ভারতীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী কোম্পানি এসএমপিপি’র তৈরি ১০৬টি কামিকাজে (আত্মঘাতী) ড্রোন যুক্ত হলো দেশটির সামরিক বহরে। গতকাল শুক্রবার ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী কোম্পানির কাছ থেকে ড্রোনের চালান গ্রহণ করেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এনডিটিভি।
অগ্নিবেগ’ মাঝারি পাল্লার এবং বেশ দ্রুতগতিসম্পন্ন কামিকাজে ড্রোন। জেট ইঞ্জিনচালিত এই ড্রোন ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৫০ কিলোমিটার গতিতে উড়ে গিয়ে ১৮০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
বর্তমান বিশ্বে ড্রোন হামলা ঠেকাতে বিশেষ ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) ব্যবহার করা হয়। এক বিবৃতিতে এসএমপিপি জানিয়েছে, অগ্নিবেগ ড্রোন তৈরিতে যে প্রযুক্তি ব্যবহার হয়েছে, তাতে যে কোনো সাধারণ ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে, নেটওয়ার্ক জ্যামিং উপেক্ষা করতে এবং প্রতিকূল পরিবেশে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার মতো সক্ষমতা রয়েছে যুদ্ধাস্ত্র।
সামরিক পরিভাষায় এ জাতীয় মাঝারিপাল্লার আত্মঘাতী ড্রোনকে ‘পিসকিপার’ বলা হয়। ‘অগ্নিবেগে’র নকশা নির্মাণ এবং প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এসএমপিপি-কে সহযোগিতা করেছে রাশিয়ার অন্যতম সামরিক সহযোগী বেলারুশ। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এনডিটিভিকে বলেছেন, প্রতিরক্ষা বহরে অগ্নিবেগের অন্তর্ভুক্তি ভারতীয় সেনাবাহিনীকে স্বল্পপাল্লার আর্টিলারি (হাউইৎজ়ার গোত্রের কামান) এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত সক্ষমতার মধ্যেকার ব্যবধান পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিস্ফোরক বহনক্ষমতা বেশি হওয়ায় ‘অগ্নিবেগ’ শত্রুর কমান্ড সেন্টার, রেডার স্টেশন, রসদ ও গোলাবারুদ সরবরাহের লজিস্টিক হাব ইত্যাদি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে পারবে সহজেই।
গত বছর অপারেশন সিঁদুরের পরে রাজস্থানের পোখরানে পরীক্ষার ভিত্তিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী এই ড্রোনটি নির্বাচন করেছিল। তার পরে বেলারুশের ড্রোন নির্মাতা সংস্থা কেবি ইন্ডেলা ভারতেই এসএমপিপি-র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে প্রথম দফায় ১০৬টি ড্রোন নির্মাণ করে। এ সংক্রান্ত প্রযুক্তি হস্তান্তর (ট্রান্সফার অফ টেকনোলজি)-এর কাজও শেষ হয়েছে ইতিমধ্যেই।
সূত্র : এনডিটিভি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে শাফাক নিউজ জানায়, বৃহস্পতিবার মাত্র ৯টি জাহাজ প্রণালিটি পার হয়েছে। এর আগের দিন পার হয়েছিল ৫টি। আগস্টে প্রতিদিন গড়ে ১২টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করেছিল। কেপ্লারের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার মাত্র দুটি জাহাজ হরমুজ পার হয়েছে। আরেকটি তেলবাহী জাহাজ উপসাগরের দিকে যাচ্ছিল। তবে তিনটি জাহাজের কোনোটিতেই তেল ছিল না। হরমুজে আরও দুটি জাহাজে হামলার পর নৌযান চলাচল কমে গেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা প্রয়োজনে অনির্দিষ্টকাল নৌ অবরোধ চালিয়ে যেতে পারে। ১৪ জুলাই থেকে ইরানের ওপর নৌ অবরোধ পুনরায় চালুর পর এখন পর্যন্ত ৬২টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে মার্কিন বাহিনী। এ ছাড়া তিনটি জাহাজের চলাচল বন্ধ করা এবং আরও দুটি জাহাজে উঠে তল্লাশি চালানোর কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। বৃহস্পতিবারও হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। সংযুক্ত আরব আমিরাত এ ঘটনায় ইরানকে দায়ী করেছে। তবে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে এ অভিযোগের জবাব দেয়নি। এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, অবরোধ কার্যকর রাখতে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ সময় নৌবাহিনীর উপস্থিতি বজায় রাখার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। অর্থনৈতিক চাপও আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। সূত্র: শাফাক নিউজ
আন্তর্জাতিক বাজারে এক লাফে ব্যারেলপ্রতি ১ ডলারের বেশি বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। ট্যাঙ্কারে নতুন করে হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি না থাকায় তেলের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী দেখা যায়। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১.৪৫ ডলার বা ১.৬৭ শতাংশ বেড়ে যায়। এতে ব্যারেলের দাম দাড়ায় ৮৮.৫২ ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ১.১৫ ডলার বা ১.৪২ শতাংশ বেড়ে ৮২.৪০ ডলারে দাড়িয়েছে। সাপ্তাহিক হিসাবেও তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ব্রেন্ট প্রায় ৬ শতাংশ এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট প্রায় ৫.৪ শতাংশ বাড়ার পথে রয়েছে। তেলের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে হরমুজ প্রণালিতে ট্যাঙ্কারে হামলা ও জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা। ১৪ আগস্ট দুটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেলবাহী ট্যাঙ্কার ড্রোন হামলার শিকার হয়। হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও জাহাজ দুটির ক্ষতি হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত এ হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষক অ্যান্ড্রু লিপোর মতে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় ধরে সীমিত থাকলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। কারণ বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অগ্রগতি এবং ট্যাঙ্কার চলাচলের ওপরই এখন আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের পরবর্তী গতিপথ অনেকটা নির্ভর করছে। সংকট দীর্ঘায়িত হলে তেলের দামে আরও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
ইতালির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে ‘গভীর ও শক্তিশালী’ আখ্যা দিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়ার গুরুত্বের কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর কটাক্ষের এক দিন পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ অবস্থান জানাল। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইতালির সঙ্গে আমাদের গভীর ও শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে এবং আমরা এই সম্পর্ক আরও জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুই দেশের বন্ধুত্ব ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়ার কাঠামোর মধ্যে তা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।’ এর আগে দিল্লিতে কংগ্রেসের একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনার ধরন নিয়ে কটাক্ষ করেন রাহুল গান্ধী। বিদেশি নেতাদের সঙ্গে মোদির আলিঙ্গনকে কূটনীতির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরার প্রবণতা নিয়েও তিনি ব্যঙ্গ করেন। অনুষ্ঠানে কংগ্রেস নেতা সন্দীপ দীক্ষিতের সঙ্গে রাহুল গান্ধী রসিকতা করে আলিঙ্গনের ভঙ্গি করেন। এ সময় দীক্ষিত ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির প্রসঙ্গ তোলেন এবং রাহুলও সেই রসিকতায় অংশ নেন। বিষয়টি নিয়ে বিজেপি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশি রাহুল গান্ধীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘রাহুল গান্ধী, আপনি কবে পরিণত হবেন?’ তিনি অভিযোগ করেন, ভারত পরিচালনার জন্য পরিণত নেতৃত্ব প্রয়োজন, ‘অপরিণত নাটক’ নয়। প্রধানমন্ত্রী মোদিকে নিয়ে রাহুলের মন্তব্যকে তিনি অশোভন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে আখ্যা দেন। যোশি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী একজন নির্বাচিত নেতা এবং তাকে অপমান করা মানে ভারতের জনগণকেও অপমান করা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংও রাহুল গান্ধীর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাহুলের আচরণ শালীনতার সীমা অতিক্রম করেছে এবং এ বিষয়ে সোনিয়া গান্ধীর হস্তক্ষেপ করা উচিত। বিজেপি সাংসদ বাঁসুরি স্বরাজও রাহুল গান্ধীর ভাষার সমালোচনা করে বলেন, বিরোধী দলীয় নেতার কাছ থেকে যে ধরনের মর্যাদাপূর্ণ আচরণ প্রত্যাশিত, তার সঙ্গে এসব মন্তব্য সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিজেপির আরেক নেতা শাহজাদ পুনাওয়ালা বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে মতবিরোধ থাকা স্বাভাবিক এবং তা প্রকাশ করাও রাজনৈতিকভাবে বৈধ। তবে একজন নারী বিদেশি নেতাকে রাজনৈতিক কৌতুকের মধ্যে টেনে আনা কোনোভাবেই রসবোধ বা রাষ্ট্রনায়কসুলভ আচরণের পরিচয় নয়। রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের মূল লক্ষ্য ছিল প্রধানমন্ত্রী মোদির পররাষ্ট্রনীতিতে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও প্রতীকী অঙ্গভঙ্গিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগ তোলা। তবে ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনির প্রসঙ্গ যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি দ্রুত রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নেয়। সূত্র: এনডিটিভি