জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন ইউনিফিল অভিযোগ করেছে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ‘প্রস্তাব ১৭০১’-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন। বৃহস্পতিবার মারাউনাহ, মাজাদেল ও বারাশিত এলাকায় এ হামলা চালানো হয়েছে বলে জানায় মিশনটি। শুক্রবার আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বিষয়টি প্রকাশ পায়।
এক বিবৃতিতে ইউনিফিল জানায়, এই হামলাগুলো নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ১৭০১-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন। আমরা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে বিদ্যমান লিয়াজোঁ ও সমন্বয় ব্যবস্থাগুলো পুরোপুরি মেনে চলার আহ্বান জানাই। একই সঙ্গে লেবাননের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সতর্ক করে বলা হয়— এমন কোনো উত্তেজনাপূর্ণ প্রতিক্রিয়া থেকে বিরত থাকতে হবে যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
২০০৬ সালে গৃহীত প্রস্তাব ১৭০১-এ হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে বৈরিতা বন্ধ, এবং ব্লু লাইন থেকে লিতানি নদী পর্যন্ত এলাকায় একটি নিরস্ত্রীকৃত অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। গত বছরের অস্ত্রবিরতির শর্ত অনুযায়ী দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলের সেনা সরিয়ে নেওয়ার কথা ছিল চলতি বছরের জানুয়ারিতেই। তবে দেশটি এখনও পাঁচটি সীমান্ত চৌকিতে সেনা উপস্থিতি বজায় রেখেছে।
ইউনিফিল আরও জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে বিন্ত জবেইল এলাকায় টহল চলাকালে তিনটি মোটরবাইকে করে ছয় ব্যক্তি তাদের একটি গাড়ির কাছে আসে। তাদের একজন গাড়ির পেছনের দিকে তিনটি গুলি ছোড়ে। সৌভাগ্যক্রমে এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি।
মিশনটি লেবানন কর্তৃপক্ষকে শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিয়ে ইরানের রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি বড় বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। বিলবোর্ডে ট্রাম্পকে একটি খোলা কফিনে শায়িত অবস্থায় দেখানো হয়েছে। কফিনের গায়ে ফারসি ও ইংরেজি ভাষায় লেখা রয়েছে, ‘উই উইল কিল ট্রাম্প’ (আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব)। এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস। বিলবোর্ডটির পাশেই রয়েছে আলী খামেনির একটি বিশাল মুষ্টিবদ্ধ হাতের ভাস্কর্য। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের শুরুতে বিমান হামলায় নিহত এই নেতাকে ঘিরে শোক ও প্রতিশোধের প্রতীকী বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। বিলবোর্ডে কালো রঙের খোলা কফিনে ট্রাম্পকে এলোমেলো চুল, বন্ধ চোখ ও মুখে দেখানো হয়েছে। লাল টাইয়ের ওপর রাখা দুই হাত এবং কফিনের ওপরে সোজা উঁচু হয়ে থাকা দুই পা ছবিটিকে আরো প্রতীকী করে তুলেছে। কফিনজুড়ে সাদা অক্ষরে লেখা রয়েছে ‘উই উইল কিল ট্রাম্প’। একই সঙ্গে ফারসি ভাষায় শহীদ আলী খামেনিকে স্মরণ করে বিভিন্ন বার্তা লেখা হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিলবোর্ডে মিনাবের শিশুদের স্মরণে লেখা একটি বার্তাও রয়েছে। দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে যুদ্ধের শুরুতে এক বিমান হামলায় ১৬৮ জন শিশু মারা যায়। ইরানে জনপরিসরকে রাজনৈতিক বার্তা প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়টি নতুন নয়। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কে যুদ্ধ, শহীদদের স্মরণ এবং বিভিন্ন আদর্শিক বার্তা নিয়ে অসংখ্য বড় বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এসব বিলবোর্ডকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বৃহত্তর রাজনৈতিক ও আদর্শিক প্রচারকৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ট্রাম্পবিরোধী এ ধরনের বিলবোর্ড নতুন নয়। গত মে মাসে একটি দ্বিভাষিক বিলবোর্ডে ট্রাম্পের মুখের ওপর হরমুজ প্রণালির প্রতীকী চিত্র বসিয়ে তার ঠোঁট সেলাই করা অবস্থায় দেখানো হয়। সেখানে ইংরেজিতে লেখা ছিল ‘দ্য ব্রেকিং পয়েন্ট’। আরেকটি বিলবোর্ডে পারস্য উপসাগরের ওপর বিশাল একটি মাছ ধরার জালে মার্কিন যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও নৌযান আটকা পড়ার প্রতীকী চিত্র তুলে ধরা হয়। এর মাধ্যমে মূলত ইরানের সামরিক সক্ষমতার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে এই বিলবোর্ডটির ভাষা আগেরগুলোর তুলনায় একটু ভিন্ন। অনেক বেশি উসকানিমূলক ও আক্রমণাত্মক। এর মধ্যে গত কয়েক সপ্তাহে ইরানের রক্ষণশীল মহলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত আলী খামেনিসহ অন্য নেতাদের হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার দাবিও জোরালো হয়েছে। সম্প্রতি ইরানের একটি রক্ষণশীল সংবাদপত্রে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যার প্রতিশোধের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ১৩ জন বিদেশি নেতার একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারসহ কয়েকজন পশ্চিমা নেতার ছবি স্থান পায়। এর আগে, বাবার দাফনের দুই দিন পর দেওয়া প্রথম বার্তায় ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। লিখিত ওই বার্তায় তিনি বলেন, এই প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষা শুধু তার বা সরকারের নয়, বরং পুরো ইরানি জাতির দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ইচ্ছার প্রতিফলন। তিনি দাবি করেন, এ প্রতিশোধ অবশ্যম্ভাবীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং তার বাবার হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া হবেই।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় ইরান। তবে একই সময়ে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ চলমান সংঘাতকে দেশের অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যদিও তিনি বলেছেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কূটনীতিও সমানভাবে প্রয়োজন। বুধবার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, এখানে আসার পথে আমরা একটি ফোনকল পেয়েছি। তারা বৈঠক করতে চায়। তবে তিনি ফোনটি কার পক্ষ থেকে এসেছে বা সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়ে কোনো বিস্তারিত জানাননি। ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে আলোচনা শুরু করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটনই নেবে। একই দিন দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান বৈঠক করতে চায়। এখন দেখা যাক, কোনো চুক্তি হয় কি না। পত্রিকাটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রাম্প ইরানের খার্গ দ্বীপসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেছেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও সম্প্রসারণের পক্ষে মত দিয়েছেন। এ ছাড়া, আইএসবিরোধী অভিযানের মতো ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকেও (আইআরজিসি) লক্ষ্যবস্তু করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি ট্রাম্প। অন্যদিকে, এক বিবৃতিতে গালিবাফ বলেন, ইরান কখনোই যুদ্ধ চায়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য যদি ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তন এবং দেশকে বিভক্ত করা হয়, তাহলে এই সংঘাত ইরানের জন্য অস্তিত্বের লড়াই। তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধকে স্বাগত জানাইনি এবং কখনোই জানাব না। কিন্তু আমাদের সব সময় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কূটনীতি ও আলোচনার পথও খোলা রাখতে হবে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হুমকি তৈরি করতে ব্যবহৃত ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফা হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে প্রায় ৯০ মিনিটের এক অভিযানে গ্রেটার তুনব দ্বীপে ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতেও হামলা চালানোর দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সর্বশেষ মার্কিন হামলা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩৫ জন নিহত এবং ৩০০ জন আহত হয়েছেন।
বয়স নিয়ে সমালোচনার জবাবে পাল্টা বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, নিজের বয়স নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই, তিনি বিজেপির পতন না দেখে মরবেন না। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে। বুধবার ফেসবুকে দেওয়া এক বক্তব্যে ৭১ বছর বয়সী মমতা বলেন, আমার বয়স নিয়ে চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। মন, শরীর ও মানসিক শক্তিই বয়স নির্ধারণ করে। আমি কি কখনও প্রধানমন্ত্রীর বয়স নিয়ে প্রশ্ন করেছি? বয়স নিয়ে কাউকে অপমান করার সাহস দেখাবেন না। বিধানসভা নির্বাচনের ফলের দিন বিজেপির লোকজন চেয়েছিল আমি হার্ট অ্যাটাকে মারা যাই। কিন্তু আমি বেঁচে থাকবো, তোমাদের পতন দেখার জন্য। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুললেও তা উড়িয়ে দিয়ে মমতা বলেন, দল পুনর্গঠনের সক্ষমতা এখনও তার রয়েছে। তিনি বলেন, যারা যেতে চায়, তারা চলে যাক। যা থাকবে, সেটাই আমার সোনার খনি। ২০০৪ ও ১৯৯৭ সালের মতো ২০২৬ সালেও আমি নতুন করে শুরু করতে পারি। সেই সাহস এখনও আমার আছে। আমি এক-দুই নয়, তিন প্রজন্মের নেতা তৈরি করেছি এবং যারা এখন আমার সঙ্গে আছে, তাদের জন্য আমি ছাতার মতো থাকবো। এ সময় তিনি বলেন, ‘করবো, লড়বো, বাঁচবো’, যা দিয়ে রাজনীতি ছাড়ার কোনও ইঙ্গিত তিনি দিচ্ছেন না বলেও স্পষ্ট করেন। প্রসঙ্গত বিদ্রোহের কারণে তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর মমতার নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়েছে। রাজ্য বিধানসভা ও পার্লামেন্টে নির্বাচিত অধিকাংশ বিধায়ক ও সাংসদ বিদ্রোহ করেছেন। অধিকাংশ বিধায়ক বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে লোকসভার ২০ জন সাংসদ একটি ছোট রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়ে এনডিএকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা করেছেন।