চলমান বিধ্বংসী যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ইরানের দেওয়া সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুরোধ জানিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্য ও আরব অঞ্চলের শীর্ষ নেতারা। শনিবার বিকেলে ট্রাম্পের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের ফোনালাপে তারা এই আহ্বান জানান। একই সময়ে তেহরানে মধ্যস্থতাকারীদের আলোচনা থেকে ইঙ্গিত মিলেছে যে, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে দুই পক্ষ একটি সম্ভাব্য চুক্তির রূপরেখার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। আঞ্চলিক এই নেতারা ট্রাম্পকে ইরানের সঙ্গে একটি অন্তর্বর্তীকালীন ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক গ্রহণ করার জন্য বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছেন।
হোয়াইট হাউস ও আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্রগুলো এই ফোনালাপকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ এবং আশাব্যঞ্জক বলে বর্ণনা করেছে। সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক আঞ্চলিক কূটনীতিক বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আরব ও উপসাগরীয় নেতাদের আলাপচারিতা অত্যন্ত ইতিবাচক ছিল। শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভালো অগ্রগতি হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আলোচনার মাধ্যমে যে যুগান্তকারী অগ্রগতি অর্জন করেছেন, আঞ্চলিক নেতারা তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং এই শান্তি প্রচেষ্টায় তাদের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
শান্তিচুক্তির সম্ভাবনাকে ‘ফিফটি-ফিফটি’ বললেন ট্রাম্প
এদিকে নেতাদের সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপের আগে সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনাকে ‘ফিফটি-ফিফটি’ বা ৫০/৫০ বলে উল্লেখ করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করা হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি রবিবারের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। ট্রাম্প তার স্বভাবসুলভ কড়া ভাষায় বলেন, এই আলোচনা হয় একটি ‘ভালো’ চুক্তির দিকে নিয়ে যাবে, অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে একদম ‘ধ্বংসস্তূপে’ পরিণত করার পথ বেছে নেবে।
পর্দার আড়ালে ব্যাপক কূটনীতিক তৎপরতা
শনিবার সকালের দিকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, কাতার এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের তেহরান সফরের পর দুই পক্ষ যুদ্ধ বন্ধের একটি খসড়া রূপরেখার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তেহরানের কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিত এবং স্থায়ী চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যেই আপাতত একটি অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। এ বিষয়ে ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থানরত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, পর্দার আড়ালে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। আজ বা আগামী দু-একদিনের মধ্যে এ বিষয়ে বড় কোনো ঘোষণা আসতে পারে।
ইসরায়েলের ‘সতর্ক দৃষ্টি’ ও নেতানিয়াহুর ‘উদ্বেগ’
শনিবার ট্রাম্পের এই বিশেষ বৈঠকে উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতাদের পাশাপাশি পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিসরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছেন, তিনি তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা তথা অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গেও এই প্রস্তাব নিয়ে বিশদ আলোচনা করছেন। অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে শনিবার হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করতে দেখা গেছে, যা প্রশাসনের সর্বোচ্চ মহলের জরুরি তৎপরতারই বহিঃপ্রকাশ। এই পুরো প্রক্রিয়ার দিকে কড়া নজর রাখছে ইসরায়েলও। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন এবং রাতে ট্রাম্পের সঙ্গে তার কথা বলার কথা রয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধান উদ্বেগ হলো, এই সম্ভাব্য অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটি যদি কেবল যুদ্ধবিরতি বাড়ানো, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং ইরানের ওপর থেকে ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তা তেল আবিবের জন্য বিপজ্জনক হবে। কারণ, এই খসড়ায় ইসরায়েলের জন্য সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়— অর্থাৎ ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়টি উপেক্ষিত থেকে যেতে পারে। তবে ওয়াশিংটন ইসরায়েলকে এই ইউরেনিয়াম ইস্যুতে বারবার আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য নেতানিয়াহু শনিবার রাতে তার সীমিত নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছেন।
ট্রাম্পকে দুই রিপাবলিকান সিনেটরের ‘সতর্কবার্তা’
যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও ট্রাম্পের এই সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রিপাবলিকান পার্টির কট্টর ইরানবিরোধী সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এবং রজার উইকার ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন। গ্রাহাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ইরান যদি এই অঞ্চলের জলপথ বা হরমুজ প্রণালিতে স্থায়ীভাবে আধিপত্য বিস্তার করে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি অবকাঠামোকে জিম্মি করার সক্ষমতা বজায় রাখে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য বদলে দেবে। দীর্ঘমেয়াদে এটি ইসরায়েলের জন্য একটি দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়াবে। সিনেটের সশস্ত্র পরিষেবা কমিটির চেয়ারম্যান রজার উইকারও ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, ইসলামপন্থী ইরানি সরকারের সঙ্গে যেকোনো দুর্বল চুক্তি ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
হরমুজ নিয়ে ইরানের হুংকার
অন্যপক্ষে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তারা একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চূড়ান্ত করার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই শনিবার জানান, এই খসড়া প্রস্তাবের মূল ফোকাস হলো- যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা। তবে এই পর্যায়ে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি-সংক্রান্ত যেকোনো চুক্তি ও ব্যবস্থাপনা ইরান, ওমান এবং এই অঞ্চলের উপকূলীয় দেশগুলোর মধ্যে হওয়া উচিত এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের নাক গলানোর কোনো অধিকার নেই।
আলোচনা নিয়ে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতারের পক্ষ থেকে ‘সতর্ক আশাবাদ’ ব্যক্ত করা হয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সেনাপ্রধানের দুই দিনের তেহরান সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে এবং গত ২৪ ঘণ্টার নিবিড় আলোচনা একটি চূড়ান্ত সমঝোতার পথ তৈরি করেছে। তবে চুক্তি হলেও এর স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় কাটছে না। ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অত্যন্ত হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ইরান তার জাতীয় অধিকার থেকে একচুলও নড়বে না। তিনি মার্কিন প্রশাসনকে অবিশ্বস্ত আখ্যা দিয়ে সতর্ক করেন, ট্রাম্প যদি আবারও যুদ্ধ শুরু করার ভুল করেন, তবে মার্কিন বাহিনীর জন্য এবারকার পরিণতি হবে ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক ও তিক্ত।
সূত্র: সিএনএন
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবস্থিত দখলদার ইসরাইল বসতিগুলোর জমি বিক্রির প্রচারণা চালানো হতে পারে—এমন অভিযোগ তুলে লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য একটি রিয়েল এস্টেট প্রদর্শনী বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের শতাধিক আইনপ্রণেতা। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ১০০ জনের বেশি সদস্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, রোববার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘গ্রেট ইসরাইলি রিয়েল এস্টেট ইভেন্ট’ আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রশ্নে গুরুতর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পররাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রী ইভেট কুপারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে লেবার পার্টির ৬৫ জন এমপি, বিভিন্ন দলের আইনপ্রণেতা এবং হাউস অব লর্ডসের সদস্যরা সতর্ক করে বলেন,প্রদর্শনীতে এমন সম্পত্তি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে,যেগুলো ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদের পর নির্মাণ করা হয়েছে।এর মধ্যে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের সম্পত্তিও রয়েছে। চিঠিতে আইনপ্রণেতারা দাবি করেন, এ ধরনের সম্পত্তি বিক্রির আয়োজন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে এবং তা অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণকে উৎসাহিত করবে। চিঠির উদ্যোক্তা লেবার পার্টির এমপি অ্যান্ডি ম্যাকডোনাল্ড বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে নিজেদের দায়িত্ব পালনের এবং ফিলিস্তিনে ইসরাইলের অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ এখন ব্রিটিশ সরকারের সামনে রয়েছে। তিনি বলেন, পশ্চিম তীর ও গাজাজুড়ে সংঘটিত জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং গণহত্যার মতো অভিযোগের বিষয়গুলোও এ উদ্যোগের আওতায় বিবেচনায় নেওয়া উচিত। বিতর্কিত এই প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ রাজনীতিতেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও ফিলিস্তিনপন্থি সংগঠনগুলোও অনুষ্ঠানটি বাতিলের দাবি জানিয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো শান্তি চুক্তি হলেও যতদিন না যুদ্ধ সম্পূর্ণভাবে শেষ হচ্ছে, ততদিন হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না ইরান ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে কাতার ভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘পশ্চিমা গণমাধ্যমে যা প্রচার করা হচ্ছে তার বিপরীতে-ইরান হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ত্যাগের কোনো প্রতিশ্রুতি দেবে না। সমঝোতা স্মারকে শুধুমাত্র যুদ্ধের অবসানের পর হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।’ এতে আরও যোগ করা হয়েছে, এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মূল উদ্দেশ্য হলো সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান ঘটানো। সূত্র: আল-জাজিরা
সুদানের মধ্যাঞ্চলীয় শহর এল-ওবেইদে ড্রোন হামলায় অন্তত ১৫ থেকে ২৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্মকর্তা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার রাতভর চালানো হামলায় বহু মানুষ হতাহত হন। খবর আলজাজিরার। স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন ইমার্জেন্সি লাউয়ার্স জানিয়েছে, হামলায় ২৩ জন নিহত এবং আরও ১৯ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, এল-ওবেইদ হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অন্তত ১৫ জন নিহত ও ১০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রোন হামলাগুলো আবাসিক এলাকা, একটি জানাজার সমাবেশ, খাদ্যপণ্য বহনকারী ট্রাক এবং সেনাবাহিনীর অবস্থানের কাছাকাছি এলাকায় আঘাত হানে। ইমার্জেন্সি লইয়ার্স এই হামলার জন্য আরএসএফকে দায়ী করেছে। তবে আরএসএফ তাৎক্ষণিকভাবে এ হামলার দায় স্বীকার করেনি এবং অভিযোগটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাটি এমন সময় ঘটল, যখন এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে আবু জাইমা শহরের প্রধান বাজারে আরেকটি ড্রোন হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হন। ওই হামলার দায়ও এখনো কোনো পক্ষ স্বীকার করেনি। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া সুদানের সংঘাতে ড্রোন যুদ্ধ ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে ড্রোন হামলায় অন্তত ৮৮০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।