দেশের জলভিত্তিক পর্যটন শিল্পের বিকাশ, হাওর অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটনকে উৎসাহিত করার লক্ষ্য নিয়ে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ হাউজবোট মেলা।
বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের শৈলপ্রপাত হলে মেলার উদ্বোধন করা হয়। হাউজবোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এইচওএবি) আয়োজিত এ মেলা চলবে আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত। মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১২০টিরও বেশি হাউজবোট প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান বলেন, দেশের হাওর, নদী ও জলাভূমিকে কেন্দ্র করে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে অবশ্যই পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করে নয়, বরং পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনার মাধ্যমে জলভিত্তিক পর্যটনের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের টাঙ্গুয়ার হাওর, হাকালুকি হাওর, কাপ্তাই লেকসহ বিভিন্ন জলাভূমি আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।
অনুষ্ঠানে হাউজবোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আরাফাত হোসেন বলেন, জলভিত্তিক পর্যটনের প্রসারের পাশাপাশি হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জনসচেতনতা তৈরি করাও এবারের মেলার অন্যতম উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব হাউজবোট পরিচালনার মাধ্যমে পর্যটকদের নিরাপদ ও মানসম্মত ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নেও এ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও জানান, এবারের মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১২০টিরও বেশি হাউজবোট প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। দর্শনার্থীরা এখানে বিভিন্ন ধরনের হাউজবোট সেবা, পর্যটন প্যাকেজ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, বিশ্বজুড়ে প্রকৃতিনির্ভর ও টেকসই পর্যটনের চাহিদা বাড়ছে। বাংলাদেশও তার নদী, হাওর ও লেকভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে। তবে এর জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ, মানসম্মত সেবা, নিরাপত্তা এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।
তারা আরও বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওর, কাপ্তাই লেকসহ দেশের বিভিন্ন জলাভূমিকে পরিকল্পিতভাবে পর্যটনের আওতায় আনতে পারলে একদিকে যেমন দেশি-বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট হবে, অন্যদিকে স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্যও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বক্তারা সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে টেকসই জলভিত্তিক পর্যটন শিল্প গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তাদের মতে, এ ধরনের আয়োজন দেশের পর্যটন শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং হাওর অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সম্প্রসারণের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
দেশের জলভিত্তিক পর্যটন শিল্পের বিকাশ, হাওর অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটনকে উৎসাহিত করার লক্ষ্য নিয়ে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ হাউজবোট মেলা। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের শৈলপ্রপাত হলে মেলার উদ্বোধন করা হয়। হাউজবোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এইচওএবি) আয়োজিত এ মেলা চলবে আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত। মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১২০টিরও বেশি হাউজবোট প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান বলেন, দেশের হাওর, নদী ও জলাভূমিকে কেন্দ্র করে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে অবশ্যই পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করে নয়, বরং পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনার মাধ্যমে জলভিত্তিক পর্যটনের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের টাঙ্গুয়ার হাওর, হাকালুকি হাওর, কাপ্তাই লেকসহ বিভিন্ন জলাভূমি আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে। অনুষ্ঠানে হাউজবোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আরাফাত হোসেন বলেন, জলভিত্তিক পর্যটনের প্রসারের পাশাপাশি হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জনসচেতনতা তৈরি করাও এবারের মেলার অন্যতম উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব হাউজবোট পরিচালনার মাধ্যমে পর্যটকদের নিরাপদ ও মানসম্মত ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নেও এ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি আরও জানান, এবারের মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১২০টিরও বেশি হাউজবোট প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। দর্শনার্থীরা এখানে বিভিন্ন ধরনের হাউজবোট সেবা, পর্যটন প্যাকেজ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। আলোচনায় বক্তারা বলেন, বিশ্বজুড়ে প্রকৃতিনির্ভর ও টেকসই পর্যটনের চাহিদা বাড়ছে। বাংলাদেশও তার নদী, হাওর ও লেকভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে। তবে এর জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ, মানসম্মত সেবা, নিরাপত্তা এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। তারা আরও বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওর, কাপ্তাই লেকসহ দেশের বিভিন্ন জলাভূমিকে পরিকল্পিতভাবে পর্যটনের আওতায় আনতে পারলে একদিকে যেমন দেশি-বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট হবে, অন্যদিকে স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্যও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। বক্তারা সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে টেকসই জলভিত্তিক পর্যটন শিল্প গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তাদের মতে, এ ধরনের আয়োজন দেশের পর্যটন শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং হাওর অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সম্প্রসারণের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দেশীয় বাজারে আবারও সোনা ও রুপার দাম বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি স্বর্ণালংকারের দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ক্যাটাগরির রুপার দামও সমন্বয় করা হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস। সংগঠনটির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভায় সর্বশেষ বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালংকারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। আগের দাম ছিল ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা। সোনার পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৭২৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপা বিক্রি হবে ৪ হাজার ৫৪৯ টাকায়, ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৯০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম রাখা হয়েছে ২ হাজার ৯১৬ টাকা। বাজুসের ঘোষিত এই নতুন মূল্য শুক্রবার সকাল থেকেই দেশের জুয়েলারি বাজারে কার্যকর হয়েছে।
প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্তির বছরে রিটেইল ডিপোজিটে ৫০ হাজার কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রম করেছে ব্র্যাক ব্যাংক। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ব্যাংকটি জানিয়েছে, ৩০ জুন পর্যন্ত ব্র্যাক ব্যাংকের রিটেইল ডিপোজিটের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা। ব্র্যাক কর্তৃপক্ষ বলছে, গত চার বছরে ব্যাংকটির রিটেইল ডিপোজিট প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। ২০২২ সালের জুনে ব্যাংকটির রিটেইল খাতে আমানত ছিল ১৭ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা, যা চার বছরের ব্যবধানে বেড়ে ৫০ হাজার ৩২৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। গত এক বছরে এটি বেড়েছে ৩৮ শতাংশ। দেশব্যাপী ব্র্যাক ব্যাংকের বিস্তৃত ব্রাঞ্চ ও সাব-ব্রাঞ্চ নেটওয়ার্ক এ সাফল্যে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে উল্লেখ করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, এছাড়াও ব্যাংকটির রিটেইল সেলস ও এজেন্ট ব্যাংকিং চ্যানেলও আমানত বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। ব্র্যাক ব্যাংকের এমন লক্ষণীয় মাইলফলক অর্জন সম্পর্কে ব্যাংকটির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব রিটেইল ব্যাংকিং মো. মাহীয়ুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্তির বছরে রিটেইল ডিপোজিটে ৫০ হাজার কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রম করা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। আমাদের এ অর্জন ডিজিটাল ব্যাংকিং সম্প্রসারণ এবং আরও বেশি মানুষের কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই প্রতিফলন। গ্রাহকদের আস্থা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত আমাদের সহকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টাই এই সাফল্যের মূল ভিত্তি।’ শক্তিশালী ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক, আধুনিক ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা, উদ্ভাবনী প্রোডাক্ট ও সার্ভিস এবং গ্রাহককেন্দ্রিক সেবার মাধ্যমে বর্তমানে ব্র্যাক ব্যাংক দেশের অন্যতম শীর্ষ রিটেইল ব্যাংক। প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্তিতে ব্যাংকটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি সম্প্রসারণ, গ্রাহকদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।