সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপে খেলেছিল নরওয়ে। এরপর কেটে গেছে ২৮ বছর। মাঝের ছয়টি বিশ্বকাপের একটাতেও যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি তারা। সেই খরা কাটিয়ে এবারের বিশ্বকাপে নামতে যাচ্ছে হালান্ডের দল। ইতোমধ্যেই আমেরিকায় পৌঁছে গেছে নরওয়ে ফুটবল দল। কিন্তু মাঠে নামার আগেই আলোচনার তুঙ্গে এসেছে নরওয়ে ফুটবল টিম। বিশ্বকাপ খেলার জন্য সঙ্গে করে ৩০০ কেজি মাছ নিয়ে গেছে হালান্ডরা। যেখানে রয়েছে ১১৬ কেজি ব্রাউন চিজও। কেন এই আজব পথে হাঁটল নরওয়ে?
বিশ্বকাপে যাতে ফুটবলাররা নিজেদের সেরা পারফর্ম্যান্স মেলে ধরতে পারেন তার জন্য খাবারকে সমান গুরুত্ব দিচ্ছে নরওয়ে শিবির। তাই দলের সঙ্গে গেছেন দুই খ্যাতনামা শেফ অ্যারন এসপেল্যান্ড ও এইরিক তুফতে। ২০২০ সালে অলিম্পিকে সফল নরওয়ে দলের সঙ্গেও গিয়েছিলেন অ্যারন। দীর্ঘদিনের টিম শেফের সঙ্গে মিলে তারা হালান্ড-ওডেগার্ডদের জন্য বিশেষ খাদ্যতালিকা তৈরি করবেন।
কেন ৩০০ কেজি মাছ নিয়ে গেছেন হালান্ডরা?
তাদের বিশ্বাস, সেরা খাবারের জন্য প্রয়োজন সেরা নরউইজিয়ান উপকরণ। তাই আমেরিকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে নরওয়ের নিজস্ব মাছ ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী। তাই অন্তত ৩০০ কেজি লাল মাছ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শুধু মাছই নয়, ১১৬ কেজি বিখ্যাত নরউইজিয়ান ব্রাউন চিজও নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন অ্যারন এসপেল্যান্ড। তিনি বলেন, ‘আমেরিকায় দাঁড়িয়ে যদি বলতে পারা যায় ব্যবহৃত টম্যাটোটা কে চাষ করেছেন বা এই হ্যালিবাট মাছ কে ধরেছেন, সেটা দারুণ ব্যাপার। আমরা সব সময় সেরা নরউইজিয়ান উপকরণই ব্যবহার করতে চাই। বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেই খাবার পরিবেশন করতে পারাটা আমাদের কাছে গর্বের।’ তিনি আরও জানান, নরওয়ে থেকে আমেরিকায় আধা টন মাছ পাঠানো মোটেই সহজ নয়। তাই একেবারে এই ব্যবস্থা করেছেন তারা।
বিশ্বকাপে নরওয়ের সূচি
১৬ জুন ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে নরওয়ে। তার আগে ৭ জুন মরক্কোর বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে তারা। I গ্রুপে ইরাক ছাড়াও নরওয়ের সঙ্গে আছে ফ্রান্স ও সেনেগাল।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
শুরুতে ক্রোয়েশিয়াকে বেশ চাপে রাখল পানামা। অল্পের জন্য তারা পেল না গোল। বিরতির পর পাল্টে গেল চিত্র। বদলি নেমে ব্যবধান গড়ে দিলেন আন্তে বুদিমির। আসরে প্রথম জয়ের দেখা পেল ক্রোয়াটরা। টরন্টো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালে শেষ হওয়া ম্যাচে ১-০ গোলে জিতেছে ২০১৮ সালের রানার্সআপরা। দুই ম্যাচে এক জয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে ‘এল’ গ্রুপে তিন নম্বরে আছে ক্রোয়েশিয়া। দুটিই হেরে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেল পানামার। ৪ পয়েন্ট করে নিয়ে ঘানা দুইয়ে, ইংল্যান্ড শীর্ষে আছে। প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল ও তৃতীয় হওয়া সেরা আটটি দল পাবে নকআউটের টিকেট। ক্রোয়েশিয়ার সম্ভাবনা টিকে থাকল ভালোভাবেই। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪-২ গোলে হেরে অভিযান শুরু করেছিল ক্রোয়েশিয়া। ৯৫ মিনিটের গোলে ঘানার বিপক্ষে হেরেছিল পানামা। এ দিন ক্রোয়েশিয়ার হয়ে ২০০তম ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করেন ৪০ বছর বয়সী অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ। ক্রোয়েশিয়ার চেয়ে বল দখলে পিছিয়ে থাকলেও, শুরুতে সুযোগ বেশি তৈরি করে পানামা। ২৩তম মিনিটে এগিয়েও যেতে পারত তারা। গোলরক্ষক দমিনিক লিভাকোভিচের দৃঢ়তায় রক্ষা পায় ক্রোয়েশিয়া। ডানদিকের বাইলাইনের কাছ থেকে আমির মুরিয়োর ক্রসে বক্সে জোরাল হেড করেন হোসে লুইস রদ্রিগেস। লিভাকোভিচের হাত ছুঁয়ে ক্রসবারে লাগে বল। প্রথমার্ধে একবারই গোল পাওয়ার খুব কাছাকাছি যেতে পারে ক্রোয়েশিয়া। যোগ করা সময়ে ২৫ গজ দূর থেকে মার্তিন বাতুরিনার নিচু শট ঝাঁপিয়ে ব্যর্থ করে দেন পানামা গোলরক্ষক। প্রথমার্ধে গোলের জন্য দুটি শট নিয়ে এই একটিই লক্ষ্যে রাখতে পারে ক্রোয়াটরা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে পেটার মুসার জায়গায় আন্তে বুদিমিরকে নামান ক্রোয়েশিয়া কোচ জ্লাতকো দালিচ। দারুণ কাজে লাগে সেই সিদ্ধান্ত। ৫৪তম মিনিটে দলকে এগিয়ে নেন বুদিমির। ডান দিক থেকে ইয়োসিপ স্তানিসিচের ক্রসে দূরের পোস্টে পা ছুঁয়ে বল জালে পাঠান তিনি। ৬৮তম মিনিটে লিভাকোভিচের অসাধারণ দৃঢ়তায় আবার রক্ষা পায় ক্রোয়েশিয়া। মুরিয়োর পরপর দুটি শট ঠেকান তিনি। সেখান থেকে পানামার পাওয়া কর্নারে কার্লোস হার্ভির হেডে বল একহাতে ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠান ৩১ বছর বয়সী গোলরক্ষক। বাকি সময়ে সুযোগ আসে দুই পাশেই, কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি কেউ। শেষ রাউন্ডে বাংলাদেশ সময় আগামী শনিবার রাতে ঘানার বিপক্ষে খেলবে ক্রোয়েশিয়া। একই সময়ে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে পানামা।
নকআউট পর্ব নিশ্চিতের পর আরও একটি সুখবর পেলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া তার বাবা হোর্হে মেসি অবশেষে চিকিৎসকের ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন। আর্জেন্টিনার বিখ্যাত সাংবাদিক ও উপস্থাপক অ্যাঞ্জেল দে ব্রিটো বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার ‘আমেরিকা টিভি’র জনপ্রিয় এলএএম অনুষ্ঠানে ব্রিটো জানান, হাসপাতাল থেকে রোসারিও শহরে নিজের বাড়িতে ফিরে গেছেন হোর্হে মেসি। গত সপ্তাহে ৬৮ বছর বয়সি হোর্হে মেসিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে এই খবর সম্পূর্ণ ভুয়া ও ভিত্তিহীন দাবি করে মেসির পরিবারের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়। সেই বিবৃতিতে জানানো হয়েছিল, হোর্হে চিকিৎসকের নিবিড় তত্ত্বাবধানে আছেন এবং তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। সব আশঙ্কা উড়িয়ে অবশেষে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে হোর্হে মেসি এখন পরিবারের সঙ্গেই রয়েছেন। বাবার এই সুস্থতার দিনে মাঠের পারফরম্যান্সেও দারুণ আলো ছড়াচ্ছেন পুত্র লিওনেল মেসি। চলতি বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করার পর, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও জোড়া গোলের দেখা পেয়েছেন এই মহাতারকা। চলতি বিশ্বমঞ্চে ইতোমধ্যে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচে। একই সঙ্গে এক ম্যাচ হাতে রেখেই গ্রুপ পর্বের বাধা টপকে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। মাঠের সেই সাফল্যের রেশ কাটার আগেই এবার পারিবারিক এই সুখবর পেলেন মেসি।
ফুটবল যদি শিল্প হয়, তবে তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পীর নাম লিওনেল মেসি। আর ফুটবল যদি এক মহাকাব্য হয়, তবে সেই মহাকাব্যের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়গুলোর কেন্দ্রে রয়েছেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা। রেকর্ড, ট্রফি, গোল কিংবা ব্যক্তিগত অর্জনের সীমা ছাড়িয়ে মেসি আজ এক প্রজন্মের স্মৃতি, আরেক প্রজন্মের অনুপ্রেরণা। তার খেলা দেখে কোটি কোটি মানুষ ফুটবলের প্রেমে পড়েছে, তাকে অনুসরণ করে অসংখ্য তরুণ গড়ে তুলেছে নিজেদের স্বপ্ন। সেই আর্জেন্টাইন জাদুকরের আজ ৩৯তম জন্মদিন। ১৯৮৭ সালের ২৪ জুন আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে জন্ম নেওয়া ছোট্ট ছেলেটির সামনে ছিল অনিশ্চয়তা, সংগ্রাম আর সীমাবদ্ধতায় ভরা এক পথ। সেই শিশুটিই একদিন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক, ইতিহাসের অন্যতম সফল ফুটবলার এবং কোটি মানুষের আবেগের প্রতীক হয়ে উঠবেন—এমনটা হয়তো তার পরিবারও কল্পনা করতে পারেনি। মেসির গল্প শুধু প্রতিভার নয়, সংগ্রামেরও। শৈশবে তার শরীরে ধরা পড়ে গ্রোথ হরমোনের ঘাটতি। চিকিৎসার ব্যয় বহন করা ছিল পরিবারের সামর্থ্যের বাইরে। স্থানীয় ক্লাবগুলোও দায়িত্ব নিতে আগ্রহী হয়নি। ঠিক সেই সময় তার জীবনে আশার আলো হয়ে আসে স্পেনের ক্লাব বার্সেলোনা। প্রচলিত গল্প অনুযায়ী, একটি ন্যাপকিন কাগজেই মেসিকে দলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি লিখে দিয়েছিলেন বার্সেলোনার কর্মকর্তারা। এরপর পরিবারসহ স্পেনে পাড়ি জমান কিশোর মেসি। সেখান থেকেই শুরু হয় তার জীবনের নতুন অধ্যায়। আজ সেই সিদ্ধান্তকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সফল চুক্তি হিসেবে দেখা হয়। লা মাসিয়া একাডেমিতে নিজেকে গড়ে তোলার পর খুব দ্রুতই মেসি বুঝিয়ে দেন, তিনি অন্যদের থেকে আলাদা। ২০০৪ সালে বার্সেলোনার মূল দলে অভিষেকের পর শুরু হয় এক অবিশ্বাস্য যাত্রা। পরবর্তী প্রায় দুই দশক ফুটবল বিশ্ব দেখেছে তার অসাধারণ আধিপত্য। মেসি, জাভি হার্নান্দেজ ও আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাকে ঘিরে গড়ে ওঠা বার্সেলোনা দলকে অনেকেই সর্বকালের সেরা ক্লাব দলগুলোর একটি বলে মনে করেন। মেসির পায়ে এসেছে অসংখ্য শিরোপা, আর গোলের পর গোল করে তিনি হয়ে ওঠেন ক্লাবটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। একসময় এমন ধারণা তৈরি হয়েছিল যে, বল পায়ে নিলেই মেসি কিছু অসাধারণ ঘটাতে চলেছেন। ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে এগিয়ে যাওয়া, ক্ষুদ্র পরিসরে বল নিয়ন্ত্রণ, নিখুঁত পাস কিংবা দূরপাল্লার শট—সবকিছু মিলিয়ে তিনি যেন ফুটবলকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের বিচারে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা নাম মেসি। রেকর্ড ৮টি ব্যালন ডি’অর তার ঝুলিতে। পাশাপাশি রয়েছে ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু, ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার মতো অসংখ্য সম্মাননা। তবে দীর্ঘ সময় ধরে তার ক্যারিয়ারের সঙ্গে একটি প্রশ্ন জড়িয়ে ছিল—ক্লাব ফুটবলে সব জিতলেও আর্জেন্টিনার হয়ে বড় কোনো আন্তর্জাতিক ট্রফি কোথায়? আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির পথচলা কখনোই সহজ ছিল না। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে পরাজয়, একের পর এক কোপা আমেরিকার ফাইনালে হার—সব মিলিয়ে তাকে কঠিন সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। এমনকি একসময় জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণাও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানেই থেমে থাকেনি গল্প। ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটে। আর ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মহেন্দ্রক্ষণ। অনেকের মতে, ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সুন্দর সমাপ্তিগুলোর একটি হলো মেসির বিশ্বকাপ জয়। অধিনায়ক হিসেবে আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি জিতেছেন ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে পূরণ করেন নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা। সেদিন তিনি শুধু একটি ট্রফিই জেতেননি, বরং বহু বছরের বিতর্কেরও ইতি টেনেছেন। মেসি কি সর্বকালের সেরা ফুটবলার—এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে। তবে বিশ্বকাপ জয়ের পর ফুটবল ইতিহাসের শীর্ষস্থানীয়দের কাতারে তার অবস্থান আরও দৃঢ় হয়েছে। ৩৯ বছরে পা রাখলেও মেসির গল্প এখনো শেষ হয়ে যায়নি। বরং চলমান বিশ্বকাপেই তিনি যেন নিজের মহাকাব্যের নতুন অধ্যায় লিখে চলেছেন। জন্মদিনের আগের ম্যাচে জোড়া গোল করে আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ জয়। তার আগের ম্যাচে করেছিলেন হ্যাটট্রিকও। অধিনায়ক হিসেবে তার নেতৃত্বে টানা দুই জয়ে ইতোমধ্যেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে আলবিসেলেস্তেরা। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করে যাওয়া এই মহাতারকা আজও মাঠে নামলেই দর্শকদের প্রত্যাশা থাকে একটাই—তিনি হয়তো আবারও কোনো জাদু দেখাবেন। বয়স বাড়লেও তার প্রভাব কমেনি; বরং প্রতিটি ম্যাচই মনে করিয়ে দেয়, এমন ফুটবলার যুগে যুগে একজনই জন্ম নেন। রোজারিওর সেই ছোট্ট ছেলেটি আজ বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রদের একজন। তাই মেসির জন্মদিন শুধু একজন খেলোয়াড়ের জন্মদিন নয়; এটি ফুটবল নামের সুন্দর খেলাটির এক সোনালি অধ্যায়ের উদযাপন। আর এই বিশ্বকাপেই হয়তো শেষবারের মতো বিশ্বমঞ্চে তার জাদু দেখার সুযোগ পাচ্ছেন ফুটবলপ্রেমীরা। ফলে ৩৯তম জন্মদিনের এই আয়োজন শুধু অতীতের গৌরবগাথা নয়, বর্তমানের বিস্ময় এবং ভবিষ্যতের অপেক্ষারও প্রতীক।