকিস্তানে সৌরবিদ্যুতের দ্রুত বিস্তারের প্রধান কারণ। পাশাপাশি চীনে উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে সৌর প্যানেলের দাম কমে যাওয়া এই খাতে ‘সোলার রাশ’ তৈরি করেছে। তিনি আরও বলেন, “পাকিস্তানে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৭৩ লাখ পরিবার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, যার বড় অংশই গ্রামীণ এলাকায়।” সৌরবিদ্যুতের কারণে বিপুল পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ কমেছে এবং আমদানি ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সংলাপে উপস্থাপিত আরেকটি গবেষণা প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশের সোলার হোম সিস্টেম একসময় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অফ-গ্রিড কর্মসূচি ছিল এবং দুই কোটির বেশি মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এনেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই কর্মসূচির গতি কমে এসেছে এবং অনেক সিস্টেম অকার্যকর হয়ে পড়েছে। গবেষণায় বলা হয়, দেশে বর্তমানে নেট-মিটারিংভিত্তিক রুফটপ সোলার স্থাপনার সংখ্যা সীমিত হলেও তা ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে উচ্চ কর, নেট মিটারিং অনুমোদনের জটিলতা, অর্থায়নের ঘাটতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতা খাতটির বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ বলেন, “সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কর-সুবিধা দিয়েছে এবং সেচ পাম্পসহ বিভিন্ন খাতে সৌরশক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে।” বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নীতি সহায়তা ও বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশও পাকিস্তানের মতো দ্রুতগতির সৌর রূপান্তরের পথে এগোতে পারে।
সম্মানিত পেনশনারদের পেনশন কার্যক্রম দ্রুত ও স্বচ্ছতার সাথে সম্পাদনের লক্ষ্যে বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) মো. নূরুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে সোমবার (২২ জুন) সিএজি কার্যালয়ে সিজিএ, সিজিডিএফ এবং এডিজি (অর্থ), বাংলাদেশ রেলওয়ে কার্যালয়ের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে Online Pension Tracking & Management System (OPTMS)-এর অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় Online Pension Tracking & Management System (OPTMS)-এর সর্বশেষ অগ্রগতির ওপর একটি উপস্থাপনা প্রদান করা হয় । উপস্থাপনায় জানানো হয় যে, হিসাব মহানিয়ন্ত্রক এর কার্যালয়, কন্ট্রোলার জেনারেল ডিফেন্স ফাইন্যান্স এর কার্যালয় এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অর্থ) এর কার্যালয় সমূহে অবসর-উত্তর (Post-Retirement) অটোমেশনের সফলতার ধারাবাহিকতায় অবসর-পূর্ব (Pre-retirement) পর্যায়ের কার্যক্রমকে ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় করার লক্ষ্যে Online Pension Tracking & Management System (OPTMS) প্রস্তুত করা হয়েছে। এই সিস্টেসের মাধ্যমে সম্মানিত পেনশনার পেনশন আবেদন জমাদানের পর তার পেনশন ফাইলের সর্বশেষ অগ্রগতি কোন কার্যালয়ের কোন পর্যায়ে রয়েছে তা নিজেই অনলাইনে দেখতে পাবেন। উক্ত কার্যক্রম সফলভাবে ও অতি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সিজিএ, সিজিডিএফ ও এডিজি (অর্থ), বাংলাদেশ রেলওয়ে কার্যালয়কে এসপিএফএমএস কর্মসূচির সংশ্লিষ্ট কম্পোনেন্টের কারিগরি টিমের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও সর্বাত্মাক সহাযোগিতা নিশ্চিতকরণের জন্য সিএজি মো. নূরুল ইসলাম নির্দেশ প্রদান করেন। সভায় OPTMS-এ সিজিএ কার্যালয়ের সুপারিশসমূহ অন্তর্ভুক্তকরণ, সিজিডিএফ ও এডিজি (অর্থ), বাংলাদেশ রেলওয়ে এর সংশ্লিষ্ট Business Process দ্রুত প্রস্তুত ও প্রেরণ, ইএলপিসি (ELPC) ইস্যুর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং সার্ভিস স্টেটমেন্ট সংক্রান্ত বিষয়ে পেনশনভোগীদের ভোগান্তি হ্রাসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন। বাংলাদেশের কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) আশা প্রকাশ করেন যে, সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগে OPTMS দ্রুত পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করবে এবং এর মাধ্যমে দেশের পেনশনভোগীরা অধিক স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সময়োপযোগী ডিজিটাল পেনশন সেবা লাভ করবেন।