যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসায় এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম টানা চতুর্থ দিনের মতো বেড়েছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
বুধবার (১৯ আগস্ট) এশিয়ার প্রাথমিক বাণিজ্যে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্স ২৬ সেন্ট বা ০.২৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯১.২৮ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৩৭ সেন্ট বেড়ে ৮৫.৩১ ডলারে ওঠে।
এর আগে মঙ্গলবারও ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই উভয়ই ২৪ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ দামে লেনদেন শেষ করে। বাজারে মূলত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা কমে যাওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দাম বাড়াচ্ছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রণালিটি খোলা রয়েছে বলে দাবি করলেও ইরান জানিয়েছে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এটি বন্ধ থাকবে। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ওই জলপথে জাহাজ চলাচলও ব্যাপকভাবে কমে গেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ফলে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির প্রিমিয়াম হিসেবে তেলের দামে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত ঘটানো হিমবাহ ধসের আগে ওই এলাকায় বছরের এই সময়ের তুলনায় নজিরবিহীন তাপমাত্রা বিরাজ করছিল। এক গবেষকের আবহাওয়া-সংক্রান্ত বিশ্লেষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এক প্রতিবেদনে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন বলছে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় থাকা পাহাড়ের হিমবাহ এলাকায় ২১ থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত গড় তাপমাত্রা প্রায় ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি ওই সময়ের জন্য অত্যন্ত বেশি তাপমাত্রা। গত ৫৫ বছরেরও বেশি সময়ের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে সেখানে তাপমাত্রা কখনোই ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়ায়নি। তবে এই অস্বাভাবিক গরমের সঙ্গে হিমবাহধসের সরাসরি সম্পর্ক এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি। ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বার্কলি আর্থের প্রধান বিজ্ঞানী রবার্ট রোডে এই তাপমাত্রার তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। তার হিসাব অনুযায়ী,হিমবাহধসের স্থানে ২১ থেকে ২৬ আগস্টের গড় তাপমাত্রা বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। রোডের হিসাব বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত উষ্ণতা না থাকলে এমন তাপমাত্রার পরিস্থিতি কয়েক হাজার বছরে একবার ঘটার মতো বিরল হতে পারত। ইউরোপের কোপার্নিকাস পর্যবেক্ষণ সংস্থার ১৯৭০ সাল থেকে সংরক্ষিত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হিমবাহধসের সময় লাংটাং অঞ্চলে ওই বছরের গ্রীষ্ম ছিল রেকর্ডের মধ্যে চতুর্থ উষ্ণতম। অতিরিক্ত গরম কি হিমবাহধসের কারণ? ফরাসি জলবায়ুবিদ ভ্যালেরি ম্যাসোঁ-দেলমোত বলেন, অতিরিক্ত গরমের কারণে পাহাড়ের জমাট মাটি বা ‘পারমাফ্রস্ট’ গলে যেতে পারে, যার ফলে পাহাড়ের ঢাল ও হিমবাহ একসঙ্গে ধসে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। পারমাফ্রস্ট অনেকটা বরফের সিমেন্টের মতো কাজ করে, যা পাহাড়ের পাথর ও ঢালকে শক্ত করে ধরে রাখে। এটি গলে গেলে পাহাড় আরও অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। দুর্যোগের কয়েক দিন আগে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বরফ গলার প্রমাণও পেয়েছে স্যাটেলাইট। ফ্রান্সের সিএনআরএসের হিমবাহ বিশেষজ্ঞ এতিয়েন বের্তিয়ের বলেন, গলা বরফের পানি পাহাড়ের ফাটলে ঢুকে ভূমিধসের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত করে বলছেন না যে তাপপ্রবাহই পাহাড়ধসের সরাসরি কারণ। গ্রেনোবল আল্পস বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-রূপ বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টেন কুক বলেন, শুধু তাপমাত্রা বেড়ে গেলেই পাহাড়ধস হয়—বিষয়টি এত সরল নয়। তার মতে, তাপমাত্রা যদি ধসের ট্রিগার হয়ে থাকে, তাহলে পাহাড়টি আগে থেকেই ধসের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিল। গবেষকেরা এখন পাহাড়ধসের আগের বছরগুলোতে পাহাড়ের ক্ষুদ্র নড়াচড়া এবং তাপমাত্রার পরিবর্তনের মধ্যে সম্পর্ক খুঁজে দেখছেন। রবার্ট রোডের মতে, গলা বরফের পানি বা পারমাফ্রস্ট গলে যাওয়ার কারণে পাহাড়ের ফাটলের আশপাশের পাথর উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছিল—এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে সেটিই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ হতে পারে।
ইরানের বিমান খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩৬টি প্রতিষ্ঠান ও নেটওয়ার্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার আরোপ করা এসব নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের বিমান সংস্থা এবং তেহরানের বিমান খাতকে সহায়তা করা বিদেশি কোম্পানি ও মধ্যস্থতাকারীরাও রয়েছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির নিষেধাজ্ঞা ও সন্ত্রাসবিরোধী দপ্তর ইরানের সক্রিয় বিমান সংস্থাগুলোর পাশাপাশি মাহান এয়ারকে সহায়তা করা বিদেশি কোম্পানি ও মধ্যস্থতাকারীদের লক্ষ্য করেছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি উড়োজাহাজ, যন্ত্রাংশ ও সংবেদনশীল প্রযুক্তি সংগ্রহে ব্যবহৃত বিভিন্ন ফ্রন্ট কোম্পানি, বিদেশি মধ্যস্থতাকারী এবং পণ্য পরিবহনের পথও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাজাখস্তান ও মালয়েশিয়ার কয়েকটি কোম্পানির বিরুদ্ধেও ইরানের বিমান চলাচল নেটওয়ার্ককে উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ, সংগ্রহে সহায়তা ও সরবরাহসেবা দেওয়ার অভিযোগ এনেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক অপরাধবিষয়ক সংস্থাও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সতর্কতা জারি করেছে। এতে ইরানের বিমান খাতের জন্য সরঞ্জাম সংগ্রহে সহায়তাকারী নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য জানাতে বলা হয়েছে। অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক অভিযানের অংশ হিসেবে এসব নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। গত ২৪ আগস্ট এই অভিযান শুরু করে ওয়াশিংটন। এর লক্ষ্য ইরান সরকারের অর্থনৈতিক সম্পদ ও আর্থিক সহায়তার উৎসগুলো বিচ্ছিন্ন করা। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, মঙ্গলবার নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার ঝুঁকি রয়েছে। মাহান এয়ারের ওপর এর আগেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ২০১১ সালে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের কুদস ফোর্সকে আর্থিক, বস্তুগত ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে সংস্থাটিকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে যুক্তরাষ্ট্র। সূত্র: শাফাক নিউজ এজেন্সি
হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে একটি মার্কিন মানববিহীন সাবমার্সিবল বা পানির নিচে চলাচলকারী স্বয়ংক্রিয় যান আটক করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি নৌবাহিনী জানিয়েছে, তাদের বাহিনী হরমুজ প্রণালির প্রবেশপথে অভিযান চালিয়ে ওই মার্কিন সাবমার্সিবলটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। ইরানি বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, আটক করা যানটি একটি আধুনিক প্রযুক্তির মানববিহীন সাবমার্সিবল, যাতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে। তবে যানটির মডেল, আকার, পরিচালন পদ্ধতি কিংবা এটি কী ধরনের নজরদারি বা সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল—এসব বিষয়ে বিস্তারিত কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি। আইআরজিসি নৌবাহিনী জানিয়েছে, আটক করা যানটির ছবি শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। এর মাধ্যমে নিজেদের দাবির পক্ষে দৃশ্যমান প্রমাণ উপস্থাপনের ইঙ্গিত দিয়েছে ইরানি বাহিনী। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ইরান যে মার্কিন মানববিহীন সাবমার্সিবল আটক করেছে বলে দাবি করেছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস রফতানির একটি বড় অংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। ফলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যেকোনও সামরিক তৎপরতা বা উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক নৌবাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এই জলপথের প্রবেশমুখে মার্কিন কোনও মানববিহীন সামুদ্রিক যান আটক করার ইরানি দাবি সত্য হলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। মানববিহীন সাবমার্সিবল সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সমুদ্রপথ পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন সামরিক বা প্রযুক্তিগত মিশনে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ইরান যে যানটি আটক করার দাবি করেছে, সেটির নির্দিষ্ট সক্ষমতা বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্বাধীনভাবে কোনও তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি। ইরানি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে আইআরজিসি নৌবাহিনীর বক্তব্য প্রচারিত হলেও ঘটনাটির বিষয়ে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত স্বাধীন কোনও সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে আটক করা যানটির ছবি বা অন্যান্য প্রমাণ প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত দাবিটির বিস্তারিত যাচাই করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া না আসায় ঘটনাটি নিয়ে আরও তথ্যের অপেক্ষা তৈরি হয়েছে। ইরানের এমন দাবি এর আগেও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও নজরদারি কার্যক্রম ঘিরে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সামনে এসেছে। ফলে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে এ ধরনের কোনও ঘটনা ঘটলে তা দুই দেশের সামরিক তৎপরতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা