২০২৭ সালে জাতিসংঘের ইউনিফিল মিশন প্রত্যাহারের পর লেবাননে কোনো না কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক বাহিনী প্রয়োজন হবে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম এ তথ্য জানান।
শনিবার প্যারিস সফরের সময় তিনি এ কথা বলেন।
১৯৭৮ সালের মার্চ থেকে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যবর্তী বাফার জোনে প্রায় ১০ হাজার ৮০০ জন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী ইউনাইটেড নেশনস ইনটেরিম ফোর্স ইন লেবানন (ইউনিফিল)-এ দায়িত্ব পালন করে আসছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপের মুখে গত বছরের আগস্টে গৃহীত এক প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ৩১ ডিসেম্বর থেকে এক বছরের মধ্যে ইউনিফিল-কে লেবানন ছাড়তে হবে।
প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে বৈঠকের পরদিন সালাম বলেন, ‘দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে আমাদের সব সময়ই একটি আন্তর্জাতিক উপস্থিতি প্রয়োজন হবে। সম্ভব হলে জাতিসংঘের উপস্থিতিই সবচেয়ে ভালো। কারণ কেবল জাতিসংঘই নিরপেক্ষতা ও নির্লিপ্ততা নিশ্চিত করতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরিতার ইতিহাসের কারণে এই বাহিনীতে পর্যবেক্ষক ও শান্তিরক্ষী— দুয়ের সমন্বয় থাকতে হবে।
বর্তমানে লেবাননে দক্ষিণাঞ্চলে লেবাননের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীরা দায়িত্ব পালন করছে।
এটি ইসরাইল ও ইরানপন্থী শিয়া গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতির অংশ।
চুক্তি অনুযায়ী ইসরাইলের লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারের কথা থাকলেও, দেশটি পাঁচটি কৌশলগত এলাকায় এখনও বাহিনী মোতায়েন রেখেছে।
এদিকে, ইসরাইল লেবাননে নিয়মিত বিমান হামলা চালাচ্ছে। তাদের দাবি, হিজবুল্লাহর ঘাঁটি ও সদস্যকে লক্ষ্যবস্তু করে এসব হামলা চালানো হয়।
ইসরাইল অভিযোগ করে বলেছে যে হিজবুল্লাহ আবারও অস্ত্র সংগ্রহ করছে।
হিজবুল্লাহর ঘোষিত নিরস্ত্রীকরণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী সালাম বলেন, এই প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপ ‘দুই সপ্তাহ আগে’ শুরু হয়েছে।
লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা প্রথম ধাপ শেষ করেছে। এতে লিতানি নদীর দক্ষিণে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের কথা বলা হয়েছে।
দ্বিতীয় ধাপে লিতানি ও আওয়ালি নদীর মধ্যবর্তী এলাকায় নিরস্ত্রীকরণ কার্যক্রম চলবে।
উত্তর দিকে অবস্থিত এই এলাকায় হিজবুল্লাহর উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে।
সালাম বলেন, ‘আমি স্পষ্টভাবেই দেখতে পাচ্ছি যে দ্বিতীয় ধাপের চাহিদা প্রথম ধাপের চেয়ে ভিন্ন।’
তিনি আরও বলেন, হিজবুল্লাহর বক্তব্য ছিল বেশ কঠোর।
তিনি বলেন, ‘তবে আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই যে আমরা পিছু হটব না।’
উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালের লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইউনাইটেড নেশনস ইনটেরিম ফোর্স ইন লেবানন (ইউনিফিল) গঠিত হয়।
ওই সময় দক্ষিণাঞ্চলে ফিলিস্তিনি বিদ্রোহী তৎপরতা ও চলমান লেবানন গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইরানের ওপর মার্কিন বাহিনীর জারি করা কঠোর নৌ-অবরোধে স্থবির হয়ে পড়েছে সমুদ্রবাণিজ্য। গত ১৩ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধের পর এ পর্যন্ত অন্তত ২৭টি বাণিজ্যিক জাহাজকে ফিরিয়ে দিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। সোমবার (২০ এপ্রিল) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, রোববার উত্তর আরব সাগরে ইরানের পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ‘তুসকা’কে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস স্প্রুয়েন্স টানা ছয় ঘণ্টা ধরে জাহাজটিকে সতর্কবার্তা দিলেও, সেটির ক্রুরা তা মেনে নিতে অস্বীকার করে। শেষ পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী জাহাজটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে সেটিকে অচল করে দেয়। এর ফলে জাহাজটি বর্তমানে মাঝসমুদ্রে নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আগে ২৫টি জাহাজ ফিরিয়ে দেওয়ার কথা জানানো হলেও গত ২৪ ঘণ্টায় সেই সংখ্যা বেড়ে ২৭-এ দাঁড়িয়েছে। এসব জাহাজকে হয় গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়েছে, নয়তো ইরানের বন্দরে ফিরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এই সংকটের প্রভাব পড়েছে বিশ্বজুড়ে।
শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডে-তে বোমা হামলার সাত বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও বিচার পাননি ভুক্তভোগীরা। ২৭৯ জন নিহত হওয়ার ওই ঘটনায় বেঁচে যাওয়া মানুষজন এখনও গভীর শারীরিক ও মানসিক ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন। পরপর সরকার পরিবর্তন হলেও, বিচার না পাওয়ায় তাদের কষ্ট আরও বেড়েছে। ২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল সমন্বিত আত্মঘাতী হামলায় তিনটি গির্জা ও তিনটি বিলাসবহুল হোটেল লক্ষ্যবস্তু হয়। এতে ৪৫ জন বিদেশিসহ মোট ২৭৯ জন নিহত হন ও আহত হন আরও ৫০০ জন মানুষ। এ ঘটনায় এখনও কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি। নেগোম্বো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। তবে ফেব্রুয়ারিতে সাবেক গোয়েন্দা প্রধানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র ও সহায়তা’ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। তিনি এখনও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আটক রয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়, স্থানীয় ইসলামপন্থীরাই এ হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল এবং তারা নিজেদের ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করেছিল। পরবর্তী তদন্তে হামলাকারীদের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা, এমনকি সামরিক গোয়েন্দার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, সাবেক সেনা কর্মকর্তা গোতাবায়া রাজাপাকসেকে ক্ষমতায় আনার পরিকল্পনা ছিল। সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা হয় নেগোম্বোর সেন্ট সেবাস্টিয়ান গির্জায়। যেখানে ১১৭ জন ক্যাথলিক নিহত হন। অনেকে আহত হন। ৬৭ বছর বয়সী মার্সি ফিলোমিনা টিসেরা বলেন, ‘আমাদের একমাত্র প্রার্থনা, এমন ঘটনা আর কখনও না ঘটুক।’ তিনি গির্জার প্রধান ফটকের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি পাশের দরজা দিয়ে বিস্ফোরক ভর্তি ব্যাগ নিয়ে ঢুকে বিস্ফোরণ ঘটায়। তিনি আরও বলেন, ‘হঠাৎ মনে হলো কিছু একটা আমার মাথায় আঘাত করল। আমি শুধু বলেছিলাম, ‘হে ঈশ্বর’! ওই মুহূর্তে এটুকুই মনে আছে।’ জ্ঞান ফেরার পর তিনি দেখেন, তার শরীর রক্তে ভেসে যাচ্ছে। এক হাত দিয়ে ভাঙা চোয়াল ধরে রাখেন। এরপর স্বেচ্ছাসেবকেরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। নেগোম্বোর কাছে নিজের বাড়িতে এএফপিকে তিনি এ কথা বলেন। -‘ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা’- ৫২ বছর বয়সী বিপণন কর্মকর্তা দিনাল ফার্নান্দো হামলায় বেঁচে যান। তিনি একটি আট মাস বয়সী শিশুর কবরের দিকে ইশারা করেন। দিনাল ফার্নান্দো বলেন, ‘এই হামলার পর তিনটি সরকার এসেছে, কিন্তু সবাই এটিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।’ তিনি আহতদের হাসপাতালে নিতে সহায়তা করেছিলেন। এখন তিনি বিচারের দাবিতে আন্দোলন করছেন। এই বিপণন কর্মকর্তা জানান, বর্তমান প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের সরকারের কাছে তিনি আশাবাদী। হামলার দুই দিন পর, সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের ভাই গোতাবায়া রাজাপাকসে ২০১৯ সালের নভেম্বরে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি ওই নির্বাচনে জয়ী হন। তবে ২০২২ সালের জুলাইয়ে অর্থনৈতিক সংকটের মুখে তাকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়। রাজাপাকসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা জেনারেলকে দুই মাস আগে গ্রেফতারের পর বিচার পাওয়ার আশা কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছে ক্যাথলিক চার্চ। পুলিশ জানায়, স্টেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের সাবেক প্রধান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সুরেশ সাল্লেকে ফেব্রুয়ারি থেকে আটক রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র ও ইস্টার সানডে হামলায় সহায়তা’ করার অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। -‘কখনো হাল ছাড়ব না’- ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মৈত্রিপালা সিরিসেনা ও তার শীর্ষ কর্মকর্তারা আগাম গোয়েন্দা সতর্কতা উপেক্ষা করেছিলেন। তারা হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হন। নিহতদের স্বজনদের দায়ের করা দেওয়ানি মামলায় উপস্থাপিত প্রমাণে দেখা যায়, ভারতীয় গোয়েন্দারা হামলার দুই সপ্তাহ আগে কলম্বোকে সতর্ক করেছিল। জাতিসংঘ হামলার ‘সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট’ উদঘাটনে আন্তর্জাতিক সহায়তায় স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। শ্রীলঙ্কার ক্যাথলিক চার্চের প্রধান কার্ডিনাল ম্যালকম রঞ্জিত বলেন, এ হামলা রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হওয়া দুঃখজনক। তিনি আরও বলেন, ‘এতে প্রিয়জন হারানো মানুষদের কষ্ট আরও বাড়ছে।’ রঞ্জিত এএফপিকে বলেন, নতুন সরকারের অধীনে সুষ্ঠু তদন্তের আশা তৈরি হয়েছে। তবে ‘স্বার্থান্বেষী মহল’ থেকে বাধাও আসছে। মঙ্গলবার বার্ষিকীতে তিনি নেগোম্বোতে বিচার দাবিতে প্রার্থনা মিছিলের নেতৃত্ব দেবেন। এর আগে কলম্বোর সেন্ট অ্যান্থনিস গির্জায় স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই গির্জায় ৫১ জন ক্যাথলিক হামলায় নিহত হয়েছিলেন। রঞ্জিত বলেন, ‘সাত বছর শেষে আমি কী বলব? আমরা এখনো আশা নিয়ে অপেক্ষা করছি।’ তিনি বলেন, কিন্তু কিছু না হলে, আমরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হব এবং ন্যায্য সমাধানের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাব। সত্য ও বিচারের জন্য আমাদের সংগ্রাম কখনোই থামবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা এ তথ্য জানিয়েছে। তেহরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত দাবি, অবস্থান পরিবর্তন ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য আলোচনার অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করেছে। হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ অবরোধকেও তারা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। এ পরিস্থিতিতে আলোচনা ফলপ্রসূ হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছে ইরান। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় দফা আলোচনার জন্য পাকিস্তানে প্রতিনিধিদল পাঠানোর কথা জানিয়েছেন। তবে ইরান আগেই বলেছে, অবরোধ বহাল থাকলে তারা আলোচনায় বসবে না। বর্তমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শিগগিরই শেষ হতে পারে, ফলে পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।