জাতীয়

এনসিটি ১৫ বছরের কনসেশনে দেওয়ার সিদ্ধান্তে বন্দর রক্ষা কমিটির আপত্তি

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ওভারফ্লো ইয়ার্ডসহ ১৫ বছরের জন্য কনসেশন চুক্তির আওতায় দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রাম। সংগঠনটি এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে স্বচ্ছতা, পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে স্বাধীন মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার ও সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু এসব দাবি জানান।

 

বিবৃতিতে বলা হয়, অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় মূল এজেন্ডার বাইরে ‘বিবিধ’ বিষয় হিসেবে এনসিটি কনসেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত উপস্থাপন করা হয়েছে। জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর একটি অবকাঠামো নিয়ে এ ধরনের প্রক্রিয়া প্রশ্নের সৃষ্টি করতে পারে বলে মন্তব্য করেছে সংগঠনটি।

 

বন্দর রক্ষা কমিটির নেতারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের আমদানি-রপ্তানি, বৈদেশিক বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান অবকাঠামো। ফলে বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল পরিচালনা বা ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কোনো সিদ্ধান্তকে কেবল প্রশাসনিক বা বাণিজ্যিক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। এর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত।

 

তাদের মতে, ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তির ফলে দীর্ঘ সময়ের জন্য টার্মিনালের পরিচালনা, বিনিয়োগ, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তে অপারেটরের ভূমিকা তৈরি হবে। তাই চুক্তির আর্থিক কাঠামো, রাজস্ব ভাগাভাগি, বিনিয়োগের বাধ্যবাধকতা, ঝুঁকি বণ্টন, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা এবং চুক্তি বাতিল বা পুনর্বিবেচনার সুযোগসহ গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলো জনসম্মুখে প্রকাশ করা প্রয়োজন।

 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগে নির্মিত ও পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠিত টার্মিনাল দীর্ঘমেয়াদি কনসেশনে দেওয়ার আগে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এনসিটির সক্ষমতা ও আয় বাড়ানোর সুযোগ যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে কি না, তা পরিষ্কার করা দরকার। কনসেশন পদ্ধতিতে রাষ্ট্রের সম্ভাব্য আয় এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য আয়ের তুলনামূলক বিশ্লেষণও প্রকাশের দাবি জানিয়েছে কমিটি।

 

বন্দর রক্ষা কমিটির নেতারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব জনবল, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও ব্যবস্থাপনা কাঠামোকে অকার্যকর হিসেবে দেখিয়ে বিদেশি অপারেটরকে একমাত্র সমাধান হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। তাদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন, দক্ষতা উন্নয়ন, স্বয়ংক্রিয়ীকরণ, প্রশিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা সংস্কারের মাধ্যমে দেশীয় সক্ষমতা আরও বাড়ানো সম্ভব।

 

তারা বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ বা প্রযুক্তির বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান নয়। তবে কৌশলগত জাতীয় অবকাঠামো পরিচালনায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। কোনো চুক্তির কারণে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের সুযোগ, কর্মসংস্থান কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে তা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে যাচাই করা জরুরি।

 

সংগঠনটির নেতারা আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর শুধু চট্টগ্রামের কোনো আঞ্চলিক সম্পদ নয়; এটি বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান সমুদ্রপথ হিসেবে বন্দরের কার্যক্রমের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনীতিতে পড়ে। ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল ১৫ বছরের জন্য কনসেশনে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রভাব বর্তমান সরকারের মেয়াদ ছাড়িয়ে পরবর্তী সরকারগুলোর সময়েও থাকবে।

 

এ অবস্থায় এনসিটি কনসেশন প্রক্রিয়ায় দেশীয় ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা, দক্ষ জনবল এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি।

 

সংগঠনটি সরকারের কাছে এনসিটি কনসেশন চুক্তির পূর্ণাঙ্গ খসড়া ও আর্থিক কাঠামো প্রকাশ, স্বাধীন অর্থনৈতিক ও কারিগরি মূল্যায়ন এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মসংস্থান ও অধিকার সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের সুরক্ষার বিষয়টি চুক্তিতে স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

এনসিটি পরিচালনায় রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা অথবা অন্যান্য বিকল্প কাঠামোর সম্ভাব্যতা যাচাইয়েরও দাবি জানিয়েছে তারা।

 

বন্দর রক্ষা কমিটির নেতারা বিবৃতিতে বলেন, তাদের অবস্থান কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা দেশের বিরুদ্ধে নয়। জাতীয় সম্পদ, বন্দর ব্যবহারকারী, শ্রমিক-কর্মচারী এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় এনসিটি কনসেশন প্রক্রিয়াটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হচ্ছে।

 

তারা চুক্তির সব শর্ত প্রকাশ এবং জাতীয় স্বার্থের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত চুক্তি না করার আহ্বান জানান।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশিদের ভিসা সহায়তায় ঢাকায় আসছে রোমানিয়ার বিশেষ প্রতিনিধিদল

উচ্চশিক্ষার জন্য রোমানিয়ায় যেতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকরণে ঢাকায় আসছে দেশটির দূতাবাসের একটি প্রতিনিধিদল। আগামী ৮ থেকে ১১ অক্টোবর ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তারা এ সেবা দেবেন।   শুক্রবার (২ অক্টোবর) ভারতের দিল্লিতে অবস্থিত রোমানিয়া দূতাবাস এ তথ্য জানিয়েছে।   রোমানিয়া দূতাবাস জানায়, ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার মিশনটি প্রাথমিকভাবে স্টাডি ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার সুবিধা দেবে এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের অন্যান্য জরুরি কনস্যুলার অনুরোধের ক্ষেত্রেও সহায়তা প্রদান করবে।   দূতাবাস আরও জানায়, মিশনের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে এবং কোনো বিভ্রান্তি এড়াতে কেবলমাত্র আবেদনকারীদের জমা দেওয়া ভিসা আবেদনগুলো গ্রহণ করা হবে; যারা অফিসিয়াল ইভিজা পোর্টালের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট কনফার্মেশন পেয়েছেন।   যেসব আবেদনকারী ইভিজা পোর্টালের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট কনফার্মেশন পাননি, তারা এই মোবাইল কনস্যুলার মিশনের সময় ভিসার আবেদন জমা দিতে পারবেন না।   আবেদনকারীদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট কনফার্মেশন ভালোভাবে যাচাই করার পাশাপাশি নির্ধারিত সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে দূতাবাস।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৩, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

উৎপাদনশীলতা বাড়াতে উদ্ভাবনী চিন্তা ও মেধার বিকাশ জরুরি : শিল্পমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি

সবজির বাজারে ঊর্ধ্বগতি, শিমের কেজি ২০০ টাকা

স্বাস্থ্য খাতকে ভবিষ্যৎমুখী করতে জাপানের প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব চান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির শোক

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।   রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।   এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।   মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, দেশের অনলাইন ও ডিজিটাল সাংবাদিকতার বিকাশে তৌফিক ইমরোজ খালিদী ছিলেন একজন পথিকৃৎ। তার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ, সজ্জন ও বরেণ্য গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বকে হারাল। সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমে তার অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।   রাষ্ট্রপতি বিশিষ্ট এই সাংবাদিকের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত স্মৃতির কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তার মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও শোকাহত।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ০২, ২০২৬

আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের নিন্দা-প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াতের বিবৃতি

মস্কোর গ্লোবাল ডিজিটাল ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন আমজাদ হোসাইন

কারিগরি শিক্ষা জাতির জন্য প্রয়োজন: মনিরুল হক চৌধুরী

ছবি: সংগৃহীত
দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে : মেয়র শাহাদাত

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দেশে পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। তাই দেশের আইন শৃংখলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে বিএনপি নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে।   আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকালে নগরীর বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে সারাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির প্রতিবাদে চকবাজার ও বাকলিয়া থানা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।    সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান এবং বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর।   ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত শক্তিকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অস্থির করার অংশ হিসেবে সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসন করা এবং আগের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এসব ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।   প্রধান বক্তার বক্তব্যে আবু সুফিয়ান বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা গত ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এখন এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যাতে দলের বদনাম হয়। দলে নতুন করে যারা হাইব্রিড হিসেবে আসছেন, তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে তারা কোনো অপকর্ম করতে না পারেন।   সমাবেশ শেষে বাকলিয়া এক্সেস রোড থেকে শুরু হয়ে বিক্ষোভ মিছিলটি চন্দনপুরা, গনি বেকারী, জামাল খান মোড় হয়ে প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।   চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক নুরুল আলম রাজুর সভাপতিত্বে ও মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশার পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আবদুল মান্নান, আহবায়ক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ মহসিন, মো. কামরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন লিপু।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ০২, ২০২৬

এতিম ৫ কন্যার পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী

তৌফিক ইমরোজ খালিদী

বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী আর নেই

ফাইল ছবি

মেট্রোরেলের লাইন-১ ও ৫ নির্মাণে চুক্তি: দায়িত্বে চার দেশের প্রতিষ্ঠান

0 Comments