বিশ্ব

ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২,৬৭৭

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ১৭, ২০২৬ 0

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৭৭ জনে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছে।

 

সংগঠনটির মতে, অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ১৯ হাজার ৯৭ জনকে আটক করা হয়েছে। বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়।

 

তবে ইরানের সরকারি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত বিক্ষোভে মোট কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি।

 

গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। প্রথমে দোকানদার, ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত লোকজন ধর্মঘট ও বিক্ষোভে নামেন। তাদের অভিযোগ ছিল লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, দেশটির মুদ্রা রিয়ালের ব্যাপক অবমূল্যায়ন এবং ক্রমাগত অবনতি হওয়া অর্থনৈতিক পরিস্থিতি।

 

পরবর্তী সময়ে এই আন্দোলন তেহরান ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে শ্রমিক, শিক্ষার্থীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ অংশ নিতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক দাবির পাশাপাশি এই বিক্ষোভ সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান দীর্ঘদিন ধরেই অর্থনৈতিক চাপ, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও বেকারত্ব সমস্যায় ভুগছে। এসব কারণে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে এবং বিক্ষোভের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে।

 

ইরানে চলমান এই বিক্ষোভ এখন দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটে পরিণত হয়েছে। নিহত ও আটক ব্যক্তির সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে, যা মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরও জোরালো করছে। পরিস্থিতির দ্রুত শান্তিপূর্ণ সমাধান না হলে এই সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

 

সূত্র : TRT World

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মোজতবা খামেনি
মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা ভালো না, করতে হচ্ছে প্লাস্টিক সার্জারি

ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর বর্তমানে লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।  দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ওই হামলায় তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হলেও মোজতবা প্রাণে বেঁচে যান, তবে তিনি মারাত্মকভাবে দগ্ধ ও পঙ্গু হয়েছেন।  বর্তমানে তার একটি পা কৃত্রিমভাবে প্রতিস্থাপন বা প্রস্থেটিক করা হতে পারে এবং তার মুখমণ্ডল ও ঠোঁট গুরুতরভাবে পুড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক কথা বলাও কঠিন হয়ে পড়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, তার চেহারা পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনতে প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে। অনশ্রী জঙ্কোর সম্পাদনায় প্রকাশিত এই সংবাদে ইরানের বর্তমান অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার পালাবদলের চিত্রও উঠে এসেছে। মোজতবা খামেনির বর্তমান শারীরিক অবস্থা এবং নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ইরানের সামগ্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এখন মূলত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) জেনারেলদের হাতে চলে গেছে।  সাবেক ইরানি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের শীর্ষ সহযোগী আবদোলরেজা দাভারি জানিয়েছেন, মোজতবা বর্তমানে একটি পরিচালনা পর্ষদের পরিচালকের মতো দেশ চালাচ্ছেন, যেখানে জেনারেলরাই মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হিসেবে কাজ করছেন। ইসরায়েলি ট্র্যাকিং ও সম্ভাব্য হামলা এড়াতে শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতারা বর্তমানে তার সঙ্গে সরাসরি দেখা করা বন্ধ করে দিয়েছেন। মোজতবার চিকিৎসার বিষয়টি এখন সরাসরি তদারকি করছেন ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, যিনি নিজে একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শারীরিক আঘাত মারাত্মক হলেও মোজতবা খামেনি মানসিকভাবে বেশ সচেতন ও সক্রিয় রয়েছেন। তার একটি পায়ে ইতিমধ্যে তিনবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং একটি হাতের কার্যকারিতা ধীরে ধীরে ফিরে আসছে। তবে তিনি মানসিকভাবে দুর্বল বা ‘ভীত’ হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করতে চান না বলে বর্তমানে কোনো মৌখিক বিবৃতি দিচ্ছেন না; পরিবর্তে তিনি কেবল লিখিতভাবে তার বার্তা বা নির্দেশনা জারি করছেন। এই পরিস্থিতির সুযোগে ইরানের শাসন কাঠামোতে আলেমদের প্রভাব ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে এবং কট্টরপন্থী সামরিক কর্মকর্তাদের আধিপত্য বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ইরানের ক্ষমতার ভারসাম্য সম্পূর্ণভাবে সামরিক বাহিনীর দিকে ঝুঁকে পড়েছে। রেভল্যুশনারি গার্ডসের শীর্ষ নেতা আহমদ ওয়াহিদি এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদ্র এখন দেশ পরিচালনায় সবচেয়ে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করছেন।  অন্যদিকে নির্বাচিত সরকার এবং সিভিল প্রশাসনকে অনেকটা কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও তার মন্ত্রিসভাকে বর্তমানে কেবল অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহের মতো দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত রাখা হয়েছে। এমনকি কূটনৈতিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির বদলে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সামরিক বাহিনী ও রেভল্যুশনারি গার্ডস এখন কেবল রণক্ষেত্রের সিদ্ধান্তই নিচ্ছে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি এবং সরাসরি আলোচনার মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়েও তারা সরাসরি অংশ নিচ্ছে। প্রথমবারের মতো ইরানের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলে শীর্ষ জেনারেলদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।  যদিও ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ক্ষমতার একাধিক কেন্দ্র এবং মতপার্থক্য থাকার ঐতিহ্য রয়েছে, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে জেনারেলদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান এবং মোজতবার অসুস্থতা দেশটিকে একটি সামরিক শাসিত কাঠামোর দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সামগ্রিকভাবে ইরানের ভবিষ্যৎ এখন মোজতবা খামেনির শারীরিক সুস্থতা এবং পর্দার অন্তরালে থাকা এই সামরিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। সূত্র: এনডিটিভি

মারিয়া রহমান এপ্রিল ২৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারের বড় অংশ শেষ

ছবি : সংগৃহীত

পাথর নিক্ষেপের অভিযোগে ফিলিস্তিনি কিশোরকে গুলি করে হত্যা

ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলি সেনাদের নিকটে আসার চেষ্টায় প্রাণ হারাল ২ লেবাননি যোদ্ধা

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি : সংগৃহীত
লেবানন-ইরান ইস্যুতে ইসরায়েলের জরুরি বৈঠক

লেবানন ও ইরান পরিস্থিতির সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসছে ইসরায়েল। দেশটির সীমিত পরিসরের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠক স্থানীয় সময় রাত ৮টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম।   এর আগে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মন্ত্রী ও শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনা করার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে খবর প্রকাশ করে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম। জানা গেছে, এই বৈঠকে লেবানন সীমান্ত পরিস্থিতি এবং ইরান সংশ্লিষ্ট সামরিক ও কূটনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এদিকে একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে নতুন দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এই বৈঠক। এদিকে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি সেনাদের দিকে এগিয়ে আসার সময় হিজবুল্লাহর দুই সশস্ত্র সদস্য নিহত হয়েছেন। এ দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, আইনাতা শহরে ঘটনাটি ঘটে। যা বিন্ট জেবেইল এলাকার কাছে অবস্থিত। আইডিএফের ভাষ্য অনুযায়ী, কমান্ডো ব্রিগেডের সদস্যরা এলাকায় মোতায়েন ছিল। এ সময় তারা দুইজন সশস্ত্র ব্যক্তিকে সেনাদের দিকে অগ্রসর হতে দেখে। বিষয়টি তাৎক্ষণিক হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনারা গুলি চালিয়ে ওই দুইজনকে হত্যা করে বলে জানানো হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের মধ্যেও তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে ইরান

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ : সর্বশেষ পরিস্থিতি

পাকিস্তানে খনি প্রকল্পে সশস্ত্র হামলায় নিহত অন্তত ১০

ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রকে সন্তুষ্ট রাখতে জি-৭ বৈঠকে জলবায়ু ইস্যু বাদ

প্যারিসে বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে জি-৭ দেশের পরিবেশ বিষয়ক বৈঠক। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধ এড়াতে এজেন্ডা থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে। ফ্রান্সের পরিবেশ মন্ত্রী মনিক বারবুর দপ্তর জানায়, দুই দিনের এই বৈঠকে ‘কম বিতর্কিত বিষয়’ নিয়ে আলোচনা হবে। এর মাধ্যমে জি-৭ এর সবচেয়ে বড় ও প্রভাবশালী সদস্য যুক্তরাষ্ট্রকে সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।  প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ‘জলবায়ু ইস্যুটি সরাসরি আলোচনায় না আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।  কারণ এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সুস্পষ্ট।’ তারা বলে, এই ফোরামকে রক্ষা করতে আমরা জি-৭ এর ঐক্যকে অগ্রাধিকার দিতে চেয়েছি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক জলবায়ু চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করেছেন এবং পরিবেশ সুরক্ষা ব্যবস্থা শিথিল করেছেন। জি-৭ এর সদস্য ফ্রান্স, ইতালি, কানাডা, জাপান, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য এই বৈঠকে তাদের পরিবেশ মন্ত্রী পাঠাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করবেন ইউএস এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সির আন্তর্জাতিক ও ট্রাইবাল বিষয়ক দপ্তরের সহকারী প্রশাসক উশা-মারিয়া টার্নার। বারবুর দপ্তর জানায়, বৈঠকে সমুদ্র সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য তহবিল ও শুষ্ক অঞ্চল মরুভূমিতে রূপান্তরের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। তবে জলবায়ু ইস্যু বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন পরিবেশবাদীরা। ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্কের কর্মী গাইয়া ফেব্রেভ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের গতিতে চলা জি-৭ শতকের সংকট মোকাবিলার দাবি করতে পারে না।’ তিনি এএফপিকে বলেন, ‘চাপের কাছে নতি স্বীকার করে তারা সম্মিলিত উদ্যোগ দুর্বল করছে এবং সম্ভাব্য নেতৃত্বের ভূমিকাও ত্যাগ করছে।’ এ বৈঠক এমন সময়ে হচ্ছে, যখন কলম্বিয়ায় কয়েক দিনের মধ্যেই ৫০টির বেশি দেশ জীবাশ্ম জ্বালানি ধাপে ধাপে বন্ধের লক্ষ্যে প্রথম বৈশ্বিক সম্মেলনে অংশ নেবে। এটি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত। -বন ও তহবিল- জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়ন বাড়াতে একটি উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছে ফ্রান্স। এ বিষয়ে জি-৭ দেশগুলোর সমর্থন পাওয়ার আশা করছে তারা। বারবুর মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আফ্রিকার প্রায় ২০টি দেশের জাতীয় উদ্যানের জন্য ৮০০ মিলিয়ন ডলার তহবিল ঘোষণা করা হতে পারে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও বিপন্ন প্রজাতি বিষয়ে শীর্ষস্থানীয় সংস্থা ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড (ডব্লিউডব্লিউএফ) ফ্রান্সের অ্যাডভোকেসি পরিচালক জ্যাঁ বুরকার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান।  তবে তিনি বলেন, এই অর্থায়ন ‘অতিরিক্ত হতে হবে, অন্য খাতে বাজেট কমানোর বিকল্প হিসেবে নয়।’  জি-৭ বৈঠকে মরুকরণ ও নিরাপত্তা নিয়ে একটি রাজনৈতিক ঘোষণা দেওয়ারও আশা করা হচ্ছে।  সমুদ্রবিষয়ক অধিবেশনগুলোতে সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা নিয়ে জোটে আলোচনা জোরদার হবে। এ ছাড়া পানি দূষণসহ অন্যান্য বিষয়েও অধিবেশন রয়েছে। এর পাশাপাশি বন বিষয়ক অধিবেশনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার প্যারিসের দক্ষিণে ফঁতেনব্লো অরণ্য পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল ৪ শতাংশ

ছবি : সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের বড় বড় হুমকি কতটা কাযকর হলো?

ছবি : সংগৃহীত

পারস্য উপসাগরে ইন্টারনেট কেবলে হামলা করতে পারে ইরান

0 Comments