দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান শুরুর দুই সপ্তাহের মধ্যেই দেশ ছাড়েন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সাধারণ যাত্রীদের জন্য প্রযোজ্য নিরাপত্তা তল্লাশির অনেক ধাপ এড়িয়ে ২০২৪ সালের ৪ মে রাতে পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় তিনি নির্বিঘ্নে বিদেশগামী ফ্লাইটে ওঠেন। প্রায় দুই বছর পর দুবাইয়ে তার গ্রেফতারের খবর সামনে আসার পর আবারও আলোচনায় এসেছে সেই বহুল আলোচিত দেশত্যাগের ঘটনা।
শুক্রবার (১২ জুন) বাংলাদেশ পুলিশ দুবাই পুলিশের কাছ থেকে বেনজীর আহমেদের গ্রেফতারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বার্তা পায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজিপি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম। একই তথ্য সংসদকে অবহিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৮ এপ্রিল বেনজীর আহমেদের সম্পদ অনুসন্ধানে কমিটি গঠন করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধান শুরুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি দেশ ত্যাগ করেন। পরে তদন্তে উঠে আসে, ২০২৪ সালের ৪ মে রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে তিনি দুবাইয়ের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন।
ওই সময়ের বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সহায়তায় তিনি নির্বিঘ্নে বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন।
ফুটেজে দেখা যায়, নিরাপত্তা তল্লাশির জন্য যাওয়ার সময় বেনজীর আহমেদের সামনে ছিলেন ইউনিফর্ম পরা এক পুলিশ সদস্য ও সাদা পোশাকের এক নারী পুলিশ সদস্য। তার পেছনেও ছিলেন আরেক ইউনিফর্মধারী পুলিশ সদস্য। দেশ ছাড়ার সময় তার সঙ্গে পরিবারের কোনও সদস্য ছিলেন না। তার পরনে ছিল সোনালি রঙের হাফশার্ট, গাঢ় রঙের প্যান্ট ও কালো জুতা।
সবশেষ নিরাপত্তা তল্লাশির ফুটেজে দেখা যায়, সেখানে দায়িত্বরত আনসার সদস্যের শারীরিক তল্লাশি ছাড়াই তিনি চেকপয়েন্ট অতিক্রম করেন। সাধারণ যাত্রীদের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা তল্লাশির বিধান থাকলেও বেনজীর আহমেদের ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি বলে ফুটেজে দেখা যায়।
এছাড়া ইমিগ্রেশন ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তার পাসপোর্টে প্রয়োজনীয় সিল ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে পাসপোর্ট এবং লাগেজ তার কাছে হস্তান্তর করেন। দেশ ছাড়ার আগে উপস্থিত কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে হাত নেড়ে বিদায় জানাতেও দেখা যায় তাকে।
পুলিশ বাহিনীর অন্যতম প্রভাবশালী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপির দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক ছিলেন। এছাড়া তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়।
আওয়ামী লীগ সরকার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত বেনজীর আহমেদ অবসরের পরও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সুবিধা ভোগ করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তাকে গাড়িসহ ছয় সদস্যের একটি সাদা পোশাকধারী পুলিশ দল নিরাপত্তা দিতো। পাশাপাশি তার জন্য দুজন সশস্ত্র দেহরক্ষী এবং বাসভবনে তিন জন নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত ছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) পাকিস্তান থেকে আমদানি করা চাল ফেরত দিলেও সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) চুক্তির মাধ্যমে দেশটি থেকে ৫০ হাজার টন চাল আমদানির প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। সরকারি খাদ্য মজুত শক্তিশালী করা, অভ্যন্তরীণ চালের বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং ভবিষ্যতের চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জুলাইয়ের শুরুতেই সরকারি কর্মকর্তাদের এ সংক্রান্ত চুক্তি সই করার কথা রয়েছে। তবে অতীতে ইইউ পাকিস্তানি চালের চালান ফেরত পাঠানোয় বাংলাদেশের এই আমদানি পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অবশ্য ইইউ পাকিস্তানের সব চাল আমদানি নিষিদ্ধ করেনি। পাকিস্তান এখনো বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম চাল রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে প্রতি বছর লাখ লাখ টন চাল রপ্তানি করে আসছে। তবে বছরের পর বছর ধরে ইইউর কঠোর খাদ্য নিরাপত্তা ও আমদানি মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়া নির্দিষ্ট কিছু চালান প্রত্যাখ্যান করেছে ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষ। লিসবন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি চালের চালান প্রত্যাখ্যানের মূল কারণ ছিল ইইউর নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি কীটনাশকের উপস্থিতি। কৃষি রাসায়নিকের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব থেকে ভোক্তাদের রক্ষা করতে ইইউ বিশ্বের অন্যতম কঠোর কীটনাশক নীতি বজায় রাখে। প্রতিটি আমদানি করা খাদ্যপণ্য সেখানে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মুখোমুখি হয় এবং এই আইনি সীমা অতিক্রম করলে চালান প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না, তা ফেরত পাঠানো হয় কিংবা ধ্বংস করা হয়। উদ্বেগের আরেকটি বড় বিষয় ছিল আফলাটক্সিন দূষণ। এটি ছত্রাক দ্বারা উৎপাদিত একটি প্রাকৃতিক বিষ, যা শস্য মজুত, পরিবহন বা প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ না করলে তৈরি হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত আফলাটক্সিনের দীর্ঘস্থায়ী সংস্পর্শ লিভারের ক্ষতি করতে পারে এবং লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। এই স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণে ইইউ আমদানি করা চাল ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যে আফলাটক্সিনের উপস্থিতি যাতে অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি না হয়, তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করে থাকে। এ ছাড়া নথিপত্রের সমস্যা, উৎপাদন উৎস শনাক্তকরণে ব্যর্থতা (ট্রেসেবিলিটি ফেইলিউর), অনুপযুক্ত লেবেলিং বা স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলার কারণেও ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানের কিছু চালের চালান প্রত্যাখ্যান করেছে। ইইউ আইন অনুযায়ী, রপ্তানিকারকদের অবশ্যই খাদ্যপণ্যের উৎপত্তিস্থল স্পষ্টভাবে দেখাতে হয়, বিস্তারিত উৎপাদন রেকর্ড রাখতে হয় এবং খাদ্য নিরাপত্তার সনদ দিতে হয়। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বড় কোনো দূষণ না মিললেও এই প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তা পূরণে ব্যর্থ হলে আমদানি করা পণ্যের চালান আটকে দেওয়া হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে, জিটুজি ব্যবস্থার মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের ৫০ হাজার টন চাল আমদানির সিদ্ধান্তটি জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সরকারি কর্মকর্তারা যুক্তি দিচ্ছেন, জাতীয় খাদ্য মজুত শক্তিশালী করতে, বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কম হলে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই চাল আমদানি করা প্রয়োজন। তাছাড়া অন্যান্য চাল রপ্তানিকারক দেশের তুলনায় দাম তুলনামূলকভাবে কম থাকাও পাকিস্তান থেকে চাল আমদানির অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করছেন তারা। তবে খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, কোটি কোটি বাংলাদেশির প্রতিদিনের প্রধান খাদ্য আমদানির ক্ষেত্রে দাম একমাত্র বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত নয়। তাদের যুক্তি, বাংলাদেশে প্রবেশ করা প্রতিটি চালান স্থানীয় বাজারে ছাড়ার আগে কীটনাশকের উপস্থিতির সীমা, আফলাটক্সিন, ভারী ধাতু এবং অন্যান্য দূষকের উপস্থিতি রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাওয়া উচিত। যখনই আমদানি করা খাদ্য এমন কোনো চালান বা সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে আসে, যা আগে আন্তর্জাতিক নিরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে, তখন স্বাধীন গুণমান যাচাইকরণ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একইভাবে ইইউর পদক্ষেপকে ভুলভাবে না বোঝাও গুরুত্বপূর্ণ। নির্দিষ্ট কিছু চালান প্রত্যাখ্যানের মানে এই নয় যে, পাকিস্তানি চালের প্রতিটি চালানই অনিরাপদ। খাদ্য নিরাপত্তা পরিদর্শন চালানো হয় প্রতিটি চালান ধরে ধরে এবং চাষের পদ্ধতি, কীটনাশকের ব্যবহার, মজুতের অবস্থা ও গুণমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে এই মানদণ্ড বজায় রাখার বিষয়টি ভিন্ন হতে পারে। যে চাল বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা বিধিমালা পূরণ করবে এবং স্বাধীন ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে, তা আইনি ও নিরাপদভাবে দেশে প্রবেশ করতে পারে। এমন প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের চাল আমদানির লক্ষ্য পরিকল্পিত জিটুজি চুক্তিটি বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের ওপর এক বিশাল দায়িত্ব অর্পণ করছে। এ ক্ষেত্রে ভোক্তাদের প্রত্যাশা- খাদ্য সংগ্রহ ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলো কঠোর পরিদর্শন পদ্ধতি প্রয়োগ করবে, উপযুক্ত ক্ষেত্রে ল্যাবরেটরির ফলাফল প্রকাশ করবে এবং সম্পূর্ণ আমদানি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। এই ধরনের পদক্ষেপ শুধু জনস্বাস্থ্যকেই সুরক্ষা দেবে না, বরং সরকারের ক্রয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ওপর জনগণের আস্থা বাড়াবে। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশ যখন চুক্তি স্বাক্ষরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন মূল বিষয়টি চাল পাকিস্তান থেকে আসছে কি না তা নয়, বরং প্রতিটি আমদানি করা চালানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা মানদণ্ড সম্পূর্ণভাবে মানা হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করা। যদি ব্যাপক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, আমদানি করা চালের চালানের কীটনাশকের উপস্থিতি নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে এবং তা আফলাটক্সিন এবং অন্যান্য ক্ষতিকারক দূষণ থেকে মুক্ত, তবে ভোক্তারা এর নিরাপত্তার বিষয়ে আরও বেশি আশ্বস্ত হতে পারবেন। তবে পর্যাপ্ত পরীক্ষা করা না হলে এই আমদানির অর্থনৈতিক সুবিধা থাকা সত্ত্বেও খাদ্যের গুণমান এবং জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ থেকে যেতে পারে।
টানা বিরতির পর মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশাসন, বিচার বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপন ও একটি বিল পাস করা হয়েছে। অধিবেশনে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী জানান, সরকারি চাকরিতে বর্তমানে ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি পদ শূন্য রয়েছে। তিনি বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার পাশাপাশি প্রশাসনে বিগত সরকারের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ থাকা কর্মকর্তাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদকে জানান, দেশের উচ্চ ও নিম্ন আদালত মিলিয়ে বর্তমানে ৪৬ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলার জট কমাতে নতুন বিচারক নিয়োগ ও আদালতের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অধিবেশনে স্বাস্থ্য খাত নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়-সংক্রান্ত একটি সংশোধনী বিল নিয়ে বিরোধী দল উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের আশঙ্কা, প্রস্তাবিত পরিবর্তনের ফলে চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। এ বিষয়ে পরবর্তী ধাপে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ থাকবে বলে স্পিকার জানান। এদিকে কণ্ঠভোটে ‘পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। নতুন আইনে প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষা-সংক্রান্ত ডিজিটাল কারসাজি এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নে ইচ্ছাকৃত অনিয়মের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। বিলটি অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া সংসদে আইনশৃঙ্খলা, বিরোধী দলের কর্মসূচির নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়েও আলোচনা হয়। সরকার এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
দেশের আদালতগুলোতে মামলার জট কমানো এবং বিচার কার্যক্রম দ্রুততর করতে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। মঙ্গলবার সংসদে যশোর-৪ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মো. গোলাম রছুলের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, বিচার ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে ইতোমধ্যে ৫৩৬টি বিচারকের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এছাড়া নতুন করে ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগ এবং বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে আদালতের সহায়ক কর্মচারী নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি জানান, সরকার সম্প্রতি ৬৫০টি সিভিল জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, ৪০৬টি যুগ্ম জেলা জজ আদালত এবং ২০৪টি অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত প্রতিষ্ঠা করেছে। নবপ্রতিষ্ঠিত এসব আদালতের জন্য নতুন বিচারকের পদ সৃষ্টির বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে। এ কার্যক্রম সম্পন্ন হলে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। মন্ত্রী বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে বর্তমানে মোট ৫ লাখ ৬১ হাজার ৪৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে আপিল বিভাগে ৩৮ হাজার ৭১৩টি এবং হাইকোর্ট বিভাগে ৫ লাখ ২২ হাজার ৩৩১টি মামলা বিচারাধীন। গত ২০২৫ সালে আপিল বিভাগে ৭ হাজার ৫৫৩টি এবং হাইকোর্ট বিভাগে ৫৫ হাজার ৭৫৬টি মামলাসহ মোট ৬৩ হাজার ৩০৯টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। তিনি আরও জানান, গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের অধস্তন আদালতগুলোতে মোট ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ৪৩২টি মামলা বিচারাধীন ছিল। এর মধ্যে ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৪৪৩টি দেওয়ানি এবং ২৩ লাখ ৮৭ হাজার ৯৮৯টি ফৌজদারি মামলা। তবে গত এক বছরে অধস্তন আদালতে মোট ২ লাখ ৭৫ হাজার ৮৪টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৪৯ হাজার ৭৩টি দেওয়ানি এবং ২ লাখ ২৬ হাজার ১১টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারিক অবকাঠামো সম্প্রসারণ, বিচারক ও জনবল বৃদ্ধি এবং নতুন আদালত প্রতিষ্ঠাসহ সরকারের চলমান উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে মামলার জট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং বিচারপ্রার্থীরা আরো দ্রুত ন্যায়বিচার পাবেন।