হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ থেকে দূরে থাকতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সতর্ক করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। একই সঙ্গে তারা বলেছে, মাঝে মাঝে ‘ইয়াঙ্কিদের শিক্ষা দেওয়া’ প্রয়োজন হয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিএইচএফ চ্যানেল-১৬ এ প্রচারিত একটি অডিও বার্তায় আইআরজিসি নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জাহাজগুলোকে অন্তত ১০ মাইল দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অডিও বার্তায় বলা হয়, নিরাপত্তার স্বার্থে যুদ্ধজাহাজ থেকে দূরে থাকতে হবে, কারণ মাঝে মাঝে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে ইয়াঙ্কিদের শিক্ষা দিতে হয়।
একটি সামুদ্রিক শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র সিএনএনকে জানায়, বৃহস্পতিবার ইরান প্রণালির উত্তর অংশে থাকা জাহাজগুলোকে দুবাইয়ের কাছাকাছি দক্ষিণ দিকে সরে যেতে নির্দেশ দেয় এবং জাহাজগুলো তা অনুসরণ করে। ওই দিন জলপথে তীব্র গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে বলে সূত্রটি দাবি করেছে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের ইউকেএমটিও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে কম রয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় একাধিক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনার খবরও পাওয়া গেছে।
সংস্থাটি আরও বলেছে, সাম্প্রতিক হামলার কারণে ওই জলপথে চলাচল এখনো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এবং অবরোধসংক্রান্ত তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে।
আরেকটি ইরানি সামুদ্রিক সূত্র সিএনএনকে জানায়, চলমান উত্তেজনার শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনা খুবই কম এবং শিগগিরই যুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা রয়েছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকেই আইআরজিসির অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলার হুমকি দিয়ে আসছে ইরান।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ভেঙে আবারও সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ায় রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে এই যুদ্ধ তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতা হলেও তা বেশিদিন টেকেনি। নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর বুধবার ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। এখন সেই যুদ্ধবিরতির চুক্তি ভেস্তে যাওয়া অধিকাংশ মার্কিন ভোটারই সমর্থন করেন না। আবার এই যুদ্ধ শুরু করা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতেও চান না। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর চার মাসেরও কম সময় বাকি। এ অবস্থায় ট্রাম্প এমন যুদ্ধে জড়িয়েছেন যা থেকে বের হওয়ার কোনো উপায় তিনি দেখছেন না। ফলশ্রুতিতে রাজনৈতিক মূল্যও চুকাতে হতে পারে ট্রাম্প ও তার রিপাবলিকান দলকে। নতুন করে যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে এবং শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। রিপাবলিকান দলের অনেক নেতা আশঙ্কা করছেন, জ্বালানির দাম বাড়তে থাকলে তার প্রভাব ভোটেও পড়তে পারে। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের সমর্থনকারী সংগঠন রিপাবলিকান মেইন স্ট্রিট পার্টনারশিপের প্রেসিডেন্ট সারাহ চেম্বারলেইন বলেন, নির্বাচনের আগে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া তাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। কারণ ভোটারদের সবচেয়ে বড় চিন্তা এখন জীবনযাত্রার ব্যয়। তেলের দাম বাড়লে নিত্যপণ্যের দামও বাড়বে, যা নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। হোয়াইট হাউস অবশ্য ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, ট্রাম্প জনমত জরিপ দেখে সিদ্ধান্ত নেন না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেন। এদিকে সাম্প্রতিক কয়েকটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়ানোর পক্ষে নন। ফক্স নিউজের এক জরিপে ৫৮ শতাংশ ভোটার বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। একই জরিপে ৮৭ শতাংশ মানুষ দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ এড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করছেন। তাদের দাবি, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি, পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়বে এবং এর বোঝা সাধারণ মানুষকে বহন করতে হবে। তারা কংগ্রেসে 'ওয়ার পাওয়ার্স রেজ্যুলিউশন' কার্যকর করে ইরান থেকে মার্কিন বাহিনী ফিরিয়ে আনার দাবিও তুলেছেন। অন্যদিকে ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ এখনো রয়েছে। তবে তিনি ইরানের নেতাদের কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন। প্রয়োজনে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও তেল স্থাপনায় আরও হামলার ইঙ্গিত দেন। তথ্যসূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
বিদেশি নাগরিকদের অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইতালি। এক বছরের বেশি কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিদেশি নাগরিকদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তাদের ইতালীয় নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া সহজ করতে একটি নতুন খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করেছে দেশটির ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির দল। বুধবার (৮ জুলাই) ব্রাদার্স অব ইতালি দলের আইনপ্রণেতারা এ প্রস্তাব প্রকাশ করেন। এতে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরের কোনো দেশের নাগরিক এক বছরের বেশি সাজাপ্রাপ্ত হলে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে তাকে নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করা হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মতি বাধ্যতামূলক হবে না। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সীমিত পরিসরে আপিলের সুযোগ থাকবে। তবে কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন যে নিজ দেশে ফিরে তিনি অমানবিক আচরণ, নির্যাতন বা মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে পড়বেন, সেক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারবেন। খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, প্রত্যাবাসনের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ইতালিতে পুনরায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। পাশাপাশি এমন কিছু অপরাধের তালিকা সম্প্রসারণের প্রস্তাব করা হয়েছে, যেগুলোর ক্ষেত্রে বিদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের ইতালীয় নাগরিকত্ব বাতিলের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এদিকে ক্ষমতাসীন জোটের আরেক শরিক দল ‘দ্য লিগ’ নাগরিকত্ব পাওয়ার শর্ত আরও কঠোর করা এবং নাগরিকত্ব বাতিলের বিধান সহজ করতে পৃথক একটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে। আগামী বছর ইতালিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নেওয়া নতুন ডানপন্থী রাজনৈতিক আন্দোলনের চাপে রয়েছে শাসক জোটের দলগুলো। বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের কারণে নতুন রাজনৈতিক শক্তির প্রতি ভোটারদের আগ্রহ বাড়ছে। সূত্র: রয়টার্স।
তুরস্কের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের কড়া বিরোধিতা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, আধুনিক যুদ্ধবিমান বিক্রি করলেই তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হয়ে যাবে না। খবর সিএনএনের। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, তুরস্কের বর্তমান নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত মিত্র নয়। তিনি অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ধারাবাহিকভাবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। নেতানিয়াহু বলেন, ‘তারা (তুরস্ক) যুক্তরাষ্ট্রকে ঘৃণা করে। এরদোয়ান মোটেও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো আদর্শ মিত্র নন। তিনি আমার দেশ, একমাত্র ইহুদি রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার হুমকি দেন।’ তিনি আরও বলেন, তুরস্কের হাতে এ ধরনের উন্নত যুদ্ধবিমান তুলে দিলে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এ কারণে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেছেন, যেন আঙ্কারার কাছে এফ-৩৫ বিক্রি না করা হয়। এর আগে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ইসরায়েলকে ‘মানবতার জন্য বোঝা’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। সেই বক্তব্যের সমালোচনা করে নেতানিয়াহু বলেন, ‘এটি শান্তি ও স্থিতিশীলতার শক্তি নয়। তাদের হাতে আরও সামরিক সক্ষমতা তুলে দিলে আগ্রাসনের ঝুঁকি বাড়বে।’ বর্তমানে ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্ক সফরে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ বিক্রির ওপর আগের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের আলোচনা নাকচ করে নেতানিয়াহু বলেন, ‘তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ দেখেন, আমি ইসরায়েলের স্বার্থ দেখি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই দুই দেশের স্বার্থ একে অপরের সঙ্গে মিলে যায়।’ ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা নিয়েও মন্তব্য করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আলোচনার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে পারবেন বলে বিশ্বাস করেন। যদিও এ বিষয়ে তার সংশয় রয়েছে, তবুও তিনি ট্রাম্পকে সেই সুযোগ দিতে চান।