জাতীয়

তিন দেশ থেকে পাঁচ কার্গো এলএনজি আনবে সরকার

মারিয়া রহমান জুন ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত


দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পাঁচ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সুইজারল্যান্ড থেকে ২ কার্গো, যুক্তরাজ্য থেকে ২ কার্গো এবং সিঙ্গাপুর থেকে ১ কার্গো এলএনজি কেনা হবে।


বুধবার (৩ জুন) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।


জানা গেছে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ১০৫(৩)(ক) অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ (আরএফকিউ-ইন্টারন্যাশনাল) পদ্ধতিতে ৩ কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৬-২৭ জুন সময়ের জন্য ২৬তম কার্গো, ৩০ জুন-১ জুলাই সময়ের জন্য ২৭তম কার্গো এবং ৬-৭ জুলাই সময়ের জন্য ২৮তম কার্গো, এই তিন কার্গো এলএনজি কেনা হবে।


ক্রয় প্রস্তাবের আওতায় এক কার্গো এলএনজি সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড এবং দুই কার্গো যুক্তরাজ্যভিত্তিক টোটাল ইঞ্জিনিয়ারিং গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হবে। এই তিন কার্গো এলএনজি কিনতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩৭২ কোটি ২১ লাখ ১৮ হাজার ৭৮৪ টাকা (এআইটিসহ)।


বৈঠকে আর এক প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে সুইজারল্যান্ড থেকে স্বল্প মেয়াদে ২০২৬ সালে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় ২ কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই ২ কার্গো এলএনজি কিনতে মোট কতো টাকা ব্যয় হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সুইজারল্যান্ডের এসওসিএআর ট্রেডিং এসএ থেকে জি-টু-জি ভিত্তিতে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে এলএনজি সরবরাহ এবং এফআরএসইউ স্থাপনের জন্য আগ্রহ ব্যক্ত করে প্রস্তাব দাখিল করে।


গত বছরের ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে জি-টু-জি ভিত্তিতে চুক্তির আওতায় এসওসিএআর ট্রেডিং এসএ থেকে স্বল্প মেয়াদে ২০২৬ সালে কিছু সংখ্যাক এলএনজি সরবরাহের প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়।


এলএনজি আমদানিতে স্পট মার্কেটের বিকল্প হিসেবে সাশ্রয়ী মূল্যে জি-টু-জি ভিত্তিতে স্বল্প মেয়াদে এসওসিএআর ট্রেডিং এসএ থেকে ২০২৬ সালে ২ কার্গো এলএনজি নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে নির্ধারিত জাপান কোরিয়া মার্কেট ফরমুলা-অনুযায়ী দরপ্রস্তাব প্রতি এমএমবিটিইউ (জেকেএম+০.১২৫ মার্কিন ডলার) হিসেবে অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব উপস্থাপন করলে মন্ত্রিসভা কমিটি তাতে অনুমোদন দিয়েছে। এক কার্গোতে এলএনজির পরিমাণ হচ্ছে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
ছেলের হত্যার বিচার চান শহীদ রফিকের মা

“আমার ছেলে পুলিশের গুলিতে মারা গেছে, দুই বছর হয়ে গেল, এখনো বিচার পাইনি। সরকারের কাছে একটাই দাবি— আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই।” কথাগুলো বলছিলেন জুলাই আন্দোলনে নিহত রফিকের মা চায়না বেগম।   মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার রূপসা এলাকায় রফিকের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছোট দুটি ঘরে এখনো শোকের ছাপ স্পষ্ট। এক ঘরে থাকেন বাবা-মা, অন্য ঘরে ছোট বোন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে তারা এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।   পরিবার জানায়, সরকারি সহায়তার অংশ হিসেবে তারা এককালীন ৪ লাখ টাকা, ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং অতিরিক্ত ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পেয়েছেন। সঞ্চয়পত্রের আয় দুই ভাগে ভাগ হয়—এক অংশ পান রফিকের বাবা, অন্য অংশ পান তার স্ত্রী ও সন্তান। কৃষিকাজ ও ওই আয়ের ওপর নির্ভর করেই এখন সংসার চলছে।   রফিকের ছোট বোন নূর নাহার সম্প্রতি এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। অন্যদিকে, রফিকের স্ত্রী শাবনূর আক্তার ও তাদের তিন বছরের কন্যা রাইসা বর্তমানে বাবার বাড়িতে বসবাস করছেন।   পরিবারের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পাটুরিয়া পুরাতন লঞ্চঘাট এলাকায় নৌ পুলিশের গুলিতে রফিক নিহত হন। তারা দাবি করেন, ঘটনার মূল অভিযুক্ত নৌ পুলিশের সদস্য শেখ এমদাদ হোসেনকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি।   জানা যায়, ওই দিন দুপুরে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় পদ্মা নদীতে থাকা একটি স্পিডবোট থেকে নৌ পুলিশের কয়েকজন সদস্য আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান ২৪ বছর বয়সী রফিক।   রফিকের পরিবার দাবি করছে, মামলায় মোট ৪৯ জনকে আসামি করা হলেও মূল অভিযুক্তকে আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে গুলিবর্ষণকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব।   নিহত রফিকের স্ত্রী শাবনূর আক্তার বলেন, “সবাই বলেছিল আমাদের পাশে থাকবে। কিন্তু এখন আর কেউ খোঁজ নেয় না। আমার মেয়ে এখনো বাবাকে খোঁজে। ও যখন বুঝবে যে তার বাবা নেই, তখন আমি কী উত্তর দেব?”   রফিকের চাচাতো ভাই জামাল হোসেন বলেন, “যে নৌ পুলিশ সদস্য গুলি করেছে, তার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি বলতে পারব না।”   ঘটনার সময় রফিকের সঙ্গে থাকা বন্ধু সাকিব খান জানান, আন্দোলনের সময় তিনিও গুলিবিদ্ধ হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জানতে পারেন, রফিক নিহত হয়েছেন। তার অভিযোগ, নৌ পুলিশ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থিত কিছু ব্যক্তি গুলিবর্ষণে জড়িত ছিল।   বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রমজান মাহমুদ বলেন, “মূল আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা হোক।”   এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুম বলেন, “রফিক হত্যা মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। মূল আসামির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”   রফিক ২০২৩ সালে জীবিকার তাগিদে নারায়ণগঞ্জে জাহাজ ঝালাইয়ের কাজ শুরু করেছিলেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না; বাড়িতে ছুটিতে এসে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তাতে অংশ নেন। ৫ আগস্ট দুপুরে বাবার সঙ্গে মোবাইলে কথা বলার কিছুক্ষণের মধ্যেই গুলিবিদ্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দেবহাটায় গৃহবধূর ঘর থেকে এক ব্যক্তিকে আটক, মামলা দায়ের

ছবি: সংগৃহীত

ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিল ও লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে ঢাবিতে শিক্ষার্থীদের ৪ দফা দাবি

ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল ভাষণ: ভারত সরকারের সম্পৃক্ততা নেই বলে দিল্লির দাবি

ছবি: সংগৃহীত
লালমনিরহাটে ৯৮ বোতল ফেনসিডিল মামলায় ৪ জনের ১০ বছর কারাদণ্ড

লালমনিরহাটে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় চারজনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।   মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর বিচারক এস এম শফিকুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।   দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের খামারভাতি এলাকার ইব্রাহিম হোসেন ও জাকির হোসেন এবং হাতীবান্ধা উপজেলার উত্তর জাউরানী এলাকার মোস্তাফিজার রহমান ও সাদ্দাম হোসেন।   মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৮ জুন লালমনিরহাট-১৫ বিজিবির একটি দল অভিযান চালিয়ে একটি ইজিবাইকসহ চারজনকে আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৯৮ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়। পরে হাতীবান্ধা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়।   তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত চার আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে এ দণ্ডাদেশ দেন।   রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সামসুল আলম মিলন বলেন, আদালতের এ রায় মাদকবিরোধী অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

সমালোচনার মুখে পিছু হটল বিদ্যুৎ বিভাগ

ছবি : সংগৃহীত

এসপি মাসুদের কাছে দোজখ-জাহান্নামের সংজ্ঞা জানতে চাইলেন সন্ত্রাসী রায়হান

ছবি : সংগৃহীত

আজ সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রথম বৈঠক

সংগৃহীত ছবি
পুলিশের অতিরিক্ত ও সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ৮ কর্মকর্তাকে বদলি

পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব পালনকারী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদমর্যাদার আট কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।     সোমবার (৩ আগস্ট) পুলিশ সদর দপ্তরের পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট-১ শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খান সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলির আদেশ দেওয়া হয়।   এতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর না করলে ১৮ আগস্ট তাদের তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত করা হবে।     বদলির আদেশ অনুযায়ী, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মো. সেলিমকে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।      গাজীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমানকে নরসিংদী জেলায় এবং সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রবিউল ইসলামকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশে বদলি করা হয়েছে।     এ ছাড়া র‌্যাবের এএসপি স্বপ্না বেগমকে ঢাকা মহানগর পুলিশে, মাদারীপুরের এএসপি বিমল চন্দ্র বর্মনকে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ সার্কেলে এবং ফরিদপুরের মধুখালী সার্কেলের এএসপি মো. আজম খানকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজির কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।     অন্যদিকে, সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. জামাল উদ্দিন চৌধুরীকে কক্সবাজারের মহেশখালী সার্কেলে এবং শিল্পাঞ্চল পুলিশের এএসপি এস এম মাসুদুজ্জামানকে ফরিদপুরের মধুখালী সার্কেলে পদায়ন করা হয়েছে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

প্রতি চারজনে এক শিশু খর্বকায়, অপুষ্টিতে জাতীয় অর্থনীতির বড় ক্ষতি

ছবি : সংগৃহীত

হাইড্রোলিক হর্ন ও হুটার ব্যবহারে বিআরটিএর কঠোর নিষেধাজ্ঞা

ছবি : সংগৃহীত

জুন-জুলাইয়ের বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি: বিভ্রান্তিতে না কান দেওয়ার পরামর্শ মন্ত্রণালয়ের

0 Comments