ফেনীর তিন উপজেলায় সরকারি ভবনের ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারি ভবনের অব্যবহৃত ছাদকে কাজে লাগিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলায়।
প্রকল্পের আওতায় তিন উপজেলায় সরকারি বিভিন্ন স্থাপনার ছাদে স্থাপন করা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট। এর মধ্যে ছাগলনাইয়ায় ৪১৫ কিলোওয়াট, পরশুরামে ২৯৮ কিলোওয়াট এবং ফুলগাজীতে ২৪৯ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরব্যবস্থা রয়েছে।
নেট মিটারিং পদ্ধতিতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রথমে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চাহিদা পূরণে ব্যবহার করা হবে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।
ফুলগাজী উপজেলায় উপজেলা পরিষদ ভবন, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো এবং ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ আটটি সরকারি স্থাপনায় সৌর প্যানেল বসানো হয়েছে। এসব স্থাপনায় মোট ২৪৯ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।
পরশুরাম উপজেলায় উপজেলা পরিষদ ভবন, অডিটোরিয়াম, তিনটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও জেলা পরিষদ ডাকবাংলোসহ ছয়টি স্থাপনায় সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থার মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২৯৮ কিলোওয়াট।
অন্যদিকে ছাগলনাইয়া উপজেলায় উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা ভবন, ডাকবাংলো এবং ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ মোট ১২টি সরকারি স্থাপনায় সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। এখানকার মোট উৎপাদন সক্ষমতা ৪১৫ কিলোওয়াট।
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তিন উপজেলায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে আনুমানিক ৫ থেকে সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।
এদিকে ফেনী সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী এর আগে পরশুরামে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ উদ্বোধন করেন। ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের আওতায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্বাসন, নদীতীর সংরক্ষণ, নদী ও জলাশয় পুনঃখনন এবং সেচ অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ রয়েছে।
পরে প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। সফরের পরবর্তী কর্মসূচিতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী দেওয়ার আয়োজন রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের অধীনে সরকারি খরচায় সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে ২,৩৮৫টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সেবার মধ্যে সরকারি খরচায় সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যম ২,৩৮৫ টি, ৬৪ জেলার লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে ২ লাখ ৪০ হাজার ৪৭৫ টি এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেলের মাধ্যমে ৮২৫টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও অসহায় বিচারপ্রার্থীদের বিনা খরচে আইনি সহায়তা দিতে প্রণীত ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন’-এর অধীনে জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থা এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সংস্থাটি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধীন একটি সরকার নিয়ন্ত্রিত সেবা সংস্থা।
এক মাসের বেশি সময় ধরে সরকার-নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ১২ কেজির তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার। এই পরিস্থিতির মধ্যে বেসরকারি আমদানিকারক ও বোতলীকরণ কোম্পানির পক্ষ থেকে কয়েকটি স্তরে পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে পরিবেশক ও খুচরা বিক্রি পর্যায়েও কমিশন বৃদ্ধির প্রস্তাব জমা পড়েছে নিয়ন্ত্রক এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি)। এমনকি খোদ সরকারি প্রতিষ্ঠান এলপি গ্যাস লিমিটেড সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ৮২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২৩৫ টাকা ৪২ পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছে। এসব প্রস্তাবের ওপর ২৯ অক্টোবর গণশুনানি করতে যাচ্ছে বিইআরসি। দেশে প্রতি মাসে ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টন এলপিজি ব্যবহার হয়। এর মধ্যে মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশ বিক্রি করে সরকারি কোম্পানি এলপি গ্যাস লিমিটেড। চাহিদার বাকিটা ১০ থেকে ১২টি বেসরকারি কোম্পানি আমদানি করে পূরণ করে থাকে। বেসরকারি এলপিজির দাম প্রতি মাসে নির্ধারিত হলেও সরকারি কোম্পানির এলপিজির দাম এক বছরের বেশি সময় ধরে স্থির রয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি সরকারি এলপিজির দাম ৬২ টাকা ১৫ পয়সা হলেও বেসরকারি গ্যাসের দাম দ্বিগুণের বেশি—প্রতি কেজি ১৫৩ টাকা ০৬ পয়সা। দামের এই বৈষম্যের কারণে সরকারি এলপিজি নিয়ে নানা ধরনের অনিয়ম চলে থাকে। গত ফেব্রুয়ারি মাসেই বিইআরসির কাছে সরকারি এলপি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব জমা হয়েছিল। সম্প্রতি সেই প্রস্তাব প্রকাশ করা হয়। প্রস্তাবে সৌদি চুক্তি মূল্য (সিপি) অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণের পাশাপাশি ডিলারদের পরিবহন খরচ ২১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৮ টাকা এবং কমিশন ২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫২ টাকার করার কথা বলা হয়েছে। সরকারি কোম্পানির দেওয়া যুক্তি : প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে বলা হয়, বিইআরসি ২০২৫ সালের মে মাসে সাড়ে ১২ কেজি এলপি গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম ৬৯০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮২৫ টাকা করেছিল। সংস্থাটি গত জানুয়ারি মাসে বেসরকারি গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩৬০ টাকা নির্ধারণ করে। বেসরকারি সিলিন্ডারের তুলনায় বিপিসির সিলিন্ডারের দাম অনেক কম হওয়ায় সরকারি গ্যাস বেসরকারি সিলিন্ডারে ভরে (ক্রস ফিলিং) নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রয় করা হয়। এতে প্রান্তিক পর্যায়ে অনেক গ্রাহক কম দামে সরকারি এলপি গ্যাস পাচ্ছে না। আরেকটি যুক্তিতে বলা হয়, যেহেতু সরকারি শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) প্রোপেন এবং বিউটেন এর ৩৫: ৬৫ অনুপাতে এলপিজি প্রস্তুত করা হয়, তাই বেসরকারি খাতের মতো সরকারি এলপিজির ক্ষেত্রেও প্রতি মাসে ওই দুই উপাদানের সৌদি সিপি মূল্য ৩৫: ৬৫ অনুপাতে গড় করেই দাম নির্ধারণ করা যুক্তিযুক্ত। হাইকোর্টের নির্দেশনায় ২০২১ সালের এপ্রিলে প্রথমবারের মতো সরকারি ও বেসরকারি এলপিজির দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি। পরে ওই বছরের অক্টোবরে দাম নির্ধারণের পদ্ধতি পরিবর্তন করা হয়। তখন থেকে সৌদি জ্বালানি কোম্পানি আরামকোর প্রতি মাসের চুক্তিমূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করে বেসরকারি এলপিজির দাম নির্ধারণ করছে কমিশন। পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব বেসরকারিতে: ব্যাংকঋণের সুদহার, পরিবহন খরচ, কারখানা পরিচালনা ও নিরাপত্তার ব্যয় বাড়ার কারণ দেখিয়ে কমিশন বৃদ্ধিসহ গ্যাস বাজারজাত করার বিভিন্ন ধাপে বাড়তি ব্যয়ের সমন্বয় চায় বেসরকারি এলপিজি কোম্পানিগুলো। নতুন প্রস্তাবে তারা কেজিপ্রতি গ্যাস মজুত ও বোতলীকরণের খরচের সঙ্গে পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের ওপর মুনাফা বাড়ানোর আবেদন করেছে। বেসরকারি কোম্পানিগুলোর দেওয়া প্রস্তাবে খরচের হিসাবে ব্যাপক পার্থক্য দেখা গেছে। প্রতি কেজি এলপিজি মজুত ও বোতলজাত করার খরচ ওমেরা এলপিজি ১২ টাকা ২৫ পয়সা, ফ্রেশ এলপিজি ২৫, ডেল্টা এলপিজি ৩০ এবং পেট্রোম্যাক্স এলপিজি সাড়ে ১৯ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে। ওমেরার প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বিইআরসি প্ল্যান্ট পর্যায় পর্যন্ত প্রতি ১২ কেজি রিফিল সিলিন্ডারের জন্য অপারেটর ব্যয় আনুমানিক ২১২ টাকা ধরে। এর বাইরে আছে জাহাজ ভাড়া, ভ্যাট ও গুদাম পর্যন্ত পরিবহন খরচ। অপারেটরদের প্রকৃত ব্যয় আনুমানিক ৪৭৮ টাকা। কোম্পানিটির প্রস্তাবে পরিবেশকের কমিশন ৫০ টাকা অপরিবর্তিত রেখে খুচরা বিক্রেতার কমিশন ৪৫ থেকে ৮০ টাকা করা হয়েছে। কয়েকটি খাতে ব্যয় কম দেখিয়ে সব মিলিয়ে প্রায় ৩০০ টাকা দাম বাড়ানোর হিসাব দিয়েছে ওমেরা। মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশ এলপিজি মজুত ও বোতলীকরণ খরচ প্রতি কেজিতে ১৬ টাকা ৭৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশকের কমিশন প্রতি কেজিতে ৪ টাকা ১৭ পয়সা থেকে ১০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতার কমিশন ৩ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ১২ টাকা ৫০ পয়সা করার দাবি জানিয়েছে। মেঘনার বক্তব্য, ব্যাংকঋণের সুদ বেড়ে বছরে প্রায় ১৫ শতাংশ হয়েছে। পাশাপাশি সিলিন্ডারের নিরাপত্তা পরীক্ষা, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। বিনিয়োগের ওপর বছরে ২০ শতাংশ মুনাফা বিবেচনারও প্রস্তাব দিয়েছে কোম্পানিটি। ডেল্টা এলপিজি মজুত ও বোতলীকরণ খরচ প্রতি কেজিতে ১৫ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা করার দাবি জানিয়েছে। তারা পরিবেশকের কমিশন প্রতি কেজিতে ৮ টাকা ৩৩ পয়সা এবং খুচরা বিক্রেতার কমিশন ১০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে। পেট্রোম্যাক্স এলপিজি মজুত ও বোতলীকরণ খরচ প্রতি কেজিতে ১৯ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণের আবেদন করেছে। পাশাপাশি প্রতি কেজিতে ১ টাকা ৫০ পয়সা টার্নওভার কর এবং ৮ টাকা ১২ পয়সা অর্থায়ন ব্যয় বিবেচনার প্রস্তাব দিয়েছে। এ ছাড়া এম এস তাহের এন্টারপ্রাইজ, মা এন্টারপ্রাইজ, জামাল এজেন্সি এবং উজ্জ্বল ট্রেডার্স নামে চারটি পরিবেশক কোম্পানির আবেদন প্রকাশ করেছে বিইআরসি। আবেদনে প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারে পরিবেশকের কমিশন ৫০ থেকে ১৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতার কমিশন ৪৫ থেকে ৭০ টাকা করার দাবি রয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, ‘ষড়যন্ত্র করে কখনো মানুষের হৃদয় জয় করা যায় না। পলাতক স্বৈরাচারী চক্র দেশে ফেরার পাঁয়তারা করলেও বাংলাদেশের জনগণই তাদের প্রতিহত করবে।’ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম হামিদুল হক মোহনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ আমাদের দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। যারা জনগণকে হত্যা করেছে, গুলি করেছে এবং পালিয়ে গেছে, তারা আবার বলছে দ্বিগুণ ভয়ংকর হয়ে বাংলাদেশে আসবে। বাংলাদেশের জনগণই তাদের প্রতিরোধ করবে, প্রতিহত করবে। তাদের যে বিচার হয়েছে, জনগণ সেই বিচার কার্যকর করবে, ফাঁসির রায় কার্যকর করবে, ইনশাআল্লাহ।’ তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছে। দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বেই দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা সম্পূর্ণ নিরাপদ। স্বাধীনতাবিরোধী, একাত্তরের রাজাকার কিংবা নব্য ফ্যাসিবাদী শক্তি—কারো কাছেই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিরাপদ নয়।’ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একটি দল স্বাধীনতার বিরুদ্ধে কাজ করেছে, তাদের রাজাকার বলা হয়। আরেকটি দল নব্য ফ্যাসিবাদ হিসেবে বিদায় নিয়েছে। তারা অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছে, কিন্তু তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। একইভাবে একাত্তরে যারা রাজাকার ছিল, তাদেরও কোনো অনুশোচনা নেই। তারা দেশে ষড়যন্ত্র করলেও সফল হতে পারবে না। কারণ, ষড়যন্ত্র করে কখনো মানুষের হৃদয় জয় করা যায় না।’ জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘দেশপ্রেমকে বুকে ধারণ করে সবাইকে পথ চলতে হবে। বাংলাদেশকে বুকে ধারণ করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে এগিয়ে যেতে হবে। দেশের মানুষ আমাদের সঙ্গে রয়েছে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ ও সজাগ থাকি, তাহলে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে পরাজিত করার মতো কোনো শক্তি নেই।’ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন। সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক সানু। এ সময় আরো বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ পাহেলী ও সফিকুর রহমান খান সফিক, টাঙ্গাইল সদর থানা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী প্রমুখ।