পুরো তেহরানে এখন রণসাজ। মোড়ে মোড়ে রণমূর্তি। গোলাবারুদ আর ভারী অস্ত্রের ঝনঝনানি। চোখে মরু সূর্যের টগবগে মার্কিনবিদ্বেষ। মুখের ‘আমেরিকা নিপাত যাও’ স্লোগানে ভূমধ্যসাগর শুকিয়ে ফেলার ক্ষিপ্রতা। হাতে হাতে বন্দুক। কয়েক হাত পরপরই ছোট ছোট দলের জটলা। মাঝে সামরিক পোশাকে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের যোদ্ধারা। সবমিলে হাজার হাজার নারী-পুরুষ। রাজপথ নয়, যেন রণক্ষেত্র। পুরোদমে চলছে যুদ্ধের প্রস্তুতি! সমর তালে গমগম শহর। কয়েক সপ্তাহ ধরেই এ দৃশ্য তেহরানের রাস্তাগুলোয়। রাত নামলেই বাড়ে রণতেজ। সন্ধ্যা থেকে শুরু, শেষ হয় মধ্যরাতে। শেষরাত পর্যন্তও চলে কোথাও। রীতিমতো বড় যুদ্ধের ডামাডোল।
‘ইরানের কিছুই আর অবশিষ্ট থাকবে না। দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে সময়।’ রবিবার নিজের ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ হুমকির পর আরও জমে উঠেছে তেহরানের রণমহড়া। এর পরেই আবার ইরান হামলার বেশ কয়েকটি এআই ছবি পোস্ট করেছেন তিনি। তবে ইরানের প্রতিশোধের আগুন দাউদাউ করে উঠেছে আরও দুদিন আগেই। যেদিন নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়, ‘ইরানে এবার ভয়ংকর আক্রমণের ছক কষেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপদেষ্টারা। আগামী সপ্তাহেই শুরু হতে পারে সে হামলা। রক্তে আগুন জ্বলে ওঠে ইরানিদের। সেদিন রাত থেকেই আরও সরব হয়ে উঠেছে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ। বেড়ে গেছে স্বেচ্ছায় যোদ্ধাদের জমায়েত। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বড় যুদ্ধের প্রস্তুতিতে ইরানও যে পিছিয়ে নেই— অন্দরমহলের সেই বার্তাই যেন রাজপথে মেলে ধরেছেন ইরানের নারী-পুরুষরা। পথে পথেই শুধু নয়, মহড়া চলছে মসজিদে মসজিদেও। নামাজ শেষ হতেই নিচ্ছেন যুদ্ধের প্রশিক্ষণ। পিছিয়ে নেই তরুণ-শিশুরাও।
যুক্তরাষ্ট্রের বারবার সামরিক হামলার হুমকিতে তেহরানসহ দেশের সব শহরেই এ যুদ্ধ প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে ইরানের খামেনি সরকার। ভয় ভুলে সাড়া দিয়েছে জনগণও। ‘ইরান বীরের জাত। মরব, তবু মাথা নোয়াবো না।’ উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এ মন্ত্রে একাত্মতা ঘোষণা করেছে নাগরিকরাও। প্রতিদিনের সন্ধ্যার সে রণচিত্রটিই রবিবার তুলে ধরেছে সিএনএন।
শত্রুর অপেক্ষায় ক্লান্ত সূর্যটা হেলে পড়েছে দিগন্তে, গা জুড়াচ্ছে তেহরানের ‘ধনুকরক্ষী’ আলবুর্জ পর্বতের ঢালে। একটি দুটি করে জ্বলতে শুরু করেছে সড়কের সন্ধ্যা প্রহরী। রাত জাগার রসদ নিয়ে ছোট ছোট দলে ফুটপাতে নামছে চা-কফির দোকানগুলো। কারও কাছে বীর শহীদদের ছবি বসানো ক্যাপ। খেলনা বন্দুক। যুদ্ধবিমান। রণতরী। রাস্তার দু’ধারে দরজা খুলে দাঁড়িয়ে আছে প্রশিক্ষণ বুথ। ঘণ্টাখানেক পরই সেখানে শুরু হবে ‘রণলীলা’। তরুণ-তরুণীর মহড়া কেন্দ্র হয়ে উঠবে রাজপথ। মুহূর্তে রণসাজে গর্জে উঠবে পুরো তেহরানের অভিজাত এলাকা তাজরিশ স্কয়ার। ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ স্লোগানে অংশ নিচ্ছেন প্রশিক্ষণে।
তাজরিশ স্কয়ারে সমাবেশে অংশ নেওয়া তিয়ানা নামে এক তরুণী বললেন, ‘দেশ ও জনগণের জন্য জীবন দিতেও প্রস্তুত আমি। লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত আমাদের সেনাবাহিনী ও কমান্ডাররাও।’ এক বৃদ্ধ ফারসি ভাষায় লেখা নিজের প্ল্যাকার্ড দেখিয়ে বললেন, ‘পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি আমাদের সীমান্তের মতোই গুরুত্বপূর্ণ, তাই আমরা তা রক্ষা করব।’ লন্ডন ও দুবাইয়ে বেড়ে ওঠা ফাতিমা নামে এক ইরানি নারীর ভাষ্য, ‘আমরা জানি যুদ্ধ শেষ হয়নি। আসলে আলোচনায় বিশ্বাস করেন না ট্রাম্প।’
গত তিন মাস ইরানে প্রতিদিন সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘নাইট গ্যাদারিং’ বা রাতের সমাবেশ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুনভাবে দেখা যাচ্ছে জনসমক্ষে অস্ত্র প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। রাজধানীর ভানাক স্কয়ারে একটি বুথে দেখা গেছে নারীদের একে-৪৭ রাইফেল চালানো ও খুলে জোড়া লাগানোর প্রশিক্ষণ দিতে। মার্চে আইআরজিসি এক ঘোষণায় জানিয়েছিল, এখন থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুরাও অংশ নিতে পারবে সরাসরি যুদ্ধকালীন বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রমে। সেই নির্দেশনা মেনে খেলার ছলে লড়াই শিখছে শিশুরাও। ঢাকঢোল নিয়ে প্রচারে নেমেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনও, অস্ত্র হাতে বিভিন্ন পোজে প্রশিক্ষণের অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছেন সাংবাদিকরা। সরকারি ওফোগ চ্যানেলের উপস্থাপক হোসেইন হোসেইনি তাদের মধ্যে অন্যতম। সরাসরি সম্প্রচারে স্টুডিওর ছাদে গুলি ছুড়ে অস্ত্র ব্যবহারের প্রদর্শন করেন তিনি। পাশে ছিলেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) এক মুখোশধারী সদস্য।
আলোচনা চলছে
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতা অব্যাহত রয়েছে। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন এ তথ্য। বললেন, সাম্প্রতিক ইরানি প্রস্তাবের বিষয়ে উভয়পক্ষ তাদের মতামত পাঠিয়েছে।
পাকিস্তানি এক কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, যুদ্ধ শেষ করার জন্য ইরানের সংশোধিত প্রস্তাবটি রবিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শেয়ার করেছে পাকিস্তান। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তেল নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিলের নতুন প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগের প্রস্তাবগুলোর তুলনায় এবার প্রথমবারের মতো ইরানের তেল নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছে ওয়াশিংটন। ইরানের আলোচক দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাতে সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে তাসনিম নিউজ। এদিনই এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, গত কয়েক মাসে অন্তত ২৫ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে বিশ্বের বড় বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর।
ইরানের মানচিত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে আবারও এআই নির্মিত ছবি প্রকাশ করলেন ট্রাম্প।
বাঁ পাশে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র (আংশিক)। মাঝে থাকা ইরানকে চারপাশ থেকে হামলার ইঙ্গিত সংবলিত তীর চিহ্ন। ডান পাশে বোমা হামলার বাটন নিয়ে বসে আছেন ট্রাম্প। ডানে-বায়ে-ওপরে ভয়ংকর সব বোমা হামলার ছবি। এমন অন্তত ২০টিরও বেশি ছবি শেয়ার করেছেন ট্রাম্প।
যেখানে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইরানের একটি যুদ্ধবিমানকে বানিয়েছে লক্ষ্যবস্তু। পাঁচ সেকেন্ডের ওই ক্লিপে ট্রাম্পকে একটি টেবিল চাপড়াতে দেখা যায়। যেন তিনি কম্পিউটারে কিছু টাইপ করছেন এবং বলছেন, ‘বা বা বা বা... ফায়ার, বুম।’ অন্য ছবিতে একটি মার্কিন ড্রোন ইরানের দ্রুতগামী নৌকায় আঘাত করছে। ক্যাপশন দেওয়া হয়েছে, ‘বাই বাই, ফাস্ট বোটস’ (বিদায়, দ্রুতগামী নৌকা)।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
চলতি বছর থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত একটি শক্তিশালী বা ‘সুপার’ এল নিনো দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এ সময় প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে যাবে, যা বিশ্বের আবহাওয়া, খাদ্য উৎপাদন ও অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সম্ভাব্য ১০টি বড় ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছেন— ১. খরা ও খাদ্য সংকট আফ্রিকা, এশিয়া ও অন্যান্য বৃষ্টিনির্ভর কৃষি অঞ্চলে খরা দেখা দিতে পারে। ফলে ফসল উৎপাদন কমে গিয়ে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়তে পারে এবং দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ২. বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহে ধাক্কা গম, ধান, ভুট্টা ও সয়াবিনের উৎপাদন কমে যেতে পারে। এতে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ৩. দাবানলের ঝুঁকি বৃদ্ধি দক্ষিণ আমেরিকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে বড় ধরনের দাবানল দেখা দিতে পারে। এতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। ৪. অতিবৃষ্টি ও বন্যা কিছু এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বৃষ্টি হতে পারে। এতে বন্যা, ভূমিধস ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বাড়বে। ৫. কয়লার ব্যবহার বৃদ্ধি তাপমাত্রা বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। ফলে ভারত ও চীনের মতো দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও বাড়তে পারে। ৬. বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের আশঙ্কা খরার কারণে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যেতে পারে। এতে বিদ্যুৎ ঘাটতি ও ব্ল্যাকআউটের ঝুঁকি তৈরি হবে। ৭. মাছের উৎপাদন কমে যাওয়া সমুদ্রের স্বাভাবিক পুষ্টি প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় মাছের খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে। এতে বিভিন্ন দেশে মাছ ধরা কমে যাবে। ৮. সার নিয়ে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা ফসল রক্ষায় সারের চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে। ফলে সার রপ্তানি ও বাণিজ্য নিয়ে দেশগুলোর মধ্যে বিরোধ বাড়তে পারে। ৯. তাপজনিত অসুস্থতা বৃদ্ধি অতিরিক্ত গরমে কৃষি ও নির্মাণ শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে। হিটস্ট্রোকসহ বিভিন্ন তাপজনিত রোগের ঘটনা বৃদ্ধি পেতে পারে। ১০. সংঘাত ও অস্থিরতা খাদ্য সংকট, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপ সামাজিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে। কিছু দেশে সংঘাত ও সহিংসতার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনো শুধু একটি আবহাওয়াজনিত ঘটনা নয়; এটি খাদ্য, জ্বালানি ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মানুষ। সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে দূরপাল্লার কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মীরা অবস্থান করছিল। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, তাদের এয়ারোস্পেস ফোর্স চালানো হামলায় ঘাঁটির চারটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে, যার মধ্যে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান রাখার হ্যাঙ্গার এবং একটি প্রধান কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার রয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ছিল একটি বৃহত্তর পালটা অভিযানের অংশ, যার মাধ্যমে তারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন বিমান ও নৌঘাঁটির ২১টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, তাদের বাহিনী যে কোনো নতুন মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের জবাবে ‘চূড়ান্ত ও বিধ্বংসী’ প্রতিক্রিয়া দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে এবং পরবর্তী উত্তেজনার পূর্ণ দায় যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে। সূত্র: আলজাজিরা
হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার সাগরে বিধ্বস্ত হওয়ার পর চালকবিহীন স্পিডবোট ড্রোনের মাধ্যমে দুই পাইলট উদ্ধার করা হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইতিহাসে প্রথমবারের মত কোনো জলপথ উদ্ধার অভিযানে ড্রোন ব্যবহার করা হলো। মঙ্গলবার ( ৯জুন) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, সোমবারের ওই ঘটনার তদন্ত চলছে। দুর্ঘটনাটি ঘটে ওমান উপকূলসংলগ্ন জলসীমায় টহলরত একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি হেলিকপ্টারে। সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, দুর্ঘটনার পর দুই মার্কিন পাইলটকে মার্কিন বাহিনী উদ্ধার করেছে। তবে কীভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি এবং শুরুতে চালকবিহীন নৌযান ব্যবহারের বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়নি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন হয়। হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যেই দুই সেনাসদস্যকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। বর্তমানে দুজনই স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তবে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা সিবিএস নিউজকে জানান, উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত হয়েছিল একটি চালকবিহীন স্পিডবোড ড্রোন। বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের অধীন বিশেষ ইউনিট টাস্ক ফোর্স ৫৯ এই ড্রোন পরিচালনা করে। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ইতিহাসে এটিই প্রথম ঘটনা, যেখানে জলপথ উদ্ধার অভিযানে কোনো ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও টাস্ক ফোর্স ৫৯-এর ২০২৩ সালের একটি নথিতে বিভিন্ন ধরনের নৌ ড্রোনের উল্লেখ রয়েছে। তবে সোমবারের অভিযানে ঠিক কোন মডেলের ড্রোন ব্যবহৃত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে হেলিকপ্টার বিধ্বংসের ঘটনা সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, পাইলটরা ভালো আছে। কেউ আহত হননি। ঘটনাটি নিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তবে তারা বিদেশি সংবাদমাধ্যমের তথ্য উদ্ধৃত করা ছাড়া নতুন কোনো তথ্য দেয়নি। হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার খবর প্রথম প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদপত্র নিউইয়র্ক টাইমস।