মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে জাপানে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিল পরিশোধে সহায়তার জন্য ৩ বিলিয়ন ডলার ভর্তুকি হিসেবে অনুমোদন করেছে দেশটির সরকার।
মঙ্গলবার এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে জাপানের সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল পরিশোধে ভর্তুকি হিসেবে এ সহায়তা দেওয়া হবে।
দৈনন্দিন জীবনযাপনের জন্য ব্যবহৃত অপরিহার্য মৌলিক সেবাগুলোর খরচ দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায়, সরকারের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
জাপানের মতো এশিয়ার অনেক দেশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে হরমুজ প্রণালীতে সম্ভাব্য সংকট ও সরবরাহ বাধার আশঙ্কায় দেশটি জ্বালানি ও দামের চাপ মোকাবিলায় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাস এই ভর্তুকি কার্যকর থাকবে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ১৯ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত বাজেট তৈরির পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেছেন, যা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে কাজে লাগানো হবে।
মন্ত্রিপরিষদের উপ-প্রধান সচিব মাসানাও ওজাকি বলেন, ‘আজকের মন্ত্রিসভা বৈঠকে আমরা বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল সহায়তায় ৫১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ইয়েন ব্যয় অনুমোদন করেছি।’
তিনি বলেন, চলতি ও আগামী মাসে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিল উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার সম্ভাবনা কম। তবে এরপর জ্বালানি আমদানির দাম বৃদ্ধি পেলে, তার প্রভাব পড়তে পারে।
ওজাকি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অনিশ্চিত হলেও জনগণের দৈনন্দিন জীবন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে কোনো বড় বিঘœ না ঘটানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
সোমবার প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি বলেন, আগামী বসন্ত পর্যন্ত জ্বালানি তেলের স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করার আশা করছে সরকার।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
মাথায় স্মার্টফোন বেঁধে নিজের আম কাটার দৃশ্য ভিডিও করছেন ভারতীয় গৃহবধূ নাগিরেড্ডি শ্রীরামচন্দ্র। গৃহস্থালি কাজের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত (এআই) রোবটকে প্রশিক্ষণ দিতেই তাঁর এ আয়োজন। এক ঘণ্টার ভিডিওর জন্য নাগিরেড্ডি দুই ডলারের কিছু বেশি অর্থ পান। বাস্তব জগতে রোবটকে মানুষের মতো চলাফেরা শেখানোর জন্য বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কাছে তাঁর এই সাধারণ ভিডিওগুলোই এখন অমূল্য সম্পদ। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার হাজার হাজার প্রশিক্ষক তৈরি হচ্ছেন। ২৫ বছর বয়সী এই নারী তাঁদেরই একজন। দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের চেন্নাইয়ে নিজের রান্নাঘর থেকে নাগিরেড্ডি বলেন, ‘শুধু ঘরের কাজ করার জন্য আপনাকে ঘণ্টায় ২৫০ রুপি আর কে দেবে?’ তিনি আরও বলেন, ‘হয়তো ভবিষ্যতে আমি নিজেই একটি রোবট কিনে ফেলব।’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন চ্যাটবট বা ছবি তৈরির এসব মাধ্যম প্রচুর পরিমাণে ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে। তবে বাস্তব পরিবেশে রোবটকে চলাফেরা করানোর মতো প্রযুক্তি গড়ে তোলা অনেক বেশি কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। প্রযুক্তিবিদেরা মনে করেন, মানুষের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ধারণ করা ভিডিও বা ‘এগোজেনট্রিক ডেটা’ বিশেষ এআই মডেলে ব্যবহার করলে এসব রোবট মানুষকে হুবহু নকল করতে পারবে। এআই প্রশিক্ষকদের কেউ বাড়িতে কাজ করেন, কেউ আবার কারখানা বা বিশেষ স্টুডিওতে কাজ করেন। এ জন্য তাঁরা ভিডিও চশমা, মাথায় আটকানো ক্যামেরা ও ‘মোশন সেন্সর’ ব্যবহার করেন। নাগিরেড্ডি একটি বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে এআই ডেটা কোম্পানি ‘অবজেক্টওয়েজ’-এর কাছে তাঁর ভিডিও পাঠান। তিনি বলেন, ‘রেকর্ডিং ঠিকমতো না হলে অ্যাপটি যান্ত্রিক স্বরে চিৎকার করে বলে ওঠে, হাত শনাক্ত করা যাচ্ছে না।’ ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রে এই প্রতিষ্ঠানের দপ্তর রয়েছে। ‘ফরচুন ৫০০’ তালিকার বড় অনেক বহুজাতিক কোম্পানি তাদের গ্রাহক। প্রতিষ্ঠানটি ‘অ্যামাজন সেজমেকার’-এর সঙ্গে কাজ করে। এটি মূলত মেশিন লার্নিং মডেল তৈরির একটি প্ল্যাটফর্ম। ‘আরও ভালো কিছু’ হিউম্যানয়েড বা মানুষের মতো দেখতে রোবটের বাজার এখন দ্রুত বড় হচ্ছে। বিনিয়োগকারী ব্যাংক মরগান স্ট্যানলি পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বে ১০০ কোটির বেশি রোবট ব্যবহৃত হতে পারে। এগুলোর বেশির ভাগই ব্যবহার করা হবে শিল্প ও বাণিজ্যিক কাজে। গ্রাহকেরা কী ধরনের ভিডিও চান, তার একটি তালিকা দিয়ে ‘অবজেক্টওয়েজ’-এর প্রধান রবি শঙ্কর বলেন, ‘কাপড় ভাঁজ করা, কফি বানানো, নির্দিষ্ট কোনো কিছু রান্না করা কিংবা স্যান্ডউইচ বানানো।’ রবি শঙ্কর আরও বলেন, ‘মানুষের কিছু কাজ রোবট দখল করে নেবে। এর ফলে মানুষ আরও ভালো কিছু করার সুযোগ পাবে।’ ভারতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই নতুন ক্ষেত্রটি আপাতত নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে। ৫০ বছর বয়সী এই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। তবে তিনি তাঁর বেড়ে ওঠার জায়গা তামিলনাড়ু থেকেই কর্মী নিয়োগ দেন। এলাকাটি ভারতের অন্যতম আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। তামিলনাড়ুর কারুর এলাকায় একটি টেক্সটাইল কারখানায় কর্মীরা টুপিতে লেবেল লাগানো এবং কাপড়ের ব্যাগ ইস্তিরি করায় ব্যস্ত। সেখানে এএফপির সাংবাদিক গিয়ে দেখেছেন, আটজন কর্মী অবজেক্টওয়েজের সরবরাহ করা মাথায় লাগানো ক্যামেরা ও স্মার্ট চশমা পরে কাজ করছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তথ্য বা ডেটা তৈরি, প্রক্রিয়াজাত করা এবং ব্যাখ্যা করার (অ্যানোটেশন) ক্ষেত্রে ভারত এখন বিশ্বজুড়ে একটি শক্তিশালী মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছে। বেঙ্গালুরুর ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট ফর হিউম্যান সেটেলমেন্টস’-এর ডিজিটাল শ্রম বিশেষজ্ঞ অদিতি সুরি বলেন, ‘এই ডেটা সংগ্রহের কাজ বা সেবা আরও বাড়বে বলেই মনে হচ্ছে।’ অনানুষ্ঠানিক শ্রমিক ভারত বেশ জোরেশোরেই তার এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাশিল্পকে এগিয়ে নিচ্ছে। তবে দেশটির নীতিনির্ধারকেরা এ বিষয়ে সচেতন, এই প্রযুক্তির অনেক সুবিধার পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার (অটোমেশন) কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। সরকারের গবেষণা সংস্থা ‘নীতি আয়োগ’ বলেছে, এআই ও শ্রমবাজার নিয়ে বেশির ভাগ আলোচনা কেবল উচ্চপদস্থ পেশাদারদের ওপর সীমাবদ্ধ থাকছে। জরুরি পদক্ষেপ না নিলে এই খাতে বড় ধরনের কর্মসংস্থানের অভাব দেখা দিতে পারে বলে তারা পূর্বাভাস দিয়েছে। এ বছর ভারতে অনুষ্ঠেয় গ্লোবাল এআই সামিটের আগে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, ‘ভারতের ৪৯ কোটি অনানুষ্ঠানিক শ্রমিকের সেবায় এআই কীভাবে কাজে আসতে পারে, সেদিকে খুব একটা নজর দেওয়া হয় না। অথচ এই মানুষগুলোই আমাদের অর্থনীতির মেরুদণ্ড।’ মুচি থেকে নর্দমা পরিচ্ছন্নতাকর্মী, কৃষক থেকে চা বিক্রেতা—সব ধরনের পেশায় এআই প্রযুক্তি কীভাবে সাহায্য বা ক্ষতি করতে পারে, তা পরীক্ষা করে দেখেছে নীতি আয়োগ। এক দশক ধরে ভারতের ‘সিলিকন ভ্যালি’ হিসেবে পরিচিত বেঙ্গালুরুতে রাস্তার পাশে বসে ফুলের মালা গাঁথেন ৫৫ বছর বয়সী পন্নী। তাঁকেও মাথায় ফোন বেঁধে ভিডিও করার জন্য টাকা দেওয়া হয়েছে। পন্নী বলেন, ‘পরবর্তী প্রজন্মের যারা আমার মতো কাজ করবে, তারা বড় সমস্যার মুখে পড়বে।’ সব সময় ক্যামেরার চোখে অবজেক্টওয়েজ একটি স্টুডিওতে কৃত্রিম অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি করেছে। সেখানে সব ধরনের আসবাব সাজানো থাকে। এআই সিস্টেম প্রশিক্ষকেরা সেখানে নিজেদের গৃহস্থালির কাজের ভিডিও ধারণ করেন। কয়েক হাজার ঘণ্টার ভিডিও ধারণের পর গ্রাহকদের তথ্যে বৈচিত্র্য আনতে ঘরের দেয়ালের কাগজ বা ওয়ালপেপার বদলে ফেলা হয়। তোয়ালে ভাঁজ করার ভিডিও ধারণের এক ফাঁকে ২১ বছর বয়সী ইঞ্জিনিয়ারিং গ্র্যাজুয়েট রানী এন বলেন, ‘আজ এখানে বসি, কাল ওখানে দাঁড়াই।’ প্রতিটি ভিডিও চার মিনিটের মতো হয়। বিছানার সম্ভাব্য সব প্রান্ত ব্যবহার করে রানী দিনে প্রায় ৯০টি ভিডিও রেকর্ড করেন। রানী বলেন, কাজটিকে সহনীয় মনে হলেও তাঁর কাছে মনে হয় যেন সব সময় শরীরে ক্যামেরা পরে আছেন। অন্যান্য কক্ষে সহকর্মীরা পেনসিল শার্পনার, পানির বোতল ও ক্রেয়নগুলো নির্দিষ্ট ছাঁচে সাজাচ্ছিলেন। গভীরতা মাপার বিশেষ সেন্সর (ডেপথ সেন্সর) ক্যামেরায় এসব দৃশ্য ধারণ করা হচ্ছে। অন্ধ্র প্রদেশের ‘কানাত কনসাল্টিং সার্ভিসেস’ মূলত অবজেক্টওয়েজের একটি সাবকন্ট্রাক্টর বা উপ-ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। তারা প্রায় এক ডজন বড় ডেটা সরবরাহকারী সংস্থাকে এই রেকর্ডিংগুলো সরবরাহ করে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তাসলিম পাত্তান জানান, তাঁদের প্রায় দুই হাজার কর্মী এই কাজে যুক্ত। তাঁদের কেউ কেউ কবজি, হাত ও পায়ে মোশন সেন্সর ব্যান্ড বেঁধে বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করেন। বেঙ্গালুরুভিত্তিক ‘হিউম্যান ল্যাবস’-এর মনীশ আগরওয়াল ভিডিওর পাশাপাশি কথোপকথনও রেকর্ড করেন। তাঁর এই প্রতিষ্ঠান অবশ্য অবজেক্টওয়েজের সঙ্গে যুক্ত নয়। এসব ভিডিওতে কর্মীরা রাজনীতি থেকে বিনোদনের মতো বিভিন্ন নির্ধারিত বিষয়ে আলোচনা করেন। যেসব গ্রাহক মানুষের কথা বলার ধরন বা ‘স্পিচ প্যাটার্ন’ নিয়ে কাজ করেন, তাঁদের জন্য এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়। রোবট মানুষের কাজ কেড়ে নেবে—এই দাবি মানতে নারাজ আগরওয়াল। তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষ ও রোবট একদিন একে অপরের সহযোগী হয়ে কাজ করবে। আগরওয়াল বলেন, ভবিষ্যতে ভারতের একজন ওয়েল্ডার (ঝালাইকারী) হয়তো চেক প্রজাতন্ত্রের প্রাগে থাকা কোনো ওয়েল্ডার রোবটকে নিয়ন্ত্রণ করবেন।
সন্ত্রাসবিরোধী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের অংশ হিসেবে জাপান সরকার ড্রোন উড়ানোর ওপর আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। বুধবার থেকে কার্যকর হওয়া সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর চারপাশে ড্রোনের নিষিদ্ধ উড্ডয়ন এলাকা প্রায় ৩০০ মিটার থেকে বাড়িয়ে ১,০০০ মিটার করা হয়েছে। জাপানের সংবাদ সংস্থা কয়ডা নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন বিধিমালার আওতায় সম্রাটের বাসভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশপাশের সীমিত আকাশসীমা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় ভৌগোলিক অবস্থার কারণে নিষিদ্ধ এলাকার পরিধি এক কিলোমিটারেরও বেশি হতে পারে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত ‘ইয়েলো জোনে’ ড্রোন উড়ালে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা ৫ লাখ ইয়েন (প্রায় ৩,১২০ মার্কিন ডলার) পর্যন্ত জরিমানার মুখোমুখি হতে হতে পারে। এর আগে শুধু ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত স্থাপনার ঠিক ওপর দিয়ে ড্রোন উড়লে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতো। তবে সংশোধিত আইনের ফলে নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা আরও বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া সম্রাট, প্রধানমন্ত্রী বা বিদেশি রাষ্ট্রীয় অতিথিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বড় ধরনের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে অস্থায়ীভাবে ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করার ক্ষমতাও পাবে কর্তৃপক্ষ। সরকারের মতে, ড্রোন প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়নের ফলে আধুনিক ড্রোনগুলো আগের তুলনায় অনেক দ্রুতগতিতে ও দীর্ঘ দূরত্বে উড়তে সক্ষম হচ্ছে। এতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় নতুন বিধিনিষেধ প্রয়োজন হয়ে উঠেছে। নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করতে সরকার অনলাইনে সরকারি মানচিত্রে নিষিদ্ধ এলাকা প্রকাশ করবে এবং ড্রোন বিক্রেতাদের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের লারেডো শহরে একটি ছোট বিমান মহাসড়কে বিধ্বস্ত হয়ে আগুন ধরে যায়। মঙ্গলবার রাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে একজন নিহত হয়েছেন। তবে মহাসড়কে থাকা কোনো যানবাহনের যাত্রী আহত হওয়ার খবর তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। লারেডো পুলিশ বিভাগের তদন্তকারী হোসে বায়েজা জানান, রাত ১০টার কিছু পর বিমানটি লুপ-২০ মহাসড়কে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তার কারণে মহাসড়কটি উভয় দিকেই বন্ধ করে দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানটি মহাসড়কের একটি ব্যারিয়ারের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে একপাশে কাত হয়ে পড়ে আছে এবং আগুন জ্বলছে। প্রত্যক্ষদর্শী জাইরা গারজা জানান, সহকর্মীদের বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার পথে তিনি দুর্ঘটনাটি দেখেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি দেখেন, বিমানের ভেতরে থাকা একজন ককপিটের জানালা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন। এ সময় আশপাশের লোকজনও বাইরে থেকে জানালা ভেঙে ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। গারজা বলেন, পরে বিমানের দরজা খুলে যায় এবং কিশোর-কিশোরী বলে মনে হওয়া তিনজন দ্রুত বেরিয়ে আসে। তাদের পেছনে একজন পাইলট বলে মনে হওয়া ব্যক্তিও বের হন। এ সময় আরেকজন ক্রু সদস্য অচেতন অবস্থায় থাকা একজনকে বিমান থেকে বের করার চেষ্টা করেন। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে গারজা বলেন, ‘দৃশ্যটা যেন সিনেমার মতো ছিল। আগুন দেখে আমি সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন ছিলাম। কারণ বিমানটি যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারত।’