বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দলগুলোর অনুশীলন ক্যাম্পের তালিকা প্রকাশ করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রন সংস্থা ফিফা। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড কানসাস সিটিতে তাদের বিশ্বকাপ বেস ক্যাম্পে অংশ নিবে।
বর্ধিত কলেবরের এবারের বিশ্বকাপে রেকর্ড ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ৩৯টি দল যুক্তরাষ্ট্রে তাদের বেস ক্যাম্পে অনুশীলন করবে। সাতটি দল মেক্সিকোতে ও দুটি দলের বেস ক্যাম্প হবে অপর সহ আয়োজক দেশ কানাডায়।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা হেইমো শিরগি বলেছেন, ‘যেকোন ফিফা বিশ্বকাপের অবিচ্ছেদ্য অংশ এই টিম বেস ক্যাম্প। এগুলোই সেই জায়গা যেখানে দলগুলো ঘাঁটি গাড়ে, অনুশীলন করে, পুনরুদ্ধারের সময় কাটায় এবং টুর্নামেন্টের প্রতিদিনের ছন্দময় অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়।”
মেক্সিকান প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবম জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা বিধিনিষেধ এড়াতে ইরানকে তার দেশে বেস ক্যাম্পে অংশ নিতে তিনি অনুমতি দিয়েছেন।
এছাড়াও মেক্সিকোতে অনুশীলন করবে কলম্বিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা, তিউনিশিয় ও উরুগুয়ে। কানাডায় নিজেরা ছাড়াও আরো থাকবে পানামা। বাকি সবগুলো দেশই যুক্তরাষ্ট্রে তাদের অনুশীলন ক্যাম্প করবে।
৪৮ দেশের বেস ক্যাম্পের তালিকা :
আলজেরিয়া : কানসাস সিটি (কানসাস বিশ^বিদ্যালয়)
আর্জেন্টিনা : কানসাস সিটি (স্পোর্টিং কেসি ট্রেনিং সেন্টার)
অস্ট্রেলিয়া : সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া (অকল্যান্ড রুটস/সোল ফ্যাসিলিটি)
অস্ট্রিয়া : গোলেটা, সিএ (ইউএস সান্টা বারবারা)
বেলজিয়াম : রেনটন, ডব্লিউএ (সিটল সাউন্ডার্স পারফরমেন্স সেন্টার)
বসনিয়া এন্ড হার্জেগোভনিয়া : স্যান্ডি, ইউটি (আরএসএল স্টেডিয়াম)
ব্রাজিল : নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি (কলম্বিয়া পার্ক ট্রেনিং ফ্যাসিলিটি)
কানাডা : ভ্যাঙ্কুভার (ন্যাশনাল সকার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার)
আইভরি কোস্ট : ফিলাডেলফিয়া (ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন)
কঙ্গো ডিআর : হিউস্টোন (হিউস্টোন ট্রেনিং সেন্টার)
কলম্বিয়া : গুয়াডালাজারা, এমএক্স (একাডেমিয়া এ্যাটলাস এফসি)
কেপ ভার্দে : টাম্পা, এফএল (ওয়াটার্স স্পোর্টসপ্লেক্স)
ক্রোয়েশিয়া : আলেক্সান্দ্রিয়া (এপিসকোপাল হাই স্কুল)
কুরাসাও : বোকা রেটন, এফএল (ফ্লোরিডা আটলান্টিক ইউনিভার্সিটি)
চেক প্রজাতন্ত্র : ডালাস (ম্যানসফিল্ড মাল্টিপারপাস স্টেডিয়াম)
ইকুয়েডর : কলম্বাস, ওএইচ (কলম্বাস ক্রু পারফরমেন্স সেন্টার)
মিশর : স্পোকেন, ডব্লিউএ (গনজাগা ইউনিভার্সিটি)
ইংল্যান্ড : কানসাস সিটি (সোপ সকার ভিলেজ
স্পেন : চাতানুগা, টিএন (বেইলর স্কুল)
ফ্রান্স : বস্টন (বেন্টলি ইউনিভার্সিটি)
জার্মানী : উইন্সটন-সালেম, এনসি (ওয়েক ফরেস্ট ইউনিভার্সিটি)
ঘানা : বস্টন (ব্রায়ান্ট ইউনিভার্সিটি)
াইতি : নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি (স্টকহোম ইউনিভার্সিটি)
ইরান : তিজুয়ানা, এমএক্স (সেন্ট্রো জোলোকুইনটেল)
ইরাক : গ্রিনব্রিয়ার, ডব্লিউভি (গ্রিনবিয়ার স্পোর্টস পারফরমেন্স সেন্টার)
জর্ডান : পোর্টল্যান্ড (ইউনিভার্সিটি অব পোর্টল্যান্ড)
জাপান : ন্যাশভিলে, টিএন (ন্যাশভিলে এসসি ফ্যাসিলিটি)
দক্ষিণ কোরিয়া : গুয়াডালাজারা, এমএক্স (শিভাস ভার্দে ভ্যালি)
সৌদি আরব : অস্টিন, টিএক্স (অস্টিন এফসি স্টেডিয়াম)
মরক্কো : নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি (পিনগ্রি স্কুল)
মেক্সিকো : মেক্সিকো সিটি (সেন্ট্রো ডি অল্টো রেনডিমিয়েন্টো)
নেদারল্যান্ডস : কানসাস সিটি (কেসি কারেন্ট ট্রেনিং ফ্যাসিলিটি)
নরওয়ে : গ্রিন্সবোরো, এনসি (ইউএনসি গ্রিন্সবোরো)
নিউজিল্যান্ড : সান দিয়েগো (ইউনিভার্সিটি অব সান দিয়েগো- টোরেরো স্টেডিয়াম)
পানামা : নিউ টেকুসেথ, সিএএন নোটাওয়াসাগা ট্রেনিং সাইট)
প্যারাগুয়ে : সান ফ্রান্সিকো বে এরিয়া (স্পার্টান সকার কমপ্লেক্স)
পর্তুগাল : পাম বিচ গার্ডেন্স (গার্ডেন্স নর্থ কান্ট্রি ডিস্ট্রিক্ট পার্ক)
কাতার : সান্টা বারবারা, সিএ (ওয়েস্টমন্ট কলেজ)
দক্ষিণ আফ্রিকা : পাচুয়া, এমএক্স (পাচুয়া- ইউনিভার্সিটি ডেল ফুটবল)
স্কটল্যান্ড : শার্লট, এনসি (শার্লট এফসি ফ্যাসিলিটি)
সেনেগাল : নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি (রুটগার্স ইউনিভার্সিটি)
সুইজারল্যান্ড : সান দিয়েগো (এসডিজেএ)
সুইডেন : ডালাস (এফসি ডালাস স্টেডিয়াম)
তিউনিশিয়া : মন্টিয়ারি, এমএক্স (রায়াডোস ট্রেনিং সেন্টার)
তুরষ্ক : মেসা, এজেড (আরিজোনা এ্যাথলেটিক গ্রাউন্ডস)
উরুগুয়ে : ক্যানকুন, এমএক্স (মায়াকোবা ট্রেনিং সেন্টার ক্যানকুন)
যুক্তরাষ্ট্র : ইরভিন (গ্রেট পার্ক স্পোর্টস কমপ্লেক্স)
উজবেকিস্তান : আটলান্টা (আটালান্টা ইউনাইটেড ট্রেনিং সেন্টার)।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
আর্জেন্টাইন ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে দেশটির ক্রীড়াঙ্গনে। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর স্থানীয় সময় গত শুক্রবার তিনি মারা যান। বাবার মৃত্যুসংবাদ পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই পরিবার নিয়ে রোজারিওর উদ্দেশে রওনা হন মেসি। একই দিন রাতে স্থানীয় সময় তার বিমান থেকে নামার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এই কঠিন সময়ে মেসির পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন তার জাতীয় দল সতীর্থ লিয়ান্দ্রো পারেদেস। আর্জেন্টিনার এই মিডফিল্ডার বলেন, ‘এখনও লিওর সঙ্গে কথা বলতে পারিনি। জানি ও তখন ভ্রমণে ছিল। আমরা অপেক্ষা করছি ও দেশে ফেরার, যাতে এই কঠিন সময়ে আমরা ওর পাশে থাকতে পারি। আমি নিশ্চিত, আমাদের পাশে পেলে ওর ভালো লাগবে।’ পারেদেস জানান, সতীর্থদের সঙ্গে কথা বলে আজ অথবা কালের মধ্যে মেসির সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন তারা। গভীর শোক প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া। এক বিবৃতিতে তিনি হোর্হে মেসিকে স্মরণ করে বলেন, তিনি এমন এক সন্তান গড়ে তুলেছেন যিনি ‘বিনয়ী, শ্রদ্ধাশীল ও মানুষের প্রতি গভীরভাবে নিবেদিত’। হোর্হে মেসির স্মরণে আর্জেন্টিনার সব পর্যায়ের ম্যাচে এক মিনিট নীরবতা পালনের নির্দেশ দিয়েছে এএফএ। পাশাপাশি সব খেলোয়াড়, কোচ ও রেফারিদের কালো আর্মব্যান্ড পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল এক শোকবার্তায় জানিয়েছে, তারা ‘শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিয়ে লিওনেল ও তার পরিবারের পাশে’ আছে। অন্যদিকে হোর্হে মেসির ছেলেবেলার ক্লাব নিউয়েলস ওল্ড বয়েজ তাকে স্মরণ করেছে মেসির ক্যারিয়ারের ‘নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ’ হিসেবে।
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর আর্জেন্টিনা শিবিরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন- কোচ হিসেবে লিওনেল স্কালোনি কি থাকছেন, নাকি বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন? স্কালোনি নিজেই জানিয়েছিলেন, তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত, অর্থাৎ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন। এরপর কী করবেন, সে সিদ্ধান্ত এখনো নেননি। তবে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) তাকে ছাড়তে একেবারেই রাজি নয়। এএফএ সভাপতি ক্লদিও ‘চিকি’ তাপিয়ার কথাতেই সেটি স্পষ্ট। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘স্কালোনি আমাদের পরিকল্পনা এ, বি এবং সি।’ অর্থাৎ স্কালোনিই আর্জেন্টিনার প্রথম পছন্দ, দ্বিতীয় পছন্দ এবং তৃতীয় পছন্দ- সবই। বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্কালোনির বক্তব্য অবশ্য আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য খুব একটা স্বস্তির ছিল না। আর্জেন্টাইন কোচ বলেছিলেন, ‘ডিসেম্বর পর্যন্ত আমি থাকব। এরপর সম্ভবত সরে দাঁড়াব। আমাকে সভাপতির সঙ্গে কথা বলতে হবে। তবে আপাতত মনে হচ্ছে, কিছু সময়ের জন্য বিরতি নেওয়া এবং থেমে যাওয়াই ভালো হবে।’ স্কালোনির এই বক্তব্যে স্বাভাবিকভাবেই ধারণা তৈরি হয়, আর্জেন্টিনা অধ্যায়ের ইতি টানার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। তবে পুরোপুরি দরজা বন্ধ করেননি কোচ। এএফএ সভাপতি তাপিয়ার সঙ্গে আলোচনার পর পরিস্থিতি বদলাতে পারে- এমন সম্ভাবনাও খোলা রেখেছেন তিনি। স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি তাপিয়ার সঙ্গে। তবে এএফএ সভাপতি ইতোমধ্যে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছেন। তিনি চান, স্কালোনিই আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যান। তাপিয়া বলেন, ‘আমি চাই সে থাকুক, আমরা সবাই চাই সে থাকুক। আমরা এ নিয়ে কথা বলেছি। আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছিল। কিন্তু আমি কৃতজ্ঞতাবোধ করা একজন মানুষ। তাকে তার সেরা সিদ্ধান্তটি নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে এবং সেটিকে সম্মান করতে হবে।’ তবে স্কালোনির ওপর কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করতে চান না তাপিয়া। কোচ যদি আর দায়িত্ব পালনের ইচ্ছা অনুভব না করেন, তাহলে তাকে জোর করে ধরে রাখার পক্ষপাতী নন এএফএ সভাপতি। তার ভাষায়, ‘সে যদি মনে করে তার আর সেই ইচ্ছা নেই, কিংবা তার সামনে আরও ভালো কোনো সুযোগ আছে, তাহলে আমি তাকে শিকল দিয়ে আটকে রাখতে পারি না।’ তাপিয়ার এই বক্তব্যে একদিকে যেমন স্কালোনিকে ধরে রাখার প্রবল আগ্রহ স্পষ্ট, অন্যদিকে কোচের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকেও সম্মান করার বার্তা রয়েছে। স্কালোনিকে এতটা গুরুত্ব দেওয়ার পেছনে বড় কারণ তার অধীনে আর্জেন্টিনার অভাবনীয় সাফল্য। ২০১৮ বিশ্বকাপের পর জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ধীরে ধীরে একটি নতুন আর্জেন্টিনা গড়ে তোলেন। তার অধীনে ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জেতে আর্জেন্টিনা। এরপর ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তোলে আলবিসেলেস্তেরা। এর আগে ২০২২ সালে ফাইনালিসিমাতেও ইতালিকে হারিয়েছিল তারা। ২০২৪ সালে আবার কোপা আমেরিকার শিরোপা ধরে রাখে আর্জেন্টিনা। ২০২৬ বিশ্বকাপেও স্কালোনির দল ফাইনালে উঠে যায়। শেষ পর্যন্ত স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হারলেও পুরো টুর্নামেন্টে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে আর্জেন্টিনা। ফলে স্কালোনিকে শুধু একজন কোচ হিসেবে নয়, আর্জেন্টিনার সোনালি সময়ের অন্যতম প্রধান স্থপতি হিসেবে দেখছেন তাপিয়ারা। স্কালোনির সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি নিয়েও তাপিয়ার বক্তব্য বেশ পরিষ্কার। তিনি জানেন, দীর্ঘদিন জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোচের ওপর মানসিক ও শারীরিক চাপ তৈরি হতে পারে। তাই চুক্তি থাকা সত্ত্বেও স্কালোনিকে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিতে চান তিনি। তাপিয়ার ‘এ, বি ও সি- তিন পরিকল্পনাতেই স্কালোনি’ মন্তব্য আসলে আর্জেন্টিনার অবস্থানটিই স্পষ্ট করেছে। নতুন কাউকে নিয়ে ভাবার চেয়ে বর্তমান কোচকেই ধরে রাখাই তাদের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। বিশ্বকাপের পর তাই এখন বল স্কালোনির কোর্টে। তিনি কি আরও কয়েক বছর আর্জেন্টিনার দায়িত্ব পালন করবেন, নাকি দীর্ঘ সাফল্যের পর বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন- সেটিই এখন দেখার বিষয়। ‘আর্জেন্টিনা ম্যাচ ছেড়ে দিয়েছে’- গুঞ্জনে ক্ষুব্ধ তাপিয়া এদিকে স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্বেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাপিয়া। আর্জেন্টিনা ইচ্ছাকৃতভাবে ম্যাচ ছেড়ে দিয়েছে- এমন অভিযোগ ও গুঞ্জন নিয়ে বিরক্ত এএফএ সভাপতি। তাপিয়া বলেন, ‘এটা আমাকে রাগিয়ে দেয়। মনে হয়, এমন কিছু মানুষ আছে যারা বিরক্ত হয় যে আর্জেন্টিনা বারবার সাফল্য অর্জন করছে বা শিরোপা জিতছে।’ তার মতে, আর্জেন্টিনার ধারাবাহিক সাফল্যকে ঘিরে ভিত্তিহীন নানা আলোচনা তৈরি করা হচ্ছে। বিশ্বকাপেও এমন কিছু বিষয় নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তাপিয়ার ভাষায়, ‘জীবনে কিছু বিষয় আছে, যেগুলো নিয়ে আপনার বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়। কিন্তু এই বিশ্বকাপে সেগুলো নিয়েই বাড়াবাড়ি করা হয়েছে।’ বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের হতাশা কাটিয়ে আর্জেন্টিনাকে এখন তাকাতে হচ্ছে সামনের দিনের দিকে। আর সেই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছেন স্কালোনি। কোচ নিজে ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকার কথা নিশ্চিত করেছেন। এরপর বিরতি নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেননি। অন্যদিকে এএফএ সভাপতি প্রকাশ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, তারা স্কালোনিকেই চান। ফলে আর্জেন্টিনার সামনে এখন মূল প্রশ্ন একটাই- বিশ্বকাপের হতাশার পর স্কালোনি কি নতুন করে শুরু করবেন, নাকি সোনালি অধ্যায়ের ইতি টেনে নেবেন? তাপিয়ার কথায় অবশ্য আর্জেন্টিনার উত্তর অনেকটাই পরিষ্কার- স্কালোনিই তাদের পরিকল্পনা এ, বি ও সি।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফায় সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে এক নারী সহকর্মীর সঙ্গে তাঁর গোপন সম্পর্ক এবং সেই ঘটনা ধামাচাপা দিতে অর্থ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইনফান্তিনোর সাবেক এক প্রেমিকাকে উয়েফা থেকে বিদায় দেওয়ার সময় ছয় অঙ্কের অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে স্থানীয় একটি বিজনেস স্কুলে তাঁর এমবিএ কোর্সের খরচও বহন করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ইনফান্তিনো উয়েফার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় এক নারী সহকর্মীর সঙ্গে তাঁর রোমান্টিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। পরে ওই সম্পর্কের বিষয়টি গোপন রাখতেই অর্থ দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উয়েফা এক বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট নারীকে বিদায়ী ভাতা দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাঁকে বিদায়ী অর্থ দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁর এমবিএ কোর্সের সম্পূর্ণ খরচও বহন করা হয়। তবে উয়েফার দাবি, তৎকালীন নিয়ম মেনেই এসব অর্থ দেওয়া হয়েছিল। পরে এ ধরনের বিষয়ে তাদের নীতিমালা আরও কঠোর করা হয়েছে। তবে অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইনফান্তিনোর পিআর টিম। ফিফার এক মুখপাত্র দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফকে বলেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মানহানিকর। উয়েফা বা ফিফার কোনো কর্মী কখনো ইনফান্তিনোর আচরণ নিয়ে অভিযোগ করেননি বলেও দাবি করেন তিনি। এর আগে বিশ্বকাপ ফুটবলকে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির গোপন পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্কে পড়েছিলেন ইনফান্তিনো। বুধবার মরক্কোয় এক জরুরি বৈঠকে ফিফার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সমর্থন নিয়ে এবং নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে তিনি পদত্যাগ এড়ান। এদিকে ইউরোপের কয়েকটি ফুটবল সংস্থা ফিফার বিভিন্ন আয়োজন বয়কটের হুমকি দিয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ আমেরিকান কনফেডারেশন, আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন এবং বিশ্বকাপ আয়োজন ও রানার্সআপ দেশ আর্জেন্টিনা ইনফান্তিনোর পাশে রয়েছে। এর মধ্যেই গোপন সম্পর্ক ও অর্থ দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় ফিফা সভাপতিকে ঘিরে বিতর্ক আরও বাড়ল। ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং এর রাজনৈতিক প্রভাব শেষ পর্যন্ত তাঁর নেতৃত্বে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর ফুটবল বিশ্বের। সূত্র: ইয়াহু স্পোর্টস