সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন রফিকুল ইসলাম (৪০) নামে এক বাংলাদেশি যুবক। রোববার (১১ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় রাত ১২টার দিকে রিয়াদের জমজম ইসরা রোডে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতের সহকর্মী ইউসুফ জানান, প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগামী গাড়ির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত রফিকুল ইসলাম পটুয়াখালী সদর উপজেলার ৯ নম্বর ছোটবিঘাই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাটাখালী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার আজিজ হাওলাদারের মেজো ছেলে। তার স্ত্রী ও দুটি ছোট সন্তান রয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, পরিবারের অভাব-অনটন দূর করে স্বচ্ছল জীবন গড়ার আশায় ২০২৩ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমান রফিকুল ইসলাম। সেখানে তিনি একজন নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। খবরটি দেশে পৌঁছালে ছোটবিঘাই ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামে শোকের মাতম শুরু হয়।
নিহতের চাচা বারেক হাওলাদার বলেন, আমার ভাতিজা খুব ভালো ছেলে ছিল। অনেক দেনা করে তাকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। এখন ওর স্ত্রী আর ছোট ছোট দুটি সন্তান কীভাবে থাকবে এই চিন্তায় আমরা ভেঙে পড়েছি। আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করতে।
এ দিকে পরিবারের পক্ষ থেকে রফিকুল ইসলামের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অফ সিভিল এভিয়েশন দেশটির বিমানবন্দরগুলোতে পরিচালিত সকল এয়ারলাইন্সের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করে এবং উড়োজাহাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে এই নতুন নিয়মকানুন প্রবর্তন করা হয়েছে। ২২ মে প্রকাশিত এই নির্দেশনার ফলে ফ্লাইটে পাওয়ার ব্যাংক এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার ও বহনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, উড়োজাহাজে ভ্রমণের সময় যাত্রী বা কেবিন ক্রুরা কোনোভাবেই পাওয়ার ব্যাংক রিচার্জ করতে পারবেন না। এছাড়া, পাওয়ার ব্যাংক শুধুমাত্র হ্যান্ড লাগেজ বা হাতের ব্যাগে করে বিমানের কেবিনে বহন করা যাবে; চেক-ইন ব্যাগেজ বা মূল লাগেজে এটি দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ফ্লাইটে ভ্রমণের সময় একজন যাত্রী তার সাথে সর্বোচ্চ দুটি পোর্টেবল চার্জার বা পাওয়ার ব্যাংক বহন করতে পারবেন বলে কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে। বাধ্যতামূলক এই নিয়মগুলোর পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের জন্য কিছু বাড়তি সতর্কতাও প্রস্তাব করেছে। অতিরিক্ত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিমান চলাকালীন সময়ে পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার করে মোবাইল বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস চার্জ করা থেকে বিরত থাকার জন্য যাত্রীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মূলত আকাশপথে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে এবং যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতেই সৌদি কর্তৃপক্ষ এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
নির্মাণ খাতে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে গোপালগঞ্জের তিন যুবককে রাশিয়ায় নিয়ে যুদ্ধে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাদের একজনের বাবা ঢাকার রিক্রুটিং এজেন্সি জাবাল-ই-নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের বিরুদ্ধে খিলক্ষেত থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে ওসি মোহাম্মদ সোহরাব আল হোসাইন জানিয়েছেন। তবে পুলিশ অভিযোগটি এখনো মামলা হিসেবে না নিয়ে আগে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটির) সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিচ্ছে। অন্যদিকে বিএমইটি বলছে, মামলার জন্য তাদের সংশ্লিষ্টতা লাগবে না। পুলিশ মামলা না নেওয়ার যে কারণ দেখিয়েছে, তা ‘অযৌক্তিক’। ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় রাশিয়ায় গিয়ে জীবন নিয়ে চরম সংশয়ের মধ্যে পড়া এ যুবকরা হলেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোষেরচর উত্তরপাড়া গ্রামের মো. জামিল শেখের ছেলে পলাশ শেখ, সুতিয়ারকুল গ্রামের নুরুল ইসলাম ফকিরের ছেলে রনি ফকির ও বলাকৈড় গ্রামের কবির মোল্লার ছেলে সৌরভ মোল্লা পলাশ শেখের বাবা মো. জামিল শেখের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, ঢাকার নিকুঞ্জ এলাকার জাবাল-ই-নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের সত্ত্বাধিকারী মো. মিজানুর রহমান গোপালগঞ্জের তিন যুবককে মাসে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বেতনে রাশিয়ায় কনস্ট্রাকশন সাইটে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখান। পরে প্রত্যেকের কাছ থেকে সাত লাখ টাকা করে আদায় করেন। গত ৭ মে গোপালগঞ্জের তিনজনসহ মোট ৩০ জন বাংলাদেশিকে একটি ফ্লাইটে রাশিয়ায় পাঠান হয়। কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর প্রতারণা করে তাদের রুশ সেনাবাহিনীর কাছে ‘বিক্রি করে’ দেওয়া হয় বলে জামিল শেখের অভিযোগ। পলাশরা ‘খুব কষ্টে আছে’ জানিয়ে অভিযোগে বলা হয়, তারা রুশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ইউক্রেন সীমান্তবর্তী যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছেন। তাদের দিয়ে যুদ্ধ করানো হবে বলে জানিয়ে চুল কেটে দেওয়া হয়েছে, সামরিক পোশাকের মাপ নেওয়া হয়েছে। তাদের বুট জুতা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। তাদের মোবাইলও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। পলাশ শেখের ফুপাতো ভাই আবু সালেহ বলেন, “পলাশকে প্রো টেকনোলজি কোম্পানিতে চাকরির কথা বলে রাশিয়ান আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে এক বছরের চুক্তিতে বিক্রি করা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।” তার অভিযোগ, এ বিষয়ে জাবাল-ই-নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের লোকজন ‘আগে থেকেই জানত’। সুতিয়ারকুল গ্রামের রনি ফকিরের স্ত্রী তৃষা বেগম বলেন, “আমার স্বামী ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। দালালের মাধ্যমে তার জাবাল-ই-নূর ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। “তারা তাকে রাশিয়া নিয়ে মাসে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বেতনে নির্মাণকাজের চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।” তৃষা বলেন, ৭ লাখ টাকা পরিশোধের পর ৭ মে একটি ফ্লাইটে তার স্বামীকে রাশিয়া নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তার মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়। মাঝে মাঝে কিছু সময়ের জন্য তাদের হাতে মোবাইল দেওয়া হয় জানিয়ে তিনি বলেন, সুযোগ পেয়ে এসএমএস ও অডিও বার্তায় রনি জানিয়েছেন, তাদের চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়েছে, চুল কেটে ফেলা হয়েছে। “ওদের বন্দুকের মুখে জিম্মি করে সীমান্তবর্তী ক্যাম্পে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাদের রুশ সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে।” গত সোমবার শেষবার রনির সঙ্গে যোগাযোগ হয় জানিয়ে তৃষা বলেন, রনি রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তের কাছাকাছি একটি সেনা ক্যাম্পে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন। সেখানে গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। জীবন নিয়ে সংশয় ও আতংকের মধ্যে আছেন তিনি। বলাকৈড় গ্রামের সৌরভ মোল্লার চাচি লিমা আক্তার সুখী বলেন, ঢাকার একটি এজেন্সির মাধ্যমে ৭ লাখ টাকা দিয়ে সৌরভকে বিদেশে পাঠানো হয়। ৭ মে সকাল ১১টায় ছিল তার ফ্লাইট। ১৭ মে সৌরভের সঙ্গে পরিবারের কথা হয়। পরে ভিডিও কলে তাকে ‘সামরিক পরিবেশে’ দেখা গেছে বলে তার চাচির ভাষ্য। লিমা আক্তার বলেন, সৌরভের মাকে বিষয়টি বিস্তারিত জানানো হয়নি, কারণ তিনি অসুস্থ। সৌরভের বাবা বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছেন। তাদের একমাত্র দাবি, সন্তানকে যেন নিরাপদ ও সুস্থ অবস্থায় দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৌশিক আহমেদ বলেন, “বিষয়টি আমরা শুনেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দ্রুত তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। “একই সঙ্গে সবাইকে এ ধরনের ঘটনায় সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে, যাতে এই অভিজ্ঞতা থেকে অন্যরা সতর্ক হতে পারে।” এই চক্রের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করার কথাও বলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। পুলিশ যা বলছে রাজধানীর খিলক্ষেত থানার ওসি মোহাম্মদ সোহরাব আল হোসাইন বলছেন, মঙ্গলবার জামিল শেখের করা অভিযোগটি তারা নথিভুক্ত করেছেন, এখনো মামলা হিসেবে গ্রহণ করেননি। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “তারা এজেন্সির মাধ্যমে গেলেও বিএমইটির (জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো) মাধ্যমে বৈধ শ্রমিক হিসেবেই গেছেন। যাওয়ার পরে সেখানে কী হয়েছ, বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়। তাই আগে বিএমইটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানাতে হবে। “অভিযুক্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে যদি কোনো ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ থাকে, তাহলে বিএমইটিতে অভিযোগ দায়ের করে সেই কপি আমাদের কাছে আনলে আমরা মামলা নেব।” ওসি বলেন, “এই মুহূর্তে আমরা শুধু অভিযোগটি থানায় নথিভুক্ত করে রেখেছি। এখনো কোনো মামলা দায়ের করিনি, কারণ বিষয়টি মূলত বিএমইটির আওতাধীন রয়েছে। এ ব্যাপারে বিএমইটি কাজ করবে।” এছাড়া ওই তিন যুবককে উদ্ধার করতে হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে জানিয়ে ওসি বলেন, “যেহেতু ভুক্তভোগীরা বিপদে আছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেজন্য তাদেরকে আগে সেইফ করা প্রয়োজন। সেজন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও সহায়তার প্রয়োজন হবে। আমরা পরিবারের লোকজনকে সেখানেও আবেদন করতে বলেছি।” মামলা না নিলেও অভিযোগ পেয়ে পুলিশ খোঁজ খবর নিতে শুরু করেছে বলে জানান ওসি মোহাম্মদ সোহরাব আল হোসাইন। তিনি বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়ে সেই এজেন্সির বিষয়ে খোঁজ নিয়েছি, এজেন্সির লোকজন পলাতক রয়েছেন।” বিএমইটি যা বলছে পুলিশ মামলা না নিয়ে বিষয়টি জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) দিকে ঠেললেও বিএমইটির কর্মকর্তারা বলছেন ভিন্ন কথা। সরকারি এ দপ্তরের বহির্গমন শাখার উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বুধবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “না। মামলার জন্য আমাদের সংশ্লিষ্টতা লাগবে না। ধরেন আমাদের কাছে ভিসা যেটা দিছে, ভিসার সাথে একটা চুক্তিপত্র দিছে, আমরা তো এইটা দেখে দিয়ে দিছি (ছাড়পত্র)। “এখন সে যদি ওই জায়গায় নিয়ে তাকে অন্য কিছুতে যুদ্ধ বা খারাপ কাজে… ফোর্সড লেবার যেটা করে, এইটা যদি হয়, তাইলে তো করা ঠিক না।” তিনি বলেন, “এখন কথা হচ্ছে, এই মামলাটা কোন আইনে হবে? ধরেন এই যে যদি যুদ্ধে জড়িত করে থাকে, তাইলে মানব পাচার মামলাও হতে পারে। “কিন্তু এমনিতে আমাদের কাছে আসলে, যেহেতু সে বৈধভাবে বিদেশ গেছে, আমরা এটা মানব পাচার বলব না। কিন্তু মানব পাচারের আইনে আবার এই ফোর্সড লেবার, যেটা নেওয়ার পরে, এইটা আবার মানব পাচারের ভিতরে পড়ে। তিনি বলেন, “মামলা নেবে না–এটা তো যৌক্তিক কোন বিষয় হতে পারে না।” এই কর্মকর্তা বলেন, “এখানে ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স নিয়েছে, এটা ঠিক আছে। ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স নিয়ে তারপরে কী করছে? বিদেশে কী করছে সেটা আসলে এখানে বসে তদারকি করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না, পুলিশেরও সম্ভব না। কারোরই সম্ভব না।” তিনি বলেন, “যে লোকটা নিয়েছে সেও আমাদের দেশের লোক, যে গেছে সেও আমাদের দেশের লোক। যদি তার ট্রেন্ডই এই ধরনের থাকে যে, এই ধরনের জায়গায় পাঠিয়ে ভুয়া চুক্তিতে আমাদের লোকেদেরকে বিপদে ফেলে, তাইলে মানবপাচার (মামলা) দেওয়াই ভালো। “আবার আপনি খুব ভালো নিয়তেই পাঠাইলেন, নেওয়ার পর যে এমপ্লয়ার, সে যদি তাকে ওই কাজে জোরপূর্বক নিয়োগ দেয়, তাইলে আমাদের দেশের রিক্রুটিং এজেন্সির বা সরকারের কোনো কিছু করার আছে কিনা এইটাও একটু ভাবনার বিষয়।” এ বিষয়ে জাবাল-ই-নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান বলেন, “আমাদের কাছে শুরুতে সবকিছু ঠিকঠাকই মনে হয়েছিল। পরে জানতে পেরেছি, সেখানে গিয়ে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এক ধরনের কাজের কথা বলে অন্য কাজে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।” সরকারিভাবেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “বৃহস্পতিবারের মধ্যে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে, ইনশাল্লাহ। দুদিনের মধ্যে অন্তত ৮ জন বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন দেশ মিলিয়ে প্রায় ৩০ জন ওই ব্যাচে গিয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে তাদের বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে। দূতাবাস চেষ্টা করছে তাদের উপযুক্ত কাজের ব্যবস্থা করে দিতে।” যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে তাদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি জানান।
উচ্চ বেতনের চাকরির আশ্বাসে রাশিয়ায় গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন অন্তত ৩০ জন বাংলাদেশি যুবক। অভিযোগ উঠেছে, একটি ট্রাভেল এজেন্সি ও দালাল চক্র জনপ্রতি কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের রুশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেছে, যেখানে তাদের ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার তিনজন যুবকও রয়েছেন। তাদের পরিবারগুলো বর্তমানে চরম দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকার “জাবালে নুর” নামের একটি এজেন্সি এবং স্থানীয় দালাল রেজা ও মিজান তাদের বিদেশে ভালো চাকরির কথা বলে রাশিয়ায় পাঠায়। চুক্তি অনুযায়ী জনপ্রতি প্রায় সাত লাখ টাকা নেওয়া হয় বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের। কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের জোরপূর্বক রুশ সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয় এবং এক বছরের জন্য যুদ্ধ সংক্রান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে তাদের ইউক্রেন সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় রেখে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগী রনি ফকিরের স্ত্রী জানান, তার স্বামীকে একটি প্রযুক্তি কোম্পানিতে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তিনি ফোনে জানিয়েছেন, তারা যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আছেন এবং প্রশিক্ষণ চলছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। অন্যদিকে সৌরভ মোল্লার বোন অভিযোগ করেন, তাদের ভাইকে একই চক্র প্রতারণার মাধ্যমে রাশিয়ায় পাঠায় এবং পরে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে তারা যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছে বলে জানান তিনি। পলাশ শেখের পরিবারও একই ধরনের তথ্য জানিয়ে বলেন, শুরুতে নিরাপদে পৌঁছানোর খবর পেলেও পরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তীতে জানা যায়, তাদেরও জোর করে সেনা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে ভুক্তভোগীদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।