ক্যাপসুল না থাকায় ১৪ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশে শিশুদের জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন। সর্বশেষ এ ক্যাম্পেইন হয়েছিল গত বছরের মার্চ মাসে।
নিয়মানুযায়ী, বছরে দুইবার এ কর্মসূচি হওয়ার কথা।
গত বছর মার্চের পর সেপ্টেম্বর এবং এ বছরের মার্চে দুটি ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও ক্যাপসুল সংকটে ওই সময়ের পরে আর তা করা হয়নি।
ইউনিসেফের কাছ থেকে ১০ জুনের মধ্যে এক কোটির বেশি ভিটামিন- এ ক্যাপসুল পাওয়া যাবে বলে গত মাসে জানিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত। কিন্তু তা পাওয়া যায়নি।
যদিও জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী ১০ জুনের কথা অস্বীকার করেছেন।
এই ক্যাম্পেইন বন্ধ রয়েছে ‘এটা বলা যাবে না’ বলেও দাবি করেন তিনি।
ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, এটা চেষ্টা-তদবির চলছে। কিন্তু ক্যাপসুল পাইতে একটু দেরি হইতেছে। এইজন্য একটু দেরি হইছে জিনিসটা।
ক্যাপসুল প্রাপ্তি সাপেক্ষে শিশুদের ভিটামিন- এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর এ ক্যাম্পেইনের সম্ভাব্য সময় জুনের শেষ সপ্তাহে নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে সংবাদ আসছে যে, ১৫ জুনের মধ্যে ক্যাপসুলটা আমাদের দেশে আইসা পৌঁছাবে।
ক্যাপসুল বিদেশ থেকে ও বিমানে করে আসবে এবং ১৫ জুন আসার কথা মাথায় রেখে জুনের শেষে কর্মসূচি শুরুর সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ২৭ জুনের মধ্যে আমরা ইনশাআল্লাহ এটা করবো বলে মোটামুটি প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এদিকে, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এ ক্যাম্পেইন ব্যাহত হলে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, দৃষ্টি সক্ষমতা, পুষ্টির ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
জনস্বাস্থ্যবিদ ড. মুশতাক হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, রাতকানা রোগটা কিন্তু নাই, নির্মূল হয়ে গেছে। ইপিআই টিকা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এটা দেওয়াতে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ছে। এখন এটা না দিলে এসব রোগ রাতকানা, অপুষ্টি, হাম সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
প্রতি বছর কত শিশুকে এই কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়?
এই কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সি শিশুদের ভিটামিন- এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। এদের মধ্যে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সি শিশুদের নীল রংয়ের ভিটামিন- এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।
এছাড়া, এক বছর বা ১২ মাস বয়স থেকে পাঁচ বছর বা ৫৯ মাস বয়সি শিশুদের খাওয়ানো হয় লাল রংয়ের ক্যাপসুল।
বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে দুই কোটি ৫৫ লাখ শিশুকে এ ক্যাম্পেইনের আওতায় ভিটামিন- এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।
ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী জানান, আমরা দুই কোটি ৬০ লাখের (ভিটামিন- এ ক্যাপসুল) টার্গেট রাখি। ইউনিসেফের কাছে এই দুই কোটি ৬০ লাখই চাওয়া হয়েছে।
ভিটামিন-এ নেই কেন, সংকট কোথায়?
ইউনিসেফের কাছ থেকে এবারই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ এই ভিটামিন ক্যাপসুলটি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক এ সংস্থাটির সঙ্গে বাংলাদেশের একটি চুক্তি হওয়ার কথা জানিয়ে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে এবারই ইউনিসেফ থেকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কারণ হচ্ছে, এক রাউন্ডের ক্যাপসুল যদি ওনাদের কাছ থেকে কেনা হয়, আরেক রাউন্ডের ক্যাপসুল ওনারা আমাদের ফ্রি অব কষ্ট (বিনামূল্যে) দেবে। এ জন্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে যে তাহলে আমরা ইউনিসেফ থেকেই নেব।
এর আগে অপারেশনাল প্ল্যানের মাধ্যমে টেন্ডার করে এই ভিটামিন-এ ক্যাপসুল কেনা হতো বলেও তিনি জানান।
২০২৪ সালের জুনে স্বাস্থ্য খাতের সর্বশেষ অপারেশনাল প্ল্যান বা ওপি শেষ হয়। এরপরেও টেন্ডার বা দরপত্রের মাধ্যমে এই ক্যাপসুল কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু পরে সেটি বাতিল হয়ে যায়।
ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী জানান, আগে টেন্ডার হয়েছিল, কোনো কারণে মন্ত্রণালয় ওই টেন্ডারের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করায় উনারা পরে ইউনিসেফ ফ্রি ফাইন্যান্সিং পদ্ধতিতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শিশুদের ভিটামিন-এ খাওয়ানো কেন জরুরি?
ভিটামিন - এ, ভিটামিন - ডি, ভিটামিন - ই, ভিটামিন - ১২, জিংক, আয়রন এবং আয়োডিন- এই উপাদানগুলোকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা অনুপুষ্টিকণা বলা হয়।
এই অনুপুষ্টিকণা মানুষের খুব কম পরিমাণে প্রয়োজন হয়। কিন্তু এটির সামান্য ঘাটতিতে একজন ব্যক্তিকে অনেক বড় সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
এই অনুপুষ্টিকণা নিয়ে বাংলাদেশে ২০১১-১২ সালে প্রথম একটি জাতীয় জরিপ করা হয়েছিল। পরে ২০১৯ - ২০ সালে আরেকটি জরিপ করা হয়, যেটির ফল প্রকাশ হয়েছিল ২০২২ সালের অক্টোবরে।
আইসিডিডিআরবি, জাতীয় পুষ্টি কর্মসূচি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনালসহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ওই ফল প্রকাশের অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছিল।
প্রথম জাতীয় জরিপটির চেয়ে দ্বিতীয় জরিপটিতে দেখা গেছে, বাংলাদেশে শিশু ও নারীদের মধ্যে অনুপুষ্টিকণার ঘাটতি অনেক।
৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সি শিশুদের দুইজনের একজন ভিটামিন - এ’র ঘাটতিতে ভুগছে।
সেসময় জাতীয় জরিপের প্রধান গবেষক ও আইসিডিডিআরবি-র অসংক্রামক রোগবিষয়ক শাখার বিজ্ঞানী আলিয়া নাহিদ জানিয়েছিলেন, প্রতি ১৩ জনের মধ্যে একজন নারীর দেহে এই ভিটামিনের ঘাটতি রয়েছে।
ভিটামিন - এ ছাড়াও, শিশু ও নারীদের মধ্যে জিংক ও আয়রনের ঘাটতি রয়েছে বলেও ওই জাতীয় জরিপে উঠে এসেছিল।
এর আগে, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইউনিসেফ বলেছিল, ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইনের আওতায় দুই কোটি আট লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশের জন্য বিজয়।
মহামারি কোভিডের সেসময়ও এই ক্যাম্পেইনের লক্ষ্যমাত্রার ৯৭ শতাংশ পূরণ হয়েছে বলে ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষকরা বলছেন, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে এবং সংক্রমণের প্রতি সংবেদনশীলতা কমাতে ভিটামিন এ গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুদের ভিটামিন - এ খাওয়ানোর প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করতে গিয়ে জনস্বাস্থ্যবিদ মুশতাক হোসেন রাতকানা রোগটি নির্মূল হয়ে যাওয়ার কথা তুলে ধরেন।
তিনি জানান, রাতকানা দূর করার জন্যই ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছিল, পরে তা নির্মূলও হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালে রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম গ্রহণ করে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হয়।
জনস্বাস্থ্যবিদ মুশতাক হোসেন বলেন, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা না থাকায় হামে মৃত্যু বড় আকার ধারণ করেছে।
তিনি বলেন, একেতো হামের টিকা ছিল না। তার ওপর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য যে ভিটামিন-এ, সেটাও ছিল না। ফলে যাদের হাম হয়েছে তাদের সেরে উঠতে দেরি হয়েছে বা অনেকে সেরে উঠতে পারেনি। নিউমোনিয়া বা অন্যান্য জটিলতা হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।
একইসঙ্গে পুষ্টির অন্যতম এই উপাদান ভোজ্যতেলে থাকা বাধ্যতামূলক করে বাংলাদেশে একটি আইনও রয়েছে।
ভোজ্যতেলে ভিটামিন এ না থাকলে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধানও রয়েছে আইনটিতে।
ভিটামিন এ ক্যাপসুলের উপকারিতা কী?
শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সঠিক বিকাশে সহায়ক ভূমিকার জন্য ভিটামিন- এ ক্যাপসুল খাওয়ানো জরুরি বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকরা।
ভিটামিন-এ ক্যাপসুল শিশুর দেহে যেসব ভূমিকা রাখে তা হলো:
১. শিশুদের দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে সহায়তা করে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে।
২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং এতে শিশু বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকে।
৩. শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি এবং সঠিক ওজন বজায় রাখতে সহায়তা করে।
৪. ডায়রিয়া ও হামসহ অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়।
৫. শিশুর ত্বক সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
৬. রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়তা করে।
ভিটামিন-এ খাওয়ানোর পাশাপাশি কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ানোর প্রতিও গুরুত্বারোপ করেছেন জনস্বাস্থ্যবিদ মুশতাক হোসেন।
ড. মুশতাক হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ভিটামিন-এ এর সঙ্গে আরেকটাও ছিল, সেটা হচ্ছে কৃমিনাশক খাওয়ানো। বাচ্চাদের পুষ্টি কৃমি খেয়ে ফেললে এটাও অপুষ্টির একটা কারণ হতে পারে। তাই ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইনের পাশাপাশি কৃমিনাশক ওষুধও খাওয়াতে হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি সপ্তাহেই নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। জানা গেছে, ইতোমধ্যে নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপনের খসড়া বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) পাঠানো হয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে খসড়াটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসবে। এরপর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সম্পন্ন করে এসআরও নম্বর দিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পে স্কেল-সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নতুন পে স্কেলের রেজুলেশন বুধবার বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে। সেখানে কাজ শেষে এটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে আসবে। পরে খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। ভেটিং শেষ হলে এসআরও নম্বর দিয়ে গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। নতুন পে স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা রয়েছে। গেজেট প্রকাশের পরই নতুন বেতন কাঠামোর কার্যকর হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
চলমান জ্বালানি (বিদ্যুৎ-গ্যাস) সংকটে ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের যে কষ্ট হচ্ছে, তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় অংশ নিয়ে তিনি এ দুঃখ প্রকাশ করেন। দেশে বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যা রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে জ্বালানি সমস্যা। দেশের বহু মানুষ জ্বালানি সমস্যায় কষ্ট পাচ্ছেন। আমরা সেটা অস্বীকার করছি না এবং যেহেতু বিএনপি সরকার বাংলাদেশের জনগণ দ্বারা নির্বাচিত সরকার, সেজন্য এই সমস্যা সমাধানে একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এটি বাস্তবায়নের জন্য কিছু সময় প্রয়োজন। কিন্তু বিএনপি সরকার সেভাবেই কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করছে, যেন ভবিষ্যতে আবারও বিশ্বে এ ধরনের কোনো সমস্যা তৈরি হলে যেন দেশের মানুষকে এই জ্বালানি সংকটে পড়তে না হয়। আজকে যেহেতু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আছে, সেহেতু দেশের বহু শিল্প-কারখানার মালিকসহ সাধারণ মানুষ এই জ্বালানি সমস্যায় কষ্ট পাচ্ছেন, আমি এবং আমার দলের পক্ষ থেকে তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে আমরা স্বৈরাচারের রেখে যাওয়া যে সমস্যাগুলোর কারণে আজ দেশ এবং দেশের মানুষ কষ্ট ভোগ করছে, আমরা শুধু এটিকে এক্সিউজ হিসেবে বলে দিতে চাই না; বরং এক্সিউজ না দিয়ে আমরা বাস্তবতা তুলে ধরতে চাই মানুষের কাছে এবং একই সঙ্গে আমরা এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চাই যাতে করে দেশের মানুষকে ভবিষ্যতে আর সমস্যায় না পড়তে হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ দলের প্রয়াত নেতাকর্মীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া মোনাজাতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক স্লোগানে শুরু হয় এই আলোচনা সভা। শুরুতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং দলের সাবেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সব শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বিএনপির ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর পর শুরু হয় মূল আলোচনা পর্ব। সভা সঞ্চালনা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমানউল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেছেন, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি কোনো দাবি নয়, এটি নাগরিক অধিকারের অংশ। দেশের সাড়ে সাত কোটি শ্রমজীবী মানুষের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শোভন কাজ ও প্রাপ্য মজুরি নিশ্চিত করতে সরকার প্রস্তুত। শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিল্স) ১০ম দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও সাধারণ সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। মাহদী আমিন বলেন, নিরাপদ পরিবেশ ও শোভন কাজের পাশাপাশি প্রযুক্তির মাধ্যমে শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। শিল্প খাতে স্থিতিশীলতা, আস্থা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে মালিক-শ্রমিক ঐক্যের প্রয়োজন। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে। অনুষ্ঠানে বিল্সের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঞাঁ সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত ও সূচনা বক্তব্য দেন বিল্সের মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও কৃষি মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে শ্রমিক সংগঠন, সরকার, নিয়োগকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।