সারাদেশ

জনস্রোতে ভেসে যাওয়ার ভয়ে তাঁরা এখন ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বলছেন: জামায়াতের আমির

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬ 0

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমাদের দুটি ভোট। প্রথম ভোটটা হবে গণভোট। গণভোটে “হ্যাঁ” মানে আজাদি, “না” মানে গোলামি। তাহলে ১২ তারিখে ইনশা আল্লাহ সমস্ত মানুষকে নিয়ে আমরা “হ্যাঁ” ভোটের পাল্লা তুলব। কেউ কেউ প্রথম দিকে রাজি হন নাই, “না” ভোটের পক্ষে তাঁরা শুরু করে দিয়েছিলেন অভিযান। পরে দেখেছেন জনস্রোতে ভেসে যাবেন, খবরেও থাকবেন না। তাঁরা এখন “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে কথা বলছেন। অভিনন্দন, মোবারকবাদ।’

আজ বুধবার দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী হেলিপ্যাড মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলা জামায়াত যৌথভাবে এ জনসভার আয়োজন করে। পরে লালমনিরহাটের তিনটি ও নীলফামারীর চারটি আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য মনোনীত প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন জামায়াতের আমির।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘দ্বিতীয় ভোটটা দেশ গড়ার ভোট। আগামীতে সরকার চালাবে কারা? যারা অতীতে ভালো মানুষ প্রমাণিত হয়েছে, তারা। যারা অতীতে নিজেকে ভালো মানুষ প্রমাণ করতে পারে নাই, তাদের নতুন করে আর দেখার কিছু নেই। আপনি দুর্নীতি করবেন আবার রাজনীতিও করবেন, এই দুইটা তো হয় না। রাজনীতি হচ্ছে নীতির রাজা। ভালো নীতি নিয়ে আপনি রাজনীতি করবেন, দুর্নীতির সাথে রাজনীতির কী সম্পর্ক? দুর্নীতি যারা করে তারা তো ডাকাত, তারা তো চোর, তারা তো লুণ্ঠনকারী।’

সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার কথা উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘অন্যান্য ধর্মের যে সমস্ত ভাইবোনেরা আছেন, আমরা ইনশা আল্লাহ বুকের চাদর দিয়ে তাঁদের আগলে রাখব। ইনশা আল্লাহ সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষকে নিয়ে বাংলাদেশের বাগান সাজাব। আর কোনো বৈষম্য এখানে বরদাশত করা হবে না। ন্যায়বিচার কায়েম হবে ইনশা আল্লাহ। সেই ন্যায়বিচার কায়েম করতে গিয়ে বিচার বিভাগ দেখবে না কে সাধারণ মানুষ, আর কে দেশের প্রেসিডেন্ট। সাধারণ মানুষের যে অপরাধ করলে শাস্তি হবে, দেশের প্রেসিডেন্ট অপরাধ করলে একই পন্থায় তার বিচার হবে এবং শাস্তি নিশ্চিত হবে।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী যাঁরা আছেন, আমি জানি তাঁদের অনেকে যে বেতন দেওয়া হয়, যে সুবিধা দেওয়া হয়, চলার জন্য এটা মোটেই যথেষ্ট না। রাষ্ট্রই বাধ্য করছে তাঁদের দুর্নীতি করার জন্য। যে রাষ্ট্র তার কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি সম্মান দেখাতে পারে না, সেই রাষ্ট্র তার কর্মকর্তা-কর্মচারী অপরাধ করলে কোনো বিচারেরও অধিকার রাখে না। আগে তাঁকে সম্মানটা দিতে হবে, সম্মানজনকভাবে বাঁচার সুযোগ করে দিতে হবে, তারপরে যদি অপরাধ করে, অবশ্যই তাকে সেভাবে বিচারের আওতায় আনতে হবে। কিন্তু এর আগে নয়। এ জন্য আমরা সবাইকে বলি, এটা আমার দেশ, এটা আপনারও দেশ। সবাই মিলে আমরা গড়ব ইনশা আল্লাহ আগামীর নতুন বাংলাদেশ।’

নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘কিছু ভাই ভুল করে হোক অথবা মাথা গরম করে হোক, আমাদের মায়ের গায়ে হাত দেয়। আমরা ওদের পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, প্রয়োজনে জীবন দেব; কিন্তু মায়ের ইজ্জত কাউকে কেড়ে নিতে দেব না। এ দেশের ৯ কোটি নারী আমাদের মা। এই মায়েদের আমরা শ্রদ্ধার আসনে বসাতে চাই। তারা শিক্ষা নেবে, তারা দেশ গড়ায় অংশ নেবে, পেশাগত দায়িত্ব পালন করবে। ইনশা আল্লাহ ঘরে, রাস্তায় এবং কর্মস্থলে তারা নিরাপদ থাকবে। তারা কাজ করবে অত্যন্ত মর্যাদার সাথে। আমরা নারী জাতির জন্য সেটা নিশ্চিত করব ইনশা আল্লাহ।’

তিস্তা সমস্যা নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘তিস্তা তো এ অঞ্চলের মানুষের অহংকার হওয়ার কথা ছিল। এখন তিস্তার নাম একসাগর দুঃখ। আমরা কথা দিচ্ছি, এই তিস্তাকে ইনশা আল্লাহ আমরা জীবন দেব। এই তিস্তার পথঘাট আর মরুময় থাকবে না। এই তিস্তা হবে উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। এখান থেকে হাইড্রো পাওয়ার হবে। এখানকার পানি সারা উত্তরবঙ্গকে উর্বর করে তুলবে।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
শাহজালাল (র.) মাজারে প্রধানমন্ত্রীর গিলাফ, ওরসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর বার্ষিক ৭০৭তম ওরস মোবারক উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মাজারে গিলাফ ছড়ানো হয়েছে। বুধবার বিকালে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে এ গিলাফ ছড়ান। গিলাফ ছড়ানো শেষে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়। পাশাপাশি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতা ও দীর্ঘায়ুও কামনা করা হয়। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিসিক প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পবিত্র এই ওরস উপলক্ষে গিলাফ পাঠানো হয়েছে। আমি তার প্রতিনিধি হিসেবে তা মাজারে ছড়িয়েছি। তিনি আরও বলেন, দেশ পরিচালনায় সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার দেশের কল্যাণে কাজ করছে। একটি পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক সিলেট নগর গড়তে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব, নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোহাম্মদ উল্লাহ সজিব, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জয়দেব বিশ্বাসসহ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা। উল্লেখ্য, হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে বার্ষিক ওরস উপলক্ষে গিলাফ ছড়ানোর এ আয়োজন একটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। প্রতি বছর জিলকদ মাসের ১৯ ও ২০ তারিখে অনুষ্ঠিত ওরসের সূচনালগ্নে গিলাফ ছড়ানোর মাধ্যমে মূল কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

মারিয়া রহমান মে ০৬, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি

সুন্দরবনে জলদস্যুর তাণ্ডব: ২২ জেলে অপহরণ, ১৭ জন এখনো জিম্মি

ছবি : সংগৃহীত

শ্বশুরবাড়িতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ছবি : সংগৃহীত

ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির সূচি ঘোষণা

সোমবার ভেড়ামারা থানার হলরুমে সাংবাদিকদের চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন।
৫০ হাজার টাকা চুক্তিতে বিএনপি কর্মী হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বিএনপি কর্মী সোহেল রানাকে (৪০) হত্যা করতে ৫০ হাজার টাকা চুক্তি করেছিল হত্যাকারীরা। বিজ্ঞ আদালতে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তিমূলক চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি দিয়েছে গ্রেফতারকৃত আসামীরা। ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: দেলোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে একটি প্রেস রিলিজ দিয়েছেন। সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভেড়ামারা থানার হলরুমে তিনি সাংবাদিকদের চাঞ্চল্যকর সোহেল হত্যা মামলার সর্বশেষ তথ্য দেন। উল্লেখ্য ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর জর্ডান প্রবাসী বিএনপি কর্মী সোহেল রানাকে বিবস্ত্র করে, মুখমন্ডল পুড়িয়ে, শরীরের স্পর্শকাতর অংশ কেটে নিয়ে উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর বিলের মাঠের ধানক্ষেতে ফেলে রাখা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ গিয়ে তা উদ্ধার করে। পরিবারের পক্ষ থেকে অজ্ঞাত আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ভেড়ামারা থানা পুলিশ চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় সুজন খলিফা ওরফে সুজন কানা, লিমন, মহিন উদ্দিন, জাহাবুল ইসলাম জাবুল ও মো: শাওন এই ৫জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে। এদের মধ্যে মহিন, জাবুল ও শাওন এই ৩জন আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে। হত্যাকাণ্ডের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত তুষার,খোকনসহ আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে ভেড়ামারা থানা পুলিশ। মামলার তদন্তে ও আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে অভিযুক্ত আসামিরা ৫০ টাকার বিনিময়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে জানায়। হত্যাকাণ্ডের ঠিক আগের দিন সোহেল রানার ঘনিষ্ঠজন হিসাবে পরিচিত সুজন কানা তার বাড়িতে তুষার, জাবুল, শাওন ও লিমনকে নিয়ে একটি মিটিং করে। এ সময় সুজন অ্যাডভান্স হিসাবে ২৫ হাজার টাকা মহিনকে দেয়, বাদবাকি হত্যাকান্ডের পরে দেবে বলে জানায়। ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যার পর লিমন ও মহিন ভুক্তভোগী সোহেল রানাকে সাতবাড়িয়া বাজার থেকে হত্যাকাণ্ডের স্থল রামচন্দ্রপুর বিলের মাঠের গ্রামের রাস্তায় নিয়ে যায়। সেখানে পূর্ব থেকেই জাবুল ও তুষার হাসুয়া, বাটাম, দুটি লোহার রড ও ছুরি নিয়ে অবস্থান করছিল।তুষার হাসুয়া দিয়ে তার মাথায় পিছনে কোপ মারে এবং অন্যান্য আসামিরা এলোপাথারি মারতে শুরু করে। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য মহিন তার গলায় একাধিকবার ছুরি দিয়ে আঘাত করে। তুষার তার শরীরের কাপড় খুলে ফেলে এবং মহিন ও অপর আসামি শাওন পাটখড়ি, পেট্রোল দিয়ে মুখমণ্ডল পুড়িয়ে বিকৃত করে। মৃত্যু নিশ্চিত করে মোবাইল ফোনে ছবি তুলে মহিন, জাবুল ও খোকন সুজন কানার বাড়িতে মোটরসাইকেল যোগে বাদবাকি টাকা আনতে যায়। পরবর্তীতে সে টাকা তারা ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়। ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ দেলোয়ার হোসেন কালবেলাকে বলেন, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন এবং আসামিদের দোষ স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী প্রায় সম্পূর্ণটাই মিলে গেছে। তবে মূল আসামি সুজন কানা জবানবন্দি দিতে চাইলেও পরবর্তীতে নিজেকে সরিয়ে নেয়। তবে সুজন কানার মাদকদাতা কে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখনো এই মামলার কিছু রহস্য উন্মোচিত হতে বাকি রয়েছে।’

মারিয়া রহমান মে ০৪, ২০২৬ 0
শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

দাদা-দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত লিমন

সংগৃহীত ছবি

মাছ খাওয়ার বাহানা করে মাকে বাজারে পাঠিয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহনন

ছবি : সংগৃহীত

২৩ ঘণ্টা পর আবারও বন্ধ বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

ছবি: সংগৃহীত
সুনামগঞ্জে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা,অটোরিকশা চালকসহ ৫ জন নিহত

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভয়াবহ সংঘর্ষে অটোরিকশাচালকসহ ৫ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার (৪ মে) দুপুরে সুনামগঞ্জ–সিলেট মহাসড়কের জালালপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।   ঘটনাস্থলেই মৃত্যু, হাসপাতালে প্রাণহানি বাড়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিলেটগামী একটি দ্রুতগতির বাস লেন পরিবর্তনের সময় বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। পরে গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে আরও তিনজন মারা যান।   একই পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত নিহতদের মধ্যে তাহিরপুর উপজেলার ইউসুফ আলী (৫৫) ও তার পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন বলে জানা গেছে। এতে একটি পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম।   স্থানীয়দের উদ্ধার তৎপরতা দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।   দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান চলছে পুলিশ জানিয়েছে, অতিরিক্ত গতি ও অসাবধানতাজনিত কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় বাসটিকে আটক করার চেষ্টা চলছে এবং আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।   সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন এ দুর্ঘটনায় সড়ক নিরাপত্তা ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা মহাসড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ ও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

মাগুরা জেলা যুবদলের সভাপতিকে চোরাচালানের অভিযোগে শোকজ

ছবি: সংগৃহীত

কাল থেকে বাজারে আসছে সাতক্ষীরার আম

ছবি: সংগৃহীত

ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে রাঙামাটি উত্তাল, ১৪৪ ধারা জারি

0 Comments