জাতীয়

ব্যবসার প্রক্রিয়া সহজ করতে প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর তাগিদ

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দেশে ব্যবসা পরিচালনা ও বিনিয়োগ কার্যক্রমকে আরও সহজ ও গতিশীল করতে প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে ব্যবসা ও বিনিয়োগসংক্রান্ত সরকারি সেবাগুলো সমন্বিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।

 

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিজনেস প্রসেস সহজীকরণ নিয়ে আয়োজিত এক সভায় এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

 

সভায় রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস (আরজেএসসি) এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথোরিটির (আইবিএ) কর্মকর্তারা অংশ নেন। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানও উপস্থিত ছিলেন।

 

সভায় ব্যবসা নিবন্ধন, বিভিন্ন ধরনের অনুমোদন এবং সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রচলিত প্রক্রিয়াগুলো পর্যালোচনা করা হয়। উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তি কমাতে অপ্রয়োজনীয় ধাপ বাদ দেওয়া এবং সেবা পেতে প্রয়োজনীয় সময় কমানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

 

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা পরিচালনায় প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা কমানো সম্ভব হলে উদ্যোক্তা তৈরি এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বাড়াতে হবে।

 

তিনি ব্যবসা ও বিনিয়োগসংক্রান্ত সেবাগুলো ধাপে ধাপে ডিজিটাল ও সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, দ্রুততা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথাও বলেন।

 

বৈঠকে ব্যবসাপ্রক্রিয়া সহজীকরণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর চলমান কার্যক্রম, বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা এবং সেবার মান আরও উন্নত করার সম্ভাব্য উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

 

এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিজনেস বাংলাদেশ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ফাইল ছবি
ইউরোপের তিন দেশ থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হলো ৩৫ বাংলাদেশিকে

৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে ইউরোপ। এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন।   ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সোয়া ৮টায় একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে (পিভিজি ৯৪৪৫) তারা ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।   বিমানবন্দর থেকে খালি হাতে ফিরে আসা প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। চরম সংকটে পড়া এসব মানুষকে জরুরি সাহায্য ও মানসিক কাউন্সেলিং দেওয়ার পাশাপাশি নিরাপদে বাড়ি ফেরার জন্য দেওয়া হয়েছে নগদ অর্থ সহায়তা। সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসীকল্যাণ ডেস্কের যৌথ সহযোগিতায় এই মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়। এ সময় কর্মসূচি পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা।   ফেরত আসা ব্যক্তিদের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের আওতায় সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে কাউন্সেলিং ও প্রশিক্ষণ শেষে তাদের অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়া হবে।   ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, গত কয়েক বছরে ইউরোপ থেকে ফেরত আসা ব্যক্তিদের মধ্যে ইতালি, গ্রিস ও জার্মানি থেকে আসা মানুষের সংখ্যা বেশি। ফেরত আসা ব্যক্তিদের বিমানবন্দরে জরুরি সহায়তা ও কাউন্সেলিং দেওয়া হয়। পরে তাদের অর্থনৈতিক সহায়তাও দেওয়া হয়, যাতে তারা নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।   তিনি বলেন, ঝুঁকি নিয়ে যেন মানুষ ইউরোপে না যান, সে জন্য সারা দেশে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ইউরোপ বৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।   ইউরোপ থেকে অনিয়মিতভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ফেরত আনার বিষয়ে ২০১৭ সালে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরস (এসওপি) চুক্তি করে বাংলাদেশ সরকার। এর আওতায় এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। তাদের মধ্যে সাইপ্রাস, ইতালি, রোমানিয়া ও ফ্রান্স থেকে আসা মানুষের সংখ্যা বেশি।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৩, ২০২৬
ভারতের নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সাঁধু, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনার বিবেক যোশি। ছবি: সংগৃহীত

জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে দুই কমিশনারের চিঠি ফেরত পাঠালেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। ফাইল ছবি

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ফাইল ছবি

হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁওয়ে ভোট কারচুপি হলে মাগুরার ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না: ১১-দলীয় জোট

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোট কারচুপি বা ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ চেষ্টা করা হলে সরকারকে মাগুরার নির্বাচনের ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ১১-দলীয় জোট। একই সঙ্গে দুর্নীতি বন্ধ, প্রশাসনে দলীয়করণ রোধ, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ও পদোন্নতি এবং গুম-খুন ও হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে স্বাধীন কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে জোটটি।   শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১-দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন কমিটির সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।   তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোট দিতে এবং পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে জনগণ প্রস্তুত। ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী দেলোয়ার হোসাইনের পক্ষে জনসমর্থন তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে সেখানে আয়োজিত জনসভায় ব্যাপক জনসমাগম হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।   নির্বাচনে কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, তাঁদের কাছে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য রয়েছে। এ ধরনের কোনো চেষ্টা করা হলে সরকারকে মাগুরার নির্বাচনের ইতিহাস স্মরণ করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, মাগুরার নির্বাচন বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসের একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়, যা অতীতে সরকারবিরোধী আন্দোলনকে তীব্র করেছিল।   তিনি আরও বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে মাগুরার ঘটনার পুনরাবৃত্তি তাঁরা চান না। তাই নির্বাচন নিয়ে কোনো অসৎ পরিকল্পনা থাকলে তা পরিহার করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ভোট কারচুপি ঠেকাতে জনগণও সচেতন হচ্ছে এবং জোটের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকবেন বলে জানান তিনি।   ৩১ অক্টোবর লংমার্চ সংবাদ ব্রিফিংয়ে আগামী ৩১ অক্টোবর লংমার্চ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন হামিদুর রহমান আযাদ। কর্মসূচি অনুযায়ী, সকাল ৭টায় ঢাকার বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে জমায়েত শুরু হবে। সকাল ৮টায় সমাবেশ শেষে লংমার্চ যাত্রা শুরু করবে। ঢাকা থেকে যাত্রা করে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়ায় গিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে। লংমার্চের পথে ছয়টি স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। স্থানগুলো হলো: মাদারীপুর-শরীয়তপুরের নাওডোবা বাগেরহাটের কাটাখালী খুলনার বাবরি চত্বর খুলনার ফুলতলার স্বাধীনতা চত্বর যশোরের মণিরামপুর মোড় চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড কর্মসূচির সমাপনী সভা অনুষ্ঠিত হবে কুষ্টিয়া জেলা হাইস্কুল মাঠে।   হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, লংমার্চ হবে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচি পালন করা হবে। এর মাধ্যমে সরকারকে জনগণের মনোভাব উপলব্ধি করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বার্তা দিতে চান তাঁরা।   তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি কর্মসূচির প্রতিটি স্থানে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। কেউ যাতে উসকানি দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে আগাম ব্যবস্থা নেওয়ারও অনুরোধ করেন তিনি।   জোটের সমন্বয়ক বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে প্রশাসনের সহযোগিতা তাঁরা প্রত্যাশা করেন। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।   ১১-দলীয় ঐক্য অটুট থাকার দাবি সাম্প্রতিক সময়ে সাতটি দলের সঙ্গে আলোচনা এবং ১১-দলীয় জোটের ঐক্য নিয়ে প্রশ্নের জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিভিন্ন দলের নেতাদের উপস্থিতিই প্রমাণ করে যে ১১-দলীয় ঐক্য অটুট রয়েছে। জোট ভেঙে যাওয়া বা সদস্যদের বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ছড়ানো বক্তব্যকে তিনি অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন ও কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারীসহ ১১-দলীয় জোটের বিভিন্ন দলের নেতারা। এ ছাড়া এবি পার্টি, জাগপা, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও লেবার পার্টির নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত সাহেদের মরদেহ পৌঁছাল গ্রামের বাড়িতে

ছবি: সংগৃহীত

উইপোকা ও ইঁদুরে নষ্ট সঞ্চয়ের টাকা ফিরে পেলেন কৃষক তোফাজ্জল

ছবি: সংগৃহীত

মাগুরায় মদপানের পর অসুস্থ হয়ে দুই যুবকের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
ভাটারায় নির্মাণাধীন ভবন থেকে নিরাপত্তাকর্মীর মরদেহ উদ্ধার, হত্যার আশঙ্কা

রাজধানীর ভাটারা থানাধীন এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের টিনের ছাপরা ঘর থেকে আলমগীর হোসেন (৫২) নামে এক নিরাপত্তাকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে তাঁকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।   বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে ভবনটির একটি ছাপরা ঘর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।   ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল ওয়াদুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণাধীন ভবনের ছাপরা ঘর থেকে আলমগীরের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।   পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, আলমগীর ওই নির্মাণাধীন ভবনে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন এবং সেখানেই বসবাস করতেন। তাঁর গলায় আঙুলের ছাপের মতো চিহ্ন, ডান পায়ের হাঁটুর নিচে ক্ষত এবং কানের পাশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।   এসব আলামত দেখে তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।   নিহত আলমগীর হোসেন নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার সাইলকোনা গ্রামের প্রয়াত কলিম উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অপ্রতিম হত্যা মামলা: ৪ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযোগপত্র দাখিল

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কারাগারে বন্দি সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত চলবে মহানগর এক্সপ্রেস, প্রকাশ নতুন সময়সূচি

0 Comments