দীর্ঘ ১০০ বছরেরও বেশি সময় পর সৌদি আরবে জন্ম নিয়েছে বিরল বুনো গাধা ‘ওনাগার’। এটিকে আরব উপদ্বীপে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রাণী পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বুনো গাধা ‘ওনাগার’ এশিয়া অঞ্চলের আদি বাসিন্দা। এর বৈজ্ঞানিক নাম ‘ইকুয়াস হেমিওনাস’।
এরা ঘোড়ার চেয়ে কিছুটা ছোট এবং আকারে গৃহপালিত গাধার সমতুল্য হলেও এদের গায়ের রং ফ্যাকাসে এবং খাড়া কেশর থাকে।
প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান রয়্যাল রিজার্ভ জানিয়েছে, তাদের ‘অ্যারাবিয়ান রিওয়াইল্ডিং’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৫ সালের জুন মাসে একটি পুরুষ ওনাগার জন্ম নিয়েছে।
এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো আরব উপদ্বীপের ২৩টি স্থানীয় প্রাণী প্রজাতিকে তাদের ঐতিহাসিক আবাসস্থলে আবার ফিরিয়ে আনা।
আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে বন্য পরিবেশে ৬০০টিরও কম ওনাগার অবশিষ্ট রয়েছে।
এদের সংখ্যা দ্রুত কমে যাওয়ার আশঙ্কায় ২০২৫ সালে প্রজাতিটিকে ‘মহাবিপন্ন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
ওনাগারের সংখ্যা বাড়াতে এবং তাদের জিনগত বৈচিত্র্য বজায় রাখতে সংরক্ষিত এলাকাটি তাদের প্রজনন কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণ করছে।
এর অংশ হিসেবে চলতি বছরের শেষ দিকে জর্ডান থেকে একটি স্ত্রী ওনাগার আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগ শুধু ওনাগার সংরক্ষণের জন্য নয়, এটি সৌদি আরবজুড়ে জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার এবং স্থানীয় বন্য প্রাণীর সংখ্যা বাড়ানোর বৃহত্তর পরিবেশগত পরিকল্পনার অংশ।
এর মাধ্যমে বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীদের আবারও তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সূত্র: গালফ নিউজ
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার মুখে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তার অনুমোদন দিয়েছে মিসরের পার্লামেন্ট। সোমবার এ সিদ্ধান্তের ফলে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও ভূখণ্ড রক্ষায় প্রয়োজনে সামরিক সহায়তা দিতে পারবেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। এতে ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাতে মিসর আরও সরাসরি জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স ও মিসরের সংবাদমাধ্যম আহরাম অনলাইনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের ওপর সাম্প্রতিক হামলার পর দেশটিকে প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা দেওয়ার জন্য গত সপ্তাহে পার্লামেন্টের অনুমোদন চান সিসি। সোমবার পার্লামেন্টের রুদ্ধদ্বার অধিবেশনে এ প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। তবে মিসরের সামরিক সহায়তার ধরন ও পরিসর রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। এর আগে সিসি জানিয়েছিলেন, সৌদি আরবের ভূখণ্ড ও সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে সম্ভাব্য সামরিক তৎপরতার লক্ষ্য। ইয়েমেনে হুতিদের ওপর সরাসরি হামলা চালানোর পরিকল্পনা মিসরের নেই বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সৌদি আরবে হুতিদের হামলা বৃদ্ধি ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা জোরদার করেছে। তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সৌদি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনা। এতে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে এবং আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হুতিদের অগ্রযাত্রা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালির নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে উঠেছে। লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত এই প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করে। এর সঙ্গে মিসরের সুয়েজ খালের বাণিজ্যিক স্বার্থও গভীরভাবে জড়িত। ফলে প্রণালিটিতে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে মিসরের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আরব বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ মিসরের সামরিক বাহিনীও এই অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ। তবে দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক সংঘাতের বিষয়ে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে কায়রো। ২০১৫ সালের মার্চে ইয়েমেনের যুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিলেও তখন মিসরের প্রধান ভূমিকা ছিল নৌ-সহযোগিতা দেওয়া। দেশটি প্রায় ৮০০ স্থলসেনা মোতায়েন করেছিল, কিন্তু সরাসরি যুদ্ধের ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা ছিল সীমিত। ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের পর থেকে মিসর বড় পরিসরে বিদেশে স্থলসেনা মোতায়েন করেনি। ফলে সৌদি আরবকে সহায়তা দিতে নতুন করে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত দেশটির দীর্ঘদিনের সামরিক অবস্থানে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত সৌদি আরবের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও ইয়েমেন সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে মিসর। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি বলেছেন, সংঘাতের অবসানে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাগুলো খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কায়রো একই সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। সৌদি আরব মিসরের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদার। দেশটি মিসরকে আর্থিক সহায়তা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আমানত এবং জ্বালানি সরবরাহ দিয়ে থাকে। ফলে সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্কও কায়রোর সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে সামরিক সহায়তার অনুমোদন মানেই অবিলম্বে মিসরীয় সেনা মোতায়েন নয়। রিয়াদের পক্ষ থেকে সহায়তার অনুরোধ এবং সম্ভাব্য অভিযানের ধরন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও ইয়েমেন সংঘাতে মিসরের সম্পৃক্ততা কতটা বাড়বে, তা এখনও অনিশ্চিত। সূত্র: আল-জাজিরা
নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার জেরে নরওয়ের ওপর নিজের মারাত্মক অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অসংবেদনশীল ভাষায় নরওয়েকে একটি ‘জঘন্য ও অকার্যকর দেশ’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি সেদেশের কোনো অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্রে আর স্থান দেওয়া হবে না বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন উপলক্ষে রোববার মিশিগানের পোর্ট হিউরনে এক রাজনৈতিক জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব বিতর্কিত কথা বলেন ট্রাম্প। বক্তব্যকালে ফ্রান্সে সাম্প্রতিক অস্থিতিশীলতার জন্য অভিবাসীদের দায়ী করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি অন্যান্য দেশের নাগরিকদের অভিবাসনপ্রার্থী হিসেবে গ্রহণ করতে প্রস্তুত থাকলেও নরওয়ের কাউকেই যুক্তরাষ্ট্রে দেখতে চান না। ট্রাম্প তার ক্ষোভের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, নরওয়ের রাজধানী অসলোভিত্তিক নোবেল কমিটি তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়নি। তাই তিনি নরওয়ে এবং সেদেশের নাগরিকদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে চান। এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকেও নিজেকে নোবেল না দেওয়াকে নরওয়ের জন্য একটি ‘মুছে না যাওয়ার মতো কলঙ্ক’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন তিনি। তবে ট্রাম্প জনসভায় এই বক্তব্য দিলেও, মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে নরওয়ের নাগরিকদের জন্য ভিসা বা অভিবাসনে কোনো দাপ্তরিক বিধিনিষেধ কিংবা নতুন নীতিমালা চালুর তথ্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, ট্রাম্প নরওয়ের পরিস্থিতি নিয়ে কটূক্তি করলেও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্যানুযায়ী, মাথাপিছু আয়ের বিচারে নরওয়ে বিশ্বের অন্যতম ধনী রাষ্ট্র। এছাড়া ২০২৬ সালের প্রথম অর্ধে দেশটির সার্বভৌম তহবিল রেকর্ড ১৮৪.৩ বিলিয়ন ডলার মুনাফা করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা অসলোর নোবেল কমিটি তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। সূত্র: আরব নিউজ
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও দেশটির শীর্ষ নেতারা সোমবার বেইজিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠকে বসছেন। এই বৈঠকে দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ ও নেতৃত্বের পরিবর্তন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের নজর রয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রায় ৩০০ সদস্য পঞ্চম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন বা ‘পঞ্চম প্লেনামে’ অংশ নিচ্ছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। বৈঠকে দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। এর মধ্যে দুর্নীতি হ্রাস এবং দলীয় কর্মকর্তাদের আরও দক্ষ ও অনুগত করে তোলার পদক্ষেপও রয়েছে। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রুদ্ধদ্বার পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের বিস্তারিত বৃহস্পতিবার শেষ হওয়ার আগে প্রকাশ করা হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বৈঠকটির সময়কাল রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী বছর কমিউনিস্ট পার্টির গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে এই বৈঠক হচ্ছে। ওই কংগ্রেসে ৭৩ বছর বয়সী সি চিন পিং চতুর্থ মেয়াদে নেতৃত্ব পাওয়ার পাশাপাশি দলের শীর্ষ নেতৃত্বে রদবদল তদারক করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে, অনুষ্ঠিত বিভিন্ন পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন সি চিনপিংয়ের ক্ষমতা আরও সুসংহত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। চীনের এই নেতা গত ১৪ বছর ধরে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালিয়ে আসছেন। এ অভিযানে কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েক ডজন সদস্যসহ হাজার হাজার কর্মকর্তাকে পদচ্যুত করা হয়েছে। তবে সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করছেন না— এমন কর্মকর্তাদের নিয়ে সি এখনও অসন্তুষ্ট। পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের আগে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক নিবন্ধে গত জানুয়ারিতে দেওয়া শি জিনপিংয়ের একটি বক্তব্য তুলে ধরা হয়। সেখানে তিনি এমন কর্মকর্তাদের সমালোচনা করেন, যারা প্রকাশ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশ মেনে চলার ভান করেন, কিন্তু ভেতরে ভেতরে তা প্রতিরোধ করেন। তিনি তাদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া ও রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগও তোলেন। এএফপিকে বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, আরও কঠোর তদারকি ও নিয়মকানুন আরোপের মাধ্যমে দলীয় কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য বাড়াতে চাইছেন সি চিন পিং। তবে ব্যাপক শুদ্ধি অভিযানের কারণে এবারের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে উপস্থিতির হার ১৯৭৬ সালে চীনের সাবেক নেতা মাও সেতুংয়ের মৃত্যুর পর সর্বনিম্ন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় কমিটির আটটি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। আরও ১৫ জন সদস্য তদন্তের আওতায় রয়েছেন এবং তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সি চিন পিংয়ের দুর্নীতিবিরোধী অভিযান সামরিক বাহিনীতেও বিস্তৃত হয়েছে। এর ফলে চীনের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ নেতৃত্বদানকারী দলীয় সংস্থা কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের (সিএমসি) সাত সদস্যের মধ্যে পাঁচজনই ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন। এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে কেন্দ্রীয় কমিটিতে নিয়োগ পাওয়া ৪৪ জন সামরিক সদস্যের মধ্যে মাত্র দুজনকে এখনও অপসারণ করা হয়নি বা তাদের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। এবারের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনে নতুন সদস্য নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। তবে দলটি আগামী বছরের কংগ্রেস পর্যন্ত অপেক্ষা করে শূন্য পদ পূরণ করতে পারে। এমনকি বিশাল সামরিক বাহিনীর ওপর দলের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগও নিতে পারেন সি চিনপিং।