বিনোদন

মাঝরাতে অভিনেত্রীর দরজায় পরিচালক, স্বরা ভাস্করের বিস্ফোরক অভিজ্ঞতা

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বলিউডে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে এক পরিচালকের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ভারতীয় অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর। সম্প্রতি ‘রাইজ অ্যান্ড ফল’ সিজন ২-এর মঞ্চে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি। অভিনেত্রীর দাবি, একবার রোমান্টিক দৃশ্যের মহড়ার কথা বলে তাঁকে একা ডেকে পাঠানোর পাশাপাশি মাঝরাতে তাঁর দরজায় কড়া নাড়েন ওই পরিচালক।

 

স্বরা জানান, ‘তনু ওয়েডস মনু’ সিনেমার সাফল্যের পর বড় বাজেটের একটি ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। ছবিটির কাজ চলাকালে পরিচালকের আচরণ তাঁকে অস্বস্তি ও আতঙ্কের মধ্যে ফেলে দেয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রোমান্টিক দৃশ্যের মহড়ার কথা বলে পরিচালক তাঁকে একা ডেকে পাঠাতেন। এ ছাড়া ব্যক্তিগত বার্তা পাঠানো ও কবিতা পাঠানোর মতো ঘটনাও ঘটেছিল।

 

একদিন আবারও রোমান্টিক দৃশ্যের মহড়ার জন্য স্বরাকে একা ডাকা হয়। তখন তিনি জানতে চান, মহড়ার সময় আর কারা উপস্থিত থাকবেন। অভিনেত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, পরিচালক জানিয়েছিলেন, তাঁরা দুজনই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন।

 

এ প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়ে স্বরা বলেন, অভিনেতা ও ক্যামেরাপারসনকে ডাকা হয়ে থাকলে মহড়ার সময় তাঁদেরও উপস্থিত থাকা উচিত। শুধু দুজনের একান্তে মহড়া করার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

 

অভিনেত্রী জানান, পরে গেস্ট হাউসে গিয়ে তিনি দেখেন, পরিচালক ও চিত্রগ্রাহক বসে মদ্যপান করছেন। সেখান থেকে চিত্রনাট্য পড়ে কোনোভাবে নিজের কক্ষে ফিরে যান তিনি।

 

তবে ওই রাতেই পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে বলে জানান স্বরা। তাঁর দাবি, মাঝরাতে পরিচালক তাঁর কক্ষের দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ে এতটাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন যে, তাঁর মনে হয়েছিল পরিচালক দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়তে পারেন।

 

শেষ পর্যন্ত দরজা খুললে মদ্যপ অবস্থায় পরিচালক তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি স্বরাকে জড়িয়ে ধরতে পারেন কি না।

 

পরিচালকের এমন প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে তাঁকে চলে যেতে বলেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

 

স্বরা ভাস্করের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের ওই অভিজ্ঞতা তাঁকে মানসিকভাবে বেশ ধাক্কা দিয়েছিল। ঘটনাটি তুলে ধরে তিনি কর্মক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সীমারেখা, নিরাপত্তা এবং নারীদের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার বিষয়টি সামনে এনেছেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

বিনোদন

আরও দেখুন
দিলজিতের কনসার্ট ঘিরে অনিশ্চয়তা, অনুমতি দিলো না পুলিশ

বলিউড ও পঞ্জাবি সংগীতপ্রেমীদের জন্য খারাপ খবর! দিলজিৎ দোসাঞ্জের দিল্লির কনসার্ট ঘিরে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আগামী ৩০ অক্টোবর দিল্লির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে তার ‘অরা ইন্ডিয়া ট্যুর’-এর প্রথম অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল।   সেই কনসার্টের অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছে দিল্লি পুলিশ। ফলে যারা ইতিমধ্যেই টিকিট কেটে ফেলেছেন কিংবা অনুষ্ঠানে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।   এইচটি সিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, টিকিট বিক্রির সংস্থা বুকমাইশোকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন দিল্লি পুলিশের দক্ষিণ জেলার ডেপুটি কমিশনার। নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কা, উৎসবের মরশুমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখার প্রয়োজনীয়তা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বের কথা মাথায় রেখে এই অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফলে নির্ধারিত দিনে দিল্লিতে দিলজিতের অনুষ্ঠান হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।   প্রায় দু’বছর পর ভারতে কনসার্ট করতে চলেছেন দিলজিৎ দোসাঞ্জ। তার ‘অরা ইন্ডিয়া ট্যুর’ শুরু হওয়ার কথা ৩০ অক্টোবর দিল্লি থেকে। ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ট্যুরের টিকিটের সর্বোচ্চ মূল্য ১৮ হাজার রুপি। ফলে চড়া দাম দিয়ে টিকিট কেটেও প্রিয় গায়ককে সরাসরি মঞ্চে দেখতে পাবেন কি না, তা নিয়ে চিন্তায় অনুরাগীরা।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২৩, ২০২৬
টম ক্রুজ। ফাইল ছবি

চলচ্চিত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন টম ক্রুজ

চিকিৎসকের পরামর্শে বিশ্রাম, ক্ষমা চাইলেন অমিতাভ

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের ১৫ সদস্যের সাংস্কৃতিক দল পাকিস্তানে, আছেন যেসব তারকা

ছবি: সংগৃহীত
দুর্গন্ধে সন্দেহ, যেভাবে জানা যায় সংগীতিশিল্পী মনি কিশোরের মৃত্যুর খবর

‘কী ছিলে আমার’, ‘সেই দুটি চোখ কোথায় তোমার’, ‘তুমি শুধু আমারই জন্য’-নব্বইয়ের দশকে জনপ্রিয় হওয়া এই গানগুলো এখনো শ্রোতাদের মনে জায়গা করে আছে। গানগুলো দিয়ে সংগীতাঙ্গনে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিলেন মনি কিশোর। একসময় তার কণ্ঠে মুগ্ধ হয়েছেন অসংখ্য শ্রোতা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংগীতজগৎ থেকে নিজেকে অনেকটাই গুটিয়ে নেন এই গায়ক। ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার রামপুরার একটি বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় তার মরদেহ। দুর্গন্ধ থেকে সন্দেহ, এরপর পুলিশের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে সামনে আসে তার মৃত্যুর খবর।   নড়াইলের লক্ষ্মীপুরে ১৯৬১ সালের ৯ জানুয়ারি জন্ম মনি কিশোরের। সংগীতপ্রেমী পরিবারে বেড়ে ওঠায় ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি ছিল তার গভীর আগ্রহ। আশির দশকের শেষ দিকে ঢাকায় এসে সংগীতাঙ্গনে যাত্রা শুরু করেন তিনি। নিজের স্বতন্ত্র কণ্ঠ ও গায়কির মাধ্যমে অল্প সময়েই শ্রোতাদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন।   নব্বইয়ের দশকে অডিও অ্যালবামের জনপ্রিয়তার সময়ে একের পর এক গান দিয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করেন মনি কিশোর। ‘কী ছিলে আমার’, ‘তুমি শুধু আমারই জন্য’ ও ‘সেই দুটি চোখ কোথায় তোমার’ গানগুলো তাকে এনে দেয় ব্যাপক পরিচিতি। প্রেম, বিরহ, অভিমান আর স্মৃতিময় অনুভূতির প্রকাশ তার গানে আলাদা মাত্রা যোগ করেছিল। এভাবেই গড়ে ওঠে তার নিজস্ব শ্রোতাশ্রেণি। একসময় নব্বইয়ের দশকের আধুনিক গানের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠ হয়ে ওঠেন তিনি।   দীর্ঘ সংগীতজীবনে পাঁচ শতাধিক গানে কণ্ঠ দিয়েছেন মনি কিশোর। রেডিও ও টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত শিল্পী হলেও চলচ্চিত্রে তার গান গাওয়ার সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম। মূলত অডিও অ্যালবামেই বেশি কাজ করেছেন তিনি। তার গাওয়া অনেক গান এখনো শ্রোতাদের কাছে নস্টালজিয়ার অনুষঙ্গ।   তবে ২০০০ সালের পর ধীরে ধীরে সংগীত থেকে দূরে সরে যেতে থাকেন এই শিল্পী। একপর্যায়ে নতুন গান প্রকাশ থেকেও নিজেকে গুটিয়ে নেন। জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও কেন তিনি আড়ালে চলে গিয়েছিলেন, তা নিয়ে শ্রোতাদের মধ্যে কৌতূহল ছিল।   মৃত্যুর আগে এক সাক্ষাৎকারে আবারও গান করার কথা জানিয়েছিলেন মনি কিশোর। পুরোনো গানগুলো পর্যায়ক্রমে ইউটিউবে প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। ‘কী ছিলে আমার’ গানটিও নতুন করে প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন। তার ভাষ্য ছিল, নতুন প্রজন্মের অনেক শ্রোতাই গানটি শুনেছেন, কিন্তু অনেকেই জানেন না এর মূল শিল্পী কে।   বিভিন্ন অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ করা তার গানগুলো ইউটিউবে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক দর্শক-শ্রোতার কাছে পৌঁছেছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তরুণদের কণ্ঠেও শোনা যায় তার জনপ্রিয় গান। তবে অনেকের কাছেই অজানা থেকে গেছে গানগুলোর মূল শিল্পীর পরিচয়, এমনকি গীতিকার ও সুরকারের নামও। নতুন প্রজন্মের কাছে নিজের গানগুলোকে নতুন করে পরিচিত করানোর চেষ্টা করছিলেন মনি কিশোর। এর মধ্যেই থেমে যায় তার পথচলা।   ঢাকার রামপুরার পপি ভবনের একটি বাসায় থাকতেন মনি কিশোর। মৃত্যুর আগে বেশ কিছুদিন ধরে তার কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। প্রতিবেশীদের ধারণা ছিল, তিনি হয়তো রাতে বাসায় ফেরেন, আবার বেরিয়ে যান। এর মধ্যে ভবন ও পাশের লাগোয়া ভবনের বাসিন্দারা হঠাৎ দুর্গন্ধ পেতে শুরু করেন।   সন্ধ্যার দিকে বাসার মালিক শামসুদ্দোহা তালুকদারসহ কয়েকজন দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে থাকেন। কিন্তু প্রথমে বুঝতে পারছিলেন না, কোথা থেকে গন্ধ আসছে। একপর্যায়ে তাদের সন্দেহ হয়, মনি কিশোরের দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকা কক্ষ থেকেই দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।   দরজার সামনে গিয়ে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক মনে হয়। দুর্গন্ধের কারণে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। তারা ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাননি। তখনই মনি কিশোরের কোনো অঘটন ঘটেছে বলে আশঙ্কা করেন তারা।   মনি কিশোরের মৃত্যুর আশঙ্কা থেকে বাসার মালিক তার বন্ধু আদনান বাবুকে ফোন করেন। দ্রুত ঘটনাস্থলে আসতে বলেন তিনি। পরে আদনান বাবুর পরামর্শে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কক্ষ থেকে মনি কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে।   পরবর্তী সময়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন এই গায়ক। পাশাপাশি মানসিক চাপেও থাকতেন তিনি। পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগও খুব একটা ছিল না। তার সাবেক স্ত্রী শামীমা চৌধুরী ও একমাত্র মেয়ে নিন্তি চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।   একসময় যে কণ্ঠে প্রেম, বিরহ আর অভিমানের গান শুনে মুগ্ধ হয়েছেন অসংখ্য শ্রোতা, সেই কণ্ঠের মানুষটি জীবনের শেষ সময়ে ছিলেন অনেকটাই নিভৃতে। মনি কিশোরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার অসংখ্য ভক্ত ও শ্রোতার মনে ফিরে আসে পুরোনো দিনের গানগুলো। শিল্পী চলে গেলেও তার কণ্ঠে গাওয়া গানগুলো এখনো বেঁচে আছে শ্রোতাদের স্মৃতিতে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

টাইগার শ্রফকে হত্যাচেষ্টা: মূল লক্ষ্য তিনি ছিলেন না, জানাল পুলিশ

সংগৃহীত ছবি

২০ নভেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হবে বাচসাস নির্বাচন

ছবি: সংগৃহীত

২০ নভেম্বর বাচসাসের নির্বাচন, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা হস্তান্তর

ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘদিনের প্রেমিককে বিয়ে করলেন কে-পপ তারকা ইজে

ব্যক্তিজীবনে নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন জনপ্রিয় কে-পপ সংগীতশিল্পী ইজে (EJAE)। দীর্ঘদিনের প্রেমিক স্যাম কিমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তিনি। গত ১৭ অক্টোবর দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।   ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’ প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া ইজে ‘গোল্ডেন’ গানের জন্য অস্কার জয়ের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও আলোচনায় আসেন। এবার বিয়ের খবরের মধ্য দিয়ে আবারও সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে উঠে এসেছেন এই সংগীতশিল্পী।   ফ্যাশনবিষয়ক সাময়িকী ভোগ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইজের বিয়ের স্থানটি ছিল তার ব্যক্তিগত স্মৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। শৈশবে ওই বাড়িতে তার দাদা-দাদি বসবাস করতেন। ছোটবেলার অনেকটা সময় তিনি সেখানে কাটিয়েছেন। বাড়ির বাগানে ঘুরে বেড়ানো এবং পেছনের পাহাড়ে দাদুর সঙ্গে হাঁটার স্মৃতিও জড়িয়ে রয়েছে জায়গাটির সঙ্গে।   বিয়ের অনুষ্ঠানে কোরিয়ার ঐতিহ্যবাহী পোশাক হানবক পরেছিলেন ইজে ও স্যাম কিম। কনের পোশাকে ছিল সবুজ ও সোনালি রঙের সূক্ষ্ম কারুকাজ, সঙ্গে গাঢ় লাল রঙের লম্বা স্কার্ট। পোশাকটির ওপরের অংশের নাম ‘ডাঙ্গুই’ এবং স্কার্টটি পরিচিত ‘চিমা’ নামে।   ইজের পোশাকে সোনালি নকশার পাশাপাশি বুকের মাঝখানে ড্রাগনের প্রতিকৃতি ছিল। চুলের ঐতিহ্যবাহী অলংকারও তার সাজে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। দক্ষিণ কোরিয়ার ডিজাইনার হান উন-হি পোশাকটি নকশা করেছেন।   অন্যদিকে, স্যাম কিম পরেছিলেন হালকা সোনালি-খয়েরি রঙের ঐতিহ্যবাহী হানবক। সাদা কলার, কোমরে গাঢ় রঙের বাঁধন এবং বুকে গোলাপি ফিতার মতো অলংকরণে তার পোশাকেও ছিল ঐতিহ্যের ছোঁয়া।   ইজে ও স্যামের পরিচয় ২০১৭ সালে। সে সময় স্যাম সংগীত প্রযোজক হিসেবে কাজ করতেন। একটি গানের রেকর্ডিং সেশনে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তাদের পরিচয় হয়। সেখান থেকেই সম্পর্কের সূচনা।   দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর ২০২৩ সালে বাগ্‌দান করেন তারা। তবে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বরাবরই গোপনীয়তা বজায় রেখেছিলেন এই জুটি। পরে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইনস্টাগ্রামে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে বাগ্‌দানের খবর ভক্তদের জানান ইজে।   দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের মাধ্যমে জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখলেন এই সংগীতশিল্পী ও তার সঙ্গী স্যাম কিম।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মুম্বাই, গ্রিস নাকি প্যারিস কোথায় সাইফের বিয়ের প্রস্তাবে ‘হ্যাঁ’ বলেছিলেন কারিনা

ছবি: সংগৃহীত

মুম্বাইয়ে টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি, আহত দুজন

নতুস সিনেমা ‘জেলার ২’ দিয়ে বক্স অফিসে ঝড় তুলেছেন রজনীকান্ত।

তিন দিনেই বিশ্বজুড়ে ৩০০ কোটি ছাড়াল ‘জেলার ২’

0 Comments