ভারতীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী কোম্পানি এসএমপিপি’র তৈরি ১০৬টি কামিকাজে (আত্মঘাতী) ড্রোন যুক্ত হলো দেশটির সামরিক বহরে। গতকাল শুক্রবার ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী কোম্পানির কাছ থেকে ড্রোনের চালান গ্রহণ করেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এনডিটিভি।
অগ্নিবেগ’ মাঝারি পাল্লার এবং বেশ দ্রুতগতিসম্পন্ন কামিকাজে ড্রোন। জেট ইঞ্জিনচালিত এই ড্রোন ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৫০ কিলোমিটার গতিতে উড়ে গিয়ে ১৮০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
বর্তমান বিশ্বে ড্রোন হামলা ঠেকাতে বিশেষ ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) ব্যবহার করা হয়। এক বিবৃতিতে এসএমপিপি জানিয়েছে, অগ্নিবেগ ড্রোন তৈরিতে যে প্রযুক্তি ব্যবহার হয়েছে, তাতে যে কোনো সাধারণ ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে, নেটওয়ার্ক জ্যামিং উপেক্ষা করতে এবং প্রতিকূল পরিবেশে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার মতো সক্ষমতা রয়েছে যুদ্ধাস্ত্র।
সামরিক পরিভাষায় এ জাতীয় মাঝারিপাল্লার আত্মঘাতী ড্রোনকে ‘পিসকিপার’ বলা হয়। ‘অগ্নিবেগে’র নকশা নির্মাণ এবং প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এসএমপিপি-কে সহযোগিতা করেছে রাশিয়ার অন্যতম সামরিক সহযোগী বেলারুশ। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এনডিটিভিকে বলেছেন, প্রতিরক্ষা বহরে অগ্নিবেগের অন্তর্ভুক্তি ভারতীয় সেনাবাহিনীকে স্বল্পপাল্লার আর্টিলারি (হাউইৎজ়ার গোত্রের কামান) এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত সক্ষমতার মধ্যেকার ব্যবধান পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিস্ফোরক বহনক্ষমতা বেশি হওয়ায় ‘অগ্নিবেগ’ শত্রুর কমান্ড সেন্টার, রেডার স্টেশন, রসদ ও গোলাবারুদ সরবরাহের লজিস্টিক হাব ইত্যাদি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে পারবে সহজেই।
গত বছর অপারেশন সিঁদুরের পরে রাজস্থানের পোখরানে পরীক্ষার ভিত্তিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী এই ড্রোনটি নির্বাচন করেছিল। তার পরে বেলারুশের ড্রোন নির্মাতা সংস্থা কেবি ইন্ডেলা ভারতেই এসএমপিপি-র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে প্রথম দফায় ১০৬টি ড্রোন নির্মাণ করে। এ সংক্রান্ত প্রযুক্তি হস্তান্তর (ট্রান্সফার অফ টেকনোলজি)-এর কাজও শেষ হয়েছে ইতিমধ্যেই।
সূত্র : এনডিটিভি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ভারতীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী কোম্পানি এসএমপিপি’র তৈরি ১০৬টি কামিকাজে (আত্মঘাতী) ড্রোন যুক্ত হলো দেশটির সামরিক বহরে। গতকাল শুক্রবার ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী কোম্পানির কাছ থেকে ড্রোনের চালান গ্রহণ করেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এনডিটিভি। অগ্নিবেগ’ মাঝারি পাল্লার এবং বেশ দ্রুতগতিসম্পন্ন কামিকাজে ড্রোন। জেট ইঞ্জিনচালিত এই ড্রোন ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৫০ কিলোমিটার গতিতে উড়ে গিয়ে ১৮০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। বর্তমান বিশ্বে ড্রোন হামলা ঠেকাতে বিশেষ ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) ব্যবহার করা হয়। এক বিবৃতিতে এসএমপিপি জানিয়েছে, অগ্নিবেগ ড্রোন তৈরিতে যে প্রযুক্তি ব্যবহার হয়েছে, তাতে যে কোনো সাধারণ ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে, নেটওয়ার্ক জ্যামিং উপেক্ষা করতে এবং প্রতিকূল পরিবেশে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার মতো সক্ষমতা রয়েছে যুদ্ধাস্ত্র। সামরিক পরিভাষায় এ জাতীয় মাঝারিপাল্লার আত্মঘাতী ড্রোনকে ‘পিসকিপার’ বলা হয়। ‘অগ্নিবেগে’র নকশা নির্মাণ এবং প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এসএমপিপি-কে সহযোগিতা করেছে রাশিয়ার অন্যতম সামরিক সহযোগী বেলারুশ। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এনডিটিভিকে বলেছেন, প্রতিরক্ষা বহরে অগ্নিবেগের অন্তর্ভুক্তি ভারতীয় সেনাবাহিনীকে স্বল্পপাল্লার আর্টিলারি (হাউইৎজ়ার গোত্রের কামান) এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত সক্ষমতার মধ্যেকার ব্যবধান পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিস্ফোরক বহনক্ষমতা বেশি হওয়ায় ‘অগ্নিবেগ’ শত্রুর কমান্ড সেন্টার, রেডার স্টেশন, রসদ ও গোলাবারুদ সরবরাহের লজিস্টিক হাব ইত্যাদি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে পারবে সহজেই। গত বছর অপারেশন সিঁদুরের পরে রাজস্থানের পোখরানে পরীক্ষার ভিত্তিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী এই ড্রোনটি নির্বাচন করেছিল। তার পরে বেলারুশের ড্রোন নির্মাতা সংস্থা কেবি ইন্ডেলা ভারতেই এসএমপিপি-র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে প্রথম দফায় ১০৬টি ড্রোন নির্মাণ করে। এ সংক্রান্ত প্রযুক্তি হস্তান্তর (ট্রান্সফার অফ টেকনোলজি)-এর কাজও শেষ হয়েছে ইতিমধ্যেই। সূত্র : এনডিটিভি
বিশ্বের অন্যতম কাঙ্ক্ষিত নাগরিকত্ব হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বিবেচিত হয়ে আসছে মার্কিন নাগরিকত্ব। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এক ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। ক্রমবর্ধমান সংখ্যক মার্কিন নাগরিক স্বেচ্ছায় তাদের নাগরিকত্ব ত্যাগ করছেন এবং অন্য দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের পথ বেছে নিচ্ছেন। নিউজিল্যান্ডপ্রবাসী এরিন ক্লাট তাদেরই একজন। এক দশক আগে কাজের সুযোগ নিয়ে দেশটিতে যাওয়ার পর তিনি ধীরে ধীরে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে নিউজিল্যান্ডের নাগরিকত্ব লাভের পর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন রাজনৈতিক পরিবেশ এবং বিদেশে বসবাসকারী নাগরিকদের ওপর কর সংক্রান্ত জটিলতা এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নাগরিকত্ব ত্যাগের অন্যতম প্রধান কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক করনীতি। যুক্তরাষ্ট্র এমন কয়েকটি দেশের মধ্যে অন্যতম, যারা নাগরিকদের বিশ্বব্যাপী আয়ের ওপর কর আরোপ করে। অর্থাৎ, একজন মার্কিন নাগরিক পৃথিবীর যে দেশেই থাকুন না কেন, তাকে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে কর-সংক্রান্ত তথ্য জমা দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন তথাকথিত ‘অ্যাক্সিডেন্টাল আমেরিকান’ বা অনিচ্ছাকৃতভাবে মার্কিন নাগরিক হয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা। জন্মসূত্রে বা পারিবারিক কারণে নাগরিকত্ব পেলেও তাদের অনেকেই কখনও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেননি। তবুও মার্কিন কর আইনের আওতায় পড়ায় বিদেশি ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবায় নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ব্যক্তিগত পরিচয়বোধ। দীর্ঘদিন বিদেশে বসবাসকারী অনেকেই নিজ দেশের চেয়ে নতুন আবাসস্থলের সঙ্গে বেশি সম্পৃক্ততা অনুভব করেন। ফলে দ্বৈত নাগরিকত্বের পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট জাতীয় পরিচয় গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, নাগরিকত্ব ত্যাগ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত। একবার নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রেও ভিসা ও অন্যান্য নিয়মের মুখোমুখি হতে হতে পারে। তাই আবেগ নয়, বরং সম্ভাব্য সব সুবিধা ও ঝুঁকি বিবেচনা করেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। পরিসংখ্যান বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত নানা কারণ মিলেই এই প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। সূত্র: সিএনএন
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ বন্ধে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং শিগগিরই তা স্বাক্ষরিত হতে পারে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, সম্ভাব্য সমঝোতার কিছু বিষয় এখনও পরিবর্তিত হতে পারে। তবে তাঁর দাবি, চলমান সংঘাতের পর ইরান আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। তিনি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে শেষ পর্যন্ত ইরানই বিজয়ী হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, আলোচনায় থাকা খসড়া সমঝোতায় হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করা, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে বিভিন্ন বিধিনিষেধ শিথিল করা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছু পদক্ষেপের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত জটিল বিষয়গুলো পরবর্তী আলোচনায় নিষ্পত্তির সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য এই সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের পথ তৈরি করেছে এবং আলোচনা ইতিবাচক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বৃদ্ধি পেলেও পরে আলোচনার অগ্রগতি দেখা যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে কঠোর অবস্থানের কথা বললেও অন্যদিকে সমঝোতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য সমঝোতা কার্যকর হলে অন্তত ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে। এ সময়ের মধ্যে একটি স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলবে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে তা শুধু দুই দেশের জন্য নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে চুক্তি বাস্তবায়নের আগে এখনও কিছু রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক জটিলতা রয়ে গেছে। সম্ভাব্য সমঝোতায় ইরানের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দেশটির কিছু কর্মকর্তা ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে সতর্ক অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের পর উভয় পক্ষের জন্যই একটি সমঝোতা রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে লাভজনক হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বাস্তবতা বিবেচনায় এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।