জাতীয়

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, উৎপাদন কমেছে অর্ধেকে

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

কারিগরি ত্রুটির কারণে বাগেরহাটের রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কেন্দ্রটির উৎপাদন কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

 

রোববার দুপুরে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায় বলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান।

 

তিনি বলেন, বিভ্রাটের আগে কেন্দ্রটি থেকে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল। তবে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর উৎপাদন ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে।

 

“ভারতের আদানি থেকে বিদ্যুৎ আসা শুরু হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য রামপালের দুই নম্বর ইউনিটটি বন্ধ করা হয়েছে।”

 

ইউনিটটি কতদিন পর চালু করা যাবে জানতে চাইলে জহুরুল ইসলাম বলেন, “ইউনিট বন্ধের পর শীতলীকরণ করতে হয়। ভারত থেকে দুজন প্রকৌশলী আসার কথা রয়েছে। তারা আসার পর কাজ শুরু হবে।

 

“পুনরায় চালু হতে তিন থেকে চার দিন সময় লেগে যাবে বলে ধারণা করছি।

 

রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যালয় থেকে জানা যায়, দুটি ইউনিট মিলিয়ে মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১৩০০ মেগাওয়াট। কিন্তু দুটি ইউনিট একসঙ্গে চালু থাকলে সর্বোচ্চ ১১০০ থেকে ১২০০ মেগাওয়ার্ট পর্যন্ত উৎপাদন হয়। একটি ইউনিট চালু থাকলে ৫৫০ থেকে ৬০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’ সংস্কারে অনিয়মের তদন্ত চেয়ে আইনি নোটিশ

  চট্টগ্রামের ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’ এর ক্ষতিগ্রস্ত ভবন নির্মাণে অনভিজ্ঞ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ প্রদান, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষণ নীতিমালা ও বিশেষজ্ঞ মতামত উপেক্ষা করে ন্যাশনাল হেরিটেজের চালচিত্র ধ্বংসসহ নির্মাণ কাজে আর্থিক অনিয়মের তদন্ত চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।   রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম রেজিস্ট্রি ডাকযোগে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালককে এই নোটিশ পাঠান।   জনস্বার্থ বিবেচনায় ও সরকারি সম্পদের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের স্বার্থে এই হেরিটেজের কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে— তা নিরূপণ এবং অনভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ প্রদানের সঙ্গে জড়িতদের বের করা এবং কার্যাদেশ প্রদানের সঙ্গে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার বিষয়ে নোটিশ প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্থাপত্য ও পুরোকৌশল বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি গঠন ও তা তদন্তের আহ্বান জানান নোটিশদাতা এই আইনজীবী। অন্যথায়, জনস্বার্থ বিবেচনায় এবং দেশের ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’ এ সংস্কারের নামে হেরিটেজ বিনষ্টের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে।   নোটিশে বলা হয়েছে, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে কিছু বিপথগামী সেনা সদস্যদের হাতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শাহাদাত বরণ করেন। দেশের সফলতম রাষ্ট্রপ্রধানের স্মৃতি বিজড়িত চট্টগ্রাম নগরীর পুরোনো সার্কিট হাউজ ভবনকে ১৯৯৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে উদ্বোধন করন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’- এ মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন ও কর্ম সর্বসাধারণের জন্য প্রদর্শন করা হচ্ছে। সময়ের পরিক্রমায় দর্শনার্থীদের কাছে যা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।   নোটিশে আরও বলা হয়েছে, অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে সংস্কার কাজের জন্য ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে অদ্যাবধি ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’ বন্ধ হয়ে আছে। তবে সংস্কার কাজে প্রত্মতাত্ত্বিক স্থাপনা নির্মাণে অনভিজ্ঞ ও ভুইফোঁর প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ, কাজে অবহেলা ও ধীরগতি, নিয়ম-নীতি না মেনে সংস্কারের নামে হেরিটেজ ধ্বংস করে অবকাঠামোর রূপান্তর, সংস্কার কাজে বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা ও আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয়ে বেসরকারি টেলিভিশন ‘নিউজ২৪’ এ সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছে।   নোটিশে বলা হয়েছে, প্রত্মতাত্ত্বিক নিদর্শন সম্বলিত ভবনটি পুনর্নির্মাণে বুয়েট ও চট্টগ্রাম ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) পরামর্শ নেওয়া হয়। তবে তাদের মতামত উপেক্ষা করে ‘মেসার্স ইসমত এন্টারপ্রাইজ’ নামে অনভিজ্ঞ ও ভুঁইফোর একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে চলতি বছর ৩ ফেব্রুয়ারি ভবনটি নির্মাণের কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। এরপর বিশেষজ্ঞ মতামত উপেক্ষা করে কার্যাদেশ প্রদানের দিনই জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের মূল ভবনে সংস্কার কার্যক্রম শুরুর নামে পুরোনো অবকাঠামো ভাঙচুর করে ঐতিহ্য বিনষ্ট করা হয়।   নোটিশে আরও বলা হয়, ঐতিহাসিক স্মৃতি বিজরিত জাতীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কারের জন্য তড়িগড়ি করে কার্যাদেশ প্রদান, বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করে আনাড়ি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সংস্কারের নামে ঐতিহ্য বিনষ্ট, স্থাপনার অবকাঠামোগত পরিবর্তন, সংস্কারের নামে দীর্ঘদিন দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ রাখা এবং কার্যাদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে আর্থিক অনিয়মের মতো গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।   নোটিশের অনুলিপি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের মহাপরিচালক, জাতীয় জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও নির্বাহী পরিচালককে পাঠানো হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

এআই মডেলের গতি ধীর করার আহ্বান অ্যানথ্রোপিকের সিইওর

আমাকে শুধু ১০% দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে : আসিফ মাহমুদ

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শেভরনের বৈঠক, গ্যাস অনুসন্ধানে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা

ছবি: সংগৃহীত
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, উৎপাদন কমেছে অর্ধেকে

কারিগরি ত্রুটির কারণে বাগেরহাটের রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কেন্দ্রটির উৎপাদন কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।   রোববার দুপুরে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায় বলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান।   তিনি বলেন, বিভ্রাটের আগে কেন্দ্রটি থেকে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল। তবে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর উৎপাদন ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে।   “ভারতের আদানি থেকে বিদ্যুৎ আসা শুরু হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য রামপালের দুই নম্বর ইউনিটটি বন্ধ করা হয়েছে।”   ইউনিটটি কতদিন পর চালু করা যাবে জানতে চাইলে জহুরুল ইসলাম বলেন, “ইউনিট বন্ধের পর শীতলীকরণ করতে হয়। ভারত থেকে দুজন প্রকৌশলী আসার কথা রয়েছে। তারা আসার পর কাজ শুরু হবে।   “পুনরায় চালু হতে তিন থেকে চার দিন সময় লেগে যাবে বলে ধারণা করছি।   রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যালয় থেকে জানা যায়, দুটি ইউনিট মিলিয়ে মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১৩০০ মেগাওয়াট। কিন্তু দুটি ইউনিট একসঙ্গে চালু থাকলে সর্বোচ্চ ১১০০ থেকে ১২০০ মেগাওয়ার্ট পর্যন্ত উৎপাদন হয়। একটি ইউনিট চালু থাকলে ৫৫০ থেকে ৬০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে শেভরনের বিনিয়োগ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সবার জন্য সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বারোপ ডা. জুবাইদা রহমানের

ছবি: সংগৃহীত

৫ দেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান

ছবি: সংগৃহীত
টেন্ডার বাণিজ্যে ১০–৩০ শতাংশ কমিশন, আসিফের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন গ্রহণ, সারাদেশে জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন এবং বিদেশে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠেছে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের এসব অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।   রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ।   দুদকে দেওয়া এক আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়া এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।   এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং সারা দেশে ৩৬ জন ডিসি পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।   অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করা হয়। একইভাবে ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।   যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতেও কোটি কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আব্দুস সালামকে নিয়োগ দিয়ে ১০ কোটি টাকা উৎকোচ গ্রহণ, এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ খানকে ৫২ কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে নিয়োগ এবং ৬৫ কোটি টাকার বিনিময়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে আব্দুল লতিফ খানকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।   অভিযোগে আসিফ মাহমুদের রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, তিনি হেলিকপ্টারে ভ্রমণ করে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় করেছেন। পাশাপাশি রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনসহ বিভিন্ন পাঁচ তারকা হোটেলে নিয়মিত যাতায়াত, বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস এবং গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগও করা হয়েছে।   দুদকে দেওয়া আবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ের গ্রিন গ্রুপে বিনিয়োগ এবং সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা করেছেন আসিফ মাহমুদ।   অভিযোগ অনুযায়ী, দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করে সেখানে বিলাসবহুল ভিলা কেনা ও বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। তার দুই বোনজামাই ও ভাগ্নের মাধ্যমে বিদেশে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগও আনা হয়েছে।   এ ছাড়া গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে আসিফ মাহমুদের নিজ উপজেলা মুরাদনগরের জন্য ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টিও অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। ওই প্রকল্পের বরাদ্দ ও গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। আসিফ মাহমুদের বাবা বিল্লাল হোসেন এবং এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে অর্থ সংগ্রহ করতেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তার পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধেও ঘুষ লেনদেনে তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।   দুদকের নথিতে বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের এসব অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। এ কারণে অভিযোগটি দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে উপদেষ্টা পরিষদে যোগ দেন আসিফ মাহমুদ। শুরুতে তিনি যুব ও ক্রীড়া এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। পরে ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর তিনি উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেন। বর্তমানে তিনি দলটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বেকারি পণ্যের দাম সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ বাড়ল

ছবি: সংগৃহীত

পদ্মা ব্যারাজে বদলে যেতে পারে ২৪ জেলার কৃষি-অর্থনীতি ও যোগাযোগ

কোনো শিক্ষার্থী যেন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে কাজ করছে সরকার: খাদ্যমন্ত্রী

0 Comments